05/08/2026
মানবজীবনের অদৃশ্য বিপদগুলোর মধ্যে সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক কাজ করে কালোযাদু। যাকে আমরা আরবীতে সিহর (السحر) বলে থাকি। মানুষের ধারণা, যাদুই হয়তো সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র ধ্বংসাত্মক শক্তি, যা কোনো ব্যক্তির জীবন, পরিবার ও সম্পদকে মুহূর্তের মধ্যে তছনছ করে দিতে পারে।
কিন্তু যাদুর চেয়েও নীরবে, দ্রুত এবং ব্যাপক আকারে মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় ‘বদনযর’। যাদু করার জন্য যেখানে একজন যাদুকর, কুফরী চুক্তি এবং জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়; বদনযরের জন্য সেগুলোর কোনোটিরই প্রয়োজন পড়ে না। এর জন্য কোনো শত্রুতারও দরকার হয় না—এমনকি আপনজনের অতিরিক্ত ভালোবাসা, মুগ্ধতা কিংবা নিজের অজান্তে করা প্রশংসাও যদি ‘বারাকাহ-বিহীন’ হয়, তবে তা বিষাক্ত তীরের মতো মানুষের ওপর আঘাত হানে।
কেন কালোযাদুর চেয়েও ‘বদনযর’ অধিক ভয়ংকর, শরীয়তের দৃষ্টিতে এর সুক্ষ্ম ও সর্বব্যাপী বাস্তবতা কী—তা নিয়ে আমরা যৎসামান্য আলোচনা পেশ করবো। আশাকরি পাঠকবৃন্দ উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ। ওয়ামা তাওফীক্বি ইল্লা বিল্লাহ!
[১] হাদীস থেকে কিছু দলীল :
(ক) “বদনযর সত্য। যদি কোনো কিছু তাক্বদীরকে অতিক্রম করতে পারতো, তবে তা বদনযরই করতো” (সহীহ মুসলিম, হা/২১৮৮)।
(খ) “আমার উম্মতের একটি বড় অংশ আল্লাহর তাক্বদীরের পর বদনযরের কারণেই মৃত্যুবরণ করবে” (মুসনাদে ত্বয়ালিসি, সিলসিলাহ সহীহাহ, হা/৭৪৭)।
(গ) “বদনযর মানুষকে কবরে এবং উটকে রান্নার পাতিলে প্রবেশ করায়” (ইমাম তাবারানী, মু‘জামুল কাবীর; সিলসিলাহ সহীহাহ, হা/১২৫০; সহীহুল জামি‘, হা/৪১৪৪)।
[২] কেন বদনযরকে বেশি বিপজ্জনক বলা হয়?
(ক) যাদু :
যাদু করার জন্য একজন যাদুকরের প্রয়োজন হয়, নির্দিষ্ট উপকরণ, কুফরী বা জ্বিন-শয়তানের সাথে চুক্তির প্রয়োজন হয়। যা তুলনামূলক জটিল এবং সবাই চাইলেই হুট করে করতে পারে না।
(খ) বদনযর :
বদনযরের জন্য কোনো যাদুকর বা শয়তানের সহায়তার দরকার পড়ে না। একজন সাধারণ মানুষ, এমনকি অতি আপনজন (বাবা-মা, বন্ধু, ভাই-বোন) বা একজন পরহেযগার ব্যক্তিও অজান্তে নিজের ভালোবাসার মানুষ বা জিনিসের ওপর বদনযর ফেলতে পারে, যদি সে বারাকাহ (যেমন: মাশাআল্লাহ, বারাকাল্লাহু ফীক) না বলে।
(গ) অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি :
যাদু সবসময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও শত্রুভাবাপন্নভাবে করা হয়। কিন্তু বদনযর হিংসা তথা হাসাদ থেকে যেমন হতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত বিস্ময় ও পছন্দ থেকেও হতে পারে। ফলে মানুষ অজান্তেই নিজের সন্তান, সম্পদ বা নিজের শর