30/08/2026
📍অভাবের কথা মানুষের কাছে নয়—সবার আগে আল্লাহর কাছে
🔸রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«“যে ব্যক্তি তার অভাব-অনটন মানুষের কাছে উপস্থাপন করে বেড়ায়, তার অভাব দূর হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। আর যে ব্যক্তি তার অভাব আল্লাহর কাছে পেশ করে, আল্লাহ তাকে শিগগির অথবা বিলম্বে রিজিক দান করবেন।”
— জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৩২৬»
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—মানুষ যখন কোনো অভাব, বিপদ, কষ্ট বা অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে, তখন তার প্রথম আশ্রয় হওয়া উচিত আল্লাহ তাআলা।
আমাদের জীবনে বিপদ আসতেই পারে। অর্থের অভাব হতে পারে, অসুস্থতা হতে পারে, সন্তান না হওয়ার কষ্ট থাকতে পারে, ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে, চাকরি না থাকতে পারে কিংবা পরিবারে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের প্রথম কাজ হওয়া উচিত দুই হাত তুলে বলা—
“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আমার কোনো আশ্রয় নেই। তুমি আমার সমস্যা দূর করে দাও।”
🔸তবে কি মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া যাবে না?
অবশ্যই যাবে।
কেউ বিপদে পড়লে তার পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী বা সামর্থ্যবান মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইতে পারে। চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখাতে পারে, আর্থিক সমস্যায় কারো সাহায্য নিতে পারে, কোনো কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিতে পারে।
কারণ মানুষও আল্লাহর সৃষ্টি এবং আল্লাহ অনেক সময় একজন মানুষের মাধ্যমে আরেকজন মানুষের সাহায্যের ব্যবস্থা করেন।
🔸কিন্তু পার্থক্য হলো—
সাহায্যের মাধ্যম মানুষ হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত সাহায্যকারী একমাত্র আল্লাহ।
ডাক্তার চিকিৎসা করেন, কিন্তু সুস্থতা দেন আল্লাহ।
ব্যবসায়ী চেষ্টা করেন, কিন্তু রিজিক দেন আল্লাহ।
কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, কিন্তু তার অন্তরে সাহায্য করার ইচ্ছা সৃষ্টি করেন আল্লাহ।
তাই আমাদের চেষ্টা থাকবে, বৈধ উপায় অবলম্বন থাকবে, মানুষের সহযোগিতা নেওয়াও থাকবে—কিন্তু অন্তরের পূর্ণ ভরসা থাকবে শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর।
🔸বিপদে পড়ে কোথায় যাব?
দুঃখজনকভাবে অনেক মানুষ বিপদে পড়লে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ব্যক্তি, দরবার, কবর, কবিরাজ, গণক বা এমন কারো কাছে ছুটে যায়—যাদের কাছে এমন কিছু আশা করা হয়, যা একমাত্র আল্লাহর ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
কেউ সন্তান লাভের আশায় আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো কাছে অলৌকিক ক্ষমতার আশা করে।
কেউ রোগমুক্তির জন্য এমন ব্যক্তির কাছে যায়, যার কাছে অদৃশ্য জগতের ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
কেউ বিপদ দূর করার জন্য মৃত ব্যক্তির কাছে প্রার্থনা করে বা এমন কারো কাছে সাহায্য চায়, যে প্রকৃতপক্ষে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না।
একজন মুসলিমের আকিদা হওয়া উচিত অত্যন্ত পরিষ্কার—
সন্তান দান করেন আল্লাহ।
রিজিক দান করেন আল্লাহ।
রোগ থেকে শিফা দেন আল্লাহ।
বিপদ দূর করেন আল্লাহ।
অভাব দূর করেন আল্লাহ।
দোয়া কবুল করেন একমাত্র আল্লাহ।
কোনো পীর, কোনো দরবার, কোনো ব্যক্তি বা কোনো সৃষ্টি আল্লাহর ক্ষমতার অংশীদার নয়।
🔸তাওয়াক্কুল কার ওপর?
তাওয়াক্কুল অর্থ শুধু বসে থাকা নয়। বরং নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করা এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা।
আপনি অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখাবেন—এটাই চেষ্টা।
কিন্তু শিফার জন্য ভরসা করবেন আল্লাহর ওপর।
আপনি চাকরির জন্য আবেদন করবেন—এটাই চেষ্টা।
কিন্তু রিজিকের মালিক মনে করবেন আল্লাহকে।
আপনি আর্থিক সংকটে মানুষের সহযোগিতা নিতে পারেন—এটা বৈধ মাধ্যম।
কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস রাখবেন, আল্লাহ না চাইলে কেউ আমাকে সাহায্য করতে পারবে না।
এটাই হলো প্রকৃত তাওয়াক্কুল।
🔸তাই আমাদের শিক্ষা হোক—
বিপদ আসলে প্রথমে আল্লাহকে স্মরণ করব।
অভাব হলে প্রথমে আল্লাহর কাছে হাত পাতব।
দুঃখ এলে আল্লাহর কাছে কান্না করব।
চাওয়া-পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছেই দোয়া করব।
তারপর বৈধ ও শরিয়তসম্মত উপায় অবলম্বন করব।
মানুষ মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু মালিক নয়।
মানুষ সাহায্য করতে পারে, কিন্তু সর্বশক্তিমান নয়।
মানুষ চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু ফলাফল দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
তাই জীবনের প্রতিটি সংকটে আমাদের প্রথম ও প্রধান আশ্রয় হোক—
একমাত্র আল্লাহ তাআলা।
চাওয়া একমাত্র তাঁর কাছে, ভরসা একমাত্র তাঁর ওপর, আর সাহায্যের জন্য বৈধ মাধ্যম গ্রহণ করা—এটাই একজন মুমিনের পথ।