06/06/2026
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মানুষ লিভার সিরোসিসে মারা যাওয়ায় আজকাল ফ্যাটি লিভার নিয়ে বিশেষ করে সিরোসিস নিয়ে মানুষের চিন্তা অনেক বেড়ে গেছে। অনেকেই শুধু আল্ট্রাসোনোগ্রাম রিপোর্টে “Fatty Liver Grade-1 বা Grade-2” দেখে ভয় পেয়ে যান। কিন্তু শুধু আল্ট্রাসোনোগ্রাম করলেই যথেষ্ট নয়।
এর সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা Fasting Lipid Profile ও SGPT করা উচিৎ। যদি রিপোর্টে LDL, Triglyceride (TG) এবং SGPT বেড়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে লিভার ঝুঁকির মধ্যে আছে।
আমরা যখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি, কোমল পানীয়, মিষ্টি, সাদা ভাত, ময়দা বা প্রসেসড খাবার খাই, তখন লিভার অতিরিক্ত শর্করাকে চর্বিতে রূপান্তর করে। এই চর্বি ধীরে ধীরে লিভারে জমে Fatty Liver তৈরি করে।
এছাড়াও আপনার শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে শরীরের কোষ ইনসুলিনকে ঠিকভাবে কাজ করতে দেয় না। ফলে লিভারের ভেতরে চর্বি আরও দ্রুত জমতে থাকে।
তাই পরিমিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনই ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।
ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয়ঃ
✅ সবার আগে ওজন কমাতে হবে । শরীরের মোট ওজনের ১০- ১৫% কমাতে পারলে Fatty Liver উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
✅ আপনার ডায়েট হতে হবে লো কার্ব ও হাই প্রোটিন সমৃদ্ধ। চিনি,মিস্টি,ময়দার তৈরি খাবার সম্ভব হলে বাদ দিয়ে দিতে হবে ও এর পরিবর্তে লাল আটার রুটি, ওটস, লাল চালের ভাত এবং ডিম,মাছ, মাংস পর্যাপ্ত খেতে হবে।
✅ অনেকের ক্ষেত্রে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ভালো কাজ করে। আপনি পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী Intermittent Fasting করতে পারেন।
✅ একদম ওষুধের চেয়েও বেশি দরকার পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ। চেষ্টা করবেন রাত ১১ টার মধ্যে ঘুমাতে ও ৭ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করা।রাত জাগা, অনিদ্রা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে পারে।
✅ নিয়মিত ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট হাঁটা, সাইক্লিং বা Aerobic Exercise ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায় এবং লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
✅ রান্নায় তেল হিসেবে কিছুদিন সয়াবিন তেল বর্জন করুন এবং প্রতিদিন ১ কাপ ব্ল্যাক কফি খেতে চেষ্টা করুন।
✅ ফেসবুক বা ইউটিউবের তথাকথিত “লিভার ক্লিনিং সাপ্লিমেন্ট ” বা ডিটক্স ড্রিংক খাবেন না। এগুলো উল্টো আপনার লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
✅ ধূমপান, তামাক ও এলকোহল বর্জন করতে হবে। এগুলো লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে।
ফ্যাটি লিভার নিয়ে ভয় পাবেন না। শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লিভার আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ফলোআপ।
পুষ্টিবিদ চন্দন কুন্ডু