24/08/2026
🌿 কুস্তাস লিকুইড — আলহামদুলিল্লাহ রেডি
আলহামদুলিল্লাহ, কুস্তাস লিকুইড রেডি।
শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই যোগাযোগ করুন।
📞 যোগাযোগ: 01617250893
🌿 কুস্তাস লিকুইডের উপকারিতা ও ব্যবহার
কুস্ত আল-হিন্দ, কুস্ত আল-বাহরি বা কস্টাস—তিব্বে নববীর অন্যতম একটি চিকিৎসা মাধ্যম হলো কুস্ত, যাকে ইংরেজিতে Costus বলা হয়।
বিশেষত ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, টনসিল ও ঠান্ডাকালীন সিজনাল অসুস্থতাগুলোর জন্য এটি বেশ উপকারী।
তবে আমরা এর ব্যবহার রুকইয়াহ চিকিৎসাতেও করে থাকি। মাথায় থাকা জিনের বাসস্থান ও ফুসফুসের অঞ্চলে জিনের অবস্থান ভেঙে চরম কষ্ট দেওয়ার জন্য এটির ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
স্বাভাবিকভাবে রুকইয়াহ রোগীদের ঠান্ডার সমস্যা লেগে থাকে। তাই উভয় কাজেই এটি জিন, জাদু ও বদনজরে আক্রান্ত রোগীদের জন্য উপকারী।
🌿 কুস্ত দুই ধরনের
১. কুস্ত আল-হিন্দ:
ভারতবর্ষের কুস্ত। এটি ঝাঁঝালো প্রকৃতির।
২. কুস্ত আল-বাহরি:
সামুদ্রিক কুস্ত। এর আরবীয় নাম কুস্ত আল-বাহরি। এটি সাদা কালারের এবং প্রথমটির তুলনায় নরম প্রকৃতির।
উভয়ের সম্পর্কে হাদিস ও আসারে বিভিন্ন আলোচনা এসেছে। সবচেয়ে বড় কথা, এটি নবিজি ﷺ-এর মোস্ট রিকমন্ডেড একটি প্রাকৃতিক মেডিসিন।
📖 কুস্ত বা কস্টাস সম্পর্কীয় হাদিস
(১) হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী ﷺ তাঁর বাড়িতে আসলেন এবং দেখলেন একটি ছেলেকে তাঁর কাছে আনা হয়েছে।
ছেলেটির মুখ ও নাক থেকে রক্ত ঝরছিল। নবী ﷺ জানতে চাইলেন কী হচ্ছে?
আয়িশা (রা.) বললেন, ছেলেটি গলা সংক্রমণে ভুগছে। নবী ﷺ বললেন, ভবিষ্যতে যেকোনো ছেলে এ রকম গলার সংক্রমণে অথবা মাথাব্যথায় ভুগলে ওর মধ্যে কালো কুস্ত ঘষো এবং ছেলেটাকে এটা চুষতে দাও। আয়িশা (রা.) নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর কথামতো কাজ করলেন এবং শিশুটি স্বাস্থ্যবান (সুস্থ) হয়ে গেল।
(মুসনাদ আবি ইয়ালা: ১৯১২)
(২) নবী ﷺ বলেন—
“তোমরা যে সকল জিনিসের দ্বারা চিকিৎসা কর, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো শিঙ্গা লাগানো এবং কুস্তুল বাহরি ব্যবহার করা।”
(বুখারি, পর্ব ৭৬/১৩, হাদিস: ৫৬৯৬; মুসলিম ২২/১১, হাদিস: ১৫৭৭)
(৩) রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে কুস্তে বাহরি (চন্দন কাঠ) ও যাইতূনের তেল দিয়ে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা করার নির্দেশ (পরামর্শ) দিয়েছেন।
(জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস: ২০৭৯)
(৪) রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমরা অবশ্যই উদে হিন্দি (অর্থাৎ কুস্ত) ব্যবহার করবে, কেননা তাতে সাতটি রোগের প্রতিষেধক রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো ফুসফুসের রোগ প্লিউরিসি।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৪৬৮)
⚠️ রোগীর একটি অভিজ্ঞতা
একবার একজন রোগী বলেছিলেন যে, এটি নাকে ফোঁটা হিসেবে দেওয়ার পর তাঁর মনে হচ্ছিল যেন জিন অ্যাক্টিভ হয়ে যাবে। রোগীর কথাটি কতটুকু সত্য, সে সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই; হয়তো তিনি বিষয়টি বাড়িয়ে বলেছেন।
✅ উপকারিতা
আল-তিব্বি নামক একটি আরবীয় চিকিৎসা ওয়েবসাইটে কুস্তুল হিন্দের বিভিন্ন উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম:
বাত
সর্দি
কাশি এবং হাঁপানি
কলেরা রোগ
পেটের কৃমি ও আমাশয়
হৃদরোগ
উচ্চ রক্তচাপ এবং এনজাইনা
কিডনি ও লিভারের সমস্যা
ত্বকের ফুসকুড়ি এবং ব্রণ
এঞ্জাইটি
পেশী খিঁচুনি
ডায়াবেটিস ইত্যাদি সমস্যার নিরাময় করে।
(সূত্র: ১)
🌿 যেসব রোগীর জন্য ব্যবহার করা হয়
জিনের রোগী
আশিক জিন
বারবার আসা জিন
পিরিয়ড সমস্যা
নজর-হাসাদ
পেটের জাদু
মাথাব্যথা
মাইগ্রেনের ব্যথা
ইত্যাদি
সব রোগীর জন্য কাজ করে।
কোন রোগীর জন্য কীভাবে দিতে হবে, তার নিয়ম শিখিয়ে দেওয়া হবে।
✅ দুটি কমন ব্যবহার পদ্ধতি
১. গুড়া ব্যবহার
এটি তরল জাতীয় অর্থাৎ গরম দুধ ও পানির সাথে মিশিয়ে পান করা হয়।
এছাড়া গুড়া মিশিয়ে আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় পারদর্শী হাকিমগণ বিভিন্ন হালুয়া ও বনাজী মেডিসিন তৈরি করে থাকেন।
২. লিকুইড ব্যবহার
কস্টাসের এসেনশিয়াল অয়েল বের হয় এবং লিকুইডটাকেই মূলত ন্যাজাল ড্রপের মতো দুই নাকে ফোঁটা প্রবেশ করানো হয়। এর মাধ্যমে জিনকে কষ্ট দেওয়া যায়।
তবে রুকইয়াহ-রিলেটেড কাজের জন্য এই ড্রপে আগে থেকেই রুকইয়াহর আয়াত ও হারকের আয়াত পড়ে ফুঁক দিতে হবে।
তবে আমরা রুকইয়াহ করে দিই।
মুফতি ঈসা রহুল্লাহ আল ফরিদী
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক
আশ-শিফা ইসলামী রুক্বইয়াহ ও তদবির রিসার্চ সেন্টার
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা