Rugi.xyz

Rugi.xyz Medicine , Doctor Information , Health Information, Medicine Information, Foreign Treatment Information,

11/03/2026

সুস্থ থাকতে ৫টি দৈনন্দিন অভ্যাসে বিশেষ গুরুত্ব দিন।

সুস্থ থাকতে বড় ওষুধ নয়, দরকার ছোট ছোট অভ্যাস।

✔ প্রতিদিন ৮ গ্লাস পানি পান করুন
✔ নিয়মিত হাঁটুন (কমপক্ষে ২০ মিনিট)
✔ অতিরিক্ত তেল-মশলা কম খান
✔ ৭–৮ ঘন্টা ঘুমান
✔ সমস্যা হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান

📌 মনে রাখবেন
অবহেলা করলে ছোট রোগ বড় হতে সময় লাগে না।

— rugi.xyz

Healthy life happy smile........!!!!
15/05/2022

Healthy life happy smile........!!!!

মেরুদণ্ডের নিতে হবে যত্ন  ঃ-মানব দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মেরুদণ্ড। সোজা হয়ে দাঁড়ানো, হাঁটা-চলাফেরা ও ভার বহনে মেরুদণ...
12/04/2018

মেরুদণ্ডের নিতে হবে যত্ন ঃ-

মানব দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মেরুদণ্ড। সোজা হয়ে দাঁড়ানো, হাঁটা-চলাফেরা ও ভার বহনে মেরুদণ্ডের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এখানে কোনো সমস্যা হলে জীবিত থাকব ঠিকই; কিন্তু তা হবে শুধুই জড়পদার্থের মতো বেঁচে থাকা। অথচ নিজেরাই গুরুত্বপূর্ণ এ অংশের ক্ষতি করে চলেছি নীরবে।

বেখেয়ালে করা কিছু ভুল মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষয় করে দিচ্ছে মারাত্মকভাবে। তাই প্রতিদিনের করা সে ভুল সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।



সঠিকভাবে চেয়ারে না বসা

সঠিকভাবে চেয়ারে না বসার কারণে মেরুদণ্ডের ওপর অনেক বেশি চাপ পড়ে। একাধারে এমন চাপ সহ্য করতে না পেরে মেরুদণ্ডের হাড় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।



মেরুদণ্ড বাঁকানো

অনেকের অভ্যাস আছে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ আড়মোড়া ছাড়তে মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে নেন। দেহের আড়ষ্ঠতা ভাঙতে হুট করেই মেরুদণ্ডের ওপর এমন চাপ খুবই ক্ষতিকর। এতে দ্রুত হাড় ক্ষয়ে যেতে পারে। আর এই ক্ষয় হাড় ভঙ্গুরের অন্যতম কারণ।



ভারী জিনিস তোলা

সোজা হয়ে দাঁড়ানো থেকে কোমর বাঁকা করে নিচু হয়ে মেঝে থেকে ভারি জিনিস তোলার মতো কাজ অনেকে করি। এ অভ্যাস মেরুদণ্ডের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কাজটি করা মোটেও উচিত নয়। ভারী জিনিস তোলার ক্ষেত্রে আগে কিছু সময় দেহে শিথিলতা এনে নিতে হবে।



ভারী ব্যাগ বহন করা

একটানা ভারী ব্যাগ বহন করলেও মেরুদণ্ডে ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে এক কাঁধে ভারী ব্যাগ বহন করার অভ্যাস তৈরি হলে তা আমাদের মেরুদণ্ডের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। তাই মেরুদণ্ডের সুস্থতায় ব্যাগ হালকা রাখার চেষ্টা করতে হবে।

আধশোয়া থাকা

বই পড়া বা ল্যাপটপ চালানোর সময় দীর্ঘক্ষণ বিছানায় আধশোয়া হয়ে থাকতে হয়। এতে আমাদের মেরুদণ্ডের ক্ষতি করে অনেক। এছাড়াও সোফায় শুয়ে টিভি দেখার অভ্যাসও খারাপ।



একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা

একই অবস্থায় অনেকক্ষণ থাকা মেরুদণ্ডের জন্য ক্ষতিকর। একটানা বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকলে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ পড়ে। তাই ২০ মিনিট পরপর অবস্থান পরিবর্তন করা উচিত।



দীর্ঘদিন ম্যাট্রেস ব্যবহার

ঘুমানোর বিছানাটি যদি আরামদায়ক না হয়, তবে মেরুদণ্ডের ব্যথা হবেই। খাটে ব্যবহƒত ম্যাট্রেস আট থেকে ১০ বছরের পুরোনো হলেও অনেকে তা পরিবর্তন করেন না। বেশি সময় পার হয়ে গেলে ব্যবহƒত ম্যাট্রেস অতিরিক্ত শক্ত বা নরম হয়ে যায়। এমন বিছানায় প্রতি রাতে শোয়ার কারণে বাঁকিয়ে থাকা মেরুদণ্ড এক সময় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।



হাইহিল পরার অভ্যাস

অতিরিক্ত হাইহিল পরার কারণে মেয়েদের মেরুদণ্ডে ব্যথা হতে পারে। উঁচু হিল পরলে দেহের হাড়ের জোড়াগুলোয় চাপ পড়ে। ফলে ব্যথা হয়। কিন্তু অনেক মহিলাই ব্যাপারটি অবহেলায় এড়িয়ে চলেন।



মানসিক চাপ

যারা সহজেই ক্ষমা করে দিতে পারেন, তাদের মানসিক চাপজনিত রোগ কম হয়। তাদের মাঝে হতাশা, রাগ, শারীরিক ব্যথাও কম হয়। কিন্তু যারা তা পারেন না, তাদের অবস্থা হয় বিপরীত। আমাদের মনের আবেগ আর মানসিক অবস্থার প্রভাব দেহের মাংসপেশিতেও পড়ে, যা থেকে সৃষ্টি হতে পারে পিঠব্যথা।

11/04/2018

৫ বছর আগেই জানা যাবে হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস !!!!

ভূমিকম্পেরও পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হয় কখনও-সখনও। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক কতদিনের মধ্যে হতে পারে, তা আঁচ করাটা আমাদের আয়ত্তের বাইরেই আছে আপাতত। কিন্তু এবার হার্ট অ্যাটাকেরও পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হবে ৫ বছর আগেই! বলা যাবে, হার্ট অ্যাটাক হবে কিনা, হার্টের ভাল্বে কোনো ফুটো আছে কিনা বা আগামী দিনে তেমন কিছু হওয়ার আশঙ্কা কতটা! তা কতটা ‘ম্যাসিভ’ হতে পারে, সেটাও আঁচ করা যাবে অনেক আগেই!

আর তার জন্য কোনো এক্সরে করতে হবে না। ডপলার সাউন্ড এফেক্টের মাধ্যমেও তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে না। শুধু চোখ দেখে, রেটিনার চেহারা, চরিত্র, আচার-আচরণ দেখেই এবার অনেক আগেভাগে হার্ট অ্যাটাকেরও পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হবে। এই অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে গুগলের ৮ সদস্যের একটি গবেষক দল। ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ে গুগলের সদর দফতরে এ গবেষণা করা হয়।

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম- ‘প্রেডিকশন অব কার্ডিওভাসকুলার রিস্ক ফ্যাক্টর্স ফ্রম রেটিনাল ফান্ডাস ফটোগ্রাফস ভায়া ডিপ লার্নিং।’ ওই পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হবে গুগলের গবেষক দলের বানানো একটি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সফ?টওয়্যারের মাধ্যমে।

রেটিনা দেখে শরীরে কোনো রোগ হয়েছে কিনা, তা বোঝার পদ্ধতি বহুদিন ধরেই চালু চিকিৎসক মহলে। ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের উচ্চমাত্রা বোঝার প্রাথমিক উপায় হিসেবে চিকিৎসকরা বহুদিন ধরেই রেটিনা পরীক্ষা করে আসছেন। এমনকি কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও প্রাথমিকভাবে রেটিনা পরীক্ষার চল রয়েছে।

জ্বর, কাশি ও গলাব্যথা............!!!! অনেকেই সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন। সর্দি তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে গেলেও কাশি কিন্তু সহজে ভা...
09/04/2018

জ্বর, কাশি ও গলাব্যথা............!!!!

অনেকেই সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন। সর্দি তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে গেলেও কাশি কিন্তু সহজে ভালো হতে চায় না। সমস্যা হলো—জ্বর নেই, কফ বের হওয়া নেই, বুকে ঘড়ঘড় নেই, কিন্তু খুকখুক কাশি। বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক একটি ব্যাপার। কাশির সঙ্গে কখনো কফ বেরোয় না, কিন্তু একটা অস্বস্তি গলায়-বুকে লেগেই থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কিছুই পাওয়া যায় না। কেননা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই বারবার শুকনো কাশির কারণ ফুসফুসে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ইত্যাদি নয়, বরং অন্য কিছু। তবে কারণ যা হোক শীতে ঠান্ডা লাগলে এর তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। অনেক সময় কাশতে কাশতে গলায়, বুকে ব্যথা হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, সর্দি-কাশি বা সামান্য গলাব্যথা এমন কোনো বড় ব্যাপার নয়। আর গলাব্যথা মানেই টনসিলের সমস্যা, এটা সব সময় ঠিক নয়। তবে একবার ঠান্ডা লাগলে তা সারতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে। আর কাশি তো আরও বেশ কয়েক দিন থাকতে পারে, এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।

ভাইরাস সংক্রমণ-পরবর্তী কাশি

ভাইরাস জ্বরের পর জ্বর-সর্দি ভালো হয়ে গেলেও সাধারণত কাশি ভালো হতে চায় না বা কয়েক সপ্তাহব্যাপী কাশি লেগেই থাকে। হাঁপানি, অ্যালার্জি বা সাইনোসাইটিস না থাকলেও এমনটি ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। অনেক সময় এমনিতেই কাশি সেরে যায়।

অ্যালার্জির কারণে খুসখুস কাশি

কাশিটা কি নতুন, না এর আগেও ছিল। মৌসুমের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কি না। এমন যদি হয় যে শীতে, ঠান্ডায়, গরমে, বর্ষায় বা ধুলাবালিতে এর প্রকোপ বেড়ে যায়, তবে ধরে নিতে পারেন যে এটি অ্যালার্জিজনিত। বাড়িতে বা কাজের পরিবেশে এমন কিছু আছে কি না, যা অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়ায়। যেমন: হয়তো ধুলোমাখা কার্পেট, আলো-বাতাসহীন ভ্যাপসা ঘর, এমনকি পোষা প্রাণী, পাখি বা ফুলগাছের রেণু।

হয়তো ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রই আপনার সহ্য হয় না, অথবা সইতে পারেন না বেশি গরম ও ঘাম। শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়ায় অনেকের কাশি বাড়ে। এসবের যেকোনো কিছুই কাশির জন্য দায়ী হতে পারে। পরিবারে বা বংশে হাঁপানি বা অ্যালার্জির ইতিহাস এ ধারণাকে মজবুত করবে। এক ধরনের হাঁপানিই আছে, যেখানে শ্বাসকষ্ট না হয়ে স্রেফ খকখক কাশি দেখা যায়; একে বলে কফ-ভ্যারিয়েন্ট অ্যাজমা। ধুলাবালি বা ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, অ্যালার্জির ওষুধ বা ইনহেলার নেওয়া—এই হলো এর চিকিৎসা।

নাক ও সাইনাসের অসুখের কারণে কাশি

নাকের প্রদাহ ও সাইনুসাইটিস (সাইনাসের প্রদাহ) পোস্টনাজাল ড্রিপের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। ফলে দীর্ঘস্থায়ী কাশি হতে পারে। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা সর্দিঝরা থাকলেও এ ক্ষেত্রে মূল উপসর্গ হিসেবে খুঁজে পাওয়া যায় কাশি। এই রোগের আরেকটি কারণ হচ্ছে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস।

খুসখুস কাশি যখন ধূমপানে

খুসখুসে কাশির একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো ধূমপান করা। তাই যদি খুসখুসে কাশিতে আক্রান্ত রোগী হন তাহলে আজই ধূমপানকে না বলুন। ওষুধ কোনো কাজেই আসবে না যদি ধূমপান না ছাড়েন। ধূমপায়ীদের স্মোকার কফ হয়। তামাক শ্বাসঝিল্লিকে ক্রমাগত ব্যাহত করছে বলেই কাশি উঠছে। শীতকালে তীব্রতা বেড়ে যায়।

অন্যান্য কারণে কাশি

গ্যাসট্রিকের কারণেও অনেক সময় কাশি হয়। পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপর দিকে উঠে এলে কাশি উঠতে পারে। যাঁদের সব সময় সর্দি লেগে থাকে, তাঁদের নাকের পেছন দিকে ইরিটেশন হয় বলে কাশি হতে পারে। এ ছাড়া কিছু ওষুধ অনেক সময় কাশির জন্য দায়ী হতে পারে। হৃদ্রোগের কারণেও অনেক সময় কাশি হয়।

শীতে নাক বন্ধ থাকলে কী করবেন?

সমস্যা নেই। বড় একটি পাত্রে ফুটন্ত পানি ঢেলে, তাতে মেনথল দিয়ে দিন। তারপর মুখ নিচু করে এবং অবশ্যই খোলা রেখে সেই পানির ভাপ নিন কয়েক মিনিট। দিনে কয়েকবার এই ভাপ নেবেন।

সর্দি, কাশি ও গলাব্যথায় কী করবেন?

সর্দি, কাশি বা সামান্য গলাব্যথা এমন কোনো বড় ব্যাপার নয়। তবে একবার ঠান্ডা লাগলে, তা সারতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবেই। আর কাশি তো আরও বেশ কয়েক দিন থাকতে পারে, এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এ ধরনের কাশি একটি নির্দিষ্ট সময় পর আপনাআপনি ভালো হয়ে যায়। তবে কাশির সঙ্গে যদি জ্বর হয়, তাহলে কিন্তু গুরুত্ব দিতে হবে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই শ্রেয়। দীর্ঘস্থায়ী কাশির ক্ষেত্রে প্রথমেই খুঁজে বের করতে হবে কাশির অন্তর্নিহিত কারণ। ঠান্ডা লাগলে কাশি বাড়ে। তাই ঠান্ডা পরিহার করতে হবে। বাইরে বেরোলে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরম কাপড় পরুন। মাথায় টুপি বা মাফলার পরতে ভুলবেন না। ধুলোবালি এড়িয়ে চলুন। বাইরে গেলে মাস্ক পরে নিন। কুসুমগরম পানি দিয়ে গোসল করুন। খুব ভোরে বা বেলা পড়ে গেলে গোসল করা থেকে বিরত থাকুন। ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার খাবেন না। কুসুমগরম পানি পান করতে পারলে ভালো হয়।
কাশি যে কারণেই হোক, এর কারণ নির্ণয় জরুরি। তাই শুকনো কাশিকেও গুরুত্ব দিন। কাশি দীর্ঘমেয়াদি হলে, ঘুম ভেঙে গেলে, কাশতে কাশতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথায় করণীয় ঃ-হাঁটুুর ব্যথাজনিত সমস্যাগুলোর মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিস অন্যতম। বিশ্বব্যাপী হাঁট...
08/04/2018

হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথায় করণীয় ঃ-

হাঁটুুর ব্যথাজনিত সমস্যাগুলোর মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিস অন্যতম। বিশ্বব্যাপী হাঁটুুর ব্যথা ও বিকলাঙ্গতার চতুর্থ মুখ্য কারণ অস্টিওআর্থ্রাইটিস। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশনের মতে, ২৭ মিলিয়নের বেশি আমেরিকান অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভোগেন, যার মধ্যে হাঁটুুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের হারই বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, চীনে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ভারতে ৫ দশমিক ৭ ও বাংলাদেশে ১০ দশমিক ২ শতাংশ লোক হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভোগেন।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস কী?

এটি জয়েন্টের ব্যথাজনিত সমস্যা, যা কালক্রমে জয়েন্টের মধ্যকার তরুণাস্থি ক্ষয়ের কারণে হয়ে থাকে। তরুণাস্থিকে জয়েন্টের ঘাত প্রশমক বলা হয়। তরুণাস্থি ক্ষয়ের কারণে জয়েন্টের মধ্যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়। যার ফলে জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যথা, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা শক্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে রোগীর স্বাভাবিক নড়াচড়া ও চলাফেরা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

কীভাবে বুঝবেন হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভুগছেন?

১. হাঁটুতে ব্যথা অনুভূত হওয়া, যা হাঁটা-চলায় বৃদ্ধি পায়।

২. হাঁটু ফুলে যাওয়া এবং হাঁটুর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া।

৩. হাঁটু শক্ত হয়ে যাওয়া।

৪. দৈনন্দিন কাজকর্ম যেমন হাঁটা, চলাফেরা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা, নামাজে ওঠাবসা করায় কষ্টবোধ হয়।

৫. জয়েন্টে এক ধরনের শব্দ অনুভূত হওয়া।

৬. দীর্ঘদিনের অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে অঙ্গ বিকৃত হতে পারে। যেমন হাঁটু ভাঁজ করতে না পারা বা হাঁটু বেঁকে যাওয়া।

হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণ

১. অতিরিক্ত ওজন বা শারীরিক স্থূলতা।

২. ভারী কাজ। যেমন— ভারী ওজন বহন করা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটুু ভাঁজ করে বসে কাজ করা।

৩. হাঁটুতে আঘাতজনিত কোনো সমস্যা থাকলে।

৪. হাঁটুুর অন্যান্য রোগের কারণেও অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে পারে।

৫. ক্রীড়াবিদ যেমন— ফুটবল খেলোয়াড়, দৌড়বিদ, টেনিস খেলোয়াড়দের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

৬. আরামদায়ক জীবনযাপন এবং হাঁটা-চলাফেরা ও শারীরিক ব্যায়াম একেবারেই না করা।

হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস নির্ণয়

যদিও অস্টিওআর্থ্রাইটিস নির্ণয়ের নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা নেই। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা, রোগের লক্ষণ, ধরন, পারিবারিক সম্পৃক্ততা বিবেচনার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে থাকেন। তবে হাড় ও জয়েন্টের অবস্থা দেখার জন্য এক্স-রে করা যেতে পারে। এক্স-রে পরিষ্কার ধারণা না দিতে পারলেও এমআরআই করা যেতে পারে। তাছাড়া বাতজনিত সমস্যা যা হাঁটুুর কারণে হয়, তা নিরূপণ করার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা যেতে পারে।

চিকিৎসা

যদিও অস্টিওআর্থ্রাইটিস নিরাময়সাধ্য নয়, তবে সঠিক চিকিৎসায় আপনি ব্যথামুক্ত থাকতে পারবেন।

ফিজিওথেরাপি : একটি পূর্ণাঙ্গ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় ব্যথামুক্ত সুন্দর জীবন শুরু করতে পারবেন। তবে অবশ্যই একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকেই ফিজিওথেরাপিসেবা নিতে হবে। একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্ট আপনার রোগের লক্ষণ ও ধরন মূল্যায়ন করে সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দেবেন।

ঠাণ্ডা বা গরম সেক: যদি আপনার হাঁটুতে তীব্র ব্যথা হয় ও ফুলে থাকে, সেক্ষেত্রে ঠাণ্ডা সেক নেবেন। ১০-১৫ মিনিট করে ২-৩ ঘণ্টা পর পর। এক্ষেত্রে আইসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। ফোলা না থাকলে এবং হাঁটুর তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে গরম সেক দিতে পারেন ১০ মিনিট করে দিনে তিন-চারবার।

আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি: এটি একটি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি, যাতে সাউন্ড ওয়েব ব্যবহার করা হয়। এটি জয়েন্টের ফুলে যাওয়া ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

স্ট্রেচিং: অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু মাংসপেশি শক্ত বা ছোট হয়ে যায়। যেমন— ঊরুর পেছনের মাংসপেশি, পায়ের পেছনের মাংসপেশি শক্ত ও ছোট হয়ে যায়। মাংসপেশি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে স্ট্রেচিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্ট্রেন্থনিং : অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগীদের উরু ও নিতম্বের কিছু মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়। সেসব দুর্বল মাংসপেশিকে শনাক্ত করে এবং সঠিক থেরাপিউটিক ব্যায়ামের মাধ্যমে মাংসপেশির আগের শক্তি ফিরিয়ে আনা যায়।

মুভমেন্ট উইথ মুভিলাইজেশন: এটি একটি ম্যানুয়াল চিকিৎসা পদ্ধতি, যা শক্ত হয়ে যাওয়া জয়েন্টকে আগের অবস্থা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে। যাদের হাঁটু ভাঁজ করে বসতে এবং নামাজ পড়তে সমস্যা, এটি তাদের জন্য বেশ উপকারী।

টেপিং: এটি একটি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে এক ধরনের বিশেষ টেপ ব্যবহার করা হয়, যা ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টের ওপর চাপ কমিয়ে দেয় এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

ওষুধ প্রয়োগ: অনেক ধরনের ওষুধ আছে, যা হাঁটুুর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ব্যথানাশক ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। ফলে দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত না। যেকোনো ধরনের ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অস্ত্রোপচার: অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে বিকলাঙ্গতা দেখা দিলে এবং তা নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসায় তেমন উপকৃত না হলে আপনার চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

হাঁটুুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ: যদিও হাঁটুুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রতিকার সম্ভব নয়। তবু এটি প্রতিরোধ করার অনেক উপায় আছে। আমাদের জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে হাঁটুুর এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

শরীরচর্চা বা শারীরিক ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা হাড়, জয়েন্ট ও মাংসপেশির সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা, কারণ শরীরের বাড়তি ওজন হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই একজন নিউট্রিশনিস্টের পরামর্শ নেবেন।

নিয়মিত শরীরচর্চা যেমন শরীরের জন্য উপকারী, তেমনি অতিরিক্ত কাজের চাপ ও

ধকল শরীর ও মাংসপেশির জন্য ক্ষতিকর। তাই রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশনের মতে, ডায়াবেটিক রোগীরা অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও আপনি অস্টিওআর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই একজন ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন। বিশেষজ্ঞরা একজন সুস্থ মানুষকে দৈনিক ৯-১২ গ্লাস পানি খেতে বলেন। ক্যাফেইনজাতীয় কোমলপানীয়, যা শরীর থেকে পানি বের করে দেয়, তা পান করা থেকে বিরত থাকুন। সুস্থ হাড়, জয়েন্ট এবং মাংসপেশির জন্য দেহে পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন।

খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনুন। অবশ্যই খাবারে ভিটামিন সি (কমলালেবু, আমলকী), ভিটামিন ডি (সামুদ্রিক মাছ, গরুর কলিজা, ডিমের কুসুম, টুনা মাছ), ক্যালসিয়ামজাতীয় খাবার (পালংশাক, বাঁধাকপি) যোগ করুন।

প্রাথমিক অবস্থায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগীর ব্যথা দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে বিকলাঙ্গতা (যেমন— হাঁটু বেঁকে যাওয়া, হাঁটু ভাঁজ করতে না পারা) দেখা দিতে পারে। তাই হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

ব্যায়াম ছাড়া ৭   দিনে ওজন কমানোর সহজ উপায় বা পদ্ধতি –  Simple ways to loss weight without exercise or procedure 7 day...
13/02/2018

ব্যায়াম ছাড়া ৭ দিনে ওজন কমানোর সহজ উপায় বা পদ্ধতি – Simple ways to loss weight without exercise or procedure 7 days

শরীরের ওজন বেশী (Healthy Body Weight) হয়ে যাচ্ছে বলে অনেকে দুশ্চিন্তায় খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন এবং অনেকে না খেয়ে শরীর শুকানোর চেষ্টা করছেন। আবার কেওবা কয়েকদিন ব্যায়াম করে বন্ধ করে দিয়েছেন। এভাবে অনিয়মের কারণে শরীরের আদর্শ ওজন (Ideal Body Weight) তৈরী হওয়ার পরিবর্তে নানা রকম অসুখ হতে পারে এবং আরও মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো এবং দ্রুততম উপায় কি ( What is the best and fastest way to lose weight )?

এখানে ৭ দিনে শরীরের ওজন ৪-৫ কেজি কমানোর একটি খাদ্য তালিকা (7 Days Diet Plan 5 kgs) দেওয়া হল যা FAD diet নামে পরিচিত। তবে যারা একটু শারীরিকভাবে দুর্বল এবং হার্ট, কিডনি, ডায়বেটিস ( Heart, Kidney, Diabetes ) সহ অন্য কোন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা খুব সাবধানতা অবলম্বন করে এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ( Expertise Doctors Advise ) নিয়ে ওজন কমানোর এই তালিকাটি মেনে চলবেন।
ওজন কমানোর ডায়েট ( 7-Day Diet Meal Plan to Lose Weight ) :

প্রথম দিনঃ প্রথম দিনটি শুরু হবে যে কোন ফল অথবা জুস ( Fruit Juice) ( যতটুকু খেতে পারেন ) দিয়ে এবং তরমুজও খেতে পারবেন, তবে কলা খাওয়া যাবে না।

দ্বিতীয় দিনঃ তেল না দিয়ে ( Cooking food without oil ) অথবা সামান্য তেল দিয়ে সবজি, সবজী ভাজী অথবা সবজি সুপ (যতটুকু খেতে পারেন) খেয়ে দ্বিতীয় দিনটি শেষ করুন।

তৃতীয় দিনঃ প্রথম এবং দ্বিতীয় দিনের মেনু এক সাথে করে কলা বাদ দিয়ে যে কোন ফল এবং সবজী (যতটুকু খেতে পারেন) খেতে পারবেন।

চতুর্থ দিনঃ চতুর্থ দিনে ৮টি কলা এবং ৪ গ্লাস দুধ অথবা ৫টি কলা ও ৫ গ্লাস দুধ এবং ১ কাপ সবজী সুপও খেতে পারেন।

পঞ্চম দিনঃ ১ কাপ ভাত, ৬টি টমেটো অথবা যে কোন সিদ্ধ অথবা অল্প সিদ্ধ সবুজ সবজী দিয়ে পঞ্চম দিনের খাওয়ার মেনু তৈরী করুন।

৬ষ্ঠ দিনঃ পঞ্চম দিনের মত একই নিয়মে ৬ষ্ঠ দিনের খাওয়ার মেনু তৈরী করে খতে পারেন। তবে, কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস পানি খেতে ভুলে যাবেন না।

সপ্তম দিনঃ পঞ্চম এবং ৬ষ্ঠ দিনের মত শেষ দিনেও ১ কাপ ভাত, সিদ্ধ অথবা অল্প সিদ্ধ সবুজ সবজী কিংবা ফলের জুস এবং এক টুকরা মাছ অথবা ১০০-২০০ গ্রাম মুরগী অথবা গরুর মাংস খেতে পারেন।

ক্র্যাশ ডায়েট করে ওজন কমানোর সময় যা খেয়াল রাখতে হবেঃ এই সাত দিনে কমপক্ষে প্রতিদিন ১০-১২ গ্লাস পানি খেতে (Regular drink 10-12 glasses of water ) হবে এবং ভারী কোন ব্যায়াম ( Heavy Exercise ) করা যাবে না। এই সাত দিনের মধ্যে শরীর খুব বেশী দুর্বল মনে হলে নিয়মটি বন্ধ করে দিতে হবে। ৭ দিন শেষ হওয়ার পর খাবারের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়াতে হবে এবং অতিরিক্ত তেল যুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে এবং পুনরায় এই নিয়ম শুরু করতে হলে কমপক্ষে এক সপ্তাহ বিরতি দিতে হবে।

ডায়াবেটিস ধ্বংস হবে মাত্র ২ টি আকন্দ পাতায়ডায়াবেটিস কিন্তু এখন একটা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। প্রতিবছর এই ডায়াবেটিস এর...
12/02/2018

ডায়াবেটিস ধ্বংস হবে মাত্র ২ টি আকন্দ পাতায়

ডায়াবেটিস কিন্তু এখন একটা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। প্রতিবছর এই ডায়াবেটিস এর কারণে সাঁরা পৃথিবীতে কত কত মানুষ মারা যাচ্ছে তার কোন হিসাব নেই।



ডায়াবেটিস প্রধানত ২ ধরনের হয়-
• ধরন-১ ডায়াবেটিস, এটি সাধারনত শিশুকালেই লক্ষণ দেখে নির্ণয় করা যায়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে ২০ বছর বয়স পার হবার পর ধরা পড়ে। এই ধরনটিতে শরীরে খুবই কম ইন্সুলিন তৈরী হয় অথবা একদমই তৈরী হয় না। ফলে প্রতিদিন ইন্সুলিন ইনজেক্সন নিতে হয়। ডায়াবেটিসে আত্রান্তদের ৫%-১০% কে এই ধরনটিতে ভুগতে দেখা যায়। এর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি।



তবে জেনেটিক, ভাইরাস এবং সতোপ্রতিষেধক সমস্যা বা জটিলতা হয়ত এ ব্যপারে কিছুটা ভূমিকা পালন করে।
• ধরন-২ ডায়াবেটিস, এটি ধরন-১ অপেক্ষা অনেক বেশী সাধারণ প্রকৃতির। বেশীর ভাগ ডায়াবেটিক রোগী এর অন্তর্ভূক্ত। এটি সাধারনত পূর্ণ বয়সেই দেখা যায়। তবে যুবক-যুবতীরাও দিন দিন অনেক বেশী হারে এর অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে।



ডায়াবেটিসে আত্রান্তদের মধ্যে ৯০% – ৯৫% কে এই ধরনটিতে ভুগতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে ‘প্যাংক্রিয়াস’ রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য পর্যাপ্ত ইন্সুলিন তৈরী করতে পারেনা এবং প্রায়শই ইন্সুলিনের প্রতি দৈহিক প্রতিক্রিয়া ঠিকমত হয় না। অনেকে আক্রান্ত হয়েও অনেকদিন যাবত বুঝতেই পারেন না যে তারা এ ধরনের ডায়াবেটিসে ভুগছেন। অথচ এটি কিন্তু একটি জটিল অবস্থা। যত দিন যাচ্ছে, অতিশয় স্থুলতা ও ব্যায়াম বিমুখতা- মূলত এ দু’টি কারণে এই ধরনের ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই।



এছাড়াও রয়েছে-
• গর্ভধারণকালীন ডায়াবেটিস- এটি গর্ভাবস্থায় দেখা যায়। এক্ষেত্রে গর্ভবতীর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা গর্ভকালীন যে কোন সময়ে বৃদ্ধি পায়। অথচ গর্ভবতী হওয়ার পূর্বে তাদের ডায়াবেটিস ছিল না। সেই সমস্ত স্ত্রীলোক সাধারনত এই ডায়াবেটিসে ভোগেন যারা স্থুলকায় এবং যাদের পরিবারের অন্যান্য (রক্ত-সম্পর্কীয়) সদস্যরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন।



গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে মায়ের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা অবশ্যই স্বাভাবিক রাখতে হবে। তা না হলে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। যারা গর্ভধারনকালীন ডায়াবেটিসে ভোগেন তাদের মধ্যে ৫%-১০% স্ত্রীলোককে পরবর্তীতে ‘ধরন-২ ডায়াবেটিসে’ ভুগতে দেখা যায় এবং এক্ষেত্রে ২০%-৫০% এর ৫-১০ বছরের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

• অন্য নির্দিষ্ট ধরনের ডায়াবেটিস- এটি বিভিন্ন কারণে হয়, যেমন- জিনগত অবস্থা, শল্যচিকিৎসা, ওষুধ, পুষ্টিহীনতা, ইনফেক্সন ও অন্যান্য অসুস্থতা। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে ১%-৫% এই ধরনটিতে ভোগেন।



‘ধরন-১ ডায়াবেটিসে’-এর কিছু উপসর্গ-
• অবসাদ, পিপাসা বৃদ্ধি পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, বিবমিষা, বমি হওয়া, ক্ষুধা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া।
‘ধরন-১ ডায়াবেটিস’ রোগীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো খুব কম সময়ের মধ্যেই প্রকাশ পেয়ে থাকে এবং জরুরী অবস্থার মধ্য দিয়ে এটি নির্ণীত হয়।
‘ধরন-২ ডায়াবেটিসে’-এর কিছু উপসর্গ-

• ঝাপসা বা অস্পষ্ট দৃষ্টি, অবসাদ, ক্ষুধা বৃদ্ধি পাওয়া, পিপাসা বৃদ্ধি পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।

*যেহেতু ধরন-২ ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, তাই কিছু কিছু ব্যক্তির রক্তে উচ্চ মাত্রায় গ্লুকোজ থাকা সত্ত্বেও তারা এই উপসর্গগুলো আদৌ বুঝতে পারেনা।



‘ধরন-২ ডায়াবেটিস’ -হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে-
১/ বয়স ৪৫ বছরের বেশী হলে,
২/ পিতামাতার কোন একজন, ভাই অথবা বোন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে,
৩/ গর্ভধারনকালীন ডায়াবেটিস হলে অথবা ৯ পাউন্ড অপেক্ষাবেশী ওজনের বচ্চা প্রসব করলে,
৪/ হৃদরোগ থাকলে,



৫/ রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল বা চর্বি থাকলে,
৬/ অতিশয় স্থুলতা থাকলে,
৭/ পর্যাপ্ত ব্যায়াম না করলে,
৮/ মহিলাদের পলিসিস্টিক ওভারি ডিসিজ অর্থাৎ ডিম্বাশয়ে টিউমার হলে,
৯/ রক্ত পরীক্ষায় গ্লুকোজ বা শর্করার সহনশীলতা জনিত বৈকল্য (IGT) থাকলে,
১০/ কোন কোন বিশেষ সংস্কৃতির অধিকারী জনগোষ্ঠি।



ডায়াবেটিস সনাক্তকরণ পরীক্ষা ও মূল্যমান-
• প্রাথমিকভাবে প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে তাতে গ্লুকোজ(Glucose) বা শর্করা এবং চর্বি ভেঙ্গে যাওয়ায় সৃষ্ট কিটোন বডির উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়। তবে ডায়াবেটিস সনাক্তকরণের জন্য প্রস্রাব পরীক্ষার উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করা উচিত নয়।



ডায়াবেটিস সনাক্তকরণের জন্য রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করা নির্ণয়ের কিছু পরীক্ষা ও মাত্রা-
• অভুক্ত অবস্থায় রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা (FBS) -> যদি পর পর দু’বার ১২৬ মিলিগ্রাম/ডি.এল অর্থাৎ ৭.০মিলি.মোল/এল বা তা অপেক্ষা বেশী হয় তবে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়।



এই মাত্রা ১০০ থেকে ১২৫ মিলিগ্রাম/ডি.এল অর্থাৎ ৫.৬ থেকে ৬.৯ মিলি. মোল/এল পর্যন্ত হলে তাকে (IFG- impaired fasting glucose) উপবাসকালীন হানিকর শর্করা অর্থাৎ ডায়াবেটিস হওয়ার পূর্ব-অবস্থা হিসেবে ধরে নেয়া হয়। এই মাত্রাগুলোকে ধরন-২ ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার বিপদ সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

• মুখে খাওয়া গ্লুকোজের সহনশীলতা পরীক্ষা (GTT) -> মুখে (৭৫ গ্রাম) গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘন্টা পর রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা ২০০ মিলিগ্রাম/ডি.এল অর্থাৎ ১১.১মিলি. মোল/এল বা তা অপেক্ষা বেশী হলে তাকে ডায়াবেটিস ধরা হয়। এই পরীক্ষা ‘ধরন-২ ডায়বেটিস’ সনাক্ত করার জন্য বেশী ব্যবহৃত হয়। এই মাত্রা ১৪০ মিলিগ্রাম/ডি.এল থেকে ১৯৯ মিলিগ্রাম/ডি.এল অর্থাৎ ৭.৮ থেকে ১১ মিলি. মোল/এল পর্যন্ত হলে এই অবস্থাকে Impaired glucose tolerance (IGT) হিসেবে ধরা হয় এবং যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার ইংগিত বহন করে।

• ভুক্ত অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা (RBS)-> ২০০মিলিগ্রাম/ডি.এল বা ১১.১মিলি.মোল/এল বা তা অপেক্ষা বেশী হলে এবং সেই সঙ্গে ডায়াবেটিসের উপসর্গ যেমন অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অবসাদ ইত্যাদি থাকলে ডায়াবেটিস হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে রোগ সনাক্তকরণের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ‘মুখে খাওয়া গ্লুকোজের সহনশীলতা পরীক্ষা’ অর্থাৎ (GTT) অবশ্যই করে নিতে হবে।

• উপরের পরীক্ষাগুলো ছাড়াও প্রতি ৩-৬ মাসের মধ্যে অন্তত একবার হিমগ্লোবিনের A1c (HbA1c) পরীক্ষা করে দেখা উচিত। এই HbA1c নিরূপণের মাধ্যমে পূর্বের ২-৩ মাস সময়ের মধ্যে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কেমন ছিল তা অনুমান করা যায়। ডায়াবেটিসের চিকিৎসার ফলাফল বোঝার জন্য যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারো A1c এর মাত্রা ৫ পর্যন্ত স্বাভাবিক ধরা হয়। ৫.৭ থেকে ৬.৪ পর্যন্ত হলে তাকে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ হবার জন্য ঝুকিপূর্ণ হিসেবে ধরে নেয়া হয়। আর ৬.৫ বা তা অপেক্ষা বেশি হলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে ধরে নেয়া হয়।



ডায়াবেটিসের জরুরী বা তাৎক্ষণিক জটিলতাসমূহ-
১). ডায়বেটিক হাইপারগ্লাইসেমিক হাইপার- অসমোলার কোমা (Diabetic hyperglycemic hyperosmolar coma)
২). ডায়বেটিক কেটোএসিডোসিস (Diabetic ketoacidosis)



ডায়বেটিসের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতাসমূহ-
১). এ্যথেরোস্ক্লেরোসিস-> রক্তনালীতে চর্বি জমে ছিদ্রপথ সরু হয়ে যাওয়া (Atherosclerosis)
২). করোনারি আর্টারি ডিজিস-> হৃদপিন্ডের ধমনীর রোগ। (Coronary artery disease)
৩). ডায়বেটিক নেফরোপ্যাথি-> ডায়বেটিস জনিত কিডনী রোগ। (Diabetic nephropathy)
৪). ডায়বেটিক নিউরোপ্যাথি-> ডায়বেটিস জনিত ্লায়ূ-রোগ। (Diabetic neuropathy)



৫). ডায়বেটিক রেটিনোপ্যাথি-> ডায়বেটিক জনিত চোখের রেটিনার রোগ। (Diabetic retinopathy)
৬). ইরেক্সন প্রব্লেম-> পুরুষের লিঙ্গোত্থান সমস্যা। (Er****on problems)
৭). হাইপারলিপিডিমিয়া-> রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়া। (Hyperlipidemia)
৮). হাইপরটেনশন-> উচ্চ রক্তচাপ। (Hypertension)



৯). ইনফেক্সন অফ স্কিন এন্ড ইউরিনারী ট্রাক্ট-> চর্ম এবং প্রস্রাবের নলীর ইনফেক্সন। (Infections of the skin and urinary tract)
১০). পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিস-> প্রান্তিক রক্তনালীর রোগ। (Peripheral vascular disease)
১১). স্ট্রোক-> মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা ইনফার্কশন জনিত সমস্যা। (Stroke)



রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনেক বেড়ে যাওয়া যেমন ভাল নয়, তেমনি হঠাৎ করে যেন খুব বেশি কমে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কারন উভয় ক্ষেত্রেই জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে যারা ইনসুলিন নিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে বেশি খেয়াল রাখতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কি কি উপসর্গ হতে পারে তা জানা থাকলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া সহজ হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ার আগে রোগীকে হাসপাতালে নিলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।



রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব বেড়ে গেলে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) যেসব উপসর্গ হতে পারে সেগুলো হল-
পেটে ব্যথা, ঘন ঘন দীর্ঘ-শ্বাস নেয়া, পিপাসা ও প্রস্রাব বৃদ্ধি পাওয়া, অবসাদ, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, প্রশ্বাসে মিষ্টি গন্ধ।



রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) যেসব উপসর্গ হতে পারে সেগুলো হল-
বিভ্রান্তি, শরীরের প্রত্যঙ্গগুলোর ভয়ানক আলোড়ন অথবা অচৈতন্য, মাথা ঘোরা, দ্বৈত-দৃষ্টি, ঝিমানো বা নিদ্রালুভাব, মাথাব্যথা, দূর্বলতা, সমঝতার অভাব



রক্তে গ্লুকোজ স্বল্পতা জনিত আচ্ছন্নতা বা প্রচন্ড ইন্সুলিন প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে গ্লুকোজ, চিনি বা হাতের কাছে বর্তমান মিষ্টি জাতিয় খাবার খাওয়াতে হবে অথবা গ্লুকোজ-ইনজেক্সন দিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।



ডায়াবেটিসের চিকিৎসা-
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে উপসর্গ মুক্ত থেকে সুস্থ্যভাবে জীবন যাপনের জন্য সঠিক সময়ে সঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে হবে। তাহলে ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কীত জটিলতা যেমন- অন্ধত্ব, হৃদরোগ, কিডণী রোগ, পচন জনিত অঙ্গহানী ইত্যাদি থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এটা মনে রাখতে হবে যে ডায়বেটিস নির্মূল করা যায় না। নিয়মিত ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, বিশ্রাম ও প্রয়োজনে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।



• পথ্য- ডায়াবেটিক রোগীরা খাদ্যের সাথে কি পরিমাণ চর্বি, আমিষ ও শর্করা(Carbohydrates) গ্রহণ করবেন তা নিকটতম ডায়াবেটিক সেন্টারে গিয়ে অথবা ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান এর নিকট থেকে জেনে নিতে হবে। প্রয়োজনে পথ্যবিশারদের নিকটে গিয়ে পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। তবে একজন ডায়াবেটিক রোগির প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কার্বহাইড্রেট বা শর্করা ৫০-৬০% (এর মধ্যে আঁশ যুক্ত খাবার ২০-৩৫ গ্রাম), ফ্যাট বা চর্বি ৩০% এবং প্রোটিন বা আমিষ ১০-২০% থাকা প্রয়োজন।
ধরন-২ ডায়াবেটিস- এ আক্রান্তদের সুষম ও কম চর্বিযুক্ত খাদ্য সঠিক পরিমাণে সময়মত গ্রহণ করা উচিত।

• ব্যায়াম- ডায়াবেটিক রোগীদের প্রতিদিন ব্যায়াম করা উচিত। এটা একদিকে যেমন রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে, তেমনি ওজন কমাতে ও উচ্চ-রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না তাদের তুলনায় যারা করেন তারা অনেক কম হারে হার্ট-এ্যটাক ও স্ট্রোকের শিকার হন।



ব্যায়ামের নিয়মাবলী-
o ব্যায়াম আরম্ভ করার পূর্বে এবং বিশেষ করে ব্যায়ামের ধরন পরিবর্তনের সময় ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেয়া উচিত।
o নিজের শারীরিক উপযুক্ততা অনুসারে আনন্দ- দায়ক ব্যায়ামের বিষয় নির্বাচন করতে হবে।
o প্রতিদিন এবং সম্ভব হলে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে হাঁটতে হবে।



o মাঝে মাঝে হাঁটার আগে ও পরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা উচিত।
o হাঁটার সময় শর্করা সমৃদ্ধ কিছু খাবার সাথে রাখতে হবে। যে কোন মূহুর্তে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে জাওয়ার ভাব অনুভূত হলে তা খেয়ে নিতে হবে।
o জরুরী অবস্থার প্রয়োজনে নিজের সাথে সব সময় ডায়াবেটিক কার্ড বা সর্বশেষ চিকিৎসা পত্রের ফটোকপি সাথে রাখতে হবে।
o হাঁটার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও চিনিমুক্ত তরল খাবার খেতে হবে।

(ব্যায়ামের ধরন ও সময় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশী বা কম হওয়ার উপর ভিত্তি করে খাদ্য ও ওষুধের ধরন এবং পরিমাণ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।)
• বিশ্রাম- সময়মত ও নির্দিষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম ও ঘুম ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অতি জরুরী। দুপুরের আহার ও প্রার্থণার পর (জায়নামাজ বা শীতল পাটির উপর) ১৫-২০ মিঃ চোখ বুঝে চুপচাপ সটান শুয়ে থাকাত পারলে খুবই ভাল হয়। তবে রাতে ৬-৭ ঘুমানো অপরিহার্য। কারণ রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে এই ঘুমের বেশ বড় ভূমিকা রয়েছে।

• ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে ওষুধ- ইন্সুলিন ও মুখে খাওয়ার বড়ি দ্বারা ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা হয়।

o ধরন-১ ডায়াবেটিক- রোগীর শরীরে ইন্সুলিন তৈরি হয় না। তাই ইন্সুলিন ইনজেক্সন নিতে হয়। ইন্সুলিনের ধরণ অনুসারে দিনে একবার থেকে চারবার পর্যন্ত ইনজেক্সন নিতে হয়। কেউ কেউ ‘ইন্সুলিন-পাম্প’ ব্যবহার করে। এটা সব সময় বহন করতে হয় এবং তা থেকে সমস্ত দিনভর নির্দিষ্ট হারে ইন্সুলিন সরবরাহ হতে থাকে। অনেকে আবার শ্বাসের সাথে ইন্সুলিন নেয়ার জন্য ‘ইন্সুলিন-শ্বাসক’ ব্যবহার করে।



o ধরন-২ ডায়াবেটিস- নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ব্যায়াম, খাদ্য পরিবর্তন ও মুখে খাওয়া ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করতে হয়। প্রসূতি ও দুগ্ধবতী মায়েদের চিকিৎসার জন্য ইন্সুলিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

মনে রাখবেন, ইন্সুলিন নেয়ার আগে নাস্তা / খাবার রেডি রেখে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে তারপর ইনসুলিন নেবেন এবং ২০ মিনিট পর আহার করবেন। তারপর অন্য কাজ করবেন। এর মাঝে কোন ভারি কাজ করবেন না। এমনকি গোসলও করবেন না।

• পায়ের যত্ন: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই পায়ের সমস্যায় ভুগে থাকে। ডায়াবেটিস(Diabetes) হলে রক্তনালী ও ্লায়ুকোষের ক্ষয় হয় এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। অনেক সময় পায়ে ক্ষত হলে তাতে ইনফেক্সন না হওয়া পর্যন্ত টের পাওয়া যায় না। এমন কি চামড়া ও অন্যান্য কোষে পচন ধরতে পারে। ঠিকমত চিকিৎসা করা না হলে জীবন রক্ষার্থে পা কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে। পা কেটে ফেলার যতগুলো কারণ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস অনেকটা এগিয়ে আছে। সুতরাং পায়ের ক্ষত ও ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রতিদিন পায়ের পরীক্ষা ও পরিচর্যা করতে হবে।



ডায়াবেটিস প্রতিরোধে যা করা প্রয়োজন:
• শরীরের ওজন আদর্শ মাপের মধ্যে রাখা ও কর্মময় জীবন যাপন করার মাধ্যমে ‘ধরন-২ ডায়াবেটিস’ প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।
• তবে বর্তমানে ধরন-১ ডায়াবেটিস প্রতিরোধের তেমন কোন উপায় নেই এবং উপসর্গ না থাকলে তা ঢালাওভাবে নির্ণয়ের জন্য যাচাই বাছাই করার তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না।



• ধরন-২ ডায়াবেটিস- এ আক্রান্ত না হয়ে থাকলে এবং কোনরূপ উপসর্গ দেখা না দিলেও যাদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত-
o অতিরিক্ত ওজন বিশিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে যদি ডায়াবেটিসের সহায়ক আশংকাজনক কারণগুলো বিদ্যমান থাকে, তবে ১০ বছর বয়স থেকে শুরু করে প্রতি ২ বছর পর পর পরীক্ষা করতে হবে।

o অতিরিক্ত ওজন বিশিষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক যাদের বিএমআই (ওজন=কেজি /উচ্চতা=মিটার২) ২৫ অপেক্ষা বেশী এবং সেইসাথে ডায়াবেটিসের সহায়ক অন্যান্য আশংকাজনক কারণগুলো বিদ্যমান, তাদের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ বছর পর পর পরীক্ষা করতে হবে।
o বয়স ৪৫ বছরের বেশী হলে প্রতি ৩ বছর পর পর পরীক্ষা করতে হবে।



ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতা থেকে রক্ষা পেতে হলে মাঝে মাঝে অর্থাৎ বছরে অন্তত চার বার ডায়াবেটিক হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। কোন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে হবে।



ডায়াবেটিক রোগীকে নিয়মিত যে বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখতে হবে-
o মাঝে মাঝে রক্তচাপ মেপে দেখতে হবে এবং তা অবশ্যই ১২০/৮০মিমি.মার্কারি বা তার নীচে রাখতে হবে।
o ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রতি ৬ মাস পর পর HbA1c পরীক্ষা করে দেখতে হবে। নিয়ন্ত্রণে না থোকলে প্রতি তিন মাস অন্তর তা পরীক্ষা করতে হবে। HbA1c এর মাত্রা ৪০ মি.গ্রাম /ডি.এল ও ট্রাইগ্লিসারাইড < ১৫০ মি.গ্রাম/ডি.এল থাকে।
o প্রতি বছর কিডনীর কার্যকারীতা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। বিশেষ করে সেরাম ক্রিয়েটিনিন ও মাইক্রোএলবুমিনিউরিয়া কিরূপ অবস্থায় আছে তা নির্ণয় করে দেখতে হবে।

o প্রতি বছর অন্তত একবার চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ বিশেষ করে যারা ডায়বেটিক রেটিনোপ্যাথি সম্পর্কে অভিজ্ঞ তাদের কাছে গিয়ে চোখ দেখাতে হবে। অসুবিধা থাকলে মাঝে মাঝে যেতে হবে।
o দাঁতের যত্ন নিতে হবে এবং ৬ মাস পর পর দন্ত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে দাঁত পরিষ্কার করাতে হবে।
o চিকিৎসা কর্মীর কাছে গেলে অবশ্যই পা পরীক্ষা করাতে হবে।
o সংক্রামক ব্যাধির প্রতিষেধক নেয়ার ব্যপারে সচেতন থাকেতে হবে।

Address

Houseno-10 , Road -10 East Vatara, Saidnagor , Vatara , Dhaka.
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rugi.xyz posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Rugi.xyz:

Share