23/04/2026
গরম যেমন বাড়ছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘরে ঘরে অসুস্থের সংখ্যা। প্রায় বাসাতেই ফুড পয়জন, ডায়রিয়া আর শরীরের দুর্বলতা লেগেই আছে। কয়েকটা মেজর পয়েন্ট বলবো, প্লিজ এগুলো একটু মেনে চলবেন এই চলতি হিট ওয়েভের দিনগুলোতেঃ
★ ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে দিনেরবেলা ৩৬-৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠতেছে, ফিলস লাইক চলে যাচ্ছে ৪২-৪৩ ডিগ্রির দিকে৷ মনে রাখবেন, বাইরের চাইতে রান্নাঘরের তাপমাত্রা সবসময় ৩-৪ ডিগ্রি বেশি থাকে, একে তো বদ্ধ জায়গা তারউপরে আবার চুলা জ্বলতে থাকে। তো, যখন আপনি সকালে/দুপুরে ভাত-তরকারি রান্না করে এই তীব্র গরম জায়গাতেই সারাদিন রেখে দিবেন আর রাতের বেলা সেই তরকারি খেতে যাবেন, ততক্ষণ আর সেটা ভালো থাকবেনা, ব্যাকটেরিয়ার ভান্ডার হয়ে যাবে!
নিজের মনমতো ওয়েদার পাইলে ব্যাকটেরিয়া-রা আধাঘন্টায় ডবল হতে থাকে। তার মানে জোহরের পরে রান্না করা কোনো সালুন বাইরে রেখে যদি এশা'র পরেও খেতে বসেন, মোটামুটি কোটিখানেক ব্যাকটেরিয়া সাথে ফ্রি পাচ্ছেন এটা নিশ্চিতই বলা যায়। ব্যাকটেরিয়ার জন্যে খাবারে টক্সিসিটি একবার যদি চলেই আসে, সে খাবার গরম করলেও তা যায়না। তাই 'বাইরে রাখসি তাতে কি, গ্রম করলে সব চলে যায়' ধারণাটা পুষে রাইখেন না।
তাই, এই গরমে সর্বপ্রথম করণীয়ঃ দুইবেলার রান্না যদি একসাথে করে থাকেন, রান্নার দুইঘন্টার মধ্যেই ফ্রিজে সেটা সংরক্ষণ করুন৷ আবার ক্ষুধা লাগবে যখন, তখন বের করে ভালোমত গরম করে খান৷ এই ছোট্ট একটা স্টেপে ইনশাআল্লাহ পেটের সমস্যা কেটে যাবে অনেকখানি।
একই কথা খাটে বাইরের খাবারের জন্যে। তারা তো আর আগের রান্না ফ্রিজে রাখবে না। তাই দেখা যাবে টাকা দিয়ে ফাস্টফুডের পাশাপাশি E. coli, Staphylococcus, Bacillus cereus ব্যাকটেরিয়াদের পুরো কলোনি কিনে আনতেসি! বেশি গরমের এই কয়দিন তাই বাইরের খাবার একটু কম কম খাবো। যদি বেশিই ক্রেভিংস উঠে? হাতের কাছে চিড়া রাখতে পারেন, আর মুদিদোকান থেকে আধাকেজি টকদই কিনে আনবেন। একমুঠ চিড়া ভিজায়ে তাতে টকদই ঢেলে খেয়ে নেন যদি, পেট ঠান্ডা মানে ক্রেভিংস নেমে আসবে শূণ্যের কোটায়!
★ "নাগা কিংবা ঝাল, আজকে না খেয়ে খাবো কাল" ! এই চড়তি গরমে ঝাল / বুকজ্বলা খাবার থেকে যতটা পারা যায় দূরে থাকবো। তরমুজের দাম এখন একদম নাগালে, বাইরে কিছু খেতে হলে কয়েক ফালি তরমুজ কিনে খেতে পারি। সব্জির দোকান থেকে দুইটা শসা আর একটা টমেটো কিনে একটু পানি দিয়ে ধুয়ে খেতে নিতে পারি। পেপে'র জ্যুস কিংবা স্লাইস, যেটাই পাবো, ধুমায়ে খাবো। ডাবের পানি খাবো, খাওয়া শেষে ডাবের শাসটাও খাবো।
★ যদি দিনভর আপনি ঘরের ভেতরে / অফিসে কিউবিকলের ভেতরে কাটান, তবুও ৩ লিটারের মত পানি খাওয়া খুব দরকার। আর যদি বাইরে বের হতেই হয়, হয়ত আপনার কাজের ধরণটাই আউটডোরে -- তাহলে ওয়াটার ইন্টেক সারাদিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ লিটার বজায় রাখবেন।
একসাথে অনেকবেশি পানি খেলে কারো কারো মাথা ঘুরায়, পেট মোচড়ায়। তারা একটা ফর্মুলা মাথায় রাখলেই হবেঃ একঘন্টায় একলিটারের বেশি পানি খাবোনা