02/10/2019
নাকের পলিপাস : নাকের পলিপাস হলো নাকের ভিতরের দেয়লে বা Nasal septum এ মাংস বৃদ্ধি পাওয়া । ন্যাজাল বা নাকের পলিপাস বলতে সাধারণভাবে নাকের ভেতরের এক ধরনের মাংসপিণ্ডকে বোঝানো হয়। এটি দুই নাকেই হতে পারে এবং দেখতে স্বচ্ছ । সাইনাসের আবরণী কোষ হতে উৎপন্ন হওয়া আঙ্গুর ফলাকৃতির এক ধরণের মাংসপিন্ডই পলিপাস ।
Note : নাক বন্ধ থাকা মানেই নাকে পলিপাস আছে—এ ধারণা ঠিক নয় । অনেক সময় নাক বন্ধ অবস্থায় এর মধ্যে পিণ্ডাকৃতির কিছু দেখলেই অনেকে তা পলিপাস বলে মনে করেন। নাকের পলিপাস অনেকটা পিণ্ডাকৃতিরই হয়ে থাকে, তবে সব ধরনের পিণ্ডই কিন্তু পলিপাস নয়। পলিপাসের রং মাংসপিণ্ডের মতো লাল হয় না। পলিপাস আঙুরের দানার মতো গোলাকার ও ফ্যাকাশে রঙের হয়ে থাকে।
নাকের পলিপাস দুই ধরণের হয়ে থাকে-
ইথময়ডাল পলিপাস : এলার্জির কারণে হয়, দুই নাকে হয় এবং মাঝ বয়সে দেখা যায় ।
এন্ট্রোকোয়ানাল পলিপাস : ইনফেকশনের কারণে হয়, এক নাকে হয় এবং শিশু বা কিশোর বয়সে বেশি দেখা যায় ।
পলিপাস কেন হয় : পলিপাস কেন হয় তার সঠিক কারণ এখনো অজানা। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যালার্জিজনিত কিংবা দীর্ঘমেয়াদি নাক ও সাইনাসের প্রদাহ, ইনফেকশন এর প্রধান কারণ ।
সমস্যা: নাকে পলিপাস থাকলে ঘন ঘন যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে থাকে তা হলো: নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, বেশি হাঁচি হওয়া, নাকে কোনো গন্ধ না পাওয়া, মাথাব্যথা থাকা, নাকিসুরে কথা বলা, মুখ হা করে ঘুমানো, অনেক সময় মাথায় ব্যথা হয়, নাক চুলকায়, নাকে ব্যথা ও স্মৃতি শক্তি কমে যায় ইত্যাদি।
সমাধান: চিকিৎসা ও সুস্থতা-
1. এলোপ্যাখী : প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধের মাধ্যমে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করে এর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া পলিপাসের চিকিৎসায় স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা হয়। এতে পলিপাসের আকার ছোট হয়ে আসতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তা কমে যায়। স্টেরয়েড জাতীয় নাকের স্প্রে দিনে দুইবার করে প্রতি নাকের ছিদ্রে ব্যবহার করতে হয় । যদি ঔষধে নিয়ন্ত্রিত না হয় কিংবা অতিরিক্ত বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে নাকের পলিপাসের চিকিৎসা হলো অপারেশন। অপারেশন করলে সাধারণত নাকের পলিপাস ভালো হয়ে যায়। তবে এই পলিপাস বার বার হতে পারে এবং প্রয়োজনবোধে কয়েকবার অপারেশন করা লাগতে পারে ।
2. হোমিও চিকিৎসা : শুধু অস্ত্রোপচার করে পলিপাস অপসারণ করলে সাময়িক উপকার পাওয়া যায় মাত্র। কিছুদিন পরই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পলিপাসের পুনরাবির্ভাব হয়ে থাকে। অপারেশন ছাড়াই পলিপ সারানো যায়। নাকের পলিপ চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিতে অত্যন্ত কার্যকরী ওষুধ আছে। লক্ষণ সাদৃশ্যে এই রোগে যেসব ওষুধ ব্যবহৃত হয় সেগুলোর মধ্যে ১) অরাম ম্যাকুলেটাম ২) ক্যালকেরিয়া ৩) কার্বনিয়াম সালফ ৪) ফরমিকা রূপা ৫) গ্রাফাইটিস ৬) লেমনা মাইনর ৭) এসিড নাইট্রিকাম ৮) সাঙ্গুনেরিয়া নাট্রিকাম ৯) ক্যালি বাইক্রমিকাম ১০) ক্যালি নাইট্রিকাম ১১) মার্ক বিন-আয়োড ১২) সাইলিশিয়া ১৩) সালফার ১৪) থুজা ১৫) মেডোরিনাম উল্লেখযোগ্য। তারপরও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করা উচিত।
নাকের পলিপাসের বাইয়োকেমিক ঔষধ নির্বাচন :
ক্যালকেরিয়া ফস :ক্যালকেরিয়া ফসের অভাবহেতু এইরোগ হলে এটিই একমাত্র ঔষধ ।পুরান সর্দিপ্রবন রোগী ঘ্রানহীণ,বৃন্তযুক্ত পলিপাসের প্রধান ঔষধ।ইহা বাহ্য ব্যবহারও হয়।মাত্রাঃ৩,৬,১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরে গরম পানিতে খাবেন।
নেট্রাম মিউর :লবন প্রীয় রোগীর সর্দি,হাছিসহ বৃন্তহীণ পলিপাসথাকলে এবং রোগী ঘ্রাণশক্তিহীন হলে এইঔষধ অত্যন্ত উপকারী।ইহা বাহ্য ব্যবহৃত হয়।মাত্রা ৩,৬,১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিনবার আহারের পরে গরম পানিতে খাবে।
সাইলেসিয়া :শ্লেষ্মা ময় পলিপাসের রোগীর, সাইলেসিয়ার ধাতুগত মিলথাকিলে বৃন্তহীন পলিপাসে ব্যবহার করলে আরোগ্য হয়মাত্রা ৩,৬,১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরে গরম পানিতে খাবে।
কেলি সালফ :বৃন্ত যুক্ত ও বৃন্তহীণ উভয় প্রকার পলিপাসের রোগীর শরীরের চামড়া শুষ্ক,কর্কশ ও অপরিস্কার থাকলে এবং রোগীর যে কোন স্রাবআঠাল,পিচ্ছিল,চটচটে হলুদ বর্নের হলে অত্যন্ত কার্যকরী।মাত্রা:মাত্রা:মাত্রা ৩,৬,১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরেগরম পানিতে খাবে।
*** রোগীর ধাতুগত লক্ষণ,মানসিক লক্ষণ, রোগীর লক্ষণসমষ্টির সাদৃশ্যে সর্বাপেক্ষা অধীক সদৃশ ঔষধ নির্বাচন করতে সক্ষম হলেই দ্রুত রোগ নিরাময় সম্ভব । এ কাজটি অত্যন্ত কঠিন তাই নিজের ঔষধ নিজে নির্বাচন না করে একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সাহায্য নিতে হবে ।
বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাস স্থায়ী আরোগ্য হয়। তবে জটিলতার উপর নির্ভর করে আরোগ্যের সময় একটু দির্ঘায়ীত হতে পারে।
মেডিসিন সমূহ:
১/ ক্যালকেরিয়া কার্ব
২/ স্যাঙ্গোনেরিয়া ক্যান
৩/ থুজা
৪/ সাইলেশিয়া
৫/ ডালকামরা
৬/ টিউক্রিয়াম
৭/ অরামমেট
৮/ লাইকোপোডিয়াম
৯/ এ্যালিয়াম সিপা
১০/ আর্সেনিক আয়োড
১১/ ক্যালি আর্স
***ভেষজ গুনের মাধ্যমে কিছু টা প্রতিকার পাওয়া যায় যেমনঃ
* একটু পেয়াজের রসের ঘ্রাণ নিলে নাসারন্ধ্র পরিষ্কার হয়।
* আখের রস, খনিজ পদার্থ চুন এবং বারবারিজ পাথর ব্যাবহারে সুফল পাওয়া যায়
* ফ্রিজের পানীয় এবং খাবার গ্রহণে বিরত থাকা।
* বেশি ঠান্ডা খাবার খাওয়া এবং এ.সি ব্যাবহারে বিরত থাকা
* চিংড়ি মাছ , ইলিশ মাছ , আলু ,কচু ,পুইশাক , গরুর মাংস এবং এলার্জিজাতীয় খাবার পরিহার করা।
পলিপাসের সচেতনতা:
ঠান্ডাজনিত পরিবেশ থেকে সাবধাণতা অবলম্বন করতে হবে।
সিজনাল ফল-মূল বেশী খেতে হবে।
ধূলা-বালি ও ধোঁয়া থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
ফ্রীজের সরাসরি ঠান্ডা খাবার থেকে ও গতানুগতিক এ্যান্টিবায়োটিক ও ঠান্ডাজনিত ঔষধ খাওয়া হতে বিরত থাকতে হবে।
এলার্জি জাতীয় খাবার কম খেতে হবে।
জীবন-যাত্রায় মানসিক ও শারীরিক প্রভাব যেন না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ডাঃ মোঃ আল-আমিন (রুবেল)
ডি এইচ এম এস (বি এইচ এম সি)
মোবাইল :01920744991