14/01/2023
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ভাইদের প্রতি সম্মান জানিয়ে লেখাঃ
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
যেখানে একজন প্রতিনিধি ছিলো, সেখানে এখন তিনজন।
একজনের যে টার্গেট আগে ছিলো বছরে বছরে তার পরিমাণ বাড়ছেই। গত বছর একজন এমপিওর টার্গেট ছিলো মাসিক দুই লাখ টাকা, এবছর সেটা মাসিক তিন লাখ। কিন্তু এখন একই মার্কেটে এখন তিনজন ছেলে। একটা ওষুধ কোম্পানির একটা মার্কেটে মাসিক দুই লাখ টাকা উপার্জনের টার্গেট এখন বেড়ে হয়েছে পাঁচ লাখ!
এজন্য প্রতিটি প্রতিনিধিকেই অসম্ভব স্ট্রেসফুল একটা লাইফ নিয়ে চলতে হয়।
প্রতিবছর কোম্পানির মালিক টার্গেট বাড়াতে থাকে। কোম্পানির উচ্চ পর্যায়ের কর্মচারী নিম্নের কর্মচারীকে প্রেসারাইজড করতে থাকেন!
পুঁজিবাজারে মানবিকতার কোনোই স্থান থাকেনা ; টার্গেটের চেয়ে কম বিক্রি হলেই বসের কটু কথা -চাকরি ছেড়ে দিন!!
যাদের সাথে কথা হয়, সারাক্ষণই মন খারাপ করে থাকে - স্যার টার্গেট ফুলফিল হচ্ছে না।
কথা হচ্ছে, এতো টাকার ওষুধ কোথায় বিক্রি হবে?
জনসংখ্যা তো একই।
তাদেরকে ছুটতে হয় ডাক্তার, ডিএমএফ, গ্রাম্য ডাক্তার, হাতুড়ি, ফার্মাসিস্ট সবার কাছেই।
নৈতিকতা এবং ভদ্রতার মুখোশ ফেলে দিতে হয় একসময়। সবাইকে খুশি করে দিনশেষে যখন বাসায় ফেরে একরাশ হীনমন্যতা ঘিরে ফেলে তাদেরকে।
একদিকে চেম্বারের বাইরে রোগীর লোকজনের কটু কথা অপমান, আরেকদিকে উর্দ্ধতনের চাপ, ওদিকে টার্গেট ফিলআপের দুশ্চিন্তা - অনার্স মাস্টার্স করা একটা ছেলেকে মুখ নিচু করে চেম্বারের বাইরে বেরিয়ে যেতে আসলেই খারাপ লাগে।
অফিসিয়াল নিয়মে একদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও খুব কম প্রতিনিধিই এটা উপভোগ করতে পারেন।
পদোন্নতি হয়না বললেই চলে। পদোন্নতির আশায় আশায় একসময় বয়স বাড়ে, স্ট্রেস মেনে নিতে পারেনা।
অনেক অসম্ভব পরিশ্রমী এবং ডেডিকেটেড ছেলেকে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে দেখেছি।
আবার বয়স বাড়ায় অনেকেরই প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় কোম্পানির কাছে - মধ্য বিশের টগবগে ছেলেটি চল্লিশে পৌঁছে গেলে কোম্পানি আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয় তোমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। কেউ বিদায় নিতে বাধ্য হয়, কেউ অন্য কোম্পানিতে পাড়ি জমায়!!
সবাই একরকম কিনা জানিনা, তবে কোম্পানি মালিকদেরকে আমার নীলকর মনে হয় ইদানীং, যারা সবসময়ই আলোচনার বাইরে থেকে যান।
কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, গ্রাম ডাক্তারের লেনদেন নিয়ে প্রত্রিকাগুলো রসালো রিপোর্ট ছাপে, জনগণ দুই পক্ষেরই চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে।
কিন্তু এই নীলকর জমিদারদের নিয়ে কোনো পত্রিকাই রিপোর্ট করেনা!
রিপোর্ট করবে কিভাবে? ওইসব পত্রিকার মালিক হয়তো ওই জমিদার নিজেই।।
কোম্পানির ইনকাম বাড়ে, ওষুধের দাম বাড়ে, বাজার বাড়ে, এন্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্স বাড়ে, মালিকদের স্ট্যাটাস -পদ - পদবী সবই তো বাড়ছে দিনদিন ; শুধু বাড়ছেনা কোম্পানির প্রতিনিধির জীবনের দাম।
নিজে চিকিৎসক বলেই সুক্ষ্মভাবে খেয়াল করি ওদের জীবন। মায়াই লাগে।
( দয়া করে এইখানে কেউ চিকিৎসক-কোম্পানির রিলেশন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় এবং প্রিডিটারমাইন্ড কমেন্ট করবেন না। ওইটা ভিন্ন টপিক। একটা সমস্যার অসংখ্য কারন থাকে। একটাকে হাইলাইট করলেই অন্যগুলো বন্ধ হয়ে যায়না। এটা ভাইগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই লেখা )
Collected