04/06/2026
তীব্র গরম বা দাবদাহের সময় সুস্থ ও নিরাপদ থাকাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখা এবং ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) থেকে বাঁচতে কিছু জরুরি পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:
১. তরল ও পানি জাতীয় খাবার বাড়ান
• প্রচুর পানি পান করুন: তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। বাইরে বের হলে সবসময় পানির বোতল সাথে রাখুন।
• স্যালাইন ও লেবুর শরবত: অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে যে লবণ বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতে খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত খেতে পারেন।
• যা এড়িয়ে চলবেন: অতিরিক্ত চা, কফি, কোমল পানীয় (কোক/পেপসি) এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীরকে আরও বেশি ডিহাইড্রhydrate (পানিশূন্য) করে ফেলে।
২. পোশাক ও ব্যক্তিগত সচেতনতা
• হালকা পোশাক: বাইরে বের হওয়ার সময় সুতি, ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের পোশাক পরুন। সিন্থেটিক বা কালচে রঙের পোশাক গরম বেশি টানে।
• রোদ থেকে সুরক্ষা: সরাসরি রোদ এড়াতে ছাতা, চশমা (সানগ্লাস) এবং চওড়া টুপি ব্যবহার করুন। শরীরের খোলা অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন।
• নিয়মিত গোসল: দিনে অন্তত একবার বা প্রয়োজনে একাধিকবার স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে গোসল করুন।
৩. খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন
• সহজপাচ্য খাবার: এই গরমে তেল-মসলাযুক্ত, চর্বিজাতীয় এবং বাসি খাবার পুরোপুরি পরিহার করুন। এগুলো শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং বদহজমের কারণ হয়।
• ফল ও সবজি: তরমুজ, শশা, বাঙ্গি, লাউ, পেঁপে বা পোটলের মতো পানিজাতীয় ফল ও সবজি বেশি করে খান।
৪. ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখুন
• দিনের বেলা যেদিকের দেয়ালে রোদ লাগে, সেদিকের জানালা ও পর্দা বন্ধ রাখুন। বিকেল বা সন্ধ্যার পর জানালা খুলে দিন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
• ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন এবং সম্ভব হলে ইনডোর প্ল্যান্ট (গাছ) রাখতে পারেন, যা ঘর কিছুটা ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
৫. জরুরি সতর্কতা
• খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
• শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের এই গরমে বাড়তি যত্নে রাখুন, কারণ তাদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
• যদি প্রচণ্ড মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা শরীর নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ (হিট এক্সহসশন/হিট স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ) দেখা দেয়, তবে দ্রুত ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।