24/09/2026
জরায়ুর ফাইব্রয়েড টিউমারের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার! 🩺
নারীদের বন্ধ্যাত্ব বা প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার একটি অন্যতম বড় কারণ হলো ইউটেরাইন ফ্যাক্টর (Uterine Factor), যার মধ্যে জরায়ুর ফাইব্রয়েড বা টিউমার (Uterine Fibroids) সবচেয়ে সাধারণ। এটি জরায়ুর পেশির এক ধরণের অক্ষতিকর (Non-cancerous) টিউমার।
জরায়ুর কোন অংশে এটি তৈরি হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে এর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে (যেমন: ইন্ট্রামিউরাল, সাবসেরোসাল, সাবমিউকোসাল ইত্যাদি)। চলুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক:
🔻 প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms)
● অতিরিক্ত রক্তস্রাব: মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী মাসিক।
● তীব্র ব্যথা: তলপেটে সার্বক্ষণিক ভারী অনুভূতি, তীব্র কোমর ব্যথা বা মিলনের সময় ব্যথা হওয়া।
● ঘন ঘন প্রস্রাব: টিউমারটি বড় হয়ে মূত্রথলিতে চাপ দিলে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া।
● বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভপাত: সন্তান ধারণে সমস্যা হওয়া বা বারবার গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া।
🔻 মূল কারণসমূহ (Causes)
✦ হরমোনের তারতম্য: শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের আধিক্য এর জন্য মূলত দায়ী।
✦ বংশগত কারণ: পরিবারে মা, খালা বা বোনের এই সমস্যা থাকলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
✦ স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন: শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।
🔻 আধুনিক চিকিৎসা (Treatment)
● ওষুধের মাধ্যমে: প্রাথমিক অবস্থায় হরমোনাল ওষুধ বা লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
● সার্জারি (Myomectomy): সন্তান ধারণে ইচ্ছুক নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ু অক্ষত রেখে শুধু টিউমারটি অপসারণ করা হয়।
● হিস্টেরেক্টমি (Hysterectomy): বয়স বেশি হলে বা সমস্যা অত্যন্ত জটিল রূপ নিলে সম্পূর্ণ জরায়ু কেটে ফেলা হতে পারে।
💡 সচেতনতাই সুস্থতার প্রথম ধাপ:অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই আল্ট্রাসাউন্ড করার সময় এটি ধরা পড়ে। তাই পিরিয়ডের যেকোনো অস্বাভাবিকতায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।