Dr. Fahmida Mahbuba Bonna

Dr. Fahmida Mahbuba Bonna It's the page for medical information.
(3)

24/05/2026

কী সুন্দর হাত পা নাড়িয়ে খেলাধুলা করছে …🥰

বুকের দুধ সংরক্ষণ: নতুন মায়েদের জন্য ৫টি জরুরি ও পেশাদার গাইডলাইনএকটি শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের বুকের দুধের কোনো ...
24/05/2026

বুকের দুধ সংরক্ষণ: নতুন মায়েদের জন্য ৫টি জরুরি ও পেশাদার গাইডলাইন

একটি শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই। তবে আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রা বা কর্মক্ষেত্রে ফেরার কারণে অনেক মা-ই শিশুকে সঠিক সময়ে বুকের দুধ খাওয়াতে সমস্যায় পড়েন। সঠিক নিয়মে বুকের দুধ সংরক্ষণ করতে পারলে এই সমস্যার সমাধান সহজ হয়। নিচে এ বিষয়ে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ও পেশাদার তথ্য আলোচনা করা হলো:

✅১. ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ (Room Temperature)

পাম্প বা এক্সপ্রেস করা বুকের দুধ ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (প্রায় ২৫° সেলসিয়াস বা তার কম) সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে ঘরের তাপমাত্রা যদি বেশি গরম হয় (যেমন গরমকালের সাধারণ আবহাওয়া), তবে দুধ যত দ্রুত সম্ভব ফ্রিজে রেখে দেওয়া ভালো।

✅২. সাধারণ ফ্রিজে সংরক্ষণ (Refrigeration)

যদি দুধ কয়েকদিনের মধ্যে শিশুকে খাওয়ানোর পরিকল্পনা থাকে, তবে তা সাধারণ ফ্রিজে (৪° সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায়) ৩ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়।
পেশাদার টিপস: দুধের পাত্রটি ফ্রিজের দরজায় না রেখে ভেতরের দিকে রাখুন। কারণ ফ্রিজের দরজা বারবার খোলার কারণে দরজার কাছের তাপমাত্রা ওঠানামা করে, যা দুধ নষ্ট করে ফেলতে পারে।

✅৩. ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজারে দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ (Deep Freezing)
দীর্ঘদিন দুধ সংরক্ষণ করতে চাইলে ডিপ ফ্রিজ (-১৮° সেলসিয়াস বা তার কম) ব্যবহার করতে হবে। এখানে বুকের দুধ ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে (তবে প্রথম ৬ মাসের মধ্যে ব্যবহার করা সবচেয়ে উত্তম)।
পেশাদার টিপস: দুধ সংরক্ষণের জন্য ফুড-গ্রেড প্লাস্টিক বোতল অথবা বিশেষ ‘ব্রেস্ট মিল্ক স্টোরেজ ব্যাগ’ ব্যবহার করুন এবং পাত্রের গায়ে অবশ্যই তারিখ লিখে রাখুন।

✅৪. ফ্রিজের দুধ গরম করার সঠিক পদ্ধতি (Thawing & Warming)

সংরক্ষিত ঠান্ডা দুধ সরাসরি শিশুকে খাওয়ানো বা চুলার আগুনে/মাইক্রোওয়েভে গরম করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
সঠিক নিয়ম: একটি পাত্রে হালকা গরম পানি নিয়ে, তার ভেতর দুধের বোতল বা ব্যাগটি কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন।
সতর্কতা: মাইক্রোওয়েভ বা সরাসরি চুলার তাপে দুধ গরম করলে এর ভেতরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, অ্যান্টিবডি ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া দুধের কিছু অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে শিশুর মুখ পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

✅৫. একবার গরম করা দুধ পুনরায় সংরক্ষণ না করা (Re-use Policy)

ফ্রিজ থেকে বের করে ঘরের তাপমাত্রায় আনা বা হালকা গরম করা দুধ ২ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে খাইয়ে শেষ করতে হবে। শিশু যদি পুরো দুধ শেষ না-ও করে, তবে অবশিষ্ট দুধটুকু ফেলে দিতে হবে। তা কোনোভাবেই পুনরায় ফ্রিজে রাখা বা পরের বার খাওয়ানোর জন্য রেখে দেওয়া যাবে না। কারণ একবার মুখের লালা লাগলে বা বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে এলে দুধে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

একটি বিশেষ পরামর্শ: দুধ সংরক্ষণের পূর্বে এবং পাম্প করার সময় হাত ও ব্যবহৃত সরঞ্জাম (যেমন ব্রেস্ট পাম্প, বোতল) ভালোভাবে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত (Sterilize) করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই সাধারণ সতর্কতাগুলো মেনে চলুন।

~ ডা. ফাহমিদা মাহবুবা ~

নিজের অজান্তেই করা একটি ভুল এবং একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্না-পূর্বের দুটি সন্তান স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে প্রসব হওয়ায়, অন...
24/05/2026

নিজের অজান্তেই করা একটি ভুল এবং একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্না-

পূর্বের দুটি সন্তান স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে প্রসব হওয়ায়, অনেকেই পরবর্তী সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে কিছুটা অসচেতন হয়ে পড়েন। ঠিক এমন একটি অসচেতনতার গল্প এটি।
পূর্বের দুটি কন্যাসন্তানের পর এটি ছিল তাদের ৩য় সন্তান (কাঙ্ক্ষিত পুত্রসন্তান)। ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ (EDD) পার হয়ে যাওয়ার পর আরও ৮ দিন কেটে গেছে। গত ২ দিন ধরে গর্ভের বাচ্চার কোনো নড়াচড়া ছিল না।

অবশেষে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেখা গেল - বাচ্চাটি পেটের ভেতরেই মারা গেছে (IUD)। শুধু তা-ই নয়, পেটের ভেতরেই বাচ্চাটি পায়খানা করে দিয়েছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

গর্ভবতী মা ও পরিবারের জন্য জরুরি বার্তা:
ডেলিভারির ডেট পার হয়ে যাওয়ার পরেও চিকিৎসকের পরামর্শে অপেক্ষা করা যেতে পারে, কিন্তু বাচ্চার নড়াচড়ার দিকে ২৪ ঘণ্টা তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।

বাচ্চার স্বাভাবিক নড়াচড়া: ২৪ ঘণ্টায় (বা সারা দিনে) অন্তত ১০ বার বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করা জরুরি।

কখন হাসপাতালে যাবেন? যদি বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম মনে হয়, অথবা একদমই নড়াচড়া না করে, তবে এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

একটি নোট: "আগে তো সব নরমাল হয়েছে, এবারও হয়ে যাবে"- এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসুন। প্রতিটা প্রেগন্যান্সি আলাদা এবং প্রতিবারই সমান সতর্কতার প্রয়োজন। সামান্য একটু অবহেলা বা অসচেতনতার কারণে যেন কোনো মা-বাবার বুক খালি না হয়।

আল্লাহ্‌ এই পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দিন। 🤲

✅গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড খেয়েছেন কে কে?আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে ফলিক এসিড (Folic Acid) ট্যা...
24/05/2026

✅গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড খেয়েছেন কে কে?

আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে ফলিক এসিড (Folic Acid) ট্যাবলেট খেয়েছেন। কিন্তু আপনারা কি জানেন, এই ছোট্ট একটা ট্যাবলেট না খেলে গর্ভের সন্তানের কত বড় ক্ষতি হতে পারে?

অনেকে ভাবেন, "সবুজ শাকসবজি তো খাচ্ছিই, ওষুধের কী দরকার?" এই ধারণাটি কিন্তু একদম ভুল। গর্ভাবস্থায় শরীর ও সন্তানের বাড়তি চাহিদা শুধু খাবার থেকে পূরণ হয় না।

⚠️ ফলিক এসিড না খেলে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

জন্মগত ত্রুটি (Neural Tube Defects): শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ঠিকমতো হয় না এবং মেরুদণ্ডের হাড়ের জোড়া লাগে না (যেটিকে স্পাইনা বিফিডা বলা হয়)।
মৃত সন্তান প্রসব: ফলিক এসিডের অভাবে গর্ভপাত বা গর্ভেই শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

কম ওজনের শিশু: শিশু সময়ের আগে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ওজন নিয়ে জন্মাতে পারে।

মা ও শিশুর অ্যানিমিয়া: মায়ের শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়, যা প্রসবের সময় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

💡 জরুরি তথ্য:
চিকিৎসকদের মতে, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার কমপক্ষে ১ মাস আগে থেকে এবং গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস (১২ সপ্তাহ) নিয়মিত ফলিক এসিড খাওয়া বাধ্যতামূলক।

নিজের ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষায় অবহেলা করবেন না। গর্ভবতী মায়েদের এই বিষয়ে সচেতন করুন।

আপনারা কে কে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ফলিক এসিড খেয়েছেন, কমেন্টে জানান? 👇

#সচেতনতা

23/05/2026

মাসিক সাইকেল অনুযায়ী ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ দিনের যাদের মাসিক সাইকেল তাদের কোন তম দিন ওভুলেশন হবে জেনে নিন

এনোমালি স্ক্যান (Anomaly Scan): যেকোনো সেন্টার থেকে করানো কি আসলেই নিরাপদ?বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সব হাসপাতাল বা ডায়াগন...
23/05/2026

এনোমালি স্ক্যান (Anomaly Scan): যেকোনো সেন্টার থেকে করানো কি আসলেই নিরাপদ?

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সব হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) করার সুবিধা রয়েছে। কিন্তু যখন প্রশ্ন আসে 'এনোমালি স্ক্যান'-এর মতো একটি অতি সংবেদনশীল পরীক্ষার, তখন যেকোনো সাধারণ সেন্টার বেছে নেওয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে?

সত্যি বলতে - না। শুধু একটি আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন থাকলেই সঠিক এনোমালি স্ক্যান সম্ভব নয়। এটি একটি অত্যন্ত উচ্চ-বিশেষায়িত (Highly Specialized) পরীক্ষা, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন এবং সনোলজিস্টের সূক্ষ্ম দক্ষতার নিখুঁত সমন্বয় প্রয়োজন।

🤔 এনোমালি স্ক্যান (Anomaly Scan) আসলে কী?

এটি গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আল্ট্রাসনোগ্রাফি, যার মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুর কোনো জন্মগত শারীরিক ত্রুটি (Congenital Anomalies) আছে কি না তা স্ক্রিনিং করা হয়। এই পরীক্ষায় মূলত যা যা নিখুঁতভাবে দেখা হয়:

সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম: শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের গঠন (Spine)।
কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম: হৃদযন্ত্রের (Heart) চারটি প্রকোষ্ঠ এবং প্রধান রক্তনালীগুলোর সংযোগ।
মুখমণ্ডল ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ: ঠোঁট কাটা (Cleft lip/palate), হাত-পায়ের হাড়ের দৈর্ঘ্য ও আঙুলের সংখ্যা।
অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ: কিডনি, মূত্রথলি, পাকস্থলী ও পেটের দেয়ালের গঠন।
অন্যান্য: গর্ভফুল বা প্লাসেন্টার অবস্থান এবং অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (পানির পরিমাণ)।

📆 সঠিক সময়: সাধারণত গর্ভাবস্থার ১৮ থেকে ২২ সপ্তাহের মধ্যে এই স্ক্যানটি করা সবচেয়ে আদর্শ।

⚠️ মানহীন বা সাধারণ সেন্টারে এই স্ক্যান করালে কী ঝুঁকি থাকে?

ত্রুটি নির্ণয়ে ব্যর্থতা: শিশুর হার্ট বা মস্তিষ্কের অত্যন্ত সূক্ষ্ম জন্মগত ত্রুটিগুলো সাধারণ চোখে বা লো-রেজোলিউশন মেশিনে ধরা পড়ে না।
ভুল আশ্বাস (False Reassurance): রিপোর্টে সবকিছু 'স্বাভাবিক' আসার পরও শিশুর জন্মগত ত্রুটি নিয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
ভুল রিপোর্ট ও মানসিক চাপ: অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক সময় স্বাভাবিক গঠনকেও ত্রুটি মনে করে পরিবারকে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পেরিয়ে যাওয়া: কোনো বড় জটিলতা দেরিতে ধরা পড়লে তখন আর নিরাপদ কোনো চিকিৎসা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না।

🔍 এনোমালি স্ক্যান করানোর আগে একজন গর্ভবতী মায়ের ৫টি অবশ্য পালনীয় সতর্কতা:

❇️১. সনোলজিস্টের বিশেষায়িত দক্ষতা (Expertise):
যিনি স্ক্যান করছেন, তিনি ফিটাল মেডিসিন (Fetal Medicine) বা গাইনোকোলজিক্যাল আল্ট্রাসাউন্ডে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং অভিজ্ঞ কি না তা নিশ্চিত হোন। নিয়মিত এনোমালি স্ক্যান করেন এমন দক্ষ চিকিৎসক বেছে নেওয়া জরুরি।

❇️২. আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনের মান (High-Resolution Ultrasound):
পরীক্ষাটি সাধারণ ২ডি (2D) মেশিনে হলেও মেশিনটির রেজোলিউশন অত্যন্ত উন্নত (High-end System) হতে হবে, যাতে শিশুর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অঙ্গগুলোও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।

❇️৩. পর্যাপ্ত সময় ও ধৈর্য (Time Investment):
এনোমালি স্ক্যান কোনো ৫-১০ মিনিটের চটজলদি পরীক্ষা নয়। প্রতিটি অঙ্গ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এবং নির্দিষ্ট গাইডলাইন (যেমন: ISUOG) মেনে দেখতে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগে।

❇️৪. রিপোর্টের বিস্তারিত বিবরণ (Detailed Reporting):

একটি আদর্শ এনোমালি স্ক্যানের রিপোর্টে কেবল "Baby is Normal" লেখা থাকে না; বরং শিশুর প্রতিটি প্রধান অঙ্গ আলাদাভাবে পরীক্ষা করে সেগুলোর পরিমাপ ও সুস্থতার বিবরণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

❇️৫. ফলো-আপ বা টার্গেটেড স্ক্যান (Targeted Scan):

পরীক্ষার সময় শিশুর অবস্থান (Position) ঠিক না থাকলে অনেক সময় সব অঙ্গ একদিনে স্পষ্ট দেখা যায় না। একজন দায়িত্বশীল সনোলজিস্ট প্রয়োজনে রোগীকে কিছুক্ষণ হেঁটে আসতে বলবেন কিংবা অন্য কোনোদিন ডেকে বাকি অংশটুকু নিশ্চিত করবেন।

💡 বাস্তব বার্তা

"সব আল্ট্রাসাউন্ড এক নয়।" এনোমালি স্ক্যানের ক্ষেত্রে—দক্ষ ও অভিজ্ঞ সনোলজিস্ট + সর্বাধুনিক হাই-রেজোলিউশন মেশিন + পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরীক্ষা = আপনার অনাগত সন্তানের একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

গর্ভকালীন সময়ে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত আপনার অনাগত শিশুর জীবনকে সুরক্ষিত করতে পারে। তাই সেন্টারের চাকচিক্য বা সস্তা অফার দেখে নয়, চিকিৎসকের যোগ্যতা ও মেশিনের মান যাচাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (Second Trimester) বা ১৪ থেকে ২৪ সপ্তাহ সময়কালকে বলা হয় "গোল্ডেন পিরিয়ড"। এই সময়েই সাধারণত...
23/05/2026

গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (Second Trimester) বা ১৪ থেকে ২৪ সপ্তাহ সময়কালকে বলা হয় "গোল্ডেন পিরিয়ড"।
এই সময়েই সাধারণত গর্ভের সন্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় Anomaly Scan (অ্যানোমালি স্ক্যান) বলা হয়।

এই রিপোর্টের ভাষা এবং বিভিন্ন মেডিকেল টার্ম (Term) দেখে অনেকেই ঘাবড়ে যান। আপনার বোঝার সুবিধার্থে রিপোর্টের প্রধান প্রধান বিষয়গুলো সহজ ভাষায় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

❇️১. শিশুর বৃদ্ধি ও পরিমাপ (Fetal Biometry)
রিপোর্টে কিছু ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ (Abbreviations) দিয়ে শিশুর বিভিন্ন অঙ্গের মাপ দেখানো হয়। এগুলো দেখে চিকিৎসকরা বোঝেন শিশুটি সপ্তাহের তুলনায় ঠিকঠাক বাড়ছে কিনা:

✅BPD (Biparietal Diameter): শিশুর মাথার একপাশ থেকে অন্যপাশের দূরত্ব বা চওড়া।

✅HC (Head Circumference): শিশুর মাথার সম্পূর্ণ পরিধি বা গোল বাউন্ডারি।

✅AC (Abdominal Circumference): শিশুর পেটের পরিধি। শিশুর ওজন কেমন হচ্ছে তা মূলত এই মাপ থেকে বোঝা যায়।

✅FL (Femur Length): শিশুর ঊরুর হাড়ের (Thigh bone) দৈর্ঘ্য। এটি শিশুর লম্বায় বৃদ্ধির হিসাব দেয়।

✅EFW (Estimated Fetal Weight): আল্ট্রাসাউন্ডের মাপ অনুযায়ী শিশুর আনুমানিক বর্তমান ওজন (এটি সাধারণত গ্রামে লেখা থাকে)।

❇️২. প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ (Dates & Age)

✅LMP (Last Menstrual Period): আপনার শেষ মাসিকের প্রথম দিন।

✅GA / AUA (Gestational Age / Actual Ultrasound Age): আল্ট্রাসাউন্ডের পরিমাপ অনুযায়ী শিশুর বর্তমান বয়স (যেমন: 18 Weeks 4 Days)।

✅EDD (Expected Date of Delivery): শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ। (মনে রাখবেন, প্রথম ত্রৈমাসিকের EDD সবচেয়ে নিখুঁত হয়, তবে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের ডেটও বেশ গুরুত্বপূর্ণ)।

❇️৩. গর্ভফুল বা প্লাসেন্টার অবস্থান (Placenta)

প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল হলো সেই অঙ্গ যার মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে রক্ত ও পুষ্টি পৌঁছায়। রিপোর্টে এর অবস্থান এবং পরিপক্বতা উল্লেখ থাকে:

✅Position (অবস্থান): এটি জরায়ুর দেয়ালে কোথায় আটকে আছে তা বোঝায়। যেমন: Anterior (সামনের দিকে), Posterior (পেছনের দিকে), Fundal (জরায়ুর একদম উপরের দিকে)। এগুলো সবই স্বাভাবিক।

✅Placenta Previa / Low-lying Placenta: যদি গর্ভফুলটি জরায়ুর নিচের দিকে বা জরায়ুমুখের (Cervix) কাছাকাছি থাকে, তবে তাকে 'লো-লাইং প্লাসেন্টা' বলে। ২৪ সপ্তাহের দিকে এটি থাকলে ডাক্তাররা বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন, কারণ জরায়ু বাড়ার সাথে সাথে এটি অনেক সময় নিজে নিজেই উপরে উঠে যায়।

✅Grade (গ্রেড): প্লাসেন্টার পরিপক্বতা বোঝাতে Grade 0, I, II লেখা হয়। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সাধারণত Grade 0 বা I থাকে, যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

❇️৪. অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা গর্ভস্থ পানি (Amniotic Fluid)
শিশু জরায়ুর ভেতরে যে তরলের মধ্যে ভেসে থাকে, তাকে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা চলিত ভাষায় "পানির পরিমাণ" বলা হয়। রিপোর্টে এটি দুইভাবে লেখা হতে পারে:

AFI (Amniotic Fluid Index): জরায়ুকে চার ভাগে ভাগ করে পানির পরিমাপ। সাধারণত ৮ থেকে ১৮ বা ২০ সেন্টিমিটার হওয়াকে আদর্শ ধরা হয়।
Adequate: রিপোর্টে যদি শুধু 'Adequate' লেখা থাকে, তার মানে পানির পরিমাণ একদম পর্যাপ্ত ও স্বাভাবিক আছে।

Oligohydramnios: পানির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকলে এই শব্দ লেখা হয়।

Polyhydramnios: পানির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে এটি লেখা হয়।

❇️৫. শিশুর শারীরিক গঠন পরীক্ষা (Anatomical Survey)

১৪ থেকে ২৪ সপ্তাহের (বিশেষ করে ১৮-২২ সপ্তাহের) স্ক্যানে শিশুর প্রতিটি অঙ্গ নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হয় কোনো জন্মগত ত্রুটি আছে কিনা দেখার জন্য। রিপোর্টে সাধারণত এই অঙ্গগুলোর পাশে "Normal", "Intact", বা "No obvious congenital anomaly seen" লেখা থাকে।
Cardiac / Heart: শিশুর হার্টবিট বা হৃদস্পন্দন ঠিক আছে কিনা (সাধারণত প্রতি মিনিটে ১২০ থেকে ১৬০ বার বা FHR - 140 bpm এরকম লেখা থাকে)। হার্টের ৪টি চেম্বার বা কক্ষ ঠিক আছে কিনা তাও দেখা হয়।
Brain / Spine: শিশুর মস্তিস্কের গঠন এবং মেরুদণ্ডের হাড়গুলো (Spine) জোড়া লাগানো ও সুরক্ষিত আছে কিনা।
Face: শিশুর ঠোঁট বা তালু কাটা (Cleft lip/palate) আছে কিনা।
Limbs: দুই হাত, দুই পা এবং আঙুলগুলোর গঠন ঠিক আছে কিনা।
Organs: পেট, কিডনি, মূত্রথলি এবং পাকস্থলী ঠিকঠাক তৈরি হয়েছে কিনা।

❇️৬. জরায়ুমুখের দৈর্ঘ্য (Cervical Length)
মায়ের জরায়ুর মুখ (Cervix) কতটা লম্বা বা বন্ধ আছে তা দেখা হয়। অকাল প্রসব বা মিসক্যারিজের ঝুঁকি আছে কিনা তা বুঝতে এটি সাহায্য করে। সাধারণত এটি ৩ সেমি বা ৩০ মিমি (30mm)-এর বেশি হওয়া নিরাপদ। এর চেয়ে কম হলে ডাক্তাররা বিশেষ সতর্কতা বা বিশ্রামের পরামর্শ দেন।

📌 একটি জরুরি নোট:
আশা করি সবার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন । তবুও কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে লেখেন ।
আল্ট্রাসোগ্রাম রিপোর্টে যদি কোনো মেডিকেল টার্ম নিয়ে আপনার মনে খটকা লাগে, তবে নিজে নিজে দুশ্চিন্তা না করে সরাসরি আপনার গাইনোকোলজিস্ট বা সনোলজিস্টের (যিনি আল্ট্রাসাউন্ড করেছেন) সাথে কথা বলুন। গর্ভাবস্থার এই সময়ে নিয়মিত চেকআপ এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলাই মা ও শিশুর সুস্থতার চাবিকাঠি।

~ ডা. ফাহমিদা মাহবুবা ~

গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা পেটের পানি কমে যাওয়া: কারণ ও আমাদের করণীয়গর্ভাবস্থায় জরায়ুর ভেতরে শিশুকে ঘিরে থাকা তরল...
22/05/2026

গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা পেটের পানি কমে যাওয়া: কারণ ও আমাদের করণীয়

গর্ভাবস্থায় জরায়ুর ভেতরে শিশুকে ঘিরে থাকা তরলকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (Amniotic Fluid) বলা হয়। এটি শিশুকে বাইরের আঘাত থেকে বাঁচায়, তার ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্রের গঠনে সাহায্য করে এবং গর্ভের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে যদি এই পানির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম আসে, তবে চিকিৎসকরা একে ওলিগোহাইড্রামনিওস (Oligohydramnios) বলেন। এটি চিন্তার বিষয় হলেও, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

🔍 পানি কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণসমূহ:

গর্ভাবস্থার মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া (Post-term pregnancy)।
প্লাসেন্টা বা গর্ভফুলের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, যার ফলে শিশু পর্যাপ্ত পুষ্টি ও রক্ত পায় না।
ক্রনিক উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্লাম্পসিয়া বা ডায়াবেটিসের মতো মায়দের শারীরিক জটিলতা।
সময়ের আগেই ওয়াটার ব্রেক বা পানি ভেঙে যাওয়া (Premature Rupture of Membranes)।

🩺 পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যা করণীয়:

হাইড্রেশন বা তরল গ্রহণ বৃদ্ধি: দৈনিক অন্তত ৩-৪ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন। শুধু সাধারণ পানি একঘেয়ে লাগলে ডাবের পানি, ওরাল স্যালাইন (ORS), চিনি ছাড়া তাজা ফলের রস বা পাতলা স্যুপ খেতে পারেন। এটি সাময়িকভাবে প্লাসেন্টাল রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে।

❇️বাম কাতে বিশ্রামের গুরুত্ব (Left Lateral Position):

দিনে ও রাতে বিশ্রামের সময় বাম পাশে কাত হয়ে শোয়ার অভ্যাস করুন। এতে জরায়ু এবং প্লাসেন্টায় রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
সুষম ও পুষ্টিকর ডায়েট: খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন (ডিম, মাছ, মাংস, ডাল) এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল ও সবুজ শাকসবজি রাখুন। মায়ের পুষ্টির মান উন্নত হলে গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়।

❇️নিয়মিত 'ফিটাল কিক কাউন্ট' বা নড়াচড়া গণনা:

প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে খাওয়ার পর বাচ্চার নড়াচড়া খেয়াল করুন। সাধারণত ১২ ঘণ্টায় অন্তত ১০-১২ বার নড়াচড়া করা স্বাভাবিক। এর কম মনে হলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করবেন না।

🚨 যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যাবেন:

যদি আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে পানি কম থাকার পাশাপাশি নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দেয়, তবে তা মেডিকেল ইমার্জেন্সি হিসেবে গণ্য হবে:

যোনিপথে তরল নির্গমন বা পানি লিক হওয়া (সব সময় যা টের পাওয়া যায় না, অন্তর্বাস ভেজা মনে হতে পারে)।
যোনিপথে যেকোনো ধরনের রক্তপাত বা স্পটিং।
তলপেটে তীব্র বা অবিরত ব্যথা কিংবা জরায়ু শক্ত হয়ে যাওয়া।
বাচ্চার স্বাভাবিক নড়াচড়া হঠাৎ কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া।

💡 বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:

অনেকেই মনে করেন শুধু বেশি করে পানি খেলেই এই সমস্যার শতভাগ সমাধান সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসার ভাষায় বিষয়টি সবসময় তেমন নয়। পানি কমে যাওয়ার মূল কারণটি খুঁজে বের করা জরুরি। তাই ঘরে বসে নিজে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ড ও সিটিজি (CTG) পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকের ক্লোজ মনিটরিংয়ে থাকুন। ক্ষেত্রবিশেষে বাচ্চার নিরাপত্তার স্বার্থে চিকিৎসক সময়ের আগেই ডেলিভারির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

একসাথে ৪টি ভ্রূণ ধারণ করা বা কোয়াড্রুপ্লেট প্রেগন্যান্সি (Quadruplet Pregnancy) চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি অত্যন্ত বিরল এবং ‘...
22/05/2026

একসাথে ৪টি ভ্রূণ ধারণ করা বা কোয়াড্রুপ্লেট প্রেগন্যান্সি (Quadruplet Pregnancy) চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি অত্যন্ত বিরল এবং ‘অতি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ’ (Super High-Risk) অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার তুলনায় এক্ষেত্রে মা ও শিশু-উভয়ের শরীরেই জটিলতার হার বহুগুণ বেড়ে যায়।

নিচে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ও পেশাদারী কারণগুলো আলোচনা করা হলো:

❇️১. মাতৃস্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ

একটি মানব জরায়ু সাধারণত একটিমাত্র সন্তান ধারণের জন্য তৈরি। সেখানে একসঙ্গে চারটি ভ্রূণ বড় হতে থাকলে জরায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে মায়ের হরমোনের ভারসাম্য তীব্রভাবে প্রভাবিত হয় এবং হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও কিডনির মতো প্রধান অঙ্গগুলোর ওপর স্বাভাবিকের চেয়ে চারগুণ বেশি ধকল যায়।

❇️২. মেটাবলিক ও ভাস্কুলার জটিলতা

বহুগুণ গর্ভধারণের ক্ষেত্রে মায়ের শরীরে বেশ কিছু গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে:
প্রিক্ল্যাম্পসিয়া (Preeclampsia): গর্ভাবস্থায় তীব্র উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রস্রাবে প্রোটিন নির্গত হওয়া, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই প্রাণঘাতী হতে পারে।
জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস: প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল থেকে নিঃসৃত হরমোনের কারণে মায়ের রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
তীব্র রক্তশূন্যতা (Anemia): চারটি ভ্রূণের পুষ্টি ও অক্সিজেনের জোগান দিতে গিয়ে মায়ের শরীরে লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতি দেখা দেয়।

❇️৩. প্রাক-প্রসব বা প্রিম্যাচিউর বার্থ (Premature Delivery)

কোয়াড্রুপ্লেট গর্ভাবস্থায় প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই সন্তান নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই (সাধারণত ৩২ সপ্তাহের আগে) ভূমিষ্ঠ হয়। জরায়ু অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে যাওয়ার কারণে প্রসব বেদনা সময়ের আগেই শুরু হয়ে যায় বা পানি ভেঙে যায়।

❇️৪. নবজাতকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও NICU-এর প্রয়োজনীয়তা

যেহেতু বাচ্চারা প্রিম্যাচিউর বা অপরিণত অবস্থায় জন্মায়, তাই তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত জটিলতাগুলো অবধারিতভাবেই দেখা দেয়:
স্বল্প জন্মওজন (Low Birth Weight): প্রতিটি বাচ্চার ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হয়।
শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা (RDS): ফুসফুস সম্পূর্ণ গঠিত না হওয়ার কারণে ফুসফুসের কার্যকারিতা ঠিকঠাক থাকে না।
দীর্ঘমেয়াদী এনআইসিইউ (NICU) সাপোর্ট: জন্মের পর প্রতিটি শিশুরই নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং কৃত্রিম লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন পড়ে।

❇️৫. প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ (PPH)

সন্তানের জন্মের পর জরায়ু স্বাভাবিক আকারে ফিরে আসতে না পারলে পোস্টপার্টম হেমোরেজ (PPH) বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। কোয়াড্রুপ্লেট প্রেগন্যান্সিতে জরায়ুর পেশিগুলো অতিরিক্ত প্রসারিত থাকায় প্রসবের পর তা সংকুচিত হতে পারে না, যা মায়ের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

❇️৬. গর্ভপাত ও ভ্রূণহানির উচ্চ আশঙ্কা

গর্ভাবস্থার যেকোনো পর্যায়ে এক বা একাধিক ভ্রূণের বৃদ্ধি থমকে যেতে পারে, গর্ভেই মৃত্যু হতে পারে (Stillbirth) কিংবা সম্পূর্ণ গর্ভপাতের মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে পারে।

✅✅বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:

মাল্টিপল প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে সাধারণ গাইনোকোলজিস্টের পাশাপাশি একজন ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (Feto-Maternal Medicine Specialist) এবং উচ্চমানের টারশিয়ারি কেয়ার হাসপাতালের (Tertiary Care Hospital) তত্ত্বাবধানে থাকা বাধ্যতামূলক। প্রতি সপ্তাহে বা অত্যন্ত ঘন ঘন আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে মা ও শিশুদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

~ডা. ফাহমিদা মাহবুবা ~

মাতৃত্বের এই পুরো জার্নিটা এক অদ্ভুত সুন্দর অনুভূতি, যেখানে একটা শরীরের ভেতর বড় হতে থাকে আরেকটা ছোট্ট প্রাণ। অথচ মাত্র ৪...
21/05/2026

মাতৃত্বের এই পুরো জার্নিটা এক অদ্ভুত সুন্দর অনুভূতি, যেখানে একটা শরীরের ভেতর বড় হতে থাকে আরেকটা ছোট্ট প্রাণ। অথচ মাত্র ৪ সপ্তাহেই যখন সেই ছোট্ট সোনামণির মস্তিষ্ক তৈরি হতে শুরু করে, আমরা অনেকেই হয়তো জানিই না যে তখন থেকেই ফলিক অ্যাসিড কতটা জরুরি!

এই পথ চলায় কিছু অবহেলা কিন্তু সারাজীবনের আফসোস হয়ে যেতে পারে।

যেমন, ৪ মাস পেরিয়ে গেলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'NT Scan' করার সুযোগ আর থাকে না, যা শিশুর জন্মগত যেকোনো সমস্যা আগেভাগেই জানিয়ে দেয়।

আবার উচ্চ রক্তচাপ কিংবা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের মতো নীরব সমস্যাগুলো বাইরে থেকে একদমই বোঝা যায় না- যদিও আমাদের দেশে প্রতি ৫ জন মায়ের মধ্যে ১ জনেরই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকে।

কেবল সঠিক সময়ে রক্ত পরীক্ষা আর নিয়মিত চেকআপই পারে মা ও শিশু উভয়ের জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে। আর এই সময়ে শুধু শরীর নয়, মায়ের মনের যত্ন নেওয়াটাও সমান দরকারি।

তাই কোনো দ্বিধা বা দেরি নয়; গর্ভধারণের প্রথম ১৩ সপ্তাহের মধ্যেই চিকিৎসকের কাছে যান। আপনার একটুখানি সচেতনতা আর সঠিক সিদ্ধান্তই কিন্তু একটি ছোট্ট শিশুকে দিতে পারে পৃথিবীতে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সুন্দরতম উপহার।

⁠ #গর্ভকালীন_যত্ন⁠ ⁠ #নিরাপদ_মাতৃত্ব⁠ ⁠ #সুস্থ_শিশু⁠ ⁠ #গর্ভকালীন_চেকআপ⁠

ছবিতে ডাক্তার আন্টিকে পেটে থেকে দেখা আব্বাজান দুনিয়াতে ল‍্যান্ড করার পর প্রথম দেখতে আসার মুহূর্ত….❤️

ইডিডি (EDD) মানেই কি নির্দিষ্ট দিন? গর্ভবতী মায়েদের জন্য কিছু জরুরি তথ্য গর্ভধারণের পর প্রতিটি হবু মায়ের মনে যে প্রশ্নটি...
21/05/2026

ইডিডি (EDD) মানেই কি নির্দিষ্ট দিন? গর্ভবতী মায়েদের জন্য কিছু জরুরি তথ্য

গর্ভধারণের পর প্রতিটি হবু মায়ের মনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘোরে, তা হলো- “আমার সন্তান কবে পৃথিবীতে আসবে?" ডাক্তাররা একটি সম্ভাব্য তারিখ বা Estimated Date of Delivery (EDD) হিসাব করে দেন। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মাত্র ৫% শিশু ঠিক এই নির্দিষ্ট তারিখে জন্ম নেয়। বাকি ৯৫% শিশুই এর কিছু দিন আগে বা পরে আসে- যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

ইডিডি এবং প্রসবের সময় নিয়ে প্রতিটি মায়ের (বিশেষ করে যারা প্রথমবার মা হচ্ছেন) কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য জেনে রাখা জরুরি:

❇️১. প্রথম ট্রাইমেস্টারের আল্ট্রাসাউন্ডই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য 🩺
গর্ভধারণের ১০ থেকে ১৩ সপ্তাহের মধ্যে (First Trimester) যে আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়, তার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত EDD-ই সবচেয়ে নির্ভুল। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে বা শেষের তিন মাসে শিশুর বৃদ্ধির হারের ওপর ভিত্তি করে আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে EDD বারবার পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন, শেষের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রথম দিকের আসল EDD পরিবর্তন করা উচিত নয়।

❇️২. প্রথম সন্তান সাধারণত একটু সময় নেয় 👶
পরিসংখ্যান ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা বলে, প্রথমবার মা হতে যাওয়া নারীদের ক্ষেত্রে প্রসবের ব্যথা উঠতে EDD-র চেয়ে সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ইডিডি পার হয়ে যাচ্ছে দেখে অধৈর্য বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া যাবে না।

❇️৩. অনিয়মিত বা দীর্ঘ মাসিক চক্রের প্রভাব 🗓️
চিকিৎসকগণ সাধারণত শেষ মাসিকের প্রথম দিন (LMP) থেকে ইডিডি হিসাব করেন, যা ২৮ দিনের স্বাভাবিক চক্র ধরে করা হয়। কিন্তু কোনো নারীর মাসিক চক্র যদি ৩৫ দিন বা তার বেশি হয়, তবে তাদের ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) দেরিতে হয়। ফলে LMP-র হিসাব অনুযায়ী ইডিডি কিছুটা এগিয়ে আসতে পারে, যা বাস্তবে সন্তানের প্রকৃত বয়সের সাথে নাও মিলতে পারে। এই ক্ষেত্রেও প্রথম আল্ট্রাসাউন্ডের রিপোর্টই চূড়ান্ত ধরা হয়।

❇️৪. ইডিডি পার হলেই কি সিজারিয়ান (C-Section)? ❌
অনেক মায়ের ধারণা, ইডিডি-র দিন পার হয়ে গেলেই সিজার করতে হবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যদি মা এবং গর্ভস্থ শিশু উভয়েই সুস্থ থাকে, তবে চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবং নিয়মিত কিছু পরীক্ষা যেমন—NST (Non-Stress Test) এবং AFI (Amniotic Fluid Index - বাচ্চার চারপাশের পানির পরিমাণ) পরীক্ষার মাধ্যমে ৪১ থেকে ৪২ সপ্তাহ পর্যন্ত নিরাপদ অপেক্ষা করা সম্ভব। তবে এই সময়টাতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

✅চিকিৎসকের পরামর্শ (Takeaway Message):

ইডিডি কোনো চূড়ান্ত দিনক্ষণ নয়, বরং এটি একটি "টাইম উইন্ডো" বা সময়সীমা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহের মধ্যে যেকোনো দিন শিশু জন্ম নিতে পারে এবং একেই পূর্ণাঙ্গ সময় বা Full-term Pregnancy বলা হয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে, নিজের শরীরের লক্ষণগুলো বুঝুন এবং আপনার ডাক্তারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখুন।

#মাতৃস্বাস্থ্য #গর্ভকালীন_যত্ন #ইডিডি #প্রসবের_সময় #সুস্থ_মা_সুস্থ_আগামী

Address

Gazipur
1701

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Fahmida Mahbuba Bonna posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Dr. Fahmida Mahbuba Bonna:

Share