04/06/2026
**সেজদায় ইস্তেমফার পাঠ করা**
সেজদায় একজন বান্দা থাকে সবচেয়ে বিনয়ী, নিরহংকারী ও নিবিষ্টচিত্ত। এটি আপন প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ সময়। প্রতিপালকের কাছে নিজের ভুলত্রুটি ক্ষমা চাওয়ার এটিই উপযুক্ত মুহূর্ত। তাই তো রাসুল ﷺ সেজদায় আল্লাহর কাছে বেশি করে ক্ষমা চাইতে আমাদের উৎসাহিত করেছেন। শুধু তাই নয়, কীভাবে সেজদায় সবরকম গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইতে হয়, নানা বাক্যের মাধ্যমে তা আমাদের শিখিয়েছেন। যেন ইস্তেমফারের লক্ষ্য অর্জিত হয়। প্রার্থনা বৃথা না যায়। এখানে আমরা দুটি দোয়া পেশ করছি। পাঠকদের উচিত, দোয়া দুটি মুখস্থ করে নিয়মিত পাঠ করা।
**প্রথম দোয়া :**
আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসুল ﷺ সেজদায় (এ দোয়াটি) পড়তেন,
> «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ»
>
**উচ্চারণ :** আল্লা-হুম্মাগফিরলী যান্বী কুল্লাহূ দিক্ক্বাহূ ওয়া জিল্লাহূ। ওয়া আওয়ালাহূ ওয়া আ-খিরাহূ, ওয়া আ’লা নিয়াতাহূ ওয়া ছিররাহূ।
**অর্থ :** হে আল্লাহ, আমার স্বল্প ও অধিক, প্রথম ও শেষ, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন।^(১)
দোয়ার পরিব্যাপ্তি লক্ষ্য করুন, এমন কোনো গুনাহ নেই, যা এ দোয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
**দ্বিতীয় দোয়া :**
এটি রাসুল ﷺ তাঁর প্রিয় সঙ্গী আবু বকর সিদ্দিক রা.-কে শিক্ষা দেন। দোয়াটি খুবই আবেগঘন। বিনয়ভরা। আবু বকর সিদ্দিক রা. যদি এরকম ইস্তেমফারের মুখাপেক্ষী হন, তবে আমরা আরও বেশি দোয়াটির মুখাপেক্ষী, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আবু বকর সিদ্দিক রা. বলেন, একদিন তিনি রাসুল ﷺ-এর কাছে আবেদন করলেন, নামাজে পড়ার জন্য আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, এ দোয়া পড়বে,
> «اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ»
>
**উচ্চারণ :** আল্লা-হুম্মা ইন্নী যলামতু নাফছী যুলমান কাসীরা। ওয়া লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা-আনতা। ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ই’ন্দিকা। ওয়ার হামনী, ইন্নাকা আনতাল গফূরুর রহীম।
**অর্থ :** হে আল্লাহ, আমি নিজের ওপর খুব বেশি জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই। তাই আপনার পক্ষ থেকে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।^(২)
বরকতময় এ দোয়া মুখস্থ করে সেজদায় আমরা বেশি করে পাঠ করব। যেন আল্লাহ তাআলা তওবা কবুল করে রহমতের চাদরে আমাদের ঢেকে নেন।
১. সহিহ মুসলিম, ৪৮৩; সুনানু আবি দাউদ, ৮৭৮
২. সহিহ বুখারি, ৫৯৬৭; সহিহ মুসলিম, ২৭০৫
Assunnah Ruqyah service