28/07/2026
কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে আমার ছোট মেয়েকে জিজ্ঞেস করলাম, এই ট্রিপে তোমার বেস্ট পার্ট কি ছিলো?
মেয়ে বলল, স্পীড বোটে চড়া।
বড় মেয়ে বলল, প্রবল ঢেউয়ে ডুবোডুবি করা।
দুই মেয়েই ফোন টিপতে টিপতে উত্তরগুলো দিয়েছে। আমার দিকে তাকানোর সময়ও হয়নি তাদের।
স্ত্রী বলল, বীচে চুপচাপ বসে ঢেউয়ের গর্জন শোনা।
আম্মাকে একই প্রশ্ন করলাম,
আম্মা কিছু না ভেবেই বলে দিলেন,
তোমাদের সাথে সময় কাটানো।
আমার ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। এটা যে কত বড় কথা, আম্মা নিজেও বুঝেন নি। এই কথার গভীরতা যে কত বড় তা শুধু আমি জানি।
আমি আমার আম্মার একমাত্র সন্তান। সিঙ্গেল মাদার হিসেবে উনার সারা জীবনের সংগ্রাম ছিলো আমি কেন্দ্রীক। এক মাত্র সন্তানকে মাটিতে রাখেনি পিপড়ায় খাবে বলে; মাথায় রাখেনি, উকুনে কামড়াবে তাই।
ছোট্ট একটা চাকরি করে ছেলেকে বড় করেছে, মানুষ করেছে। ঢাকায় বাড়ি গাড়ি করে দিয়েছে। কিন্তু নিজে থাকে গ্রামে।
ঢাকায় আম্মার দম বন্ধ হয়ে আসে। ঢাকায় ১ সপ্তাহ থাকলেই হাপিয়ে যায়। গ্রামে খোলা বাড়িতে থেকে অভ্যাস। ঢাকার বাসাকে কবুতরের খোপ মনে হয়।
আমিও কাজের চাপে দিন শেষে একটা ফোন দেয়ার সুযোগ পাই না।
এজন্য আম্মার অভিমান হয় বুঝি। কিন্তু মুখে কিছু বলে না। যদি আমার কাজের ডিস্টার্ব হয়। যদি বাচ্চাদের পড়াশুনা ফেলে আমি দৌড়ে যাই তাই।
ভালোবাসা হলো হিমছড়ির ওই ঝরনার মতো। শুধু নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। আমার মা আমাকে যেভাবে ভালোবাসতো, আমিও সেভাবে আমার সন্তানদের ভালোবাসি। কিন্তু মা যা দিয়েছেন, তার সিকি ভাগও ফেরত দিতে পারিনি।
ছোট বেলায় একবার আমার জ্বর হয়েছিলো। আমি ঘরে একা। আম্মা স্কুল থেকে ফিরতে একটু দেরী করেছিলো। কি যে কষ্ট পেয়েছিলাম। আম্মা ফেরার পর অভিমানে হাউমাউ করে কান্না করে দিয়েছিলাম।
অথচ এখন এই বয়সে কত জ্বর, কতো ঝড় নিজেই সামলাচ্ছেন, আমাকে জানতেই দেন না।
মাঝে মাঝে চেষ্টা করি ভালোবাসার কিছুটা ফেরত দিতে। একটু মুখে হাসি ফুটাতে। কিন্তু মায়ের ভালোবাসা এতো গভীর, তল খুঁজে পাওয়া যায় না। নিজের গায়ের চামড়া দিয়ে মায়ের পায়ের জুতা তৈরি করে দিলেও মায়ের ভালোবাসার ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়।
S M Nahidur Rahman