22/05/2026
সর্দি-জ্বর নেই, তবুও থামছে না কাশি? সতর্ক হোন!
অনেকেই ভাবেন কাশি মানেই ঠান্ডা বা ভাইরাল জ্বর। কিন্তু বর্তমানে এমন অনেক রোগী দেখা যাচ্ছে যাদের জ্বর নেই, সর্দিও নেই, তবুও সপ্তাহের পর সপ্তাহ শুকনো কাশি থামছে না। কারও বুকে ব্যথা হচ্ছে, কারও শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, আবার কারও কাশির সঙ্গে রক্তও বের হচ্ছে।
এ ধরনের সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে Bordetella pertussis নামক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ, যাকে আমরা হুপিং কাশি বা পার্টুসিস বলি। এটি শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও আক্রান্ত করতে পারে।
এই ব্যাক্টেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। শ্বাসের সঙ্গে জীবাণু শরীরে ঢুকে শ্বাসনালিতে বসে বংশবৃদ্ধি করে এবং বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। ফলে শ্বাসনালিতে প্রদাহ হয় ও দীর্ঘদিন কাশি চলতে থাকে।
টানা ১–২ সপ্তাহ বা তার বেশি শুকনো কাশি, কাশতে কাশতে দম বন্ধ হয়ে আসা, রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া, গলা ও বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কাশির পর বমি হওয়া, কফে রক্ত আসা, শিশুদের ক্ষেত্রে কাশি শেষে “হুপ” শব্দ হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।
এক্ষেত্রে ৫ বছরের নিচের শিশু, যাদের DTP/পার্টুসিস টিকা অসম্পূর্ণ, হাঁপানি বা COPD রোগী, ধুলাবালি ও দূষণে বেশি থাকেন যারা, অ্যালার্জির রোগী, বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
যদি কাশি ১ সপ্তাহের বেশি থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কাশির সঙ্গে রক্ত যায়, বুকে তীব্র ব্যথা হয়, শিশুর খাওয়া কমে যায় বা নীলচে হয়ে যায়, রাতে দমবন্ধ ভাব হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
নিজের ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক বা কাশির সিরাপ খাবেন না। সব কাশি একই কারণে হয় না। কারণ বুঝে চিকিৎসক কিছু ওষুধ দিতে পারেন। যেমন-
- Azithromycin, Clarithromycin বা Erythromycin যা বিশেষ করে পার্টুসিস ব্যাক্টেরিয়ার জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক।
- Paracetamol যা গলা বা বুক ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে সহায়ক।
- Antihistamine অ্যালার্জিজনিত কাশিতে উপকারি।
- Montelukast যা শ্বাসনালির প্রদাহ ও অ্যালার্জি কমাতে সাহায্য করে।
- Bronchodilator inhaler / nebulizer যা শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির রোগীদের ক্ষেত্রে উপকারি।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিকা এক্ষেত্রে বিশেষ উপকারি।
১| DTP / Pentavalent Vaccine (ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, পার্টুসিস)
বাংলাদেশের Expanded Programme on Immunization (EPI) অনুযায়ী সাধারণত:
✔️ ৬ সপ্তাহে – ১ম ডোজ
✔️ ১০ সপ্তাহে – ২য় ডোজ
✔️ ১৪ সপ্তাহে – ৩য় ডোজ
✔️ ১৫–১৮ মাসে বুস্টার
✔️ ৪–৬ বছরে আরেকটি বুস্টার প্রয়োজন হতে পারে
২| Pneumococcal Vaccine (নিউমোনিয়া প্রতিরোধী টিকা)
বাংলাদেশের Expanded Programme on Immunization (EPI) অনুযায়ী সাধারণত:
✔️ ৬ সপ্তাহে
✔️ ১০ সপ্তাহে
✔️ ৯ মাসে বুস্টার (দেশভেদে সময়সূচি ভিন্ন হতে পারে)
✔️ যদি আগে কখনও Pneumococcal vaccine না নেওয়া থাকে:
✔️ ১ ডোজ PCV20 অথবা ১ ডোজ PCV15,
✔️তারপর অন্তত ১ বছর পরে PPSV23
বিশেষ করে: ▪️ ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি
▪️ হাঁপানি বা COPD রোগী
▪️ ডায়াবেটিস রোগী
▪️ হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের রোগী
▪️ ধূমপায়ী
▪️ যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম
▪️ বারবার নিউমোনিয়া হয় যাদের
৩| Influenza / Flu Vaccine
সাধারণত ৬ মাস বয়সের পর থেকে দেওয়া যায়।
✔️ ৬ মাস–৮ বছর বয়সে প্রথমবার নিলে ৪ সপ্তাহ ব্যবধানে ২ ডোজ লাগতে পারে
✔️ এরপর প্রতি বছর ১ ডোজ
বিশেষ করে: ▪️ শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি
▪️ হাঁপানি/COPD রোগী
▪️ ডায়াবেটিস রোগী
▪️ ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
▪️ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য উপকারী
পাশাপাশি কিছু প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
- মাস্ক ব্যবহার করুন
- ধুলাবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন
- ঘর পরিষ্কার রাখুন
- অ্যালার্জি থাকলে সতর্ক থাকুন
- সময়মতো টিকা নিন
- আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকুন
#কাশি #হুপিংকাশি #ফুসফুস #শ্বাসকষ্ট #নিউমোনিয়া #পার্টুসিস #ডিটিপি_টিকা #ফ্লু_টিকা #স্বাস্থ্যসচেতনতা #শিশুস্বাস্থ্য #হাঁপানি #ডাঃ_নাসরিন_নিপা