30/09/2026
আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা আছে—অমুক কবিরাজ জিন বশ করে রেখেছেন। কিন্তু কুরআন-হাদিসের কোথাও এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, মানুষ জিনকে বশ করতে পারে। বরং সম্পূর্ণ কুরআনের আয়াত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষ জিনের ধারা গ্রহণ করে এবং জিনের সাহায্য-প্রার্থনা করে। সূরা জিনের আয়াতটি দেখুন, যেখানে একটি জিন তার সঙ্গীদের উদ্দেশে বলছে—
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
“মানুষের কিছু লোক জিনদের কিছু লোকের কাছে আশ্রয় চাইত; ফলে তারা তাদের ভয় ও বাড়াবাড়িই বৃদ্ধি করে দিত।”
[সূরা জিন, ৭২ : ৬]
সুতরাং মানুষ যে জিনকে বশীভূত করে—এ ধরনের কথা সঠিক নয়। বরং বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রে মানুষই জিনের দ্বারস্থ হয় এবং তাদের সাহায্য কামনা করে।
কিছু কিছু মানুষ জিনদের কারও কাছে আশ্রয় চায়। তখন জিনেরা তাদের ভয়ভীতি আরও বাড়িয়ে দেয়। আবার কিছু মানুষ জিনদের নাম করে নানা ধরনের সাধনা করে, যার অনেকাংশই শিরক ও কুসংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায় যে, কোনো কবিরাজ বা তথাকথিত সাধক জিনের কোনো সরদার বা নেতার কাছে সাধনা বা পূজা করেন। তখন সেই সরদার তার কোনো এক জিনকে ওই কবিরাজের বশে দিয়ে রাখে। এখানেও কবিরাজ বা ফকির জিনকে বশ করেননি; বরং তিনি জিনের সরদারের উপাসনা বা আনুগত্য করেছেন এবং বিনিময় হিসেবে সেই সরদার অন্য কোনো জিনকে তার সেবায় নিয়োজিত করে দিয়েছে।
এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রথমে মানুষ জিন দ্বারা আক্রান্ত হয়। কিছুদিন পর দেখা যায়, সেই মানুষটিই আবার জিনের মাধ্যমে তদবির শুরু করে দেয়। মানুষ তখন তার পুরোনো স্মৃতি ভুলে যায় এবং বলতে থাকে, সে জিনকে বশ করেছে।” কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হলো—সে নিজেই জিনের বশীভূত হয়ে আছে।
তাহলে জিনকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য সেই কবিরাজ কী উপায়ে জিনের সাধনা করে, তার খোঁজ কি আমরা রাখি?
হ্যাঁ, কুরআনে সুলাইমান আলাইহিস সালামের ঘটনা রয়েছে। জিন তাঁর বশীভূত ছিল। তবে এটি ছিল তাঁর জন্য আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা। এই ক্ষমতা তাঁর রাজ্যের অংশবিশেষ হিসেবে আল্লাহ তাঁকে দান করেছিলেন। বাতাস ও পশু-পাখিও তাঁর বশীভূত ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন—
فَسَخَّرْنَا لَهُ الرِّيحَ تَجْرِي بِأَمْرِهِ رُخَاءً حَيْثُ أَصَابَ وَالشَّيَاطِينَ كُلَّ بَنَّاءٍ وَغَوَّاصٍ
“অতঃপর আমি বাতাসকে তাঁর বশীভূত করে দিলাম, যা তাঁর নির্দেশে তাঁর ইচ্ছামতো চলত; এবং শয়তানদেরও—যারা ছিল নির্মাণকারী ও ডুবুরি।
সুতরাং এই ক্ষমতা ছিল আল্লাহপ্রদত্ত সুলাইমান আলাইহিস সালামের বিশেষ ক্ষমতা। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেননি এবং তিনি আল্লাহর কাছে এমন ক্ষমতা চাননি।
বরং সুলাইমান আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করেছিলেন—
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي
“হে আমার রব! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন, যা আমার পরে আর কারও জন্য প্রযোজ্য নয়।”
আল্লাহ তাআলা তাঁর এই দোয়া কবুল করেন এবং জিনদের তাঁর বশীভূত করে দেন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সকল কুফুর শিরক হেফাজত করুন। আমীন
সুরক্ষায় ‘হিজামা প্ল্যানেট’ কেন সেরা?
অভিজ্ঞ হাফেজ ও রাক্বী: আমাদের প্রতিটি ব্রাঞ্চে বিজ্ঞ হাফেজ রাক্বীগণ সরাসরি বিশুদ্ধ কোরআন-সুন্নাহর নিয়মে আত্মরক্ষামূলক রুকইয়াহ শেখান ও চিকিৎসা দেন।
১২ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা: দেশের ১ নম্বর ও সর্ববৃহৎ হিজামা ও রুকইয়াহ সেন্টার হিসেবে ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে আমরা বিশ্বস্ত সেবা দিয়ে আসছি।
সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত পদ্ধতি: কোনো কবিরাজি বা ভণ্ডামি ছাড়া শতভাগ হালাল উপায়ে সেবা প্রদান করা হয়।
২৫টিরও বেশি সুসজ্জিত ব্রাঞ্চ: আপনার নিকটস্থ শহর বা এলাকায় রয়েছে আমাদের আধুনিক ও নিরাপদ সেবাকেন্দ্র।
Hijama Planet: Cupping & Ruqyah Center (Khulna Branch)
ঠিকানা: হাউজ: ৩৭১, রোড: ৩ সার্জিক্যাল মোড় / গাজী মেডিকেল কলেজ মোড়, ২য় ফেইজ, সোনাডাঙ্গা আবাসিক
খুলনা সদর, খুলনা – ৯১০০
মোবাইল: 01615-445262
©️ হিজামা প্ল্যানেটের সকল কন্টেন্ট (ছবি, ভিডিও ও টেক্টট) হিজামা প্ল্যানেটের কপিরাইটের অন্তর্ভুক্ত। কেউ কপি করলে বা আংশিক পরিবর্তন করে পোস্ট করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইনশা'আল্লাহ।
#জিন_ও_কবিরাজ #কুরআন_ও_সুন্নাহ #ইসলামী_শিক্ষা #তাওহীদ #আকীদাহ #শিরক_থেকে_বাঁচুন #কুসংস্কার_বর্জন_করুন #সূরা_জিন #সুলাইমান_আলাইহিস_সালাম #ইসলামিক_জ্ঞান