মেধাবিকাশ কোচিং সেন্টার

মেধাবিকাশ কোচিং সেন্টার পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন

26/08/2026
21/08/2026

শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প।।

একদিন মদীনার দুই ব্যক্তি একজন যুবককে টেনে-হিঁছড়ে, অর্ধপৃথিবীর শাসক খলীফা হযরত উমর (রা) এর দরবারে হাজির করল। এবং তারা বিচার দাখিল করল যে, "এই যুবক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।"
আমিরুল মু’মিনীন খলীফা হযরত উমর (রা) সেই যুবককে তার বিপক্ষে করা দাবী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সেই যুবক বললেন, "তাদের দাবী সম্পুর্ণ সত্য।" এই বলে যুবকটি তাঁর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘঠনাটি বর্ণনা করতে লাগলেন।
তিনি বললেন, "আমি ক্লান্ত হয়ে যাবার কারণে বিশ্রামের জন্য এক খেজুর গাছের ছায়ায় বসলাম। ক্লান্ত শরীরে অল্প সময়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার একমাত্র পছন্দের বাহন উটটি পাশে নেই। খুঁজতে খুঁজতে কিছু দূর গিয়ে পেলাম, তবে তা ছিল মৃত। পাশেই ছিল ওদের বাবা। যে আমার উটকে তার বাগানে প্রবেশের অপরাধে পাথর মেরে হত্যা করেছে। এই কারণে আমি হঠাৎ করে রাগান্বিত হয়ে পড়ি এবং তাদের বাবার সাথে তর্কাতর্কি করতে করতে এক পর্যায়ে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে ফেলি, ফলে সে সেইখানেই মারা যায়। যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে গেছে। এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"
বাদী’রা জানালেন- "আমরা এর মৃত্যুদণ্ড চাই।" হযরত উমর (রা) সব শুনে বললেন, "উট হত্যার বদলে তুমি একটা উট নিলেই হতো, কিন্তু তুমি বৃদ্ধকে হত্যা করেছ। হত্যার বদলে হত্যা। এখন তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। তোমার কোন শেষ ইচ্ছা থাকলে বলতে পারো।" নওজোয়ান বললো, "আমার কাছে কিছু ঋণ ও অন্যের রাখা কিছু আমানত আছে। আমাকে যদি কিছু দিন সময় দিতেন তবে আমি বাড়ি গিয়ে আমানত ও ঋণগুলি পরিশোধ করে আসতাম।"
খলিফা হযরত উমর (রা) বললেন, "তোমাকে এভাবে একা ছেড়ে দিতে পারি না। যদি তোমার পক্ষ থেকে কাউকে জিম্মাদার রেখে যেতে পারো তবে তোমায় সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি দিতে পারি। "নওজোয়ান বললো, "এখানে আমার কেউ নেই। যে আমার জিম্মাদার হবে। এখন আমি কি করি।" যুবকটি তখন নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
এই সময় হঠাৎ মজলিসে উপস্থিত এক সাহাবী যার নাম হযরত আবু যর গিফারী (রা), দাঁড়িয়ে বললেন, "আমি হবো ঐ ব্যক্তির জামিনদার।" সাহাবী হযরত আবু যর গিফারীর (রা) এই উত্তরে সভায় উপস্থিত সবাই হতবাক। একেতো অপরিচিত ব্যক্তি তার উপর হত্যার দন্ড প্রাপ্ত আসামীর জামিনদার। খলিফা বললেন, "আগামি শুক্রবার জুম্মা পর্যন্ত নওজোয়ানকে মুক্তি দেয়া হলো। জুম্মার আগে নওজোয়ান মদীনায় না আসলে নওজোয়ানের বদলে আবু যরকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে।" মুক্তি পেয়ে নওজোয়ান ছুটলো মাইলের পর মাইল দূরে তার বাড়ির দিকে। আবু যর গিফারী (রা) চলে গেলেন নিজ বাড়িতে।
দেখতে দেখতে জুম্মাবার এসে গেল। নওজোয়ানের আসার কোনো খবর নেই। হযরত উমর (রা) রাষ্ট্রীয় পত্রবাহক পাঠিয়ে দিলেন আবু যর গিফারির (রা) কাছে। পত্রে লিখা আজ শুক্রবার বাদ জুমা সেই যুবক যদি না আসে আইন মোতাবেক আবু যর গিফারির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। আবু যর যেন সময় মত জুম্মার প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে নববীতে হাজির হন। খবর শুনে সারা মদীনায় থমথমে অবস্থা। একজন নিষ্পাপ সাহাবী আবু যর গিফারী আজ বিনা দোষে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন।
জুমার পর মদীনার সবাই মসজিদে নববীর সামনে হাজির। সবার চোখে পানি। কারণ দন্ডপ্রাপ্ত যুবক এখনো ফিরে আসেনি। জল্লাদ প্রস্তুত।
জীবনে কত জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছে তার হিসেব নেই। কিন্তু আজ কিছুতেই চোখের পানি আটকাতে পারছে না জল্লাদ। আবু যরের মত একজন সাহাবী সম্পূর্ণ বিনা দোষে আজ মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন, এটা মদীনার কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এমনকি মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদানকারী খলিফা উমর (রা) নিজেও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। হৃদয় তাঁর ভারাক্রান্ত। তবু আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কারো পরিবর্তনের হাত নেই। আবু যর (রা) তখনও নিশ্চিন্ত মনে হাঁসি মুখে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। জল্লাদ ধীর পায়ে আবু যর (রা) এর দিকে এগুচ্ছেন আর কাঁদছেন। আজ যেন জল্লাদের পা চলে না। পায়ে যেন কেউ পাথর বেঁধে রেখেছে।
এমন সময় এক সাহাবী উচ্চ স্বরে জল্লাদকে বলে উঠলেন, "হে জল্লাদ একটু থামো। মরুভুমির ধুলার ঝড় উঠিয়ে ঐ দেখ কে যেন আসতেছে। হতে পারে ঐটা নওজোয়ানের ঘোড়ার পদধুলি। একটু দেখে নাও, তারপর না হয় আবু যরের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করো।" ঘোড়াটি কাছে আসলে দেখা যায় সত্যিই এ সেই নওজোয়ান।
নওজোয়ান দ্রুত খলিফার সামনে এসে বললো, "হুযুর বেয়াদবি মাফ করবেন। রাস্তায় যদি ঘোড়ার পায়ে ব্যথা না পেত,তবে যথা সময়েই আসতে পারতাম। বাড়িতে গিয়ে আমি একটুও দেরি করি নাই। বাড়ি পৌঁছে গচ্ছিত আমানত ও ঋণ পরিশোধ করি। তারপর বাবা, মা এবং নববধুর কাছে সব খুলে বলে চিরবিদায় নিয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এখন আমার জামিনদার ভাইকে ছেড়ে দিন আর আমাকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে পবিত্র করুন। কেননা কেয়ামতের দিন আমি খুনি হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চাই না।"
আশেপাশের সবাই একেবারেই নীরব। চারিদিকে একদম থমথমে অবস্থা। সবাই হতবাক, কি হতে চলেছে। যুবকের পুনরায় ফিরে আসাটা অবাক করে দিলো সবাইকে।
খলিফা হযরত উমর (রা) যুবককে বললেন, "তুমি জানো তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে, তারপরেও কেন ফিরে এলে।" উত্তরে সেই যুবক বলল- "আমি ফিরে এসেছি, কেউ যাতে বলতে না পারে, এক মুসলমানের বিপদে আরেক মুসলামান সাহায্য করতে এগিয়ে এসে নিজেই বিপদে পড়ে গেছিলো।"
এবার হযরত উমর (রা) হযরত আবু যর গিফারী (রা) কে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কেন না চেনা সত্যেও এমন জামিনদার হলেন।" উত্তরে হযরত আবু যর গিফারী (রা) বললেন, "পরবর্তিতে কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান বিপদে পড়েছিলো, অথচ কেউ তাকে সাহায্য করতে আসেনি।"
এমন কথা শুনে, হঠাৎ বৃদ্ধের দুই সন্তানের মাঝে একজন বলে উঠল, "হে খলীফা আপনি তাকে মুক্ত করে দিন। আমরা তার উপর করা অভিযোগ তুলে নিলাম।"
হযরত উমর (রা) বললেন, কেন? তাদের মাঝে একজন বলে উঠলো, "কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল করে নিজেই স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরেও অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করেনি।"
[হায়াতুস সাহাবা-৮৪৪]

16/08/2026
৯.৬০ কেটে আমার মেডিকেলে চান্স পাওয়ার গল্প🥰আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আমার বাবা-মা'র দোয়ায় ২০২১-২২ সেশনে আম...
16/08/2026

৯.৬০ কেটে আমার মেডিকেলে চান্স পাওয়ার গল্প🥰

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আমার বাবা-মা'র দোয়ায় ২০২১-২২ সেশনে আমি এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ দিনাজপুরে চান্স পেয়েছি। আমার এ সফলতার পেছনে ছিল বহু ব্যর্থতা, বহু হতাশা। আজ বলবো সেই কঠিন দিনগুলোতে নিজের সংগ্রামের গল্প এবং সেসব দিন থেকে উঠে আসার গল্প।

নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা অতি সাধারণ একজন ছেলে আমি। ছোটবেলা থেকেই আমার শিক্ষক, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাই আমাকে মেধাবী বলেই জানতো। প্রায় প্রতি ক্লাসেই আমি থাকতাম প্রথম। মূলত জেএসসিতে স্কলারশিপ পাওয়ার পর থেকেই প্রথম ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু আমার সেই স্বপ্নে প্রথম আঘাতটা আসে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের দিনে। মেসেজে যখন দেখলাম ৪.৮৬, মুহূর্তেই বহুদিনের লালিত সেই স্বপ্নটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। মূলত সেদিনই আমার আশেপাশের কিছু লোকজনের আসল রূপ চিনতে পেরেছিলাম আমি।
ইচ্ছে ছিলো ঢাকায় এসে একটা ভালো কলেজে ভর্তি হবো। কিন্তু এই রেজাল্টের কারণে সেটা আর হলো না, ভর্তি হলাম একটা সরকারি কলেজে।

কলেজ জীবনও বেশ ভালোই কাটতে লাগলো। সবসময়ই সেরাদের মধ্যে থাকতাম। আব্বু-আম্মু আবারও আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো। কিন্তু এবারও সেই একই পরিণতি। ২০১৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট আসলো ৪.৫৮। এবার সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়লাম।
তখন প্রায় সবাই আমার উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেললো। কিছু কিছু মানুষ তখন এটাও বলতো, আমি আসলে কিছুই পারি না, শুধুই মিথ্যা গল্প বলে বেড়াই।

তখন ইম্প্রুভমেন্ট পরীক্ষা সম্পর্কে একটা ফেসবুক পোস্ট আমার নজরে এলো। এরপর ইম্প্রুভমেন্ট পরীক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে মনে মনে ভাবলাম, আরেকবার চেষ্টা করে দেখবো। আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিলো সেটা। কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো, "কোন ক্লাসে পড়ো?" উত্তর দিতে পারতাম না। আমার পাশে বলতে গেলে তখন কেউই ছিলো না, নিজের বিরুদ্ধে নিজেই লড়তাম। এমনকি আব্বু-আম্মুও তখন বলেছিলো, আবার পরীক্ষা দেয়ার দরকার নেই; কপালে যা আছে হবে। কিন্তু আমি হাল ছেড়ে দিলাম না।

এইচএসসি পরীক্ষার পরে একটা মেডিকেল কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, কিন্তু রেজাল্টের পরে আর বাসা থেকেই বেরোতাম না। তাই কোচিংও আর কন্টিনিউ করা হয়নি। সে বছর আর কোথাও ভর্তি পরীক্ষা দিলাম না।

এইচএসসির বেশ ভালোই প্রিপারেশন ছিলো তখন। কিন্তু আচমকাই হানা দিলো মহামারী। মহামারীর কারণে এইচএসসি পেছোতে শুরু করলো, আর আমার এই ভাসমান অবস্থাও ধীরে ধীরে দীর্ঘায়িত হতে লাগলো।
অবশেষে নভেম্বরের দিকে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিলো, এইচএসসি পরীক্ষা হবে না; সবাইকে অটোপাশ দেয়া হবে।

এরপর থেকেই আমি মেডিকেলের প্রিপারেশন নেয়া শুরু করে দিলাম। দিনরাত এক করে ছুটতে লাগলাম আমার স্বপ্নের পেছনে। জানুয়ারির শেষের দিকে আমার ইম্প্রুভমেন্ট এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট আসলো জিপিএ-৫। তখন থেকে আমার পড়াশোনার গতি আরও বেড়ে গেল। বাসায় নিজে নিজেই পড়তাম। এমনও হয়েছে মাথাব্যথায় উঠতে পারছিলাম না, কিন্তু তারপরেও কপালে গামছা বেঁধে পড়তাম। রাতের ঘুম কি সেটা বলতে গেলে ভুলেই গিয়েছিলাম। পরীক্ষার এক মাস আগে কোচিংয়ের একটা এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানে এক্সাম দিতাম আর প্রায় সারাক্ষণই পড়তাম। দেখতে দেখতে পরীক্ষাও চলে এলো। আর আমার টেনশন, নার্ভাসনেসও বহুগুণে বেড়ে গেলো। অনেক চেষ্টা করতাম স্বাভাবিক থাকতে, কিন্তু পারছিলাম না।😓

যাহোক ভর্তি পরীক্ষার দিনে প্রায় দু'ঘন্টা আগেই হলে পৌঁছলাম। বাইরে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীকে পড়তে দেখে নার্ভাসনেস বহুগুণে বেড়ে গেলো। তখন শুধু এটাই ভাবছিলাম, "এত এত মেধাবীদের ভিড়ে আমাকে তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না।"
নয়টার দিকে সবাইকে হলে ঢুকতে দেয়া হলো।

হলের সেই আজব পরিবেশটার কথা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। জীবনে অনেক পরীক্ষা দিয়েছি, কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা এই প্রথম। রুমভর্তি স্টুডেন্ট কিন্তু কারো সাথে কোনো কথা নেই, সবাই চান্স পেতে মরিয়া। এসব দেখে আরও ঘাবড়ে গেলাম। প্রশ্ন দেয়ার পাঁচ মিনিট আগে নার্ভাসনেস এমনভাবে বেড়ে গেলো যে বমি আসার উপক্রম হলো। থাকতে না পেরে ইনভিজিলেটরদের কাছ থেকে পানি নিয়ে খেয়ে ধাতস্থ হলাম। এদিকে প্রশ্নও দিয়ে দিলো। অনেক চেষ্টা করলাম ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষা দিতে কিন্তু পারছিলাম না। সময় শেষ হওয়ার পরেও দুই-তিনটা প্রশ্ন বাকি থেকে যায়। নার্ভাসনেসের কারণে কয়েকটা সহজ প্রশ্নও ভুল হয়ে যায়।
তখনই বুঝতে পারলাম, এবারেও ব্যর্থ আমি। এতদিনের সাধনা, এতদিনের স্বপ্ন সব শেষ। তারপরেও মনের মধ্যে ক্ষীণ একটা আশা ছিলো হয়তো ৬৮/৬৯ আসবে, আর এতে চান্সও হতে পারে। কিন্তু দু'দিন পরে রেজাল্টে দেখা গেলো, আবারও যথারীতি ব্যর্থ। টেস্ট স্কোর: ৬৫.৭৫, মেরিট স্কোর: ২৬৩.৬৫।🙂

সব আশা এবার ছেড়ে দিলাম, কিন্তু আব্বু-আম্মু তখনও বললো, মেডিকেলে হয়নি তো কি হয়েছে, ডেন্টালে আর ভার্সিটিতে পরীক্ষা দিয়ে দেখতে। তাদের কথামতোই ডেন্টাল, নিটোর, ঢাবি, রাবি, জাবি, গুচ্ছ এগুলোর ফর্ম তুললাম। কিন্তু পড়াশোনায় আর মন বসাতে পারলাম না।

এদিকে করোনার প্রকোপ আবারও বাড়তে থাকায় সব পরীক্ষা আবারও পেছোতে লাগলো। আর ফ্যামিলির অবস্থাও এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো যে পড়াশোনা ছেড়ে চাকরি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এভাবে সেপ্টেম্বর এসে গেলো। ডেন্টালের পরীক্ষা ছিলো ১০ সেপ্টেম্বর। ৯ তারিখে যখন সবাই বইয়ের পাতায় চোখ বুলাতে ব্যস্ত, আর আমি তখনও চাকরির জন্য সার্টিফিকেট জোগাড়ে দৌঁড়াদৌঁড়িতে ব্যস্ত। সেদিন রাতে ২/৩ ঘণ্টার জন্য কোনোমতে বইয়ে চোখ বুলিয়ে সকালে গিয়েছিলাম ডেন্টাল পরীক্ষা দিতে।

এবারে আর মাথায় কোনো টেনশন ছিলো না। ভাবলাম, চান্স না পেলেও জীবন কোনো না কোনোভাবে চলেই যাবে। সেদিন পরীক্ষা খুবই ভালো হলো। বাসায় এসে মিলিয়ে দেখলাম ৯০ এর মতো আসে। তখন মনের মধ্যে একটু আশার আলো দেখতে পেলাম। দুইদিন পরে ডেন্টালের রেজাল্ট দেয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতেই দেখলাম ডেন্টালের কাট মার্ক ৮৪। মুহুর্তেই রাজ্যের ভয় জড়ো হলো মনে। হয়তো এবারেও সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। পরক্ষনেই মোবাইলে মেসেজ আসলো-

"Merit position: 158, Status: Eligible and Allocated Sir Salimullah Medical College Dental Unit, Dhaka."🥰

মেসেজটা দেখে প্রথমে বিশ্বাসই হলো না। পরে যখন ঘোর কাটলো তখন আল্লাহর প্রতি মন থেকে শুকরিয়া জানালাম এবং প্রথমেই আব্বু-আম্মুকে ফোন দিয়ে খুশির খবরটা বললাম। তাঁরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলো। চারদিক থেকে মোবাইলে তখন মেসেজ ও ফোন আসতে লাগলো এবং সবাই অভিনন্দন জানাতে লাগলো। জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন ছিলো ওটা। যাহোক, পরে ওয়েবসাইটে রেজাল্ট দেখলাম টেস্ট স্কোর ছিলো ৮৯.৫০ এবং মেরিট স্কোর ছিলো ২৮৭.৪০।😌

এরপর ডেন্টালে আমাদের ক্লাস শুরু হলো নভেম্বরের ৮ তারিখে। কিছুদিন পরেই পুরোদমে আইটেম, ক্লাস শুরু হয়ে গেলো। এরইমধ্যে আবার অনেকে সেকেন্ড টাইমের প্রিপারেশন নেয়ার জন্য ডেন্টালের ক্লাস ছেড়ে চলো গেলো। আমি তো জানতাম, আমার আর সেকেন্ড টাইম দেয়া সম্ভব নয়। কারণ আমি ২০১৭ সালের এসএসসি ব্যাচের স্টুডেন্ট। তাই, আমিও পুরোদমে পড়াশোনা করতে লাগলাম ডেন্টালের। এরইমধ্যে ফার্স্ট কার্ড শেষ হয়ে গেলো এবং সবগুলো কার্ড-ই ক্লিয়ার করলাম।

এরপর সেকেন্ড মাইগ্রেশনে ঢাকা ডেন্টালে চান্স পেলাম। ঢাকা ডেন্টালে এসে দেখলাম হলের অর্ধেক পোলাপানই সেকেন্ড টাইমের জন্য বাসায় চলে গেছে, আর বাকি যারা হলে আছে তারাও অধিকাংশই সেকেন্ড টাইমের জন্য পড়ছে। এরমধ্যে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ২০২১-২২ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সার্কুলার দিয়ে দিলো। ওখানে দেখলাম যারা ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী তারাও পরীক্ষা দিতে পারবে, তার মানে আমি আবারও পরীক্ষা দিতে পারবো। মূলত এই নিয়মটা তখনই নতুন এসেছিলো।

তারপরেও, সেকেন্ড টাইম দিতে ইচ্ছে হলো না। কারণ, পরীক্ষার তখন আর মাসখানেকের মতো বাকি ছিলো। এই কম সময়ে মেডিকেলের প্রিপারেশন নেয়া সম্ভব না বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু আমার বেস্টফ্রেন্ড Khalid Ahmed এবং Sakib Rayhan আমাকে একরকম জোর করেই ফরম পূরণ করালো।❤️
এরপর ঐ একমাসের জন্য আমি নিজেই একটা প্ল্যান করলাম যে কিভাবে পড়বো। এতদিনে ধারণা হয়ে গিয়েছিলো যে মেডিকেলে কোথা থেকে প্রশ্ন হয়। সেই অনুযায়ী এই একমাসে সব টেক্সট বইয়ের দাগানো লাইনগুলোতে একবার চোখ বুলিয়ে গেলাম, সাথে কয়েকটা লেখকের বইয়ের অনুশীলনীর প্রশ্নের পিডিএফ জোগাড় করেছিলাম, ওগুলো ভালোভাবে কয়েকবার পড়লাম, মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রশ্নব্যাংক ভালোভাবে পড়লাম। এর পাশাপাশি আমাদের রুমের চার বন্ধু মিলে আলোচনা করতাম, সবাই সবাইকে প্রশ্ন করতাম। প্রায় সারাক্ষণই পড়তাম আমরা। এভাবে বেশ ভালোভাবেই সিলেবাস শেষ হয়ে আসলো। পরীক্ষার দুদিন আগে থেকে শুধুমাত্র প্রশ্নব্যাংক আর টেক্সট বইগুলোর অনুশীলনীর প্রশ্নগুলো পড়লাম। এবারেও মাথায় আর কোনো টেনশন ছিলো না কারণ ঢাকা ডেন্টালে তো ভর্তি হয়ে ছিলামই।

যাহোক পরীক্ষার দিনে হলে ঢুকে বেশ নিশ্চিন্তেই প্রশ্ন আসার অপেক্ষা করতে লাগলাম। প্রশ্ন আসার পরে ঠান্ডা মাথায় ভেবেচিন্তে ৯৯টার মতো উত্তর করলাম। বাসায় এসে উত্তর মিলিয়ে দেখলাম ৮৫ এর মতো আসে।
দু'দিন পরে দুপুরের দিকে রেজাল্টের একটা পিডিএফ ফাইল সামনে আসলো। মনের মধ্যে ভয় ছিলো তখনও। ৯.৬ পেয়ে চান্স পাওয়া তো সহজ কোনো বিষয় না। তবুও ভয়ে ভয়ে পিডিএফে আমার রোলটা লিখে সার্চ করলাম এবং তারপরে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর এর লিস্টে আমার রোলটা দেখে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারলাম না এটা আমার রোল। কয়েকবার চেক করে শিওর হলাম এটা আমিই। এবারেও মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম এবং আব্বু-আম্মুকে জানালাম। পরেরদিন ওয়েবসাইটে চেক করে দেখেছিলাম আমার টেস্ট স্কোর ছিলো ৮৪.৭৫ এবং ৯.৬ কেটে মেরিট স্কোর ছিলো ২৭৪.৬৫। 😍
আমরা একই রুমের তিনজনই চান্স পেয়েছিলাম। এরমধ্যে Ahmed সেকেন্ড টাইমারদের মধ্যে দেশসেরা হয়েছিলো এবং মুগদা মেডিকেলে চান্স পেয়েছিলো, আর Sakib ও এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুরে চান্স পেয়েছিলো।🥰

সবশেষে মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু ছোট ভাই-বোনদেরকে এটাই বলবো যে-

তুমি হয়তো ভাবতে পারো যে তোমার চেয়ে দুঃখে, তোমার চেয়ে হতাশায় আর কেউ নেই। কিন্তু একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবে, আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষই লুকিয়ে আছে যারা তোমার চেয়েও কঠিন অবস্থা পার করে আজকে সফলতার শিখরে আরোহন করতে পেরেছে।
জীবনে অনেক ব্যর্থতা, অনেক হতাশা আসবে। তাই বলে হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না কখনোই। এ পৃথিবীতে যারাই সফল হয়েছে, তাদেরও জীবনে লুকিয়ে আছে অজস্র ব্যর্থতার গল্প, হার না মেনে সেখান থেকে উঠে আসার গল্প।

একটা কথা মনে রাখবে, মানুষ সবসময়ই তোমার সফলতাটা দেখবে; এই সফলতার পেছনে লুকিয়ে থাকা নিরব কান্না, অজস্র হতাশা ও ব্যর্থতা, তোমার হার না মানা পরিশ্রম কখনোই খুঁজতে যাবে না। তাই, ধৈর্যের সঙ্গে নিজের লড়াইটা চালিয়ে যাও যতক্ষণ পর্যন্ত না সফলতা তোমার কাছে ধরা দিচ্ছে। আর আল্লাহর উপর সবসময় বিশ্বাস রাখো, তিনি চাইলে সবকিছুই সম্ভব।💪

মোঃ আরিফুল ইসলাম
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল (মাইগ্রেশন)
সেশন: ২০২১-২২
ঢাকা ডেন্টাল কলেজ
সেশন: ২০২০-২১

আমরা আসছি অনলাইনে
14/08/2026

আমরা আসছি অনলাইনে

13/08/2026

তোমাদের যাদের সদ্য ঘোষিত এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয়েছে ও আশানুরূপ হয়নি তারা প্রত্যেকেই ফলাফল পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারো।
কারণ এবার শুধু নম্বর গণনা হবে না পুরো খাতাই আবার নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে।
সুতরাং, যাদের আত্নবিশ্বাস আছে যে তুমি আরও ভালো ফলাফল করতে তারা আবেদন করতে পারো।
আবেদন ফি ১৫০ টাকা প্রতি বিষয়।
আবেদন লিংক কমেন্টে

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিআসসালামু আলাইকুম প্রিয় কোনাবাড়ীবাসী মেধাবিকাশ কোচিং সেন্টার এ জরুরী ভিত্তিতে গণিতে অভিজ্ঞ একজন শিক্ষক প্র...
22/07/2026

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় কোনাবাড়ীবাসী
মেধাবিকাশ কোচিং সেন্টার এ জরুরী ভিত্তিতে গণিতে অভিজ্ঞ একজন শিক্ষক প্রয়োজন।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ- বিএসসি অনার্স (চলমান হলেও চলবে)
মাসিক সম্মানিঃ- ৮০০০-১০০০০ টাকা।

সময়ঃ- দুপুর ২.২০-- ৭.০০ (মাগরিব) পর্যন্ত।
সপ্তাহে ৫/৬ দিন।
স্থানঃ- আমবাগ আতাউর মার্কেট,কোনাবাড়ী,গাজীপুর

আগ্রহী প্রার্থীগণকে ইনবক্সে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

আসসালামু আলাইকুম। প্রিয়  #কোনাবাড়ীবাসী আপনার সন্তানের মেধা বিকাশে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্তান আপনার তার স...
03/07/2026

আসসালামু আলাইকুম।
প্রিয় #কোনাবাড়ীবাসী আপনার সন্তানের মেধা বিকাশে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সন্তান আপনার তার সুষ্ঠু পরিচর্যা ও মেধা বিকশিত করার দায়িত্ব আমাদের।

✅ আমাদের সেবাসমূহ

🟤 আমাদের রয়েছে এক যুগেরও বেশি অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী।
🟠 বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক দ্বারা পাঠদান।
🟢 ছেলে-মেয়ে আলাদা ব্যাচ।
🔴 দূর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ কেয়ার।
🔵 গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বল্প ও বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ।
🟣 গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক শীট প্রদান।
🟤 সাপ্তাহিক, মাসিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রগতির রিপোর্ট অভিভাবককে জানানো।
🟥 সুন্দর হাতের লেখা শেখার বিশেষ কোর্স।
🟩 চিত্রাঙ্কনের বিশেষ কোর্স
🟪 বেসরকারি বৃত্তি ও গণিত অলিম্পিয়াড সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ।

শিক্ষা বিষয়ক যেকোনো তথ্য ও পরামর্শের জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানে আসুন আপনার সন্তান নিয়ে আপনার প্রত্যাশা আমাদের কাছে ব্যক্ত করুন আপনার প্রত্যাশা পূরণে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
ইনশাআল্লাহ্‌।

Address

Ambag, Gazipur
Dhaka
1346

Telephone

+8801602941795

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মেধাবিকাশ কোচিং সেন্টার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to মেধাবিকাশ কোচিং সেন্টার:

Shortcuts

Share