29/03/2026
ডাক্তারকে ফাঁসিতে ঝুলানোর আগে আরো অনেককে ফাঁসিতে ঝুলানোর বাকি আছে।
প্রিয় নোয়াখালীর বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি,সুশীল সমাজ এবং আপামর নোয়াখালীবাসী, আসসালামু আলাইকুম ।
নোয়াখালী জেলার হৃদরোগের চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে আপনাদের কিন্চিৎ ধারনা দেওয়ার জন্যই এই লেখার অবতারনা।
মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান করার জন্য অত্যাবশ্যক বিষয়াবলী:
১।সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রীধারী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ চিকিৎসক
২।বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স
৩।পর্যাপ্ত না হলেও ন্যুনতম সাপোর্ট স্টাফ।(টেকনিশিয়ান,ওয়ার্ডবয়,গেইট কিপার,পরিচ্ছন্নতা কর্মি-এসব)
৪।অত্যবশ্যক যন্ত্র পাতি
৫।প্রয়োজনীয় অবকাঠামো
৬।অন্যান্য লজিস্টিকস্
৭।কর্ম পরিবেশ
একটু ব্রেকডাউন করা যাক-
* নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ( যেটা অস্থায়ী ভাবে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসাবে পরিগণ্য) এবং নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ মিলে ৮ জনের মত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন।এই বিশেষজ্ঞগণের হৃদরোগ বিষয়ে পর্যাপ্ত দক্ষতা রয়েছে।
* হৃদরোগ বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স- একজনও নাই।
৩।ন্যুনতম সাপোর্ট-স্টাফ- নাই।ভয়ংকর রকমের অভাব।
৪।অত্যাবশ্যক যন্ত্র পাতি: নেই।
একটা নিম্নমানের ইকো মেশিন আছে ।কিন্তু একবার নষ্ট হলে ঠিক করার জন্য টেকনিক্যাল স্টাফ লোকাললি এ্যাভেইলএবল নাই।টাকা বরাদ্দ নাই।দীর্ঘ সময় আর কাজ করা যায় না।প্রিন্টারও একবার নষ্ট হলে একই পরিনতি হয়।জেলি নাই, ফটো পেপার নাই।বরাদ্দ নাই।
ডাক্তারগণ কখনো নিজের পকেটের পয়সায় কিংবা ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সহায়তায় কাজ চালিয়ে নেওয়ার প্রয়াস পান।কিন্ত কয়দিন!!
কার্ডিয়াক মনিটর নাই।একটা ইনফিউশন পাম্পও নাই।
* সরকারিভাবে হৃদরোগের জন্য বরাদ্দকৃত বেডের সংখ্যা মাত্র ৬ টা। পুরুষ-৪, মহিলা -২।
হৃদরোগের যে ওয়ার্ড, সেটা স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় করা হয়েছে।সেখানে ৫০-৬০ জন রোগি ভর্তি থাকলেও সরকারী সুযোগ-সুবিধা ৬ জনের জন্যই বরাদ্দ।
(এই জায়গায় কোন তথ্যগত ভুল থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী)
* কর্ম পরিবেশ সম্পর্কে কি আর লিখবো!!
* সবচেয়ে দু:খজনক হলো নয় উপজেলা সম্পন্ন এই জেলার শীর্ষ এই হাসপাতাল-২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কোন সিসিইউ নাই।
সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও প্রধান জরুরী হৃদরোগ হচ্ছে হার্ট এটাক।এই রোগে হঠাৎ হার্টের এক বা একাধিক রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।রোগি সাধারণত প্রচন্ড বুক ব্যথা অনুভব করে।সাথে শ্বাস কষ্ট, ঘাম কিংবা বোমিও হতে পারে।
এ রোগের চিকিৎসা হলো দ্রুত জমাট রক্ত পরিস্কার করে দেওয়া।এ চিকিৎসা দুইভাবে করা যায়:
১। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এনজিওগ্রাম করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।( Primary PCI). এটা ঢাকা চট্টগ্রামের টার্শিয়ারি লেভেল হসপিটালে করা হয়।
২।দ্রুততম সময়ে নির্দিষ্ট ইনজেকশন প্রয়োগ করে জমাট রক্ত ক্ষয় করে দেওয়া।এটা করার জন্য সিসিইউ প্রয়োজন।
আমাদের প্রিয় নোয়াখালী জেলায় এই দুই পদ্ধতির কোনটাই করা যায় না।এখানে হার্ট এটাক বা Acute Myocardial Infarction-এর গাইড লাইন অনুযায়ী কোন চিকিৎসাই হয় না।ডাক্তার আছে বটে কিন্তু ডাক্তারের সার্ভিস ডেলিভারি দেওয়ার সুযোগ নাই।
এই ফিরিস্তির উদ্দেশ্য হলো কোন রাজনৈতিক নেতা কিংবা সুশীল সমাজের কোন প্রতিনিধি কিংবা কোন মিডিয়াকর্মি কি কখনো জানতে চেয়েছেন-কেন এই দুরবস্থা, কেন এই দুর্গতি!!
কেউ কি খবর নিয়েছেন-এই প্রচন্ড গরমে টিন শেডে কিভাবে ডাক্তার এবং অন্যান্য স্টাফগণ কাজ করেন!!
খবর নিয়েছেন কি নতুন ভবন কি কারণে এতদিন পরও কাজে লাগানো যাচ্ছে না!!
কেউ কি জানেন কেন প্রায় দুই দশক পরও নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হচ্ছে না!!
কেউ কি কখনো ভেবেছেন কিভাবে এত সীমিত লোকবল, লজিস্টিকস দিয়ে হাসপাতাল চলে!!
যারা নোয়াখালী বিভাগ চান-ভাবুন সেই যোগ্যতা আছে কি না!
যারা কথায় কথায় নিউজ করেন, ভিডিও ভাইরাল করেন- ডাক্তার নাই, নার্স নাই, ওষুধ নাই, পরিবেশ নাই-তারা কি একটিবারও আন্তরিকতা এবং অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি দিয়ে তলিয়ে দেখেছেন এ দুরবস্থার পিছনের কারণ!!
স্থানীয় এমপি সাহেবের সভাপতিত্বে একটা জেলা স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন কমিটি আছে,সে কমিটি কবে মিটিং করেছে কারো কি জানা আছে!!
ডাক্তারকে ফাঁসিতে ঝুলানোর আগে আরো অনেককে ঝুলানোর আছে।