20/08/2026
একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হওয়ার পথটি ঠিক কতটা পরিশ্রমের? আপনি কি জানেন, BHMS ডিগ্রি অর্জনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৫৫০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়? আজকের পর্বে আমরা জানবো বিএইচএমএস (BHMS) শিক্ষার আদ্যোপান্ত এবং এর কঠোর মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে।
বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথির উচ্চশিক্ষার নাম হলো ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি (BHMS)। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদভুক্ত একটি সম্মানসূচক ডিগ্রি, যার মান এমবিবিএস (MBBS) এর সমতুল্য বিবেচিত হয়। এই ডিগ্রি অর্জনের যাত্রাটি মূলত ৫ বছরের একাডেমিক পড়াশোনা এবং ১ বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ নিয়ে মোট ৬ বছরের। বাংলাদেশে কেবল দুটো প্রতিষ্ঠানে এই ডিগ্রি পাঠদান চলমান রয়েছে: সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ (মিরপুর ১৪, ঢাকা) এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ (ওয়ারী, ঢাকা)।
১. ভর্তি প্রস্তুতি ও আসন সংখ্যা
বিএইচএমএস কোর্সে স্বল্প আসন হওয়ায় এর ভর্তি হওয়া বেশ প্রতিযোগিতামূলক। এই ভর্তি প্রক্রিয়া স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়।
ভর্তির যোগ্যতা: শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জীববিজ্ঞানসহ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং উভয় পরীক্ষা মিলিয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৮.০০ থাকতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষা: মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ১০০ নম্বর থাকে এসএসসি ও এইচএসসি-র ফলাফলের ওপর এবং বাকি ১০০ নম্বরের লিখিত এমসিকিউ (MCQ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
আসন সংখ্যা: মিরপুরস্থ সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৫০টি। অন্যদিকে, বেসরকারি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ১০০টি (যার মধ্যে ৫০টি এইচএসসি উত্তীর্ণদের জন্য এবং ৫০টি ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের জন্য সংরক্ষিত)।
২. একাডেমিক কাঠামো ও বিষয়সমূহ
এমবিবিএস কোর্সের প্রায় সব বিষয়ের পাশাপাশি হোমিওপ্যাথির বিশেষায়িত বিষয়গুলো এই কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোর্স অনুযায়ী বিএইচএমএস কোর্সে মোট ১৫টি বিষয় পড়ানো হয় এবং বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
১. Organon of Medicine (৫৫০ নম্বর)
২. Homoeopathic Pharmacy (৪০০ নম্বর)
৩. Anatomy (৪০০ নম্বর)
৪. Physiology & Biochemistry (৪০০ নম্বর)
৫. Materia Medica (৯০০ নম্বর)
৬. Pathology & Microbiology (৪০০ নম্বর)
৭. Community Medicine (২০০ নম্বর)
৮. Forensic Medicine & Toxicology (২০০ নম্বর)
৯. Clinical Medicine (৪০০ নম্বর)
১০. Gynaecology & Obstetrics (৪০০ নম্বর)
১১. Principles of Homoeopathic Philosophy (১৫০ নম্বর)
১২. Chronic diseases (২০০ নম্বর)
১৩. Repertory (২০০ নম্বর)
১৪. Surgery (৪০০ নম্বর)
১৫. Clinical Psychology & Psychiatry (৩০০ নম্বর)
সর্বমোট নম্বর: ৫৫০০। এই সকল বিষয়ের পাঠদানের জন্য কলেজে মোট ১৫টি আলাদা বিভাগ রয়েছে।
৩. মূল্যায়নের ধাপ: আইটেম থেকে প্রফ
একজন দক্ষ চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে এই কোর্সের পরীক্ষা পদ্ধতি অত্যন্ত কঠোর ও ধারাবাহিক। মূল্যায়নের ধাপগুলো হলো:
আইটেম: ক্লাসের লেকচারের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া ছোট ছোট মৌখিক বা লিখিত পরীক্ষা। এটি মেডিকেল পাসের মৌলিক একক।
কার্ড: একাধিক আইটেম শেষ হলে কার্ড পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পেশাগত পরীক্ষা (Prof): এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মোট ৪টি প্রফেশনাল পরীক্ষা দিতে হয়, যার মোট নম্বর ৫৫০০। প্রতিটি ধাপে ন্যূনতম ৬০% নম্বর পেয়ে পাস করা বাধ্যতামূলক।
৪. ইন্টার্নশিপ ও নামের আগে ‘ডা.’ পদবি
৫ বছরের পড়াশোনা ও ৪টি প্রফেশনাল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের এক বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হয়। বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মাসিক ১০,৫০০ টাকা ভাতা পান। এই দীর্ঘ ৬ বছরের সাধনা শেষে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের মাধ্যমে মূল সনদ লাভ করেন এবং আইনগতভাবে নামের আগে ‘ডা.’ (Dr.) পদবি ব্যবহারের অধিকার অর্জন করেন।
BHMS ডিগ্রি অর্জন করা কেবল মেধার বিষয় নয়, বরং এটি দীর্ঘ কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত ক্লাস এবং ধারাবাহিক পরীক্ষার একটি ফল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই ডিগ্রি একজন শিক্ষার্থীকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও হোমিওপ্যাথির সমন্বয়ে একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলে।
পরবর্তী পর্বে থাকছে DHMS বা ডিপ্লোমা শিক্ষা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি।
BHMS পড়াশোনার এ তথ্যগুলো আপনি আগে জানতেন? এই তথ্যটি আপনার বন্ধুদের জানাতে শেয়ার করুন।
- মো. সুমন রানা