30/05/2026
📌 গত তিনটি পর্ব পড়ে ভয় পেয়েছেন হয়তো। কিন্তু ভয় দেখানো এই সিরিজের উদ্দেশ্য ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল একটাই — আপনি জানুন। আপনি অনুসরন করুন। আপনি বাঁচুন।
আজ শুধু তিনটি কথা বলবঃ
এর আগে পোষ্ট গুলোতে ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি ও রক্তের রিপোর্টে eGFR (Glomerular Filtration Rate) কমে যাওয়া বা ড্রপ করা দেখলে রোগীরা প্রথমেই ভাবেন—"আমার কিডনি বোধহয় অকেজো হতে চলেছে, এখন শুধু প্রোটিন আর পটাশিয়াম খাওয়া কমিয়ে দিলেই কিডনি আবার আগের মতো ঠিক হয়ে যাবে।"
ল্যাবরেটরি বায়োকেমিস্ট্রি এবং রেনাল মেকানিজমের দৃষ্টিতে, eGFR ড্রপ করলে ডায়েট পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি হলেও এটিই একমাত্র বা যথেষ্ট সমাধান নয়। কারণ eGFR কমে যাওয়া কোনো স্বাধীন রোগ নয়, এটি মূলত কিডনির ফিল্টার নষ্ট হওয়ার একটি ল্যাবরেটরি সংকেত মাত্র। কিডনিকে চিরতরে বিকল হওয়া থেকে বাঁচাতে ডায়েটের পাশাপাশি এর পেছনের আসল বৈজ্ঞানিক মেকানিজমটি দূর করা বাধ্যতামূলক।
আসল বৈজ্ঞানিক মেকানিজম হলো দুটি কিডনির ভেতরে রক্ত ছেঁকার জন্য প্রায় ১৮ লক্ষ সূক্ষ্ম ছাঁকনি বা ফিল্টার থাকে, যাদের বলা হয় Glomerulus। এই ছাঁকনিগুলো প্রতি মিনিটে ঠিক কত মিলিলিটার রক্ত নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করতে পারছে, ল্যাবরেটরি সূত্রে সেই হিসাবকেই বলা হয় eGFR।
রক্তে যখন দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সুগার (ডায়াবেটিস) বা তীব্র রক্তচাপ (High BP) থাকে, তখন কিডনির এই সূক্ষ্ম ফিল্টারিং মেমব্রেন এবং রক্তনালীগুলো ধীরে ধীরে পুড়ে বা ড্যামেজ হয়ে শক্ত হতে শুরু করে। ফলে কিডনির রক্ত ছাঁকার গতি কমে যায় এবং ল্যাব রিপোর্টে eGFR এর মান দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকে।
অপর দিকে আপনি যখন ডায়েট পরিবর্তন করে কম প্রোটিন বা কম পটাশিয়াম খান, তখন মূলত কিডনির ওপর বাড়তি বর্জ্য পরিষ্কার করার কাজের চাপ (Renal Workload) কিছুটা কমে। ডায়েট আপনার কিডনিকে নতুন কোনো বর্জ্য তৈরি করে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত রাখে, কিন্তু যে মূল কারণে (যেমন—অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা ব্যথানাশক ঔষধ) গুলো কে অবশ্যই আমলে নিতে হবে।
সহজ হিসাব
➡️ প্রথম কথা — সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
HbA1c পরীক্ষার কথা হয়তো শুনেছেন। এটি তিন মাসের গড় সুগার দেখায়। এই সংখ্যাটি ৭-এর নিচে রাখতে পারলে কিডনি অনেকটাই রক্ষা পায়।
ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ নিয়মিত খান। কোনো অবস্থাতে চিকিৎসকেদ অনুমোদন ব্যতিত ব্যাথার ঔষধ খাবেন না।
নিজে নিজে ঔষধ বন্ধ করবেন না।
➡️ দ্বিতীয় কথা — রক্তচাপের দিকে নজর রাখুন। ডায়াবেটিসের রোগীদের অনেকেরই রক্তচাপও বেশি থাকে। এই দুটো একসঙ্গে থাকলে কিডনির ক্ষতি হয় দ্বিগুণ গতিতে।
রক্তচাপ ১৩০/৮০-এর নিচে রাখার চেষ্টা করুন।
➡️ তৃতীয় কথা — ছয় মাসে একবার কিডনি পরীক্ষা করুন।
তিনটি পরীক্ষা —
রক্তে ক্রিয়েটিনিন, রক্তে ইউরিয়া, প্রস্রাবে প্রোটিন।
খরচ বেশি নয়।
কিন্তু এই তিনটি পরীক্ষা প্রতি ছয় মাসে করলে বিপদ আসার আগেই জানতে পারবেন।
আর সময়মতো জানলে — ফেরার পথ থাকে।
অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল্লাহ বলেছেন —"ডায়াবেটিসকে ভয় না পেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।" এই একটা বাক্যই এই সিরিজের সারসংক্ষেপ।
আপনার বাড়িতে কি ডায়াবেটিসের রোগী আছেন?
আপনার বাবা? মা? স্বামী? স্ত্রী?
এই সিরিজের পর্ব গুলো শেয়ার করুন।
উনারা পড়ুক। জানুক।
আপনার একটি শেয়ার —
কারো কিডনি বাঁচাতে পারে। আপনিও হয়তো এর একটি বিশ্বাস করেন।
📍 👩⚕️ ডাঃ তাজকেরা সুলতানা চৌধুরী (বাংলাদেশের প্রথম মহিলা ইউরোলজিস্ট)
এফসিপিএস (সার্জারী), এমএস (ইউরোলজি) সহযোগী অধ্যাপক, ইউরোলজি বিভাগ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এবং
চীফ কনসালটেন্ট
🏠 বায়োমেড সেন্টার ফর ওমেন্স হেলথ্
ইষ্টার্ন দোলন, ১৫২/২-এইচ (৭ম তলা), বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান স্মরনী পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা-১২০৫, যোগাযোগ: 📲 01989997180
( উল্লেখিত নম্বরে সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন গুলো ব্যতিত যোগাযোগ করতে পারেন)
দূরের পেশেন্ট যারা মুভমেন্ট করতে সমস্যা হয় তারা 01989997180 নাম্বারে রেজিস্ট্রেশন করে একটা নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে অনলাইন দেখাতে পারবেন।
#কিডনি_পাথর
#মূত্রনালী_সংক্রমণ
#মূত্রথলি
#মূত্র_অসংযম