10/05/2026
আল-কানুন ফিত তিব্ব: নিদ্রায় ভয় পাওয়া ও এর ইউনানী সমাধান।
ইবনে সিনা তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ যখন ঘুমায় তখন তার ইন্দ্রিয়গুলো বাহ্যিক জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভেতরের দিকে মনোনিবেশ করে।
এই সময় শরীরের কোনো অংশের অস্বাভাবিক অবস্থা মস্তিষ্কে ছায়া বা প্রতিচ্ছবি তৈরি করে, যা মানুষ ভয়ংকর স্বপ্ন বা অনুভূতি হিসেবে অনুভব করে।
১. কেন মানুষ ঘুমে ভয় পায়? (ইবনে সিনার বিশ্লেষণ)
ইবনে সিনা এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
বখারাত-এ-রাদ্দি (দূষিত বাষ্প):
এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ। পাকস্থলীতে যদি খাবার ঠিকমতো হজম না হয় এবং সেখানে আমাশয় বা কাঁচা রস (Khilt-e-Ghaliz) জমা হয়, তবে সেখান থেকে এক ধরনের বাষ্প উৎপন্ন হয়ে মস্তিষ্কের দিকে ধাবিত হয়।
এই বাষ্প মস্তিষ্কের ‘রূহ’ (Spirit/Vital Force) কে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে মানুষ ঘুমের মধ্যে আতঙ্কিত হয়।
সু-ই-মিজাজ বারদ ওয়া ইয়াবিস (ঠান্ডা ও শুষ্ক মেজাজ): যখন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক মেজাজ বিগড়ে গিয়ে অত্যাধিক শুষ্ক ও ঠান্ডা হয়ে যায় (সাউদা বা মেলানকোলিক মেজাজ), তখন মনের মধ্যে বিষণ্ণতা এবং অহেতুক ভয় কাজ করে।
কাবুস (Nightmare/Sleep Paralysis): ইবনে সিনা 'কাবুস' বা নিশি পাওয়া সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন।
তিনি মনে করতেন এটি মৃগীরোগের (Epilepsy) একটি প্রাথমিক সংকেত হতে পারে যদি এটি ঘনঘন ঘটে।
এটি মূলত মস্তিষ্কের সম্মুখ ভাগের শিরাগুলোতে রক্ত বা শ্লেষ্মার আধিক্যের কারণে ঘটে।
২. আল-কানুন অনুযায়ী প্রতিকার
ইবনে সিনা এই সমস্যার সমাধানে ‘তাদবীর’ (Regimenal Therapy) এবং ‘গিযা’ (Diet) এর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
ক) খাদ্যের সমন্বয়
পাকস্থলী পরিষ্কার রাখা: ঘুমানোর আগে পেট ভরে খাওয়া ইবনে সিনার মতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যেন ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা হয়।
অত্যধিক ঠান্ডা ও বায়ু সৃষ্টিকারী খাবার বর্জন: শসা, তরমুজ বা বাসি খাবার যা পেটে গ্যাস তৈরি করে, তা রাতে পরিহার করা উচিত।
খ) মস্তিষ্কের প্রশান্তি (তাকবিয়ত-এ-দমাগ)
স্নিগ্ধ তেলের মালিশ:
ইবনে সিনা পরামর্শ দিয়েছেন যেন যাদের মেজাজ শুষ্ক, তারা মাথায় 'রোগন-এ-বনফশা' (Violet Oil) বা 'রোগন-এ-কাদু' (Pumpkin Oil) মালিশ করেন।
এটি মস্তিষ্ককে ঠান্ডা রাখে এবং ভয় দূর করে।
সুগন্ধি থেরাপি:
ঘুমের সময় হালকা সুগন্ধি (যেমন গোলাপ বা চন্দন) ব্যবহারের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন যা রুহ্-কে আনন্দিত করে।
গ) ভেষজ সমাধান
ইবনে সিনা ভয় এবং দুঃস্বপ্ন নিরাময়ে কিছু বিশেষ উপাদানের উল্লেখ করেছেন:
গাওজাবান (Borage):
এটি হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের জন্য সর্বোত্তম উদ্দীপক। এটি দুশ্চিন্তা ও ভয় কমায়।
উস্তুখুদুস (Lavender):
একে বলা হয় ‘মস্তিষ্কের ঝাড়ুদার’। এটি মস্তিষ্ক থেকে দূষিত বাষ্প বের করে দিয়ে গভীর ঘুমে সাহায্য করে।
বদরঞ্জবয়া (Lemon Balm):
এটি স্নায়বিক দুর্বলতা এবং অহেতুক ভয় কাটাতে অত্যন্ত কার্যকর।
৩. ইবনে সিনার বিশেষ পরামর্শ (তাদবীর)
শোয়ার ভঙ্গি:
ইবনে সিনা সোজা হয়ে চিৎ হয়ে শুতে নিষেধ করেছেন।
তাঁর মতে, ডান কাতে শোয়া হজমের জন্য এবং মস্তিষ্ককে বাষ্পমুক্ত রাখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
মানসিক প্রশান্তি:
শোবার আগে উত্তেজিত না হওয়া এবং মনকে শান্ত রাখা।
উপসংহার:
আল-কানুন ফিত তিব্ব অনুযায়ী, নিদ্রায় ভয় পাওয়া কেবল একটি মানসিক সমস্যা নয়, বরং এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ দূষিত পদার্থ দূর করার একটি তাগিদ।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
দ্রষ্টব্য: ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যক্তিগত মেজাজ ও লক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। জটিল সমস্যার ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ হেকিমের পরামর্শ নিন।
আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ইউনানী চিকিৎসার বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান
আশ শেফা দাওয়াখানা
প্রকৃতির ছোঁয়ায় সুস্থ থাকুন
নিদ্রায় ভয় পাওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা, অনিদ্রা বা যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল শারীরিক সমস্যার সঠিক ইউনানী সমাধানের জন্য আজই যোগাযোগ করুন।
'আল-কানুন ফিত তিব্ব'-এর মূলনীতি ও আধুনিক ইউনানী বিজ্ঞানের সমন্বয়ে আমরা দিচ্ছি অভিজ্ঞ সুচিকিৎসা।
আমাদের সেবা পেতে যোগাযোগ করুন:
ঠিকানা: আটানী বাজার, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।
পরিচালক: হাকীম কামরুল হাসান (DUMS) ঢাকা।
চেম্বার সময়সূচী:
প্রতিদিন: দুপুর ৩:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত।
শুক্রবার: বিকেল ৪:৩০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সিরিয়ালের জন্য আগেভাগে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।
আশ শেফা দাওয়াখানা — আপনার সুস্থতাই আমাদের লক্ষ্য।