08/02/2026
রোজা ও হৃদরোগ: যা জানা জরুরি
রমজান সংযম ও ইবাদতের মাস। তবে ইসলাম কখনোই অসুস্থ ব্যক্তিকে কষ্টে ফেলতে চায় না। হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত রোগের ধরন, বর্তমান অবস্থা ও ওষুধের ওপর নির্ভর করে।
সব হার্ট রোগীর জন্য রোজা নিষিদ্ধ নয়, আবার সবার জন্য নিরাপদও নয়।
⸻
✅ কারা রোজা রাখতে পারেন (ডাক্তারের পরামর্শে)
নিচের রোগীরা সাধারণত রোজা রাখতে পারেন, যদি বর্তমানে কোনো জটিলতা না থাকে:
• পুরনো হার্ট অ্যাটাক, এখন বুক ব্যথা নেই
• হার্টে স্টেন্ট বসানো হয়েছে ৬ মাসের বেশি সময় আগে
• রক্তচাপ (BP) ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে
• হার্ট ফেইলিউর হালকা মাত্রার (NYHA Class I–II)
• হার্টবিটের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আছে
👉 তবুও রোজার আগে নিজের চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
⸻
❌ কারা রোজা না রাখাই নিরাপদ
নিচের অবস্থাগুলোতে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে:
• সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক বা চলমান বুক ব্যথা
• তীব্র শ্বাসকষ্টসহ হার্ট ফেইলিউর (NYHA III–IV)
• অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ
• বারবার মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়া
• সম্প্রতি হার্ট অপারেশন বা স্টেন্ট বসানো হয়েছে (< ১–৩ মাস)
👉 এসব ক্ষেত্রে রোজা না রাখা চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় এবং ধর্মীয়ভাবে সম্পূর্ণ জায়েজ।
⸻
💊 ওষুধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
• নিজের ইচ্ছেমতো কোনো ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না
• দিনে ১ বার খাওয়ার ওষুধ → ইফতার বা সেহরিতে
• দিনে ২ বার খাওয়ার ওষুধ → ইফতার + সেহরি
• দিনে ৩ বার খাওয়ার ওষুধ → রোজায় সমস্যা হতে পারে, ডাক্তারের পরামর্শ দরকার
• প্রস্রাব বাড়ায় এমন ওষুধ (যেমন: Furosemide) → ডোজ পরিবর্তনের আগে অবশ্যই ডাক্তার দেখান
⚠️ বিশেষভাবে মনে রাখবেন—
Aspirin, Clopidogrel, Statin ও প্রেসারের ওষুধ কখনোই নিজে নিজে বন্ধ করবেন না।
⸻
🍽️ খাবার বিষয়ে সতর্কতা
🌙 ইফতারে
• পানি ও ১টি খেজুর দিয়ে শুরু করুন
• খুব দ্রুত বা অতিরিক্ত খাবেন না
• ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল ও লবণ এড়িয়ে চলুন
• চর্বিযুক্ত ও মিষ্টি খাবার সীমিত রাখুন
🌅 সেহরিতে
• ধীরে হজম হয় এমন খাবার খান (আটার রুটি, ওটস, ভাত)
• প্রোটিন হিসেবে মাছ বা ডিমের সাদা অংশ
• অতিরিক্ত চা-কফি ও লবণ এড়িয়ে চলুন
⸻
💧 পানি পান
• ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করুন
• মোটামুটি ১.৫–২ লিটার (যদি ডাক্তার পানি কমাতে না বলেন)
• একসাথে বেশি পানি পান করবেন না
⸻
🚨 কখন রোজা ভেঙে ফেলবেন
নিচের কোনো উপসর্গ হলে রোজা ভাঙা জরুরি:
• বুক ব্যথা বা চাপ
• শ্বাসকষ্ট
• মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব
• বুক ধড়ফড় করা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা
👉 এ অবস্থায় রোজা ভাঙা গুনাহ নয়—বরং জীবন রক্ষা করা ফরজ।
⸻
🕊️ শেষ কথা
“আল্লাহ তাআলা অসুস্থ ব্যক্তিকে কষ্টে ফেলতে চান না।
সুস্থ থাকা ইবাদতের পূর্বশর্ত।”
ডা. মো. রেজাউল করিম অপু