02/09/2026
গাভী বাচ্চা প্রসবের পর নিজের প্লাসেন্টা (ফুল বা ফুলঝুরি) খেয়ে ফেলার ঘটনাটিকে বিজ্ঞানের ভাষায় প্লাসেন্টোফেজি (Placentophagy) বলা হয়। এটি প্রাণিজগতের একটি সহজাত প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি হলেও গবাদি পশুর ক্ষেত্রে এতে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে।
গরু প্লাসেন্টা খাওয়ার মূল কারণসমূহ
আত্মরক্ষার প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি: বন্য অবস্থায় শিকারী প্রাণীর হাত থেকে নবজাতক বাচ্চা ও নিজেকে বাঁচাতে রক্ত ও রক্তের গন্ধ দূর করার জন্য গাভী দ্রুত এটি খেয়ে ফেলে।
হরমোন ও পুষ্টির দ্রুত পুনরুদ্ধার: প্লাসেন্টায় প্রচুর পরিমাণে প্রজেস্টেরন, অক্সিটোসিন হরমোন এবং প্রোটিন থাকে, যা প্রসবের ধকল সামলাতে গাভীকে সাহায্য করে।
ব্যথা উপশম: এটি খেলে গাভীর শরীরে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক এনকেফালিন (Enkephalin) তৈরি হয়, যা প্রসবপরবর্তী ব্যথা কমায়।
মিনারেলের ঘাটতি: প্রসবের সময় শরীরে ক্যালসিয়াম ও আয়রনের যে ঘাটতি হয়, তা পূরণের জন্য অনেক সময় গাভী এটি খাওয়ার চেষ্টা করে।
প্লাসেন্টা খেলে কী ঝুঁকি হতে পারে?
গরু মূলত তৃণভোজী প্রাণী। প্লাসেন্টা সহজে হজম হয় না, যার ফলে:
শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া: প্লাসেন্টা গলায় বা শ্বাসনালীতে আটকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গাভী মারা যেতে পারে।
রুমেন ইমপ্যাকশন (Rumen Impaction): প্লাসেন্টা জাবর কাটার পাকস্থলীতে জমে হজমপ্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
দুধ কমে যাওয়া ও পাতলা পায়খানা: হজম না হয়ে পচন ধরলে চরম বদহজম ও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে।
প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
প্রসবের স্থান কড়া নজরে রাখা: গাভী বিয়ানোর পর প্লাসেন্টা না পড়া পর্যন্ত তাকে একা রাখবেন না এবং সবসময় পর্যবেক্ষণ করুন।
দ্রুত প্লাসেন্টা অপসারণ: প্লাসেন্টা শরীর থেকে পড়ার সাথে সাথেই তা সরিয়ে ফেলুন যেন গাভী মুখ দেওয়ার সুযোগ না পায়।
নিরাপদ অপসারণ (মাটিতে পুতে ফেলা): প্লাসেন্টাটি চুন ছড়িয়ে কমপক্ষে ৩-৪ ফুট গভীর গর্ত করে মাটিতে পুঁতে দিন, যাতে কুকুর বা শিয়াল এটি টেনে বের করতে না পারে।
গাভীকে শক্ত করে বেঁধে রাখা: প্রসবের পর গাভীর মাথা এমনভাবে বেঁধে রাখুন যেন সে পেছনের দিকে ঘুরে প্লাসেন্টায় মুখ দিতে না পারে।
মিষ্টি পানি ও কুসুম গরম খাদ্য দেওয়া: প্রসবের পরপরই গাভীকে গুড়-লবণের পানি বা কুসুম গরম পানির সাথে ভুষি মিশিয়ে খেতে দিন। এতে গাভীর ক্লান্তি কমবে এবং প্লাসেন্টা খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমে যাবে।
যদি গাভী ভুলবশত প্লাসেন্টা খেয়ে ফেলে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া বন্ধ করে দেয় বা পেট ফুলে যায়, তবে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হজমকারক ওষুধ ও স্যালাইন প্রদান করতে হবে।