24/12/2025
অনেক নারী আছেন
ওষুধ খান, উপসর্গ কমে…
কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেই একই চুলকানি, জ্বালা, সাদা স্রাব।
মনে হয়, “আমি ঠিক কী ভুল করছি?” 😔
বিশ্বাস করুন, আপনি একা নন।
বাস্তবে যোনির ইস্ট ইনফেকশন বারবার ফিরে আসা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা।
কিছু নারী তো প্রায় প্রতি মাসেই এতে ভোগেন—যা শরীরের অস্বস্তির পাশাপাশি
মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাস আর দাম্পত্য জীবনেও প্রভাব ফেলে।
এই সমস্যার পেছনে কিছু বাস্তব ও ঠিক করা যায় এমন কারণ থাকে।
চলুন, সেগুলো পরিষ্কারভাবে দেখি
কেন বারবার ইস্ট ইনফেকশন হয়?
১️ ভুল বা অসম্পূর্ণ চিকিৎসা
অনেকেই ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ নেন
বা ২–৩ দিন ভালো লাগলেই ওষুধ বন্ধ করে দেন।
এতে ছত্রাক পুরোপুরি না মরেই আবার ফিরে আসে।
২️ ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা বেশি থাকা
রক্তে সুগার বেশি থাকলে ক্যান্ডিডা ছত্রাক দ্রুত বাড়ে।
অনেক সময় ডায়াবেটিস ধরা না পড়লেও এই সমস্যা চলতেই থাকে।
৩️ ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন
অ্যান্টিবায়োটিক ভালো ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে,
যারা আসলে যোনিকে ইস্ট থেকে রক্ষা করে।
৪️ হরমোনের ওঠানামা
– গর্ভাবস্থা
– জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি
– মাসিকের আগে বা পরে
এই সময়গুলোতে ইস্ট বাড়ার ঝুঁকি বেশি।
৫️ টাইট বা সিনথেটিক আন্ডারওয়্যার
বাতাস চলাচল না হলে আর্দ্রতা জমে—
আর আর্দ্র পরিবেশ ইস্টের জন্য আদর্শ।
৬️ যোনির ভেতরে সাবান বা ডুচিং করা
এতে যোনির স্বাভাবিক pH নষ্ট হয়,
যার ফলে সংক্রমণ সহজে হয়।
৭️ যৌন সঙ্গীর চিকিৎসা না হওয়া
আপনি চিকিৎসা নিলেও
সঙ্গীর মধ্যে ছত্রাক থাকলে আবার ফিরে আসতে পারে।
৮️ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা
দীর্ঘ স্ট্রেস, অপুষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা—সবই ভূমিকা রাখে।
কী করলে বাস্তবেই উপকার পাবেন?
অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পূর্ণ চিকিৎসা কোর্স শেষ করুন
ডায়াবেটিস থাকলে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক এড়িয়ে চলুন
কটন আন্ডারওয়্যার ব্যবহার করুন, টাইট পোশাক এড়ান
যোনির ভেতরে কোনো সাবান, ডুচিং বা অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করবেন না
বারবার হলে কালচার টেস্ট করে নির্দিষ্ট ছত্রাক অনুযায়ী চিকিৎসা নিন
প্রয়োজনে যৌন সঙ্গীর চিকিৎসাও করান
যদি বছরে ৪ বার বা তার বেশি ইস্ট ইনফেকশন হয়,
তাকে বলা হয় Recurrent Vulvovaginal Candidiasis।
এটা আর “সাধারণ সমস্যা” নয়
এক্ষেত্রে অবশ্যই গাইনোকোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দরকার।
বারবার হওয়া মানেই আপনি অপরিষ্কার নন, দুর্বল নন
শুধু সঠিক কারণটা ধরা পড়েনি।
ঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
Dr-Abdur Rahman
ছবি: ডা: সালাম স্যার