09/01/2026
কেমিক্যাল দিয়ে যে জমজমাট ব্যবসা হতে পারে- সেটা প্রথম ভেবেছিলেন বিশ্বের প্রথম বিলিওনিয়ার আমেরিকার ডি. রকফেলার। তাঁর উদ্যোগেই বিশ্বের প্রথম ওষুধরূপী ড্রাগস উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই কারখানায় উৎপাদিত বিষগুলো (!) যাতে মানুষের শরীরে ঢোকানো যায়- সেই লক্ষ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে গড়ে তোলা হয় বিশ্বের প্রথম মেডিকেল কলেজ (চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষার নামে মগজধোলাই); সেখানে মূলত শেখানো হতো কিভাবে মহাপ্রকৃতি থেকে দূরে সরে গিয়েও কেমিক্যাল দিয়ে রোগের লক্ষণ দ্রুত ধামাচাপা দেওয়া যেতে পারে? বলাবাহুল্য যে, এসব কিছু কিন্তু মানবকল্যাণে করা হয়নি, স্রেফ ব্যবসায়িক মুনাফা লোটার স্বার্থেই পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল।
কেমিক্যাল ব্যবসাকে জনপ্রিয় তথা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য চরম আঘাত হানা হয় তৎকালীন প্রচলিত সকল চিকিৎসাপদ্ধতির ওপরে। ১৯১০ সালে রকফেলার ও কার্নেগি ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে প্রকাশিত Flexner Report-এর মাধ্যমে প্রচলিত হোমিওপ্যাথি, ভেষজ/হার্বাল, ন্যাচারোপ্যাথি সবকিছুকে “অবৈজ্ঞানিক” ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় আমেরিকায় চালু সকল হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ।
American Medical Association (AMA)-কে ব্যবহার করে ভয়ঙ্কর শর্ত দেওয়া হলো- “হোমিওপ্যাথির চর্চা করলে লাইসেন্স বাতিল!” কারণ চক্রান্তকারীরা ভালো করেই জানতো- প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতিগুলোকে দমিয়ে দিতে/রাখতে না পারলে লাভজনক কেমিক্যালের ব্যবসা দাঁড়াবে না! মূলধারার চিকিৎসকেরা যদি বুঝে যান যে, প্রাকৃতিক চিকিৎসা বেশি কার্যকর, তাহলে বিষাক্ত রাসায়নিক ওষুধের ব্যবসা শেষ! তাছাড়া খাদ্য-নির্ভর প্রাকৃতিক চিকিৎসার তো কোনো প্যাটেন্ট থাকে না বিধায় একচেটিয়া ব্যবসাও হয় না (যদিও রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়)। অন্যদিকে পেট্রোকেমিক্যাল ড্রাগসের প্যাটেন্ট থাকে, আজীবনের গ্রাহক তৈরি হয় (রোগী যত অসুস্থ থাকবে, ব্যবসা তত চলমান থাকবে) এবং রোগ নিরাময় নয়, বরং উপসর্গ দমন করেই চিকিৎসার সফলতা দাবি করা যায়!
যাহোক ওষুধরূপী ড্রাগসের ব্যবসা করে ধুরন্ধর ব্যবসায়ী রকফেলার আরো ধনী হয়ে ওঠেন, কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো- নিজের প্রয়োজনে কখনোই কোনো ওষুধরূপী ড্রাগস সেবন করেননি! উনি মনে করতেন- কেমিক্যাল দিয়ে কেবল ব্যবসাই করা যায়, কিন্তু ওগুলো এমন বিশেষ কিছু নয়- যা তাঁর নিজের দেহের ভেতরে ঢোকার যোগ্যতা রাখে! শুনে আরো অবাক হবেন যে, সমগ্র আমেরিকায় আইন জারি করে হোমিওপ্যাথিসহ অন্যান্য সকল প্রাকৃতিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরেও রকফেলার গোপনে তাঁর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য তিনজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে নিয়োজিত রেখেছিলেন!
নিজেদের প্রয়োজন হলে প্রাকৃতিক চিকিৎসা আর সাধারণ মানুষের জন্য কেমিক্যাল- এটাই ছিল ব্যবসায়িক ধান্দা। আসলে সূচনালগ্ন থেকেই এলোপ্যাথিক চিকিৎসাপদ্ধতি বিজ্ঞানের গবেষণা দিয়ে পরিচালিত হয়নি, বরং ড্রাগস মাফিয়াদের ব্যবসায়িক স্বার্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে..!
সংগ্রহীত।