মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম একটির নাম চিকিৎসা কিন্তু অমোঘ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পালাবদলে মাঝে মাঝে সুখ হয়ে যায়-অসুখ
একুশ শতকে মানব জাতির সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা হলো স্বাস্থ্য সমস্যা। উন্নত দেশগুলোতে আজ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে রোগ নির্ণয়, ওষুধ, সার্জারী-এক কথায় সর্বক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, জয় করা গেছে বহু দুরারোগ্য ব্যাধিকে। মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা
বাড়াতে নানা ধরনের গবেষণা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে
অপরদিকে তৃতীয় বিশ্বের দেশ বাংলাদেশ, এর দুর্গম গ্রামাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা একসময় এমনই কঠিন ছিলো যে রোগব্যাধি হলে, নিয়তির ওপর ভরসা করা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। গ্রাম্য কবিরাজ, ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবজ, মাজারে-মানত সহ কূচিকিৎসা-অপচিকিৎসা এসবেরই উপর নির্ভরশীল ছিলো
মানুষ সভ্যতা যত উন্নত ও যান্ত্রিক হচ্ছে, পরিবেশ তত দূষিত হচ্ছে। ভেজাল খাদ্যে নিত্য নতুন স্বাস্থ্য সমস্যা এখন আমাদের নিত্য সঙ্গী। ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, এ্যাজমা, ক্যান্সার এর মত অনিরাময়যোগ্য (তবে নিয়ন্ত্রনযোগ্য) রোগ এখন প্রায় প্রতি পরিবারেই।
এখন অনেক কিছুই বদলে গেছে। হাতে আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল, ইন্টারনেট-সব জায়গায় দিন বদলের ছোঁয়া। জেলার প্রত্যান্ত এলাকার সাথে জেলা সদরের সহজ যোগাযোগ ব্যাবস্থার ফলে নিম্ন আয়ের মানুষেরও পক্ষেও জেলা শহরে আধুনিক চিকিৎসা নিতে পারছে যার সবই সম্ভব হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বিশেষ সুনজরের ফলে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী অনেক উদ্যোগ থাকলেও অসাধু চিকিৎসা ব্যবসায়ী, দালাল চক্রসহ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষের এই মৌলিক অধিকারটুকু ছিলো প্রচন্ড হুমকীর সম্মুখীন। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের ব্যাপক জনগোষ্ঠী ও দরিদ্র শ্রেণীর রোগীদের অবস্থা ছিলো সবচেয়ে করুণ। অসহায় এবং জিম্মি দশায় ছিলো অনেক পরিবার। চিকিৎসা ক্ষেত্রে নানা রকম ভোগান্তি এবং অনিয়মের কারণে ব্যপক অর্থব্যয় ও অকালমৃত্যু এখনো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যপার। তারপরও মার্টিন লুথার কিং এর বিখ্যাত আই হ্যাভ আ ড্রীম অনুকরনে আমি বলি আই হ্যাভ আ ড্রীম, হ্যাঁ, আমারো একটা স্বপ্ন আছে...
এমন একটা দিন আসবে, যেদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মত মফস্বল শহর এর ডি-স্ক্যান হাসপাতাল দুনিয়ার সেরা চিকিৎসা প্রযুক্তিতে বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত হবে, সেদিন দেশের আপামর খেটে খাওয়া মানুষের সাথে ধনী লোকজন বিদেশে না গিয়ে এখানেই চিকিৎসা নেবে, বিদেশীরাও চিকিৎসা নিতে আসবে কারন আন্তরিকতায় আমরাই সেরা।