08/10/2026
আপনি এনাল ফিশারে আক্রান্ত কিন্তু বুঝতে পারছেন না
তবে জেনে নিন এনাল ফিসার কি।
পায়ুপথের পেছনের যেই অংশে মল জমা থাকে তার নাম রেক্টাম বা মলাশয়। মলাশয় থেকে মল বা পায়খানা মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে আসে। মলদ্বারের মুখের চারপাশে যেই মাংসপেশি থাকে তাতে চাপ প্রয়োগ করে পায়খানার রাস্তার মুখ বন্ধ করা এবং খোলা যায়।
মলত্যাগের সময় খুব জোরে চাপ দিলে বা পায়খানা শক্ত হলে মলদ্বারের মুখের চারপাশের চামড়া অনেকসময় ফেটে বা চিড়ে যায়৷ মলদ্বারের এই ক্ষতকে এনাল ফিসার বা গেজ রোগ বলে।
গেজ রোগ হলে মলত্যাগের সময় এই ফাটা বা চিড়ে যাওয়া অংশে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া বা তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভব হয়। সেই সাথে পায়ুপথের মাংসপেশি টানটান হয়ে যায়। মাংসপেশি টানটান হলে পায়ুপথের মুখটাও সরু হয়ে আসে বা টাইট হয়ে থাকে। ফলে মলত্যাগের প্রক্রিয়াটি ভীষণ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
চিড়ে যাওয়া স্থানে রক্ত প্রবাহ কমে গেলে ফাটল সারতে দীর্ঘদিন সময় লাগতে পারে। এভাবে অনেকের দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক এনাল ফিসারের সমস্যা দেখা দেয়।
এনাল ফিসারের লক্ষণগুলো কী কী?
১. পায়খানার রাস্তায় তীব্র ও ধারালো ব্যথা হওয়া
এনাল ফিসার বা গেজ রোগের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো মলত্যাগের সময় মলদ্বারে তীব্র ও ধারালো ব্যথা হওয়া। অনেক সময় রোগীদের মনে হয় যেন পায়ুপথ দিয়ে ধারালো কাঁচের টুকরো বের হচ্ছে। এনাল ফিসারের রোগীদের জন্য এই ব্যথাটাই সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক। সাধারণত পায়খানার পর মলদ্বারে এই জ্বালা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে।
২. পায়খানার সাথে উজ্জ্বল লাল রঙের রক্ত যাওয়া
পায়খানার গায়ে বা ব্যবহৃত টয়লেট পেপারে তাজা লাল রক্তের ছোপ দেখা যেতে পারে। শুধুমাত্র চামড়ার কিছু অংশ ছিঁড়ে রক্ত যায় বলে এক্ষেত্রে সাধারণত বেশি রক্তপাত হয় না। যেহেতু পায়ুপথের মুখের কাছাকাছিই এই রক্তক্ষরণ হয়, তাই রক্তের রঙ উজ্জ্বল লাল হয়ে থাকে। আরও ভেতর থেকে রক্তক্ষরণ হলে রক্তের রঙ গাঢ় বা কালচে লাল হতো।
৩. পায়ুপথে চুলকানি হওয়া
এনাল ফিসার রোগে পায়খানার রাস্তার মুখে চুলকানি হতে পারে।
এনাল ফিসার কেন হয়?
গেজ রোগের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো কষা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য। পায়খানা শক্ত হলে অনেকে টয়লেটে যেতে চায় না, কারণ তখন মলত্যাগ করতে কিছুটা কষ্ট হয়। কিন্তু পেটের ভেতর পায়খানা জমিয়ে রাখলে সেটা দিন দিন আরও শক্ত থাকে। একসময় সেই শক্ত পায়খানা বের করতে গেলে পায়ুপথের চামড়া ছিঁড়ে গিয়ে দেখা দেয় এনাল ফিসার।
গর্ভবতী অবস্থায়, বিশেষ করে শেষ তিন মাসে ও নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে বাচ্চা হওয়ার পরে এনাল ফিসার দেখা দিতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে গেজ রোগ হওয়ার পদ্ধতি একটু ভিন্ন। রোগনির্ণয়
কখনও কখনও ডায়রিয়ার কারণেও গেজ রোগ হতে পারে। আরও কিছু অসুখ বা ওষুধের কারণেও এনাল ফিসার হতে পারে। যে সব রোগের কারণে এনাল ফিসার দেখা দিতে পারে—
এনাল ফিশার (A**l fissure) হলো মলদ্বারের মুখের ভেতরের পাতলা চামড়া/মিউকোসায় ছোট ফাটল বা ক্ষত। সাধারণত পায়খানার সময় তীব্র কাটা/জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা এবং পরে কিছুক্ষণ ব্যথা থাকা, কখনও টিস্যুতে উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যায়।
কেন হয়?
শক্ত ও শুকনো পায়খানা/কোষ্ঠকাঠিন্য
পায়খানার সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া
দীর্ঘদিন ডায়রিয়া বা বারবার পাতলা পায়খানা
মলত্যাগের অভ্যাস অনিয়মিত হওয়া
প্রসবের পর
দীর্ঘদিনের ফিশার হলে মলদ্বারের পেশিতে খিঁচুনি
কখনও Crohn's disease বা অন্য অন্ত্রের রোগের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে
প্রতিকার ও ঘরোয়া যত্ন
পানি পর্যাপ্ত পান করুন।
শাকসবজি, ফল, ভুসি/ফাইবার বাড়ান।
পায়খানা চেপে রাখবেন না এবং অতিরিক্ত জোর করবেন না।
দিনে 2–3 বার ১০–১৫ মিনিট কুসুম গরম পানিতে বসে থাকা (sitz bath) উপকারী হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে stool-softener/fiber supplement ব্যবহার করা যায়।
দীর্ঘদিন ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরীক্ষা দরকার।
হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সম্পর্কে
হোমিওপ্যাথিতে ফিশারের জন্য Ratanhia, Nitric acid, Paeonia, Graphites, Aesculus ইত্যাদি বিভিন্ন ওষুধের নাম প্রচলিত আছে এবং এগুলোকে নির্দিষ্ট উপসর্গের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা।
নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন অবশ্যই একজন রেজিস্টার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করুন।
এছাড়া প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন
DR MD SUMON AHMED
DHMS, PHMCH (Dhaka)
BHMS (on-course) Dhaka university
BSC (NU)MSC (chemistry)
Gov.Reg no.39587
Chambare:ATAUR HOMOEO HALL
Chotobishacol high school road, Bangura,pabna
Every Friday 9:00 a.m. to 9:00 p.m.
01776-869233