Integrated Health Care & Regimental Therapy Center

Integrated Health Care & Regimental Therapy Center Health & Awareness

28/05/2025

রোগীর বয়স ৪৪ বছর। দীর্ঘদিন যাবৎ কোমড়ে, পায়ে প্রচন্ড ব্যথা স্বাভাবিক চলাচলে অসুবিধা। বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েছেন তেমন ফলাফল পাননি। আমার চেম্বারে আসার পরে রোগী পর্যবেক্ষণ করে যা বুঝলাম, তিনি সায়াটিক নার্ভ জনিত ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। অতঃপর ২০ দিন চিকিৎসা নিয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ।

12/09/2022
26/08/2022

"হিজামা কী?"
হিজামা বা কাপিং হচ্ছে একটা চিকিৎসা পদ্ধতি। এবং অবশ্যই নববী (সুন্নাহ) চিকিৎসা। এমন একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যাতে মানুষের সকল প্রকার শারিরীক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা রয়েছে। হিজামার ব্যবহার রসূলুল্লহ (সঃ) ও তার সাহাবাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত ছিল। আনাস (রঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লহ (সঃ) হিজামা লাগাতেন এবং কারো পারিশ্রমিক কম দিতেন না। (বুখারী, হাদিস নংঃ ২২৮০)

হিজামার মাধ্যমে দূষিত রক্ত (Toxin) বের করা হয়। এতে শরীরের মাংসপেশী সমূহের রক্ত প্রবাহ (blood circulation) দ্রুততর হয়। পেশী, চামড়া, ত্বক ও শরীরের ভিতরের organ সমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরে সতেজতা বৃদ্ধি পায় ও কর্ম চাঞ্চল্য ফিরে আসে।
হিজামার ব্যাখ্যা অনেকরকমভাবে অনেকের কাছেই পাওয়া যায়। কারো কাছে এটা খারাপ রক্ত, কারো কাছে বিষ বা দূষিত রক্ত, অনেকের অনেক মত। কিন্তু হিজামার কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও আছে, রোগ ভালো হয় কিভাবে তা নিয়ে।

নেগেটিভ সাকশানের মাধ্যমে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশ থেকে মেশিনের সাহায্যে রক্ত চুষে আনা হয়। অনেকে এটাকে Wet Cupping therapy বলে থাকেন। অতি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে আরব বিশ্বে জনপ্রিয়।

হিজামা থেরাপী ৩০০০ বছর পূর্বের পুরাতন চিকিৎসা পদ্ধতি। বর্তমানে আরব, আফ্রিকা, চীন, ভারত ও কোরিয়ার কিছু অঞ্চলে হিজামা বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয়। আমেরিকায় বহু পূর্বে থেকেই এটি প্রচলিত। ১৮ শতক থেকে ইউরোপেও এর প্রচলন রয়েছে। হিজামা বা cupping এখন বিশ্বের জনপ্রিয় চিকিৎসার মধ্যে একটি।
হিজামাতে রয়েছে বহু রোগের শিফা।

✰ হযরত জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লহ (সঃ) বলেছেন, "নিশ্চয় হিজামায় শিফা রয়েছে।"
(মুসলিম, হাদিস নংঃ ২২০৫)

✰ হযরত আবু হুরায়রা (রঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লহ (সঃ) বলেছেন, "হযরত জিব্রাইল (আঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, 'মানুষ চিকিৎসার জন্য যতসব উপায় অবলম্বন করে, তার মধ্যে হিজামাই হলো সর্বত্তোম।'"
(আল-হাকিম, হাদিস নংঃ ৭৪৭০)

✰ ইবনু আব্বাস (রঃ) বলেন, রসূলুল্লহ (সঃ) মিরাজে যাওয়ার সময় তিনি ফিরিশতাদের যে দলের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন, তারা বলেন, আপনি অবশ্যই হিজামা করাবেন।
(তিরমিযী শরীফ, হাদিস নংঃ ৩৪৬২)

✰ ইবনু মাসউদ (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিরাজের রাত সম্পর্কে রসূলুল্লহ (সঃ) বলেছেন যে, এই রাতে ফিরিশতাদের যে দলের সম্মুখ দিয়েই তিনি যাচ্ছিলেন, তারা বলেছেন, আপনার উম্মতকে হিজামার নির্দেশ দিন।

হিজামার পদ্ধতি:
শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে প্লাস্টিক বা কাচের কাপ বসিয়ে সার্জিকাল ব্লেডের মাধ্যমে সূক্ষ সূক্ষ স্ক্র‍্যাচ করে মেশিনের সাহায্যে রক্ত চুষে নেয়া বা বের করে ফেলা হয়।
হিজামা করতে তেমন ব্যাথা লাগেনা, একটু সুড়সুড়ি মত লাগে বা অস্বস্তি বলা যায়।
এটা করতে ১ থেকে ১.৫ ঘন্টা সময় লাগে। হিজামার পর হিজামার স্থানে যে রং পরিবর্তন হয় ওটা যেতে ৩ থেকে ৭ ঘন্টা সময় লাগে, আর দাগ যেতে সময় লাগে ৩ থেকে ৭ দিন, ইন শা আল্লহ।
সাধারণত যে কোন রোগীকে কমপক্ষে ২ টা সেশন নিতে হয়, তবে রোগ ও তার উপশম অনুযায়ী সেশন সংখ্যা ভিন্ন হবে।
মাথায় হিজামা করতে চুল কাটা ছাড়াও হিজামা করা যাবে তবে চুল সামান্য কাটলে বা ছোট থাকলে ভালো হয়।

হিজামা করাবেন কেন?
হিজামা এক ধরনের নববী ও সুন্নাহ চিকিৎসা যা শরীরের জীবানু বের করে ফেলে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও রক্ত পরিস্কার করে। এর মাধ্যমে সংক্রামক রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে, নিয়মিত হিজামা করালে অনেক রোগ ভালো হয়। হিজামা একই সাথে সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় ধরনের অসংখ্য রোগের চিকিৎসা। মেরাজের রাতে ফেরেশতাগণ আল্লাহর রসূলুল্লহ (সঃ) কে হিজামা করতে ও তাঁর উম্মতদের হিজামা করাতে বলেছেন।
রসূলুল্লহ (সঃ) যখন যাদু দ্বারা আক্রান্ত হলেন তখন তিনি মাথায় হিজামা লাগান এবং এটাই সবচেয়ে উত্তম ঔষধ, যদি সঠিক ভাবে করা হয়।
(যাদুল মা'আদ ৪/১২৫-১২৬)
এমনকি, আল্লহর রসূল (সঃ)-এর পায়ে যে ব্যাথা ছিল, তার জন্য তিনি ইহরাম বাধা অবস্থায় হিজামা লাগিয়েছেন। (নাসাঈ ২৮৫২)
হিজামাতে অন্যান্য ঔষধের মতো কোনো সাইড ইফেক্ট নেই, আলহামদুলিল্লাহ।
ফলস্বরূপ, রোগ থেকে (বি ইযনিল্লাহ) মুক্তি পাবেন এবং রসূলুল্লহ (সঃ)-এর একটি সুন্নাতের উপরও আমল করা হলো।
অনেকে আল্লহ প্রদত্ত চিকিৎসা বলে এক বা দুই সেশন নিয়েই হতাশ হয়ে পড়েন, কিন্তু রোগের ধরন বা প্রকারভেদ ও স্থায়ীত্ব এর জন্য একাধিক সেশন নিতে হতে পারে।
বর্তমানে অনেক রোগের প্রকোপ বাড়ছে কিন্তু কোন চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় হচ্ছে না বা কার্যকরী ফল হচ্ছে না। এর মধ্যে আছে: Neck pain, frozen shoulder, immune disorder, hypertension, low back pain, asthma etc) এসব রোগের একক চিকিৎসা হিসেবে হিজামা ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে রোগের মেয়াদ অনুযায়ী চিকিৎসার জন্য স্ববরের সাথে সময় দিতে হবে। যেকোনো ধরনের ব্যাথার জন্য হিজামা অকল্পনীয় ভাবে ভাল ফল দেয়, আলহামদুলিল্লাহ।

কারোর কোন শারীরিক সমস্যা না থাকলেও হিজামা করা যায়, কেননা এর দ্বারা-
১। সুন্নাহ পালন করা হবে
২। রক্ত পরিস্কার ও পরিশুদ্ধ হবে
৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে
৪। স্মরনশক্তি বাড়বে
৫। অবসন্নতা, অবসাদ দূর হবে
৬। সহজেই রোগাক্রান্ত হবেন না
৭। চুল পড়া কমে যাবে
(বি ইযনিল্লাহ)

হিজামা (CUPPING) এর মাধ্যমে যে সব রোগের চিকিৎসা করা হয়ে থাকে:
# মাইগ্রেন জনিত দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা
# রক্তদূষণ
# উচ্চরক্তচাপ
# ঘুমের ব্যাঘাত (insomnia)
# স্মৃতিভ্রষ্টতা (perkinson’s disease)
# অস্থি সন্ধির ব্যাথা/ গেটে বাত/জয়েন্টের ব্যাথা
# ব্যাক পেইন
# হাঁটু ব্যাথা/সায়াটিক ব্যাথা
# দীর্ঘমেয়াদী সাধারন মাথা ব্যাথা
# ঘাড়ে ব্যাথা
# কোমর ব্যাথা
# পায়ে ব্যাথা/পায়ের তালু ব্যাথা
# মাংসপেশীর ব্যাথা (muscle strain)
# দীর্ঘমেয়াদী পেট ব্যথা
# হাড়ের স্থানচ্যুতি জনিত ব্যাথা
# থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা
# সাইনোসাইটিস
# হাঁপানি (asthma)
# হৃদরোগ (Cardiac Disease)
# রক্তসংবহন তন্ত্রের সংক্রমন
# টনসিল
# দাঁত/মুখের/জিহ্বার সংক্রমন
# গ্যাস্ট্রিক পেইন
# মুটিয়ে যাওয়া (obesity)
# দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ (Chronic Skin Diseses)
# ফোড়া পাচড়া
# চুল পড়া
# মানসিক সমস্যা
# পারকিনসন্স ডিজিজ
# স্পোর্টস ইঞ্জুরি
# কানের সমস্যা
# ক্যান্সারের ব্যাথা নিয়ন্ত্রণ
# হরমোনাল সমস্যা
# ক্রনিক কফ
# Erectile Dysfunction (ED)
# ব্রণ
# অনিয়মিত মাসিক, মেয়েদের অন্যান্য মেয়েলী সমস্যা
# এডিকশন বা ডিপেন্ডেন্সী (স্লিপিং পিল, ড্রাগস, জর্দা, সিগারেট, এলকোহল, অন্যান্য নেশা দ্রব্য)
# হাড় ক্ষয় (Osteoporosis)
# post menoposal hot flush
# মাথা ঘোড়া (vertigo)
# IBS

হিজামা করার পর করণীয়ঃ
হিজামা করার ১ ঘন্টা পর গোসল করা উত্তম, অন্যথায় শরীর খারাপ হতে পারে। ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যায়াম বা স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দূরের যাত্রা করা যাবে না। ৪৮ ঘন্টা কোন গরম সেক ইত্যাদি দেয়া যাবে না।

হিজামা সংক্রান্ত হাদীসসমূহ:
✰ হযরত আবু হুরাইরা (রঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লহ (সঃ) বলেছেন, “জিবরীল আমাকে জানিয়েছেন যে, মানুষ চিকিৎসার জন্য যতসব উপায় অবলম্বন করে, তম্মধ্যে হিজামাই হল সর্বোত্তম।”
(আল-হাকিম, হাদীস নম্বর: ৭৪৭০)

✰ হযরত আনাস (রঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লহ (সঃ) বলেছেন, “কেউ হিজামা করতে চাইলে সে যেন আরবী মাসের ১৭, ১৯ কিংবা ২১তম দিনকে নির্বাচিত করে। রক্তচাপের কারণে যেন তোমাদের কারো মৃত্যু না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবে।"
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নম্বর: ৩৪৮৬)

✰ হযরত আনাস (রঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লহ (সঃ) ইরশাদ করেছেন, “আমি মেরাজের রাতে যাদের মাঝখান দিয়ে গিয়েছি, তাদের সবাই আমাকে বলেছে, 'হে মুহাম্মদ (সঃ), আপনি আপনার উম্মতকে হিজামার আদেশ করবেন।'”
(সুনানে তিরমিযী হাদীস নম্বর: ২০৫৩)

✰ হযরত আনাস (রঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লহ (সঃ) বলেছেন, “গরম বৃদ্ধি পেলে হিজামার সাহায্য নাও। কারণ, কারো রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে তার মৃত্যু হতে পারে।” (আল-হাকিম, হাদীস নম্বর : ৭৪৮২)

✰ হযরত জাবির (রঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লহ (সঃ) বলেছেন, “নিশ্চয় এতে শিফা রয়েছে।"
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নম্বর: ২২০৫)

✰ হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লহ (সঃ) বলেছেন, “খালি পেটে হিজামাই সর্বোত্তম। এতে শিফা ও বরকত রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বোধ ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নম্বর: ৩৪৮৭)

✰ হযরত আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লহ (সঃ) বলেছেন, “হিজামাকারী কতইনা উত্তম লোক। সে দূষিত রক্ত বের করে মেরুদন্ড শক্ত করে ও দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে।”
(সুনানে তিরমিযী, হাদীছ নম্বর: ২০৫৩)

আল্লাহু তায়ালা আমাদেরকে এই চিকিৎসা গ্রহন করার এবং ইখলাসের সাথে একটি সুন্নাহকে জীবিত করার তাউফিক দান করুন, এবং আশ-শাফীর কাছেই সকলের পরিপূর্ন শিফা কামনা করছি।
আমীন।

সেল্ফমোটিভেশন ঃ২রিভিউ জীববিজ্ঞান / জীবন রহস্য :জীববিজ্ঞান তথা জিন বা জেনিটিক বিজ্ঞানের তত্ব ও উপাত্ত হচ্ছে " মানব জন্মের...
01/06/2021

সেল্ফমোটিভেশন ঃ২

রিভিউ জীববিজ্ঞান / জীবন রহস্য :

জীববিজ্ঞান তথা জিন বা জেনিটিক বিজ্ঞানের তত্ব ও উপাত্ত হচ্ছে " মানব জন্মের প্রাথমিক পর্যায়ে পুং শুক্রানু ও স্ত্রী ডিম্বাণু মিলিত হয়। পুং শুক্রানুর সেক্স ক্রোমজমের চিহ্ন হলো XY, আর স্ত্রী ক্রোমজমের সেক্স চিহ্ন XX, এই মিলনের ফলে যে জাইগোট তৈরি হয় তার ভেতর DNA ও RNA থাকে। এই জাইগোট ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ কোষে পরিণত হয়। আমরা সকলেই জানি কোষের শক্তিঘরকে বলা হয় মাইটোকন্ড্রিয়া। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে প্লাজমা মেমব্রেন। কোষের ভেতর থাকে সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিওপ্লাজম।আর কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত বিভিন্ন বস্তুকে বলা হয় অরগাষ্টিক পদার্থ। আর তরল অংশকে বলা হয় হায়লোপ্লাজম।

এই কোষটি অতি সূক্ষ্ম আঠালো পদার্থ দ্বারা বেষ্টিত। এই আঠালো পদার্থ এত ক্ষুদ্র যে একটা বালুকণার কোটি কোটি ভাগের এক ভাগমাত্র। আর এটা এতো আঠালো যে পৃথিবী থেকে যদি এর এক প্রান্তকে চুইংগামের মতো টেনে চন্দ্রেও নিয়ে যাওয়া হয় তবুও এর সম্প্রসারণ শেষ হবে না। আর এই অতিসূক্ষ্ম আঠালো পদার্থের ভেতর গানিতিকভাবে মানুষের জীবনচক্রের পূর্ণ প্রতিচ্ছবি লিপিবদ্ধ রয়েছে।

অর্থাৎ এটাই মানব জীবনের প্রাকৃতিক ব্লু প্রিন্ট হিসেবে পরিগনিত। সেই ব্লু প্রিন্ট দিয়ে মানুষের দেহ, মনন, বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা থেকে শুরু করে তার সীমাবদ্ধতা, রোগ-শোক, বালা-মুসিবত সব কিছু রহস্যই লিপিবদ্ধ এমনকি তার অনিবার্য মৃত্যু কিভাবে হবে তাও। সর্বোপুরি মানুষের শেষ পরিণতির সম্যক প্রতিবিম্ব এর মধ্যেই বিরাজমান রয়েছে। অর্থাৎ হায়লোপ্লাজমে অতি সূক্ষ্ম ও ক্ষুদ্র যে আঠালো পদার্থ বেষ্টিত রয়েছে তার মধ্যেই লেখা আছে জীবনের তাবৎ কোড।

কাজেই আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন না হয়ে সার্চ কোভ-২ বা কোভিড- ১৯, মোকাবিলায় শারিরীক সক্ষমতা বা সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সক্ষমতা বা সুস্থতা অত্যন্ত জরুরি। যা আমাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি গুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। ধন্যবাদ সকলকে।।

মোঃ সাইফুজ্জামান
বি ইউ এম এস
মেডিকেল অফিসার
ইন্টিগ্রেটেট মেডিসিন
হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ,
ধানমন্ডি, ঢাকা।

ডারউইন তার জীবজগতের বিবর্তনের ব্যাখ্যায়  মানবদেহের কিছু জিনিসকে অপ্রয়োজনীয় বলা শুরু করে। যা পরবর্তীতে পাঠ্যপুস্তকসহ বিভি...
29/05/2021

ডারউইন তার জীবজগতের বিবর্তনের ব্যাখ্যায় মানবদেহের কিছু জিনিসকে অপ্রয়োজনীয় বলা শুরু করে। যা পরবর্তীতে পাঠ্যপুস্তকসহ বিভিন্নভাবে তা আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

"প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, যেসব অঙ্গগুলো একসময় পূর্বপুরুষের দেহে সুগঠিত ও কার্যক্ষম ছিল, কিন্তু পরবর্তী বংশধরের দেহে গুরুত্বহীন, অগঠিত ও অকার্যকর অবস্থায় নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে।..
পরিবেশগত কারণে মানুষে এসব অঙ্গ কোনো প্রয়োজনে না আসায় বিবর্তনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় অঙ্গে রূপান্তরিত হয়েছে।"

মানবদেহের বৃহদান্ত্রের সিকামের সাথে যুক্ত থাকে এপেন্ডিক্স। আর এই এপেন্ডিক্সকে নিষ্ক্রিয় বলে চালানো হচ্ছে ডারউইনের সময় থেকেই।
তাদের মতামত এমন যে, এপেন্ডিক্স তো কাজ করেই না, বরং তা এপেন্ডিসাইটিস হয়ে অপারেশন টেবিলে নিয়ে যায় মানুষকে।

ডারউইন মশাই আরো বলেছিলেন, এপেন্ডিক্স যে শুধু বেহুদা তাই নয়, মাঝে মধ্যে এটি মৃত্যুও ডেকে আনে।

কিন্তু মজার বিষয় হলো, আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, বিবর্তনবাদীদের এগুলোর সবই ভুল অনুমান ব্যতীত আর কিছুই নয়।

গবেষণায় বের এসেছে, ফিটাস ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের ক্ষেত্রেই এপেন্ডিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১. ফিটাল এপেন্ডিক্সে থাকা এন্ডোক্রাইন কোষ দেহের সাম্যাবস্থা বা হোমিওস্ট্যাটিস বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকে।

২. জন্মের পর পরই এপেন্ডিক্সে প্রতিরক্ষা কোষগুলো আসা শুরু হয়। যাদেরকে আমরা লিম্ফয়েড টিস্যু বলা হয়ে থাকে।

৩. এতে প্রচুর পরিমানে লিম্ফয়েড কোষ থাকে তাই একে অ্যাবডোমিলান টনসিলও বলা হয়। সুতরাং, এটি প্রতিরক্ষা কোষ হিসেবেও কাজ করে।

৪. ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, এখানে B-লিম্ফোসাইট পরিপক্ব হয় এবং Immunoglobulin IgA তৈরী হয়।

৫. দেহের বিভিন্ন অংশে লিম্ফোসাইট পাঠাতেও এটি সাহায্য করে।

৬. এপেন্ডিক্স প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সাথে পরিপাকতন্ত্রের যোগাযোগ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

এছাড়াও, প্রাপ্তবয়স্কদের এপেন্ডিক্স প্রচুর পরিমানে উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধারণ করে রাখে।
ডায়রিয়া এর কারণে যখন শরীর থেকে অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে যায় তখন মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে এরা সেই ব্যাকটেরিয়ার সরবরাহ করে থাকে।

রিসার্চে দেখা গিয়েছে, এপেন্ডিক্স কেটে ফেলার কারণে অন্ত্রে ইনফেকশনেট ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

অপর এক রিসার্চে দেখা গিয়েছে, এটি কেটে ফেলার কারণে "সিউডোমেমব্রেনাস কোলাইটিস" মারাত্মক রোগের ঝুঁকি প্রায় ৪গুণ বেড়ে যায়।

এমনকি, এপেন্ডিক্সে বিভিন্ন ধরণের রিকন্সট্রাক্টিভ সার্জারিতেও কাজে লাগানো হয়ে থাকে। যেমন: ইউরেটার, মূত্রথলি ইত্যাদির বিশেষ অপারেশনে।

আরো এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এটি আমাদের ক্ষুধা পেতেও ভূমিকা রাখে।

উপরের প্রত্যেকটি বিষয়ই আধুনিক বিজ্ঞানের দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু ডারউইন মশাইয়ের গোড়ায় গলদ টাইপের ব্যাখার মাধ্যমে সৃষ্টিজগতের কোনো স্রষ্টা নেই এবং মানুবদেহের ডিজাইনগত ভুল ধরা যা মনগড়া বানোয়াট কাহিনী ব্যতিত আর কিছুই নয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন:
নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রেষ্ঠতম-সুন্দর আকৃতিতে।’ [সুরা তীন : আয়াত-৪]

বর্তমানে বিবর্তনবাদী গবেষকরাই অনেকে এপেন্ডিক্সকে অকাজের জিনিস বলার বিপক্ষে মত দিচ্ছেন।
কেইট জনসন বলেন, "আমার মনে হয়, এপেন্ডিক্সকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলা বন্ধ করার সময় এসেছে।"

এক বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানসাইট এপেন্ডিক্সকে স্বর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছে।

বিজ্ঞানীরা এপেন্ডিক্সকে "সাইলেন্ট হিরো" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিঃদ্রঃ শরীরের যেকোনো অসুস্থতা মারাত্মক আকার ধারণ করলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন চিকিৎসকগণ। এপেন্ডিক্স গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এটির প্রদাহ ঘটলে যখন তা এপেন্ডিসাইটিসে রূপ নেয় তখন তা অপারেশন করা লাগতেই পারে। কিন্তু তাই বলে সাধারণ অবস্থায় এটি অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ বলে চালিয়ে দেওয়া এটা মনগড়া ছাড়া কিছুই নয়।

তিনিই এক স্রষ্টা যার ডিজাইনে কখনোই কোনো ভুল নেই। তিনি নিশ্চয়ই সকল ভুলের উর্ধ্বে।

রেফারেন্স:

১. গাজী আজমল ও গাজী আসমত, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, পৃষ্ঠা: ৩৪৬.

২. Charles Darwin (1871), The Decent of Man and Selection in Relation to S*x (London: John Murray), vol-I, p. 27

৩. Science Daily (2017), Appendix may have important function, new research suggests, Midwestern University

৪. Amanda Macmillan (2017), Your Appendix May Not Be Useless After All. Time Magazine.

৫. Rob Dunn (2012), Your Appendix Could Save Your Life: The Humble Organ may help us recover from serious infection. Scientific American.

৬. Kate Johnson (2019), The Human Appendix: Vital or Vestigal? Columbia Undergraduate Science Journal

৭. Christopher Wanjek (2006), The Appendix: Slimy But Not Worthless, LiveScience

27/05/2021

সেলফ্ মোটিভেশনঃ
মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার গুলো থেকে নিঃসৃত হরমোন আমাদের দৈনন্দিন কর্মের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট সময়ে আমাদের শরীরে প্রভাব বিস্তার করে, এজন্য শরীরে ভালোলাগা,মন্দলাগা,আনন্দ- উৎফল্লতা,দুঃখ-বেদনা,জেদ-রাগ, ক্ষোপ ইত্যাদি প্রভাব বিস্তার করে। সমস্ত প্রকার নেতিবাচক কাজ-কর্ম,আচরণ থেকে বাঁচার জন্য আত্মউপলদ্ধি প্রয়োজন। আবার আত্মোপলব্ধি করতে হলে আত্মদর্শন বা আত্মানুসন্ধান প্রয়োজন। আত্মশুদ্ধি ও আত্মোন্নতির মধ্য দিয়েই আত্মসিদ্ধি বা আত্মসফলতা বা মুক্তি লাভ করা সম্ভব। অহংবোধ ও ভোগ বিলাসের মায়াজাল থেকে উত্তরণই আত্মোপলব্ধির প্রাথমিক ধাপ....। আসুন মস্তিষ্ককে স্থির করি তথা অবচেতন মনের পাগলাঘোড়ার লাগাম টেনে ধরি নিজেই নিজের চিন্তা গুলোকে একত্রিত করি, দুচোখ বন্ধ করে মনের আয়নায় নিজেকে দেখি.... অামি নিঃসন্দেহে বলতে পারি অস্থিরতা,অশান্তি, হতাশা কেটে যাবে আপনি ফিরে পাবেন নতুনপথের দিশা নতুন আলোর সন্ধান 🏝।। # # #

এস.জামান
ইন্টিগ্রেটেট হেলথ কেয়ার

26/05/2021

#ব্ল্যাক_ফাঙ্গাস
এটা হলো এক ধরনের ছত্রাক জনিত রোগ (Mucormycosis)
সাধারণত যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো তাদেরকে এটা খুব বেশি আক্রমণ করতে পারে না।
বর্তমানে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাদের Uncontrolled Diabetes আছে, বা অন্য রোগ আছে তাদের মধ্যে এই ফাঙ্গাসটা বেশি শনাক্ত হচ্ছে।
ইন্ডিয়াতে প্রায় ৭২০০ রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ভয়ানক ভাবে বেড়ে চলছে এর আক্রান্তের হার।
মারা গেছে ২১৯ জনের মতো।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা করেছেন বারডেম জেনারেল হাসপাতাল।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে কোভিড১৯ এ আক্রান্ত রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারান্তক ভাবে কমে যায়, আবার কোভিডের চিকিৎসার জন্য স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়, যার জন্য ইমুনিটি আরো কমে যায়।
সে জন্য কোভিডের রোগীদের মধ্যে এই ফাঙ্গাসটা শনাক্ত হচ্ছে।

#কোথায়_আক্রমণ_করে?

সাধারণত এই ফাঙ্গাস আক্রমণ করে নাকে, চোখে এবং মস্তিষ্কে তাই একে Rhino-Orbital-cerebral(ROC) Mucormycosis বলে।
তবে এটা ছোঁয়াছে নয় এবং এক ব্যক্তি হতে আরেক ব্যক্তিতে ছড়ায় না।
এর মৃত্যুর হার অনেক বেশি কারন এটা নাক, চোখ ও ব্রেনে আক্রান্ত করে তাই।

#বাঁচার_উপায়_কি?

>ঘুরে ফিরে একই কথা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
>ব্যায়াম করতে হবে।
> ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে।
>ডায়বেটিস রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।
>অহেতুক স্টেরয়েড এর ব্যবহার বন্ধ করা দরকার।

>খুব শিঘ্রই আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে এর চিকিৎসার জন্য গাইড লাইন দেয়া হবে(লাইন ডাইরেক্টর ডাঃ নাজমুল আলম মুন্না স্যার বলেছেন)

#পরামর্শঃ
যারা গ্রামে গঞ্জে পল্লী চিকিৎসক(কোয়াক) দিয়ে চিকিৎসা করান তারা সতর্ক হন, কারন তারা খুব বেশি স্টেরয়েড ব্যবহার করেন।
যা আমাদের ইমুনিটিকে দুর্বল করে দেয়।
অহেতুক এন্টিবায়োটিক দেয় সেটাও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়।
না জেনে উল্টা পাল্টা চিকিৎসা করে তারা।
হাইপারটেনশন, ডায়বেটিস এর চিকিৎসা দেয় দেখি ইদানিং ওষুধের দোকানদাররা।
শতর্ক হন এখনই। জীবনটা আপনার, এর সুরক্ষার দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে।

Address

Panchagarh
5010

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Integrated Health Care & Regimental Therapy Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share