23/04/2026
#রুকইয়াহ_শরইয়াহ_কী? #কেনো? #কিভাবে_করে?
👉 রুকইয়াহ কী?
রুকইয়াহ অর্থ ঝাড়ফুঁক করা বা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।
*জীন, যাদু, বদনজর, ওয়াসওয়াসাসহ যাবতীয় প্যারানরমাল সমস্যার শরইয়াহসম্মত চিকিৎসার মাধ্যম হলো রুকইয়াহ শরইয়াহ।
অর্থাৎ কোরআনের আয়াত, হাদিসে বর্ণিত দু'আ, আল্লাহর সিফাতী নামসমূহ ও শরীয়ত সমর্থিত বৈধ দোআর মাধ্যমে যা নবীজি (সঃ) নিজে করেছেন, সাহাবায়ে কেরাম করেছেন। সালাফগণও এভাবে রুকইয়াহ করেছেন।
❌তবে এমনটা রুকইয়াহ শরইয়াহ নয়?❌
যে.... জ্বীন বস বা জ্বীন দ্বারা কাজ করা বা পছন্দের মানুষকে বিয়ে করিয়ে দেয়া, হারানো বা চুরি হওয়া জিনিস ফিরে পাওয়া, মামলা মোকদ্দমা থেকে উদ্ধার হওয়া বা কোনো বিষয়ে জয়ী হওয়া, অবৈধ আশা পুরণ এবং অসাধ্যকে সাধন করার কোনো মন্ত্র না। (এমনটা কুফর-শিরকময় কাজ)
❌আবার এমনও নয়❌
যে.…. রুকইয়াহ করে গায়বি বিষয়ে সংবাদ দেয়া, ২৪ ঘন্টায় ফলাফল দেয়া, এক চুটকিতে সমাধান করার কোন পন্থা নয়। বা হারানো, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি কোথায় আছে তা জানার ভেলকি, যাদুবিদ্যা ও জ্বীনের পূজা করে তার সাহায্য নেওয়ার মত কুফরী শিরকি ও হারাম পন্থা নয়।
*❌প্রচলিত কবিরাজি, তুলা রাশি, জ্বীন দিয়ে হাত ও মুখ দেখে সমস্যার কথা বলা, বা হাজিরা দেখার মতো হারাম ও কুফরী শিরকি পন্থা নয়।
*❌কবিরাজ, সাধক, শঙ্কু, খুনা, জ্বীন হুজুর, জ্বীন বাবা, গণকের মতো আগুন জ্বালিয়ে, মোমবাতি জ্বালিয়ে, আসন বসিয়ে ভোগ দিয়ে হাজিরা দেখা ও চিকিৎসা দেওয়ার নামে মন্ত্রের সাথে কোরআন মিশিয়ে ধোঁকা দেয়ার মতো হারাম ও শিরকি পন্থাও রুকইয়াহ নয়।
👉সমস্যা আছে কিনা বুঝবো কীভাবে?
*এর জন্য বিভিন্ন লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো বড় বড় অভিজ্ঞ রাক্বী ও আমাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত, সেই সব প্যারানরমাল লক্ষ্মণসমূহ দেখে ডায়গনোসিস করতে পারেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিক ধারণা নিতে পারবেন আপনার সমস্যাটা প্যারানরমাল কিনা..!
তারপর প্যারানরমাল সমস্যা থাকার সম্ভাবনা পাওয়া গেলে অভিজ্ঞ রাক্বীর সাথে অনলাইন বা অফলাইনে কন্সাল্টেন্সি সেরে অনেকটা নিশ্চিত হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। ইউটিউব থেকে বা রাক্বীর পরামর্শ অনুযায়ী রুকইয়াহ'র অডিও শুনেও কিছুটা নিশ্চিত হতে পারেন।
এছাড়াও সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে - সমস্যা আছে কিনা এবং সমস্যার গভীরতা ও পর্যায় বুঝতে সরাসরি রাক্বীর কাছে গিয়ে ডায়গনোসিস রুকইয়াহ করতে পারেন। সরাসরি ডায়াগনোসিস রুকইয়াহ'র মাধ্যমে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায় সমস্যা আছে কিনা। কারণ অনেক সময় নিজে নিজে অডিও শোনে বা রুকইয়াহ'র আয়াত তিলাওয়াত করে সমস্যা বুঝা যায় না বা কোনো ইফেক্ট হয় না।
👉রুকইয়াহ কীভাবে করে?
রুকইয়াহ করা হয় সমস্যা অনুযায়ী কোরআনের আয়াত, সূরা ও হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দোয়া ও আল্লাহর সিফাতী নামসমূহ পাঠ করার মাধ্যমে। প্রয়োজনে নিজের পক্ষ থেকে দোয়া পাঠ এবং আল্লাহর নিকট খাস দিলে দোয়ার মাধ্যমে সমস্যা অনুযায়ী রুকইয়াহ করা।
👉এখন আরো বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
রুকইয়াহ'র দুটি পদ্ধতি রয়েছে..
1️⃣সেলফ রুকইয়াহ।
2️⃣সরাসরি রুকইয়াহ।
1️⃣সেলফ রুকইয়াহ কী ? কীভাবে করে?
সেলফ রুকইয়াহ হচ্ছে নিজে রুকইয়াহ সংক্রান্ত বিভিন্ন কিতাব বা বই পুস্তক , ইউটিউব থেকে লেকচার শুনে , বিভিন্ন পেইজ, গ্রুপ, ওয়েবসাইটে রুকইয়াহ সংক্রান্ত লেখা আর্টিকেল পড়ে, ঘাঁটাঘাঁটি করে , জেনে নিজেই চিকিৎসার জন্য রুকইয়াহ'র বিভিন্ন আয়াত ও দোয়া তিলাওয়াত করা, অডিও শোনা, রুকইয়াহ করা পানি দিয়ে গোসল করা, ও নববী চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবহার করা এবং আমল করা। অথবা কোনো অভিজ্ঞ রাক্বীর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত রুকইয়াহ সাজেশন পালন করা। যেমন ডাক্তারের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ কিনে এনে নিজেই ওষুধ সেবন করে। এসব ব্যবহারের ফলে আল্লাহ তায়ালা'র রহমতে সমস্যা দূর হয় এবং তৈরি হয় অদৃশ্য শক্তি প্রতিরোধ ক্ষমতা।
2️⃣সরাসরি রুকইয়াহ কী?
সরাসরি রুকইয়াহ হচ্ছে - রাক্বীর কাছে গিয়ে সরাসরি তার থেকে রুকইয়াহ করা। অর্থাৎ রাক্বীর কাছে গেলে তিনি আপনার সমস্যা শোনে আপনাকে একটু দূরে বসিয়ে সমস্যা অনুযায়ী উচ্চ আওয়াজে বা মাইক কিংবা স্পিকারে আপনার উপর রুকইয়াহ করবেন। অর্থাৎ আপনার সমস্যা দূর হওয়ার নিয়তে রুকইয়াহ'র আয়াত ও দোয়া তেলাওয়াত করবেন, ফুঁ দিবেন এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন পদ্ধতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বা আপনাকে করাবেন।
*ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করার পর প্রয়োজনে ওষুধ সেবন করতে হয়। তেমনি রাক্বীর কাছে রুকইয়াহ করার পরও রাক্বীর পরামর্শ অনুযায়ী সেলফ রুকইয়াহ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন হয়।
রাক্বীর কাছে যাওয়া সম্ভব না হলে নিজের বাসায় রাক্বী এনে রুকইয়াহ চিকিৎসা নিতে পারেন। যেমন অপারেশনের প্রয়োজন হলে ডাক্তার নিজে অপারেশন করেন যেটা রোগী পারেন না।
আবার রোগী ডাক্তারের কাছে যেতে না পারলে ডাক্তার কে বাসায় নিয়ে আসা হয়।
*সরাসরি রুকইয়াহ'তে আয়াত ও দোয়া পাঠের প্রভাবে শরীরে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য সমস্যা প্রকাশ পায়। বিভিন্ন সিমটম দেখা যায়। তাৎক্ষণিক সাধারণ সমস্যাগুলো চলে গেলেও প্রভাব থাকলে তা কেটে উঠার জন্য সমস্যা বিশেষ রুকইয়াহ সাজেশন দেয়া হয়। যাকে সাধারণত বলা হয় সেলফ রুকইয়াহ।
এভাবেই যুগ যুগ ধরে লাখো মানুষ সুস্থ হচ্ছেন শরিয়াহসম্মত চিকিৎসা রুকইয়াহ গ্রহণের মাধ্যমে।
❤️আলহামদুলিল্লাহ।❤️
👉❌কবিরাজি চিকিৎসা কেন নেয়া যাবে না❌
সমাজে প্রচলিত কবিরাজি চিকিৎসা শরিয়াহসম্মত না। তদবিরের যে পন্থা জায়েজ তার ব্যবহার শতকরা ৫% -ও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন মানুষ কবিরাজি করছে যারা কোরআনের একটা ছোট সূরা তো দূরের কথা বিসমিল্লাহ ও শুদ্ধ করে পড়তে পারে না। মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে, কুফুরি কালাম, কুকুর,শয়তান বিভিন্ন দেবদেবীর নাম দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে এবং তা লিখে ও নকশা অংকন করে তাবিজ দেয়। তারা আসলে কবিরাজ নামে জাদুকর।
❌এই পদ্ধতি সম্পূর্ণই কুফর-শিরক❌
*❌ফেরেশতা, নবী রাসুলগন ও বুযুর্গ ব্যক্তিদের নাম দিয়ে তাবিজ দেওয়াও শিরক। কারণ এর মানে হচ্ছে তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে। আর সাহায্য কেবল চাইতে হবে আল্লাহ তায়ালার কাছে।❌
😭অনেক হুজুর, মাওলানা, ইমাম, বক্তা ও মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রিন্সিপাল)ও না জেনে বুঝে এই কবিরাজি করেন। আবার কেউ কেউ হয়তো জেনে বুঝেই করে থাকেন নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক।😭
**সুতরাং এই বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে বলা যায়, কবিরাজ হোক মাওলানা, ইমাম বা বেশধারী কেউ সে কবিরাজ-ই বা বেশধরা জাদুকর। শরইয়াহ মেনে না করলে কোনো পদ্ধতির চিকিৎসাই জায়েজ হবে না৷
এই নাজায়েজ চিকিৎসা করে সাময়িক একটা ফল পেলেও স্থায়ী ফলাফল কারো আসেনা, স্থায়ী সুস্থতা কপালে জোটে না। কারণ কয়লার পানি দিয়ে ময়লা যায় না, প্রস্রাব দিয়ে প্রস্রাবযুক্ত কাপড় পরিস্কার হয়না।
বদনজর, হাসাদ, জ্বীন, জাদুকর ও তান্ত্রিকের জাদু থেকে বাঁচার কার্যকরী পন্থা রুকইয়াহ শরইয়াহ। কারণ এখানে কোন জ্বীন ও শয়তানের সাহায্য নেয়া হয় না। বরং সাহায্য নেওয়া হয় অসীম ক্ষমতাশালী রব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা'র নিকট। যেখানে কবিরাজ থেমে যায় সেখান থেকে শুরু হয় রুকইয়াহ'র কার্যকারিতা। সুতরাং আল্লাহ তায়ালা'র সাহায্য ছেড়ে জিন ও শয়তানের পূজারী লেবাসধারী ভণ্ড কবিরাজদের নিকট যাওয়ার প্রশ্ন-ই উঠে না!
✅রুকইয়াহ বিষয়ক যে কোন কিছু পরামর্শের জন্য যোগাযোগ-
পটুয়াখালী হিজামা এন্ড রুকইয়াহ্ সেন্টার।
মুফতি আবু সাঈদ
01643300612
#পটুয়াখালী_হিজামা_এন্ড_রুকইয়াহ্_সেন্টার