22/06/2026
#রুকাইয়া কেস স্টাডি ০২
বগুড়া সিটির নামকরা এলাকায় বসবাস।মা শিক্ষিকা বাবা বিদেশি কোম্পানিতে চাকুরীরত।একমাত্র আদরের ছেলে।২০২২ এ ক্লাস ৮এ পড়তো পরিক্ষার আগে কি জানি কি হলো হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লো।বড় বড় ডাক্তার ভালো হসপিটালে দেখানো সব শেষ,কোনো মতেই সুস্থ হচ্ছে না। তারপর পালা আসলো ফকির কবিরাজির।নিজ জেলা আসে পাশের জেলায় ১৫-২০ টা কবিরাজ দেখানো শেষ।ফলাফল শুণ্য।তারপর ২০২৩ এ আসলো আমার (রুকাইয়ার) পালা।সে সময় আমার চেম্বার ছিল উপশহরে,মা বাবা সহ পেশেন্ট আসলো, বিস্তারিত সব শুনে আশিক জীন ও হাসাদের লক্ষ্মণ পেলাম।সে অনুযায়ী রুকাইয়া করে দিক নির্দেশনা দিয়ে ছেড়ে দিলাম এবং পরবর্তীতে আসার জন্য সিডিউল দিলাম।পরে তারা আর আসেনি,খোঁজ নিয়েছিলাম একটু সুস্থ অনুভব করেছিল তারপর বললো অন্য চিকিৎসা চলছে।আমার সাথে বেশি কথা বলতে চাইলো না।আমিও আর জোর করলাম না। পেশেন্টের খোঁজ খবর নেওয়া আমাদের দ্বায়িত্ব ছিল পালন করেছি।দীর্ঘ ৩ বছর পেরিয়ে গেল,গত রমজানের ১০-১৫ দিন আগে র অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে তখন প্রায় রাত ১০ টা পার হয়েছে।কান্না কান্না কন্ঠে "হুজুর খুব বিপদে পড়েছি আমার ছেলেকে বাঁচান,দেখা করতে চাই আপনার সাথে" ওপার থেকে কথাগুলো ভেসে আসলো।আমি বললাম ঠিক আছে আগামীকাল আসুন কোথায় দেখা করবেন,তিনি বললেন এখন এই মুহুর্তেই দেখা করতে চাই।একটা বাবার আর্তনাদ কান্নার কন্ঠ শুনে আর না করিনি আমিও রেডি হয়ে চলে গেলাম।১০ মিনিটের রাস্তা, বাসায় গিয়ে তাদের সামনে বসলাম পেশেন্টকে আসতে বললাম।একটা রোগা,মাথা নাড়ু করা,গলায় কয়েকটা তাবিজ ঝুলানো মলিন চেহারার একটা ছেলে আমার সামনে আসলো।সে একদম চুপচাপ, আমার সাথে কোনো কথা বলছে না,কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তরও দিচ্ছে না।তার মা বাবার সাথে কথা বলছিলাম এমন সময় তার মা বললো আপনার ওখান থেকে আসার পর একটু ভালো ছিল তারপর আবার অসুস্থ হয়ে গেল,তারপর থেকে এমনই চলছে।আমি একটু অবাক হয়ে বললাম "আমার ওখান থেকে আসার পর মানে! তখন তারা পূর্বে পরিচয় দিল আমি ভালো করে ছেলের দিকে ও তার বাবার দিকে তাকিয়ে রইলাম।তার বাবাকে দেখে চিনতে পেরেছি,সবকিছু মনে পরে গেলো।একটু বকা দিতে চাইছিলাম।যাইহোক কিছু না বলে আবার নতুন করে কনসাল্টেশন শুরু করলাম।এবার সমস্যা গুলো আরও গুরুতর।স্কুলের ছুটিতে নানুর বাসায় গেছিল।নিষিদ্ধ জায়গায় খেলাধুলা করছে,সন্ধা বেলায় তার নানু পিঠা পাকান করে খাওয়াইছে,ওই রাতে খারাপ সপ্ন দেখছে,পরদিন সকাল থেকেই শরীর অস্বাভাবিক অসুস্থতা অনুভব করছিল ইত্যাদি। কথাগুলো তার মা শুরু করার সাথে সাথে সেই ছেলেটি তার নিঃস্তব্ধতা কাটিয়ে বিস্তারিত বলা শুরু করলো।অনেক ভয় ও সংশয় নিয়ে নিচু কন্ঠে কথাগুলো বলছিল।অবশেষে যা বুঝতে পারলাম ছেলেটাকে #শিহর ও #স্মৃতিশক্তি নষ্ট করার জাদুতে আক্রান্ত করা হয়েছে,(পূর্বে এই সমস্যাগুলো বিস্তারিত বলেনি)।নানু বাসা থেকে আসার পর থেকে তার বিভিন্ন সমস্যা নয়। #পড়তে বসলে মাথা ব্যাথা করে, #চোখ দিয়ে পানি পড়ে, #বুক ধরপর করে, #বিরক্ত লাগে #নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় ইত্যাদি। ক্লাস ৮ এ তার পড়ালেখার সমাপ্তি হয়। পরিক্ষা দিতে পারেনি,বাসাতেও পড়তে পারে না,বাসার বাইরে যায়না,বন্ধু বান্ধব দের সাথে যোগাযোগ বন্ধ,তার রুমে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়না,সব সময় একা একা থাকে ঘড় বন্দী হয়ে গেল।আস্তে আস্তে ৩ টি বছর পেরিয়ে গেল।এই ৩ বছরে সে বাসায় চৌকাঠ পেরোয়নি। সবকিছু ঘড়ে,সারাদিন গেম,অনলাইনে ভিডিও,আর অনলাইনে কেনাকাটা,এ নিয়েই জিবন চলছে।
যাইহোক সবকিছু দেখেশুনে তার কেসটা আমি নিলাম, তবে তার পরিবারকে শর্ত দিলাম আমি যতদিন রুকাইয়া করবো ততদিন কোনো কবিরাজের শ্বরণাপন্ন হতে পারবেন না,ছবর করতে হবে,আল্লাহ্ তা'আলার প্রতি ইয়াক্বীন রাখতে হবে।তারা আমার সব শর্ত মেনে নিল।আলহামদুলিল্লাহ্ অবশেষে এক সেশন রুকাইয়া করে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসলাম।
ঘনটা আরও ছিল,শুধু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো উপস্থাপন করলাম।তারপরও ঘটনাটা দীর্ঘ হয়ে গেল,ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।ভাইটার জন্য খাছ দোওয়া করবেন আল্লাহ্ তা'আলা যেন ভাইকে সকল অদৃশ্য খারাপ শক্তি থেকে হিফাজত করুন এবং শিফায়ে হাজেলা দান করুন।