07/04/2026
হাম/Measles :
বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হাম। বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ এটা নিয়ে নিজের মতো করে মতামত দিয়ে যাচ্ছে, যা অনেক সময় হিতে বিপরীত হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই নিজের অজান্তেই গুজবে আবদ্ধ হয়। এই হাম নিয়েও সেটা অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু এই সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে গুজব ছড়ানো কাম্য নয়।
একজন আইনজীবী দেখলাম ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে 🤣🤣। আমি তার কথা যতটুকু শুনলাম, তার বেশিরভাগ অনুমান নির্ভর এবং ভুল তথ্যে ভরপুর। ওনার সাজেশন হলো ভুল হলে আদালতে গিয়ে প্রমান করেন, মানে সেই আগের রোগে ধরেছে। মামলা করলাম এখন আদালতে গিয়ে প্রমান করেন আপনি ভুল না। এরাই বাংলাদেশের আসল শত্রু। এরা সকল বিষয় আদালতে নিয়ে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। সবকিছু নিয়ে আদালতে গেলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থাকার দরকার কি? আপনার অভিযোগ থাকলে সচেতন নাগরিক হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করুন, বিষয়টি জানুন। তা না করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা অবশ্যই ষড়যন্ত্র।
ইউনুস সরকারের সময় এমন কোন সেক্টর নাই যেখানে বেতন ভাতা বৃদ্ধি বা চাকুরির জন্য আন্দোলন হয়নি। এই EPI সেক্টরও আন্দোলনের কবলে ছিল। যেসব রাজনৈতিক দল বা ষড়যন্ত্রকারীরা টিকাদান কর্মীদের দিয়ে আন্দোলন করিয়েছিল, টিকাদান কর্সসূচী বন্ধ রেখেছিল তারা উপলব্ধি করুন আপনারা এই সমস্যার জন্য দায়ী কিনা। অযথা অন্যকে দোষারোপ করছেন কেন?
ইউনুস সরকার সরকারি ইপিআই সেন্টার বাদ দিয়ে বেসরকারি টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দিয়ে বানিজ্য করেছে এটা ডাহা মিথ্যা কথা। আগে থেকেই কিছু বেসরকারি টিকা সেন্টার বাংলাদেশে ছিল। যেমন বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ইপিআই ভ্যাক্সিন দেয়া হয় অনেক আগে থেকেই। এখানে নিয়মিত সরকারিভাবে আমাদের সহায়তায় Vaccine preventable disease surveillance চলে। এখানে প্রতিদিন সিভিল সার্জন অফিস থেকে নিয়ম মেনে ভ্যাক্সিন এনে দেয়া হয়। দেশের সকল শিশুকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার জন্য এটা বরং ভালো উদ্যোগ। এতে ড্রপআউট হবার সম্ভাবনা কম থাকে, কারন এসব জায়গায় প্রচুর রোগীর আনাগোনা থাকে। মানুষের মধ্যে টিকা সম্পর্কিত তথ্য ভেন্টিলেট হয়।
যখন সরকারি সেন্টারগুলোতে আন্দোলন হয় তখন বেসরকারি টিকাদান সেন্টারগুলোতে কিছু বেশি ভ্যাক্সিন দিয়ে ইউনুস সরকার কাভারেজ দেবার চেষ্টা করেছে। আন্দোলনের সময়ও টিএমএসএসে সরকারি টিকা দেয়া হয়ছে৷ কিন্তু আন্দোলনের কারনে কিছু সমস্যা হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এর জন্য কারা দায়ী সেটা আপনার বিবেচনা করবেন নিশ্চয়ই।
সারা বিশ্বে কয়েক বছর ধরেই অস্থিতিশীল অবস্থা যাচ্ছে, আর
এই ইপিআই ভ্যাক্সিনের সরবরাহ অনেকটা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপরও নির্ভর করে। করোনা ভ্যাক্সিনের অতিরিক্ত গুরুত্বের জন্য ইপিআই ভ্যাক্সিন সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই।
করোনার সময় লকডাউনের জন্য টিকা দেয়া বন্ধ ছিল, তখন থেকেই কিছু ড্রপআউট শুরু হয়েছে। প্রতি ৪-৫ বছর পর পর স্বাভাবিক ভাবেই আউটব্রেক হয় তাই ক্যাম্পেইন করা হয়, শেষ ক্যাম্পেইন হয়েছে ২০২০ সালে। ২০২৪ সালেের শেষের দিকে সরকার পতন হয়েছে। তারা ক্যাম্পেইন করে যায়নি। নতুন সরকারের ২০২৫ সালে কর্মীদের আন্দোলন এবং ভোটের প্রস্তুতির জন্য ক্যাম্পেইন হয়নি। কিন্তু এখন এটা নিয়ে পলিটিক্যাল কথাবার্তা বলা হচ্ছে। গত পরশু পর্যন্ত পুরো বগুড়া জেলায় ২ টি কেস পজিটিভ এসেছে। সাসপেক্ট মানেই পজিটিভ না। এটা বেশি বেশি প্রচার করা হচ্ছে। তবে যেহেতু দু'চারটা হলেও পজিটিভ আসছে তাই সচেতন হতে হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সচেতনতার নামে জণগণকে আতঙ্কিত করা বা ষড়যন্ত্র করা মোটেই কাম্য নয়। আমরা সবাই দেশের ভালো চাই। সবাই দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই।
এখন দেশে আর কোন আন্দোলন হয়না। যারা টিকা দেয়া বন্ধ করে আন্দোলন করেছিল তাদেরকে পারলে এই সরকার চাকরিচ্যুত করুক।
আমার দৃষ্টিতে ইউনুস বাংলাদেশের ইতিহাসে সফল রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারে আবার আপনার কাছে সবচেয়ে খারাপ হতে পারে কিন্তু মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা উচিত না। বাংলাদেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল প্রতিটি ইস্যুর মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসে এটা দুঃখজনক।
পরিশেষে বলতে চাই একমাত্র সচেতনতা এবং দেশপ্রেমের মাধ্যমেই যে কোন সমস্যা বা মহামারী মোকাবেলা করা সম্ভব।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩রা মে থেকে বাংলাদেশের কিছু নির্দিষ্ট উপজেলায়( যেখানে বেশি কেস পজিটিভ দেখা গেছে,সবাই আতঙ্কিত হবেননা) MR campaign শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু এটা নিয়ে যদি ষড়যন্ত্র বা অযথা রাজনীতি করা হয় তাহলে আমাদের সমস্যার সমাধান হবেনা বরং ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশায়.......
ডা.এ.এস.এম সেলিম
সহযোগী অধ্যাপক (শিশু)
টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ, বগুড়া