22/04/2026
বাংলাদেশে সচরাচর খাওয়া হয় এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলোতে উচ্চমাত্রায় Saturated Fat (সম্পৃক্ত চর্বি) এবং Trans Fat থাকে। এই চর্বিগুলো লিভারে LDL (Low-Density Lipoprotein) বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।
নিচে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা এমন কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখে:
✔️ গরুর মাংস (Beef): এতে প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত চর্বি থাকে যা রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়।
✔️ খাসির মাংস (Mutton): খাসির মাংসে গরুর চেয়েও বেশি চর্বি থাকতে পারে, যা লিপিড প্রোফাইলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
✔️ গরুর মগজ (Beef Brain): এটি কোলেস্টেরলের সবচেয়ে ঘনীভূত উৎসগুলোর একটি। এর অল্প পরিমাণেই দৈনিক চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি কোলেস্টেরল থাকে।
✔️ কলিজা (Liver): প্রাণিজ কলিজা অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও এতে উচ্চমাত্রায় ডায়েটারি কোলেস্টেরল থাকে।
✔️ ঘি (Ghee): রান্নায় বা ভাতের সাথে ঘি ব্যবহারের সংস্কৃতি বাংলাদেশে প্রবল। এটি সরাসরি সম্পৃক্ত চর্বির উৎস।
✔️ ডালডা বা বনস্পতি (Vanaspati): বাণিজ্যিক সিঙাড়া, সমোসা বা বিস্কুট তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত Trans Fat, যা হৃদরোগের প্রধান ঝুঁকি।
✔️ সিঙাড়া ও সমোসা: এগুলো সাধারণত ডুবো তেলে এবং অনেক সময় ব্যবহৃত পুরনো তেলে ভাজা হয়, যা অক্সিডাইজড ফ্যাট তৈরি করে।
✔️ বিরিয়ানি ও তেহারি: এতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত তেল, ঘি এবং চর্বিযুক্ত মাংস শরীরের মোট কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
✔️ মোগলাই পরোটা: এতে প্রচুর তেল এবং ডিমের ব্যবহার থাকে, যা ক্যালরি ও চর্বি উভয়ই বাড়িয়ে দেয়।
✔️ পরোটা (তেলে ভাজা): সাধারণ নাস্তা হিসেবে পরোটা খাওয়ার অভ্যাস LDL বৃদ্ধিতে সহায়ক।
✔️ বেগুনি ও পেঁয়াজু: বিশেষ করে ইফতারে বা বিকালের নাস্তায় এই ভাজাপোড়াগুলো ক্ষতিকর ফ্যাট সরবরাহ করে।
✔️ হাঁসের মাংস: হাঁসের চামড়ার নিচে প্রচুর চর্বি থাকে, যা রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরল বাড়ায়।
✔️ চিংড়ি মাছ (Shrimp): অন্যান্য মাছের তুলনায় চিংড়িতে ডায়েটারি কোলেস্টেরল কিছুটা বেশি থাকে। তবে এটি সম্পৃক্ত চর্বির মতো অতটা ক্ষতিকর নয়, যদি না তেল-মসলায় ডুবিয়ে রান্না করা হয়।
✔️ মাখন (Butter): পাউরুটি বা অন্যান্য খাবারে মাখনের অতিরিক্ত ব্যবহার সম্পৃক্ত চর্বির মাত্রা বাড়ায়।
✔️ ফুল ক্রিম দুধ: সরযুক্ত বা পূর্ণ ননীযুক্ত দুধ এবং তা থেকে তৈরি চা নিয়মিত পান করলে কোলেস্টেরল বাড়তে পারে।
✔️ দুধের সর বা মালাই: এটি চর্বির অত্যন্ত ঘনীভূত রূপ।
✔️ মিষ্টি ও লাড্ডু: বাংলাদেশের মিষ্টি তৈরিতে প্রচুর ঘি এবং চিনি ব্যবহৃত হয়। চিনি লিভারে ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরিতে উদ্দীপনা জোগায়।
✔️ আইসক্রিম: এতে থাকা দুধের চর্বি এবং অতিরিক্ত চিনি লিপিড মেটাবলিজমে বাধা দেয়।
✔️ চিকেন ফ্রাই (ফাস্ট ফুড): আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে চিকেন ফ্রাই বা ব্রোস্ট চিকেন ট্রান্স ফ্যাটের বড় উৎস।
✔️ ডিমের কুসুম: যদিও ডিম প্রোটিনের ভালো উৎস, তবে দিনে একাধিক ডিমের কুসুম গ্রহণ করলে তা ডায়েটারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে (যাদের আগে থেকেই কোলেস্টেরল বেশি তাদের জন্য সতর্ক থাকা প্রয়োজন)।