20/06/2026
ঢাকায় থাকি ১৯ বছর ধরে।
বাবার সাথে টানা ১৯ বছর ধরে ফোনে মাত্র তিনটে বাক্য বিনিময় হয় বেশিরভাগ সময়।
-ভালো আছি কি না?
-খেয়েছি কি না?
-সুস্থ আছি কি না?
একসময় দেখা গেলো উনি জিজ্ঞেস করার আগেই আমি ক্রমিক অনুযায়ী তিনটে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলেছি। এরপর আর কথা নাই। বাবা এখনও ফোন ব্যবহার করেন। মাঝেমধ্যে এরচে’ বেশিও কথা হয়। তারপর আর অতো কথা হয় না!
শুধু বাড়ি গেলে কথা হয়। এখনো বাবা বাসস্ট্যান্ডে কিংবা টার্মিনালে নিতে আসেন। দিতে আসেন। আসার সময় গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে যান। যতই নিষেধ করি, কাজ হয় না। আসার পর নীরব ভাষায়, গভীর চোখে তাকিয়ে থাকেন পথের দিকে চেয়ে।
এখন বাড়ি গেলে দেখি,
বাবা’র চুলগুলো কালো থেকে রূপালি, রূপালি থেকে কিছু কিছু চুল সময়ের সাথে সাথে সাদা হয়ে গেছে। হাঁটাটাও ধীর হচ্ছে তাঁর।। বাবা আরও খানিকটা শিশুর মতো হয়ে গেছেন। এক এক বার বাড়ি যাই আর কয়েক প্রস্থ করে অন্ধকার নেমে সন্ধ্যা হয়ে আসে আমার হৃদয়ে। আমার চোখ ভিজে আসে। বলতে পারি না!
বাবা’ কখনও মুখ ফুটে বলেননি, "ভালোবাসি"।
শুধু শেষ পর্যন্ত পাশে হাঁটেন। বাবা’রা এমনই হন।
প্রতিবার বাড়ি যাই,
বাবাকে একটু একটু করে বুড়ো হতে দেখি।
প্রতিবার ঢাকায় ফিরি,
নিজেকে একটু একটু অনাথ লাগে।
এই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম দৃশ্য মনে হয়-
যে মানুষটাকে একসময় পাহাড় মনে হতো,
তাকে ধীরে ধীরে বয়সের কাছে নরম হয়ে যেতে দেখা!
বাবার সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু কামনা ছাড়া আর কিছু মাথায় আসে না। বাবা-মা কখনও বুড়ো হতে পারেন না! এমন ধারণা খুব পাকাপোক্তভাবে ছোটবেলায় পেয়ে বসেছিল মাথায়।
তারওপর, আমি লেখক ও নির্মাতা মানুষ; প্রতিনিয়ত একটা ঘোরের মধ্যে থাকি!
ঘোর কাটলে প্রার্থনা করি,
সময়টা যদি একটু ধীরে যেত! সময় ধীরে বয় না কেন!
আদতে, মানুষ তাঁর জীবনের অসংখ্য আয়রনির ভেতর দিয়েই শেষ পর্যন্ত হেঁটে যায়।
তবে সবচেয়ে কঠিন আয়রনি বোধহয় এই—
যাদের ছায়ায় বড় হলাম,
একদিন তাদেরই ধীরে ধীরে বয়সের ছায়ায় ঢেকে যেতে দেখা।।
© শ্যামল নাথ
Shamol Nath Shamol Nath Mitul Das