NAGA BAZAR Health Service

NAGA BAZAR Health Service Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from NAGA BAZAR Health Service, Medical and health, Naga Bazar, Katila, Bagmara, Rajshahi.
(1)

নাগা বাজার হেলথ সার্ভিস হচ্ছে একটি স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকল্পনা, যা রাজশাহী জেলা, বাগমারা উপজেলা, জুগীপাড়া ইউনিয়ন, কাটিলা গ্রাম—নাগা বাজার/কিনুরমোরের মানুষের জন্য প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ করবে।

মরহুম গাহের আলী মন্ডল ছিলেন একজন দূরদর্শী স্বপ্নবাজ মানুষ:রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কাতিলা গ্রামের ইতিহাসে মরহুম গাহের আল...
07/06/2026

মরহুম গাহের আলী মন্ডল ছিলেন একজন দূরদর্শী স্বপ্নবাজ মানুষ:

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কাতিলা গ্রামের ইতিহাসে মরহুম গাহের আলী মন্ডল একটি স্মরণীয় নাম। তিনি শুধু একজন কৃষক পরিবারের সন্তানই ছিলেন না, বরং ছিলেন একজন দূরদর্শী স্বপ্নবাজ মানুষ, যিনি নিজের এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সারাজীবন নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

গাহের আলী মন্ডল ১৯৪০ সালের ১ জানুয়ারি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কাতিলা গ্রামে একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৎ ও সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেছেন এবং এলাকার মানুষের কাছে তাঁর সরলতা, সততা ও মানবিক আচরণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

১৯৯০-এর দশক থেকেই তাঁর মনে একটি বড় স্বপ্ন জন্ম নেয়। তিনি এমন একটি আধুনিক বাজার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন, যা শুধু কেনাবেচার স্থান হবে না, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক ও সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি নিজের নাম “গাহের” এবং তাঁর সহধর্মিণী “নাসিমা বেগম”-এর নামের অংশ মিলিয়ে “নাগা বাজার” নামটি কল্পনা করেন। সেই স্বপ্নের বাজারে একটি শপিং কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম গড়ে তোলার চিন্তা ছিল তাঁর।

তিনি বিশ্বাস করতেন, নাগা বাজার একদিন কাতিলা ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য একটি “ওয়ান স্টপ বিজনেস হাব” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি কখনও হাল ছাড়েননি। তাঁর দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় এবং মানুষের সমর্থনের ফলে অবশেষে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে।

২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি নাগা বাজার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এটি ছিল গাহের আলী মন্ডলের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। তিনি সৌভাগ্যবান ছিলেন যে নিজের চোখে তাঁর স্বপ্নের নাগা বাজারের উদ্বোধন দেখতে পেরেছিলেন। উদ্বোধনের পর তিনি প্রায় প্রতিদিনই তাঁর “ওয়ান স্টপ বিজনেস সেন্টার”-এ বসে বাজারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পরিকল্পনা করতেন।

বর্তমানে নাগা বাজার কাতিলা গ্রামের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। এটি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য বিপণন এবং সামাজিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন এবং স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতায় অবদান রাখেন।

দুঃখজনকভাবে, ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ মরহুম গাহের আলী মন্ডল ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু কাতিলা ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। যদিও তাঁর অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে, তবুও কিছু পরিকল্পনা এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

তাঁর রেখে যাওয়া স্বপ্ন ও আদর্শকে সামনে রেখে তাঁর দুই পুত্র ও দুই কন্যা ভবিষ্যতে নাগা বাজারের অবশিষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের লক্ষ্য হলো নাগা বাজারকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক ব্যবসায়িক কেন্দ্রে পরিণত করা এবং মরহুম গাহের আলী মন্ডলের স্বপ্নকে পূর্ণতা দেওয়া।

মরহুম গাহের আলী মন্ডল প্রমাণ করে গেছেন যে একজন সাধারণ মানুষও অসাধারণ স্বপ্ন দেখতে পারেন এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। নাগা বাজার তাঁর সেই স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের জীবন্ত স্মারক হয়ে আগামী প্রজন্মের কাছে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সৌজন্যে,

নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।




নাগা বাজারের পশ্চিম পাশে বাশি মন্ডল পারিবারিক কবরস্থান: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারভূমিকারাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ...
06/06/2026

নাগা বাজারের পশ্চিম পাশে বাশি মন্ডল পারিবারিক কবরস্থান: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার
ভূমিকা
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার কাতিলা গ্রামের নাগা বাজারের পশ্চিম পাশে প্রায় 150 মিটার দূরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও সম্মানিত পারিবারিক কবরস্থান। স্থানীয়ভাবে এটি “বাশি মন্ডল কবরস্থান” নামে পরিচিত। এটি শুধু একটি কবরস্থান নয়; বরং কয়েক শতাব্দী ধরে একটি বৃহৎ পরিবারের ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্মৃতি এবং উত্তরাধিকারের নীরব সাক্ষী।

এই কবরস্থানে মন্ডল বংশের বহু প্রজন্মের সদস্যদের সমাহিত করা হয়েছে। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে মুখে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, এই বংশের পরিচিত প্রথম ব্যক্তি ছিলেন বাশি মন্ডল। তাঁর নাম অনুসারেই কবরস্থানটির নামকরণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁদের পূর্বপুরুষকে স্মরণ করতে পারে।

বংশপরিচয়ের ধারাবাহিকতা
পারিবারিক তথ্য অনুসারে মন্ডল বংশের পরিচিত বংশধারা নিম্নরূপ:

বাশি মন্ডল

বিধু মন্ডল

হিদন মন্ডল

হিদন মন্ডলের পাঁচ পুত্র:

১. কছির উদ্দিন মন্ডল
২. রূপচাঁদ মন্ডল
৩. গন্দাই মন্ডল
৪. মহররম মন্ডল
৫. ইসমাইল (ভোদা) মন্ডল

এই পাঁচ ভাইয়ের বংশধরদের মাধ্যমেই বর্তমান সময়ে মন্ডল বংশ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। পরবর্তী প্রজন্মের অধিকাংশ সদস্যের পরিচয় আজও পরিবারের কাছে সুপরিচিত। অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাঁদেরকে এই ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।

বাশি মন্ডল ও ইসলাম গ্রহণের পারিবারিক কাহিনী
পারিবারিক বর্ণনা অনুযায়ী, নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পরবর্তী অস্থির সময়ে বাশি মন্ডল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরিবারে প্রচলিত তথ্য অনুসারে, ইসলাম গ্রহণের কারণে তিনি তৎকালীন নাটোর জেলার অন্তর্গত বোহরামপুর অঞ্চল থেকে নির্যাতনের শিকার হন এবং সেখান থেকে বিতাড়িত হন।

পরবর্তীতে তিনি বর্তমান কাতিলা ও নাগা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এসে জমি ক্রয় করেন এবং বসতি স্থাপন করেন। সেখান থেকেই তাঁর বংশধরদের নতুন জীবনযাত্রার সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিবার বৃদ্ধি পায় এবং একসময় একটি বৃহৎ বংশে পরিণত হয়।

যদিও এই ঘটনাগুলোর লিখিত ঐতিহাসিক দলিল বর্তমানে পরিবারের কাছে নেই, তবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মৌখিকভাবে সংরক্ষিত এই স্মৃতিগুলো পরিবারের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

কবরস্থানের প্রতিষ্ঠা ও গুরুত্ব
বাশি মন্ডল কবরস্থান মূলত মন্ডল বংশের নিজস্ব পারিবারিক কবরস্থান। বহু বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর পর এখানে দাফন করা হয়ে আসছে।

এটি শুধুমাত্র মৃতদের বিশ্রামস্থল নয়; বরং পরিবারের ইতিহাসের একটি জীবন্ত দলিল। প্রতিটি কবর একটি মানুষের জীবন, সংগ্রাম, কর্ম এবং পরিবারের প্রতি অবদানের স্মৃতি বহন করে।

পরিবারের অনেক প্রবীণ সদস্য বিশ্বাস করেন যে, এই কবরস্থান মন্ডল বংশের ঐক্যের প্রতীক। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বসবাস করলেও পরিবারের সদস্যরা জানেন যে তাঁদের পূর্বপুরুষদের শেষ ঠিকানা এই কবরস্থান।

দাফনের অনন্য নিয়ম
বাশি মন্ডল কবরস্থানের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর সুসংগঠিত দাফন ব্যবস্থা।

পরিবারের দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্বামী মৃত্যুবরণ করলে তাঁর কবরের পাশে স্ত্রীর জন্য একটি স্থান সংরক্ষিত রাখা হয়। একইভাবে স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলে তাঁর পাশে স্বামীর জন্য স্থান নির্ধারণ করে রাখা হয়।

এই প্রথার ফলে ভবিষ্যতে কবরের স্থান নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি বা বিরোধ সৃষ্টি হয় না। একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবেও এই ব্যবস্থা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এই নিয়ম বহু প্রজন্ম ধরে অনুসরণ করা হচ্ছে এবং বর্তমানে এটি পারিবারিক ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কবরস্থানের প্রাকৃতিক পরিবেশ
কবরস্থানের পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও প্রাকৃতিক। এখানে বাঁশের ঝাড় রয়েছে, যা বহু বছর ধরে বিভিন্ন দাফন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

গ্রামীণ সমাজে বাঁশের গুরুত্ব অপরিসীম। কবর খনন, জানাজা এবং দাফনের বিভিন্ন কাজে বাঁশ ব্যবহার করা হয়। পরিবারের নিজস্ব কবরস্থানে বাঁশের উপস্থিতি প্রয়োজনীয় সময়ে সহজে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

একই সঙ্গে বাঁশঝাড় কবরস্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে এবং এটিকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে।

নাগা বাজারের সঙ্গে সম্পর্ক
বর্তমান নাগা বাজার এলাকার ইতিহাসের সঙ্গে মন্ডল বংশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, বাশি মন্ডলের বসতি স্থাপনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে তাঁদের পরিবারের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

পরবর্তীতে এই এলাকায় জনবসতি বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে নাগা বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। আজ নাগা বাজার কাতিলা, গোপীনাথপুর, বীরকুৎসা এবং আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের জন্য একটি পরিচিত ব্যবসায়িক কেন্দ্র।

এই বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বাশি মন্ডল কবরস্থান যেন এলাকার অতীত ইতিহাসের একটি নীরব স্মারক।

পারিবারিক ঐক্যের প্রতীক
অনেক পরিবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি হারিয়ে ফেলে। কিন্তু মন্ডল বংশের ক্ষেত্রে এই কবরস্থান সেই স্মৃতিকে সংরক্ষণ করে রেখেছে।

ঈদ, শবে বরাত কিংবা বিভিন্ন পারিবারিক উপলক্ষে পরিবারের সদস্যরা এখানে আসেন, কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের পূর্বপুরুষদের জন্য দোয়া করেন।

এভাবে কবরস্থানটি নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে এবং পারিবারিক ঐক্যকে আরও দৃঢ় করে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
বাশি মন্ডল কবরস্থান শুধু বর্তমান প্রজন্মের সম্পদ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি মূল্যবান ঐতিহ্য।

এই কবরস্থানের সঠিক পরিচর্যা, সীমানা সংরক্ষণ, পূর্বপুরুষদের নামের তালিকা প্রস্তুতকরণ এবং পারিবারিক ইতিহাস লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদি পরিবারের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এই কাজগুলো সম্পন্ন করেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের বংশপরিচয় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করবে।

উপসংহার
বাশি মন্ডল কবরস্থান মন্ডল বংশের ইতিহাস, স্মৃতি এবং উত্তরাধিকারের এক অমূল্য নিদর্শন। বাশি মন্ডল থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্ম পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের জীবনের শেষ ঠিকানা এই কবরস্থান।

নাগা বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত এই পবিত্র স্থানটি শুধু কবরের সমষ্টি নয়; এটি একটি পরিবারের শতবর্ষব্যাপী যাত্রার দলিল। পূর্বপুরুষদের স্মৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে বাশি মন্ডল কবরস্থান ভবিষ্যতেও মন্ডল বংশের গৌরবময় ইতিহাস বহন করে চলবে।





নাগা বাজার” কাতিলা গ্রামের কেন্দ্রস্থল:নাগা বাজার: কাতিলা গ্রামের কেন্দ্রস্থলে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ ও বাণিজ্যকে...
06/06/2026

নাগা বাজার” কাতিলা গ্রামের কেন্দ্রস্থল:

নাগা বাজার: কাতিলা গ্রামের কেন্দ্রস্থলে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ ও বাণিজ্যকেন্দ্র:

রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার কাতিলা গ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নাগা বাজার শুধু একটি সাধারণ গ্রামীণ বাজার নয়, বরং এটি কাতিলা ও আশপাশের বহু গ্রামের সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন ধরে নাগা বাজার স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল সুযোগ-সুবিধার কারণে নাগা বাজার কাতিলা অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় বহন করে আসছে।

নাগা বাজার ঠিক কাতিলা গ্রামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় গ্রামের প্রায় সব দিক থেকেই এখানে সহজে যাতায়াত করা যায়। বাজারটি পশ্চিম দিকে নখোপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত এবং পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণমুখী বিভিন্ন সড়কের মাধ্যমে আশপাশের এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত। নাগা বাজারের পাশ দিয়ে চলে গেছে গুরুত্বপূর্ণ নাগা বাজার-ভবানীগঞ্জ সড়ক, যা এই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এই সড়কের ধারে অবস্থিত যোগীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কাউন্সিলের অফিস, যা স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একই এলাকার পাশে অবস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি মন্দির, যা এ অঞ্চলের ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল নিদর্শন। বহু বছর ধরে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মানের সঙ্গে এখানে বসবাস করে আসছেন।

কাতিলা গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে, নখোপাড়া বাজারের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত কাতিলা সবুজ সংঘ স্কুল ও কলেজ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামের বহু শিক্ষার্থী এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান কাতিলা অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

নাগা বাজার থেকে উত্তর দিকে প্রসারিত হয়েছে নাগা বাজার-মৌলভী ভিটা সড়ক। এই সড়কটি উত্তর দিকে গিয়ে মৌলভী ভিটা এলাকায় শেষ হয়েছে। মৌলভীভিটা থেকে আবার সরু রাস্তার মাধ্যমে নিচু কাতিলা এবং মাধাইমুড়ি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে নাগা বাজার কেবল কাতিলা গ্রামের নয়, বরং পার্শ্ববর্তী বহু এলাকার মানুষের জন্যও একটি সহজলভ্য বাণিজ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই সড়কের শেষ প্রান্তে অবস্থিত নিচু কাতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যা এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। বিদ্যালয়ের নিকটেই রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের আরেকটি মন্দির, যা স্থানীয় ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও সহাবস্থানের প্রতীক।

নাগা বাজার থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় শুধু শিক্ষাদানের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিদ্যালয়ের বিস্তৃত মাঠটি নাগা বাজার-ভবানীগঞ্জ-সড়কের পাশে অবস্থিত এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অন্যতম প্রধান জনসমাগমস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গ্রামের অধিকাংশ মৃত ব্যক্তির জানাজা এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ, গ্রামীণ মেলা এবং ইসলামিক মাহফিল নিয়মিতভাবে এখানে আয়োজিত হয়। ফলে বিদ্যালয় মাঠটি স্থানীয় জনগণের জন্য একটি বহুমুখী সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

এই বিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত একটি ঈদগাহ ময়দান, যেখানে প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও নাগা বাজার থেকে উত্তর দিকে নাগা বাজার-মৌলভীভিটা সড়কের ডান পাশে আরও একটি ঈদগাহ ময়দান রয়েছে। দুটি ঈদগাহ ময়দানের উপস্থিতি এ অঞ্চলের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা ও জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

নাগা বাজারের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত গোপীনাথপুর গ্রাম, যার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে নাগা বাজার ব্রিজ। এই সেতুটি স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ করেছে এবং দুই এলাকার মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে। অপরদিকে বাজারের পূর্ব দিকে অবস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের সরকারপাড়া, যা কাতিলা গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান এই অঞ্চলের সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করেছে।

নাগা বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো কাতিলা খাল। এই খালের উপর ও পাশ ঘেঁষেই নাগা বাজারের অবস্থান। কাতিলা খাল পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে পূর্ব দিকে এসেছে এবং পরে উত্তর দিকে মোড় নিয়েছে। খালটির গতিপথ এবং কাতিলা গ্রামের ভৌগোলিক বিন্যাসের মধ্যে একটি বিশেষ মিল রয়েছে। অনেকের মতে, কাতিলা গ্রাম এবং কাতিলা খাল উভয়ই ইংরেজি বর্ণ “L”-এর আকৃতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এলাকাটিকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে।

নাগা বাজারের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত কাতিলা বিল, যা এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। বিলটি স্থানীয় মৎস্য সম্পদের অন্যতম উৎস। প্রতিদিন ভোরবেলা জেলেরা এই বিল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ সংগ্রহ করে নাগা বাজারে নিয়ে আসেন। ফলে নাগা বাজার দীর্ঘদিন ধরে তাজা দেশীয় মাছের জন্য পরিচিত। ভোরের বাজারে মাছের পাশাপাশি কৃষকদের আনা তাজা শাকসবজি, মরিচ, পেঁয়াজ, কচু, লাউ, বেগুন, পটল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য বিক্রি হয়। আশপাশের গ্রামের মানুষ এই বাজার থেকে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে থাকেন। কৃষি ও মৎস্যনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে নাগা বাজারের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

নাগা বাজারের ভৌগোলিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এর পার্শ্ববর্তী গ্রামের অবস্থানের কারণে। কাতিলা গ্রামের সঙ্গে বনগ্রাম, গোপীনাথপুর, শান্তিপুর, ভাগনদী, নখোপাড়া এবং মাধাইমুড়ি গ্রামের সীমানা রয়েছে। ফলে এসব এলাকার মানুষের জন্য নাগা বাজার একটি স্বাভাবিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, কাতিলা এলাকার নিকটেই নওগাঁ ও নাটোর জেলার সীমানা অবস্থিত। দুটি জেলার সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করায় নাগা বাজারের বাণিজ্যিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে কেনাবেচা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের জন্য আসেন।

নাগা বাজারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। যেহেতু বাজারটি কাতিলা গ্রামের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, তাই নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, কৃষিপণ্য বিপণন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, আশপাশের জনবসতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে নাগা বাজার একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় বাজারে পরিণত হয়েছে।

সর্বোপরি বলা যায়, নাগা বাজার কেবল একটি বাজার নয়; এটি কাতিলা গ্রামের সামাজিক ঐক্য, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শিক্ষার প্রসার এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক। গ্রামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এটি বহু মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। কাতিলা খাল, কাতিলা বিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ, মন্দির, সড়ক যোগাযোগ এবং আশপাশের বিস্তৃত জনপদের সমন্বয়ে নাগা বাজার আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই বাজার কাতিলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির ধারক ও বাহক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম গাহের আলী মন্ডল ও মোসা: নাসিমা বেগম। ১৯৯০ দশক থেকে শুরু হয়ে আসা বাজারটি ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারী নাগা বাজার নামে পরিপূর্ণ রূপ পেয়ে থাকে।

সৌজন্যে,

নাগা বাজার, কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।




শিরোনামরাজশাহীর বাগমারায় নাগা বাজার ব্রিজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত—দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা:রাজশাহীর বাগমারা উপ...
01/06/2026

শিরোনাম
রাজশাহীর বাগমারায় নাগা বাজার ব্রিজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত—দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা- ১৫ নম্বর যোগী পাড়া ইউনিয়ন এর নাগা বাজার সংলগ্ন কাতিলা-কিনুরমোড় এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নাগা বাজার ব্রিজ বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে কাতিলা ও গোপীনাথপুর গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্রিজটি শুধু দুই গ্রামের সংযোগই নয়, বরং বীরকুৎসা থেকে ভবানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সেতু দিয়ে নাগা বাজারে যাতায়াত করেন, যা এলাকার অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, সময়ের সাথে সাথে সেতুটির কাঠামোগত অবস্থা মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। সেতুর নিচের অংশ ভেঙে গেছে, অনেক জায়গায় রড বের হয়ে রয়েছে এবং সেতুর গায়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভারী যানবাহন, বিশেষ করে বাস ও ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতুটি কেঁপে ওঠে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সেতুটি বাগমারা উপজেলার অন্যতম প্রাচীন সেতুগুলোর একটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর কোনো বড় ধরনের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই মানুষকে এই সেতু পারাপার করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ১৫ নম্বর যোগিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উদাসীনতার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, বারবার সমস্যা তুলে ধরার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটিকে একটি নিরাপদ ও টেকসই কাঠামোয় পুনর্গঠন করা হোক।




প্রিয় পিতা, নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল, ০১ জানুয়ারি ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪ মার্চ ২০২৬ সালে ৮৬ ব...
25/05/2026

প্রিয় পিতা, নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল, ০১ জানুয়ারি ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪ মার্চ ২০২৬ সালে ৮৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আজ ২৪ মে ২০২৬—তাঁর মৃত্যুর দুই মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। সামনে পবিত্র ঈদুল আযহা। মাত্র এক বছর আগে, ০৭ জুন ২০২৫ তারিখে আমরা সবাই একসঙ্গে ঈদুল আযহা উদযাপন করেছিলাম। কিন্তু আজ সেই প্রিয় অভিভাবককে ছাড়া ঈদ পালন করতে হবে, যা আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে ব্যথিত করে।
তিনি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু আমাদের জন্য রেখে গেছেন বিশাল সম্পদ, অমূল্য আদর্শ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন দুই পুত্র—মোঃ আব্দুল আলীম ও মোঃ গোলাম মোস্তফা, এবং দুই কন্যা—মোছাঃ সুরজান বেগম ও মোছাঃ আকলিমা বেগম। আমরা সবাই তাঁর স্নেহ, শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার উত্তরাধিকার বহন করে চলেছি।
নাগা বাজার ও আশপাশের এলাকার মানুষের উন্নয়নে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে অসংখ্য মানুষ নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে তিনি শুধু একজন পরিবারের কর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষের আপনজন, একজন সমাজগড়ার কারিগর।
আমরা প্রতিনিয়ত তাঁকে স্মরণ করি এবং তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন ও নাগা বাজারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। তিনি আমাদের সবসময় বলতেন, “পেছনে ফিরে তাকিও না, সবসময় সামনে এগিয়ে যাও।” এই কথাই আজ আমাদের প্রেরণার উৎস।
প্রিয় বাবা, আপনি আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু আপনার আদর্শ, কর্ম এবং ভালোবাসা আমাদের হৃদয়ে চিরজাগরুক থাকবে। আমরা আপনার দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে চাই এবং আপনার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আপনার স্মৃতি নাগা বাজারের ইতিহাসের সঙ্গে চিরকাল জড়িয়ে থাকবে।
আল্লাহ তাআলা মরহুম গাহের আলী মন্ডলকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর সকল নেক আমল কবুল করুন। আমিন।
মোঃ আব্দুল আলীম
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।





নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল : পরিচিতি পর্ব–১৪২১/০৩/২০২৬। ঈদের দিন শেষ হয়ে গেছে। চারদিকে এক ধরনের নীর...
13/05/2026

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল : পরিচিতি পর্ব–১৪
২১/০৩/২০২৬। ঈদের দিন শেষ হয়ে গেছে। চারদিকে এক ধরনের নীরবতা নেমে এসেছে। দিনের কোলাহল ধীরে ধীরে মিলিয়ে গিয়ে রাতের অন্ধকার যেন পুরো বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেছে। অথচ সেই রাতটি ছিল নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাতগুলোর একটি।
তিনি তখন শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে হাঁপানি রোগে ভুগছিলেন। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল খুব বেশি। প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন তাঁর শরীরের উপর এক বিশাল চাপ হয়ে উঠেছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে ছিলেন নিঃশব্দে। কিন্তু তাঁর বুকের ভেতরের শ্বাসের শব্দ সবাইকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল, তিনি কতটা কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁর বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম সেই সময় বাবার পাশেই ছিলেন। একজন সন্তানের দায়িত্ব, ভালোবাসা ও সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত তিনি বাবার পাশে থেকে সেবা করে গেছেন। সেই রাতেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য বাবাকে একা ছেড়ে যাননি।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাহের আলী মন্ডলের শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। রাত প্রায় ২টার দিকে মোঃ আব্দুল আলিম বুঝতে পারেন, তাঁর বাবার শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তিনি বাবার সঙ্গে কথা বলছিলেন বারবার। গাহের আলী মন্ডলও কিছু কথা বলছিলেন। কিছু কথা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, আবার কিছু কথা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছিল দুর্বলতার কারণে।
হঠাৎ তিনি চা খেতে চান। কিন্তু খালি পেটে চা খাওয়া ঠিক হবে না ভেবে তাঁর ছেলে তাঁকে বিস্কুট দেন। কিন্তু গাহের আলী মন্ডল সেই বিস্কুট ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। সামান্য একটু কামড় দিয়ে আবার ফেলে দেন। তাঁর শরীর তখন এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে, স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছিল।
মোঃ আব্দুল আলীম সারা রাত বাবার পাশে জেগে ছিলেন। তিনি বাবাকে চা দেননি, কারণ চা খেলে ঘুমের সমস্যা আরও বাড়তে পারত। অথচ সেই রাতেই গাহের আলী মন্ডল এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাতে পারেননি। তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ জাগ্রত, উদ্বিগ্ন এবং ভীষণ দুর্বল।
রাতের গভীর নীরবতার মধ্যে তিনি বারবার কিছু মানুষের নাম ডাকছিলেন— মোস্তফা, ময়না, সামেনা, সুরজান এবং লতা। এরা সবাই কোনো না কোনো সময় তাঁর সেবায় জড়িত ছিলেন। অসুস্থতার সেই কঠিন মুহূর্তে হয়তো তাঁদের উপস্থিতি তিনি অনুভব করতে চেয়েছিলেন।
২২/০৩/২০২৬ তারিখের সেই রাতটি ছিল তাঁর জন্য এক ভয়ংকর মানসিক ও শারীরিক পরীক্ষার রাত। হয়তো তিনি বুঝতে পারছিলেন, তাঁর জীবনের সময় খুব বেশি বাকি নেই। মৃত্যুভয় ধীরে ধীরে তাঁকে আরও দুর্বল করে তুলছিল। কিন্তু এই ভয় ও কষ্টের মাঝেও তিনি তাঁর সন্তানদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা রেখে যেতে চেয়েছিলেন।
তিনি তাঁর ছেলেদের বলেছিলেন,
“কখনো বিশৃঙ্খলায় জড়াবে না। নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হবে না। ঐক্যই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা যদি এক না থাকো, মানুষ সবসময় তোমাদের ঠকাবে।”
এই কথাগুলো ছিল একজন অভিজ্ঞ মানুষের জীবনের সারাংশ। তিনি নিজের জীবনে বহু মানুষ দেখেছেন, বহু প্রতারণা সহ্য করেছেন, বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। তাই জীবনের শেষ সময়ে তিনি তাঁর সন্তানদের জন্য রেখে গেলেন ঐক্যের শিক্ষা।
মরহুম গাহের আলী মন্ডল শুধু একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। ১৯৯০-এর দশক থেকে তিনি নাগা বাজার প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সীমিত সামর্থ্য, কষ্ট এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়েও তিনি হাল ছাড়েননি। অবশেষে ০৫/০১/২০২৪ তারিখে নাগা বাজার উদ্বোধনের মাধ্যমে তাঁর বহু বছরের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়।
তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তাঁর সরলতা। তিনি কখনো অহংকার করেননি। মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশতেন। এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন তাঁর সততা, পরিশ্রম ও মানবিকতার জন্য।
২৪/০৩/২০২৬, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিনি এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্য এক গভীর শোকের মুহূর্ত ছিল। নাগা বাজারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আজও তাঁর দুই ছেলে তাঁর উপদেশগুলো ধরে রাখার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের বাবার শিক্ষা ও আদর্শই তাঁদের ভবিষ্যতের পথ দেখাবে।
মরহুম গাহের আলী মন্ডল হয়তো আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন, তাঁর পরিশ্রম এবং তাঁর ঐক্যের বাণী নাগা বাজারের ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।




নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল : পরিচিতি পর্ব–১৩ঈদের সেই নিস্তব্ধ বিকেল ও এক স্বপ্নবাজ মানুষের শেষ সময়:...
12/05/2026

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডল : পরিচিতি পর্ব–১৩
ঈদের সেই নিস্তব্ধ বিকেল ও এক স্বপ্নবাজ মানুষের শেষ সময়:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কাতিলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী নাগা বাজার শুধু একটি বাজারের নাম নয়, এটি একটি সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস। এই ইতিহাসের কেন্দ্রে ছিলেন মরহুম গাহের আলী মন্ডল—একজন সাধারণ মানুষ, যিনি অসাধারণ ধৈর্য ও পরিশ্রম দিয়ে একটি জনপদের বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন। “পরিচিতি পর্ব–১৩”-এ উঠে আসে তাঁর জীবনের শেষ ঈদের দিনটির হৃদয়স্পর্শী স্মৃতি।
ঈদের সকালটি ছিল কিছুটা নীরব ও ভারাক্রান্ত। চারদিকে ঈদের আনন্দ থাকলেও গাহের আলী মন্ডলের পরিবারের ভেতরে ছিল এক ধরনের অজানা শঙ্কা। তিনি তখন শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছিলেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তবুও পরিবারের সদস্যরা আশা হারাননি। কারণ এর আগেও অন্তত তিনবার তিনি গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন। তাই সবাই মনে মনে বিশ্বাস করছিলেন—এবারও হয়তো তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
ঈদের নামাজ শেষে তাঁর দুই ছেলে, মোঃ আব্দুল আলীম ও মোঃ গোলাম মোস্তফা, দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। ঈদের আনন্দের চেয়ে তখন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাবার পাশে থাকা। তারা দুজনই বাবার খুব কাছে বসে ছিলেন। গাহের আলী মন্ডল বিছানায় শুয়ে ছিলেন সম্পূর্ণ নীরব হয়ে। তাঁর চোখে ছিল গভীর ক্লান্তি, কিন্তু পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি যেন তাঁকে কিছুটা শান্তি দিচ্ছিল।
বাড়ির চারদিকে ঈদের নানা আয়োজন ছিল। রান্নাঘরে তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের খাবার। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের আপ্যায়নের জন্য ছিল পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। কিন্তু পরিবারের সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল—এত খাবার থাকলেও গাহের আলী মন্ডলকে কিছুই ঠিকমতো খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। যিনি একসময় অতিথিদের আপ্যায়নে আনন্দ পেতেন, যিনি বাজারের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতেন, সেই মানুষটি তখন নিজের খাবার গ্রহণ করতেও অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন।
ঈদের দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতে শুরু করলে পরিবারের ছোট মেয়েটি তার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবাকে দেখতে চলে আসেন। বাবার অসুস্থতার খবর শুনে তাঁর মন অস্থির হয়ে উঠেছিল। বাড়িতে এসে বাবাকে নিস্তব্ধ অবস্থায় দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। অন্যদিকে বড় মেয়ে প্রায় প্রতিদিনই বাবার কাছে আসতেন, কারণ তাঁর বিয়ে হয়েছিল পাশের গ্রাম গোপীনাথপুরে। বাবার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ ছিল অত্যন্ত গভীর।
সেদিন পুরো বাড়ির প্রতিটি আয়োজন যেন একজন মানুষকে কেন্দ্র করেই ছিল—নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডলকে ঘিরে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বাজারের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ দলে দলে তাঁকে দেখতে আসছিলেন। কেউ তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করছিলেন, কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। সকলের চোখে ছিল দুঃখ ও অনিশ্চয়তার ছাপ। কারণ তারা জানতেন, এই মানুষটি শুধু একটি পরিবারের অভিভাবক নন, তিনি ছিলেন পুরো নাগা বাজার এলাকার একটি প্রেরণার নাম।
গাহের আলী মন্ডল ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দূরদর্শী একজন মানুষ। বহু বছর আগে যখন এলাকায় একটি স্থায়ী বাজারের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল, তখন তিনিই উদ্যোগ নিয়ে নাগা বাজার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। নানা বাধা, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েও তিনি থেমে যাননি। ধীরে ধীরে তাঁর প্রচেষ্টা বাস্তবে রূপ নেয়। আজকের নাগা বাজার সেই স্বপ্ন ও পরিশ্রমেরই ফল।
তাঁর জীবনের শেষ সময়েও পরিবারের সদস্যরা তাঁর স্বপ্ন ভুলে যাননি। বিশেষ করে তাঁর দুই ছেলে, মোঃ আব্দুল আলীম ও মোঃ গোলাম মোস্তফা, বাবার আদর্শ ও স্বপ্নকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে নাগা বাজারের উন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন, একজন মানুষ চলে গেলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শ বেঁচে থাকতে পারে পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে।
২৪ মার্চ ২০২৬, বিকেল ৩টা ২০ মিনিট। সময়টি ছিল নাগা বাজারের ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক মুহূর্ত। এই সময়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গাহের আলী মন্ডল। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের দোকানপাটে নেমে আসে শোকের ছায়া। মানুষ বুঝতে পারে, তারা শুধু একজন মানুষকে হারায়নি—হারিয়েছে একজন অভিভাবক, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এবং একজন সংগ্রামী ব্যক্তিত্বকে।
তাঁর মৃত্যু নাগা বাজার সম্প্রদায়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে। কারণ এমন মানুষ বারবার জন্ম নেয় না। তিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে এলাকার উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য।
তবে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর স্বপ্ন থেমে থাকবে না। তাঁর সন্তানরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, নাগা বাজারকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে তারা বাবার স্বপ্ন পূরণ করবেন। গাহের আলী মন্ডলের অনুপস্থিতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়, কিন্তু তাঁর আদর্শ, পরিশ্রম এবং স্বপ্ন নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
আজও যখন মানুষ নাগা বাজার -এ আসে, তখন অনেকেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মরহুম গাহের আলী মন্ডলকে। কারণ তিনি প্রমাণ করে গেছেন—একজন মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও সততা একটি পুরো জনপদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাঁর স্মৃতি, তাঁর অবদান এবং তাঁর স্বপ্ন নাগা বাজারের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।

সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।




নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: জীবনসংগ্রামের শেষ অধ্যায় (Introduction Part 10)মানুষের জীবনের শেষ সময়গুলো কখ...
08/05/2026

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: জীবনসংগ্রামের শেষ অধ্যায় (Introduction Part 10)
মানুষের জীবনের শেষ সময়গুলো কখনো কখনো তার পুরো জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনও তার ব্যতিক্রম ছিল না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও অসুস্থ একজন মানুষ, কিন্তু মানসিকভাবে তিনি ছিলেন অবিচল, স্বপ্নে পরিপূর্ণ এবং আপনজনদের প্রতি গভীর মমতায় ভরা।
২০২৬ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ১৭ মার্চ তিনি সম্পূর্ণরূপে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। পরদিন ১৮ মার্চ থেকে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং তিনি মুখে কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারছিলেন না। প্রতিটি দিন যেন তাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছিল। তার বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম, যিনি একজন ফার্মাসিস্ট, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলেন বাবার যত্ন নেওয়ার জন্য। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে সকলেই বুঝতে পারছিলেন—সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
গাহের আলী মন্ডলের বড় ছেলের পরিবার কর্মসূত্রে গাজীপুরে বসবাস করতেন। এই দূরত্ব তার হৃদয়ে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছিল। তিনি প্রায়ই তার বড় ছেলেকে জিজ্ঞেস করতেন তার আদরের নাতি মোঃ শাদমান শাবাবের কথা। আট বছর বয়সী, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শাবাব তখন তার মামার বাড়ি, নাটোর জেলার নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গায় অবস্থান করছিল। প্রতিবারই আব্দুল আলীম তাকে আশ্বস্ত করতেন—“শাবাব খুব শিগগিরই আসবে, আপনার সাথে দেখা করবে।” এই আশ্বাস গহের আলী মন্ডলের হৃদয়ে কিছুটা প্রশান্তি এনে দিত, কিন্তু তার অন্তরের গভীরে তিনি বুঝতে পারছিলেন যে, হয়তো সময় আর খুব বেশি নেই।
নিজের প্রিয় মানুষদের শেষবারের মতো দেখার আকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে প্রবল হয়ে উঠেছিল। বারবার তিনি সবার খোঁজ নিচ্ছিলেন, যেন এক ঝলক দেখেই তার মন পূর্ণ হয়ে যায়। এই দৃশ্য তার বড় ছেলের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একদিকে বাবার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা, অন্যদিকে তার শেষ ইচ্ছাগুলো পূরণ করার তাগিদ—সব মিলিয়ে এক গভীর মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটছিল তার।
এমন সময় ঈদের ছুটি এসে উপস্থিত হয়। এই ছুটির কারণে পরিবারের প্রায় সবাই একত্রিত হতে পেরেছিলেন, যা ছিল এক অর্থে সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ জীবনের এই শেষ মুহূর্তগুলোতে প্রিয়জনদের পাশে পাওয়া সত্যিই এক বিরল আশীর্বাদ। পরিবারের সবাই এসে তাকে ঘিরে রাখলেন, তার সেবা-যত্নে কোনো কমতি রাখলেন না।
অবশেষে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্তটি এলো, যখন তার নাতি শাদমান শাবাব তার সামনে উপস্থিত হলো। ছোট্ট এই ছেলেটি তার দাদার সঙ্গে কথা বলছিল, আর গহের আলী মন্ডলও যেন তার শেষ শক্তিটুকু দিয়ে নাতির সাথে কথা বলছিলেন। এটি ছিল তাদের শেষ আলাপচারিতা। শাবাব হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারছিল না মৃত্যুর গভীরতা, কিন্তু সে অনুভব করছিল—সে তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে হারাতে চলেছে। পরবর্তীতে সে প্রায়ই তার বাবা-মায়ের সাথে তার দাদার স্মৃতিচারণ করত, যা প্রমাণ করে এই সম্পর্কের গভীরতা।
এই কঠিন সময়টাতে বড় ছেলের স্ত্রী মোছাঃ শামীমা খাতুনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাড়িতে এসে শ্বশুরের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধ ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু তিনিও বুঝতে পারছিলেন, দিন দিন গহের আলী মন্ডলের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং তাকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।
জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে গাহের আলী মন্ডল হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন—তার সময় শেষের পথে। তবুও তার মনে ছিল এক অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের তৃপ্তি। ১৯৯০-এর দশক থেকেই তিনি একটি বাজার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, যা এলাকার বেকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং সংগ্রামের পর তিনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন। “নাগা বাজার” নামে সেই বাজারটি অবশেষে ০৫/০১/২০২৪ তারিখে উদ্বোধন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ জনগণ।
এই বাজার শুধু একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র নয়, বরং এটি গাহের আলী মন্ডলের জীবনের পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতার প্রতীক। যদিও তিনি তার স্বপ্নকে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি, তবে তিনি এমন একটি ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন, যা ভবিষ্যতে আরও প্রসারিত হবে।
অবশেষে, ২৪ মার্চ ২০২৬, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার চলে যাওয়া যেন এক যুগের অবসান।
তবে তার রেখে যাওয়া স্বপ্ন এবং আদর্শ আজও বেঁচে আছে। তার দুই ছেলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ—তারা তাদের বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবেন এবং নাগা বাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমৃদ্ধ বাজারে পরিণত করবেন। তারা জানেন, এটি শুধু একটি দায়িত্ব নয়, বরং তাদের বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
গাহের আলী মন্ডলের জীবন আমাদের শেখায়—একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য তার কর্মে, তার স্বপ্নে এবং সমাজের জন্য তার অবদানে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন সংগ্রামী এবং একজন স্নেহশীল মানুষ। তার এই অবদান এবং স্মৃতি চিরকাল মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।




নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: জীবনসংগ্রামের শেষ অধ্যায় (Introduction Part 10)
মানুষের জীবনের শেষ সময়গুলো কখনো কখনো তার পুরো জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনও তার ব্যতিক্রম ছিল না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও অসুস্থ একজন মানুষ, কিন্তু মানসিকভাবে তিনি ছিলেন অবিচল, স্বপ্নে পরিপূর্ণ এবং আপনজনদের প্রতি গভীর মমতায় ভরা।
২০২৬ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ১৭ মার্চ তিনি সম্পূর্ণরূপে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। পরদিন ১৮ মার্চ থেকে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং তিনি মুখে কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারছিলেন না। প্রতিটি দিন যেন তাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছিল। তার বড় ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম, যিনি একজন ফার্মাসিস্ট, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলেন বাবার যত্ন নেওয়ার জন্য। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে সকলেই বুঝতে পারছিলেন—সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
গাহের আলী মন্ডলের বড় ছেলের পরিবার কর্মসূত্রে গাজীপুরে বসবাস করতেন। এই দূরত্ব তার হৃদয়ে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছিল। তিনি প্রায়ই তার বড় ছেলেকে জিজ্ঞেস করতেন তার আদরের নাতি মোঃ শাদমান শাবাবের কথা। আট বছর বয়সী, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শাবাব তখন তার মামার বাড়ি, নাটোর জেলার নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গায় অবস্থান করছিল। প্রতিবারই আব্দুল আলীম তাকে আশ্বস্ত করতেন—“শাবাব খুব শিগগিরই আসবে, আপনার সাথে দেখা করবে।” এই আশ্বাস গহের আলী মন্ডলের হৃদয়ে কিছুটা প্রশান্তি এনে দিত, কিন্তু তার অন্তরের গভীরে তিনি বুঝতে পারছিলেন যে, হয়তো সময় আর খুব বেশি নেই।
নিজের প্রিয় মানুষদের শেষবারের মতো দেখার আকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে প্রবল হয়ে উঠেছিল। বারবার তিনি সবার খোঁজ নিচ্ছিলেন, যেন এক ঝলক দেখেই তার মন পূর্ণ হয়ে যায়। এই দৃশ্য তার বড় ছেলের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একদিকে বাবার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা, অন্যদিকে তার শেষ ইচ্ছাগুলো পূরণ করার তাগিদ—সব মিলিয়ে এক গভীর মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটছিল তার।
এমন সময় ঈদের ছুটি এসে উপস্থিত হয়। এই ছুটির কারণে পরিবারের প্রায় সবাই একত্রিত হতে পেরেছিলেন, যা ছিল এক অর্থে সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ জীবনের এই শেষ মুহূর্তগুলোতে প্রিয়জনদের পাশে পাওয়া সত্যিই এক বিরল আশীর্বাদ। পরিবারের সবাই এসে তাকে ঘিরে রাখলেন, তার সেবা-যত্নে কোনো কমতি রাখলেন না।
অবশেষে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্তটি এলো, যখন তার নাতি শাদমান শাবাব তার সামনে উপস্থিত হলো। ছোট্ট এই ছেলেটি তার দাদার সঙ্গে কথা বলছিল, আর গহের আলী মন্ডলও যেন তার শেষ শক্তিটুকু দিয়ে নাতির সাথে কথা বলছিলেন। এটি ছিল তাদের শেষ আলাপচারিতা। শাবাব হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারছিল না মৃত্যুর গভীরতা, কিন্তু সে অনুভব করছিল—সে তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে হারাতে চলেছে। পরবর্তীতে সে প্রায়ই তার বাবা-মায়ের সাথে তার দাদার স্মৃতিচারণ করত, যা প্রমাণ করে এই সম্পর্কের গভীরতা।
এই কঠিন সময়টাতে বড় ছেলের স্ত্রী মোছাঃ শামীমা খাতুনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাড়িতে এসে শ্বশুরের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধ ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু তিনিও বুঝতে পারছিলেন, দিন দিন গহের আলী মন্ডলের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং তাকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।
জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে গাহের আলী মন্ডল হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন—তার সময় শেষের পথে। তবুও তার মনে ছিল এক অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের তৃপ্তি। ১৯৯০-এর দশক থেকেই তিনি একটি বাজার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, যা এলাকার বেকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং সংগ্রামের পর তিনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন। “নাগা বাজার” নামে সেই বাজারটি অবশেষে ০৫/০১/২০২৪ তারিখে উদ্বোধন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ জনগণ।
এই বাজার শুধু একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র নয়, বরং এটি গাহের আলী মন্ডলের জীবনের পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতার প্রতীক। যদিও তিনি তার স্বপ্নকে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি, তবে তিনি এমন একটি ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন, যা ভবিষ্যতে আরও প্রসারিত হবে।
অবশেষে, ২৪ মার্চ ২০২৬, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার চলে যাওয়া যেন এক যুগের অবসান।
তবে তার রেখে যাওয়া স্বপ্ন এবং আদর্শ আজও বেঁচে আছে। তার দুই ছেলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ—তারা তাদের বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবেন এবং নাগা বাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমৃদ্ধ বাজারে পরিণত করবেন। তারা জানেন, এটি শুধু একটি দায়িত্ব নয়, বরং তাদের বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
গাহের আলী মন্ডলের জীবন আমাদের শেখায়—একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য তার কর্মে, তার স্বপ্নে এবং সমাজের জন্য তার অবদানে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন সংগ্রামী এবং একজন স্নেহশীল মানুষ। তার এই অবদান এবং স্মৃতি চিরকাল মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
সৌজন্যে,
নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।
https://studio.youtube.com/video/7RkbMOyUhDA/edit

Address

Naga Bazar, Katila, Bagmara
Rajshahi
6403

Website

http://www.nagabazarshoppingcentre.com/, https://www.youtube.com/@nagabazartechce

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when NAGA BAZAR Health Service posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share