Ruqyah & Hijama Healing Center,Rangpur

Ruqyah & Hijama Healing Center,Rangpur আপনার বিশ্বস্ত রুকইয়া ও হিজামা সেন্টার এখন রংপুরে!

 #সূরা_কাহফ
11/09/2026

#সূরা_কাহফ

09/09/2026

❝ নিশ্চয়ই (পূর্বে) কোনো ব্যক্তির পায়ে যখন একটি কাঁটাও বিঁধত, তখন তিনি বলতেন: 'আমি নিশ্চিতভাবেই জানি যে, আমার কোনো পাপের কারণেই তুমি (কাঁটা) বিঁধেছ; আর আমার রব আমার প্রতি কোনো জুলুম করেননি। ❞

ইমাম হাসান আল-বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ)
[আয-যূহদ, ইমাম আহমাদ: ১৬৪৭]

08/09/2026

❝ দুনিয়াতে কেউই ষোলোআনা আপন হয় না।
একজনই আছেন, যাকে আপন করতে পারলে তিনি কখনো পর হোন না। ❞

__ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ)

রুকইয়াহ শুধু কিছু আয়াত পড়ে ফুঁ দেওয়ার নাম নয়। এটি মূলত কুরআন ও সুন্নাহসম্মত দোয়া-আযকারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শিফা প্রার...
07/09/2026

রুকইয়াহ শুধু কিছু আয়াত পড়ে ফুঁ দেওয়ার নাম নয়। এটি মূলত কুরআন ও সুন্নাহসম্মত দোয়া-আযকারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শিফা প্রার্থনা করা। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ আপনি কী উদ্দেশ্যে রুকইয়াহ করছেন, কার ওপর ভরসা করছেন এবং কার কাছ থেকে শিফা প্রত্যাশা করছেন, সেটিই আপনার রুকইয়াহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিগুলোর একটি।

🔳. শিফা দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ:
রুকইয়াহর আয়াত বা দোয়াগুলো নিজেরা স্বাধীনভাবে কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। শিফা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।
ইবরাহিম আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহকে বলেন:
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
“আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।” —(সূরা আশ-শু‘আরা: ৮০)

তাই রুকইয়াহ করার সময় অন্তরের নিয়ত হওয়া উচিত,
“আমি আল্লাহর কালাম ও রাসূল ﷺ-এর শেখানো দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছেই শিফা চাইছি।
শিফা দেওয়ার ক্ষমতা শুধু আল্লাহর।”
এখানে আয়াত হলো মাধ্যম, কিন্তু শিফাদাতা মহান আল্লাহ।

🔳. নিয়ত রুকইয়াহকে সঠিক ইবাদতের পথে রাখে:
একই কাজ বাহ্যিকভাবে একই রকম হতে পারে, কিন্তু নিয়তের কারণে তার মূল্য ও উদ্দেশ্য ভিন্ন হয়ে যায়।
কেউ রুকইয়াহ করছে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে এবং তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে।

আবার কেউ হয়তো মনে করছে, “এই নির্দিষ্ট আয়াত পড়লেই জিন বের হবে”, “এই সংখ্যায় পড়লেই যাদু ভেঙে যাবে”, কিংবা “এই রাকির ফুঁতেই রোগী ভালো হবে।”
এই দুই মানসিকতার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।
তাই রুকইয়াহর আগে নিজের বিশ্বাস ও উদ্দেশ্য ঠিক করা জরুরি।

🔳. নিয়ত আপনাকে মানুষের ওপর নয়, মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে শেখায়:
রুকইয়াহ করতে গিয়ে অনেক সময় মানুষ ব্যক্তি, পদ্ধতি, , নির্দিষ্ট তেল, পানি কিংবা কোনো বিশেষ উপকরণের অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

কিন্তু একজন মুমিনের অন্তর থাকবে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত।
আপনি নিজে রুকইয়াহ করুন কিংবা অন্য কেউ আপনার ওপর রুকইয়াহ করুন, বিশ্বাস থাকবে যে,
“কেউ আমাকে শিফা দিতে পারে না। আল্লাহ চাইলে এই রুকইয়াহকে শিফার মাধ্যম বানাবেন।”
এটাই তাওয়াক্কুলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

🔳. নিয়ত রুকইয়াহকে যান্ত্রিক আমল হওয়া থেকে বাঁচায়:
রুকইয়াহর সময় শুধু মুখ দিয়ে আয়াত পড়লেই হবে না। আপনি কী চাইছেন, কেন পড়ছেন এবং কার কাছে চাইছেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন, বদনজরের আশঙ্কা থাকলে আপনি আল্লাহর কাছে বদনজরের ক্ষতি দূর করার আবেদন করবেন।
যাদুর আশঙ্কা থাকলে আল্লাহর কাছে যাদুর অনিষ্ট থেকে মুক্তি চাইবেন।
ওয়াসওয়াসা হলে আল্লাহর কাছে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাইবেন।
অর্থাৎ রুকইয়াহ হবে সমস্যা বুঝে আল্লাহর কাছে নির্দিষ্ট প্রয়োজন নিয়ে ফিরে যাওয়ার একটি মাধ্যম।

🔳. নিয়ত মানে নির্দিষ্ট কোনো বাক্য মুখস্থ করে বলা নয়:
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
রুকইয়াহর জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট “নিয়তের বাক্য” মুখে উচ্চারণ করা শর্ত নয়। নিয়ত মূলত অন্তরের বিষয়।
আপনি মনে মনে জানান যে,
"আমি আল্লাহর কাছে শিফা চাইছি, তাঁর কালাম পড়ে তাঁর কাছেই সাহায্য চাইছি এবং এই আমলকে শিফার একটি বৈধ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করছি।"
এটাই নিয়তের মূল কথা।

🔳. রুকইয়াহর আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন:
রুকইয়াহ শুরু করার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন,
“আমি কি আয়াতের ওপর ভরসা করছি, নাকি আয়াতের রবের ওপর?”
আয়াত অবশ্যই বরকতময়। কুরআন আল্লাহর কালাম। কিন্তু শিফা দেওয়ার মালিক আল্লাহ।
তাই রুকইয়াহর প্রকৃত সৌন্দর্য হলো, আপনি কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহর দরজায় ফিরে যাচ্ছেন।

রুকইয়াহর শক্তি শুধু কত আয়াত পড়লেন, কতবার পড়লেন বা কতক্ষণ পড়লেন, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আপনার ঈমান, ইখলাস, তাওহীদ, তাওয়াক্কুল, দোয়া, সবর এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতা।

রুকইয়াহর উদ্দেশ্য শুধু সমস্যা দূর করা নয়; বরং সমস্যার মাধ্যমে বান্দাকে তার রবের আরও কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

তাই রুকইয়াহ শুরু করার আগে নিয়ত ঠিক করুন:
“শিফা আমি কোনো আয়াত, পানি, তেল বা মানুষের কাছে চাই না। শিফা চাই একমাত্র আল্লাহর কাছে। এসব কেবল বৈধ মাধ্যম।”

আল্লাহ আমাদের রুকইয়াহকে ইখলাসপূর্ণ করুন, তাওহীদের ওপর অটল রাখুন এবং আমাদের সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হিফাজত করে পূর্ণ শিফা দান করুন। আমিন।

05/09/2026

আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। রিজিকের মালিক তিনিই।

সৌদি আরবে বসবাসকারী এক প্রবাসীর বর্ণিত একটি ঘটনা—

পবিত্র রমজান মাস। তাঁর কাফিল (স্পনসর) যাকাত বিতরণের উদ্দেশ্যে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে উপকূলীয় এলাকার কয়েকটি গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে ছিল যাকাতের কিছু খাম। প্রতিটি খামে ছিল ৫,০০০ রিয়াল।

পথে জেদ্দা-জাজান মহাসড়কের কাছে তারা দেখতে পেলেন, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে এক বৃদ্ধ একা হেঁটে যাচ্ছেন।

গাড়ি থামিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বললে জানা গেল, তিনি ইয়েমেন থেকে মক্কা মুকাররমায় উমরাহ করার উদ্দেশ্যে এসেছেন।

প্রশ্ন করা হলো,
— “কীভাবে এসেছেন?”

বৃদ্ধ বললেন,
— “আমার কাছে মাত্র ২০০ রিয়াল ছিল। ১০০ রিয়াল যাতায়াতে খরচ হয়ে গেছে। বাকি ১০০ রিয়াল নিয়ে পায়ে হেঁটেই চলছি।”

— “কতদিন ধরে?”

— “ছয় দিন।”

— “রোজা রেখেছেন?”

— “হ্যাঁ।”

প্রচণ্ড রোদ, ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং দীর্ঘ পথ। অথচ তাঁর লক্ষ্য একটাই—বাইতুল্লাহর জিয়ারত ও উমরাহ।

বৃদ্ধ আরও বললেন, পথে কয়েকটি চেকপয়েন্ট পার হয়েছেন, কিন্তু কেউ তাঁকে থামায়নি। এমনকি একবার কিছু লোক তাঁকে থানায় নিয়ে গেলেও তাঁর উদ্দেশ্য শুনে ছেড়ে দিয়েছে।

বৃদ্ধের কথা শুনে সবাই বিস্মিত হয়ে গেল।

এরপর তাঁর কাফিল সাহেব তাঁকে দুটি যাকাতের খাম দিয়ে দিলেন।

প্রতিটি খামে ছিল ৫,০০০ রিয়াল।

অর্থাৎ মোট ১০,০০০ রিয়াল।

খাম খুলে টাকা দেখে বৃদ্ধ এতটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন যে, গাড়ির মধ্যেই অচেতন হয়ে গেলেন। জ্ঞান ফেরার পর তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল।

তিনি বললেন,

“এগুলো কি আমার জন্য?”

এরপর তিনি জানালেন, ইয়েমেনে তাঁর একটি ছোট বাড়ি ও জমি রয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই জমি ওয়াকফ করে সেখানে সন্তানদের সঙ্গে মিলে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। মসজিদের ভবন তৈরি হলেও মেঝে ও কিছু কাজ তখনও বাকি ছিল। কীভাবে সেই কাজ শেষ করবেন, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন।

আর আজ, আল্লাহ যেন তাঁর সেই প্রয়োজনের উত্তরই পাঠিয়ে দিলেন!

বৃদ্ধের অবস্থা দেখে কাফিল সাহেব আরও দুটি খাম তাঁর হাতে তুলে দিলেন।

এবার মোট হলো ২০,০০০ রিয়াল।

বৃদ্ধ কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন,

“আল্লাহ পাখির মতো আমার রিজিক পৌঁছে দিয়েছেন।”

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
«“তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল করতে, তাহলে তিনি তোমাদের এমনভাবে রিজিক দিতেন, যেভাবে পাখিদের রিজিক দেন। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পরিতৃপ্ত হয়ে ফিরে আসে।”»

📚 জামে‘ আত-তিরমিজি: ২৩৪৪)

এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়—

রিজিকের দরজা কোথায়, তা আমরা জানি না। কিন্তু রিজিকদাতা কে, তা আমরা জানি।

আপনি হয়তো আজ কোনো সমস্যায় পড়ে ভাবছেন,
“এর সমাধান হবে কীভাবে?”

আপনি জানেন না কীভাবে হবে।
কিন্তু আল্লাহ জানেন।

আপনি জানেন না রিজিক কোথা থেকে আসবে।
কিন্তু আল্লাহ জানেন।

আপনি জানেন না আপনার দোয়ার উত্তর কখন আসবে।
কিন্তু আল্লাহ জানেন।

তাই হতাশ হবেন না।

আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করুন, হালাল পথে চেষ্টা করুন, দোয়া করুন এবং ধৈর্য ধরুন।

হয়তো আপনি যে দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন, সেখান থেকে কোনো পথ দেখতে পাচ্ছেন না।

কিন্তু আল্লাহ চাইলে আপনার জন্য এমন দরজা খুলে দিতে পারেন, যার কথা আপনি কখনো কল্পনাও করেননি।

إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

“নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”

🤲 হে আল্লাহ, আমাদের অন্তরে দৃঢ় তাওয়াক্কুল দান করুন, হালাল রিজিকে বরকত দিন এবং আমাদের দুশ্চিন্তাগুলোকে স্বস্তিতে পরিণত করুন।

04/09/2026

শুক্রবারের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি আমলঃ

🔘 সূরা আল-কাহফ পাঠ করা

🔘 অধিক পরিমাণে দরুদ পড়া
اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ
[“আল্লা-হুম্মা সল্লি ওয়াসাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ”]

🔘 বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়া
[“আস্তাগফিরুল্লাহ”]

🔘 আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে দু'আ করা।

02/09/2026

শয়তানের বদনজর, ওয়াসওয়াসা, খারাবি থেকে বাঁচতে রুকইয়াহ...

02/09/2026

যখন আপনি ভাববেন যে, সবকিছু হারিয়ে ফেলেছেন।
তখন নিজেকে মনে করিয়ে দিয়েন যে, আপনার একমাত্র রব মহান আল্লাহ তায়ালাকে এখনো হারান নি।

তাঁকে হারালে, আপনি পুরো দুনিয়া-আখিরাত হারিয়ে ফেললেন। তাঁকে পেলেন, তো পুরো দুনিয়া-আখিরাত হাতের মুঠোয় পেলেন।

সেজন্য হতাশ হবেন না! মুমিনদের হারানোর কোন ভয় নেই।

মানুষের সঙ্গে মেলামেশার চারটি শ্রেণিমানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও মেলামেশার ক্ষেত্রে মানুষকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা উচিত। এই চ...
01/09/2026

মানুষের সঙ্গে মেলামেশার চারটি শ্রেণি

মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও মেলামেশার ক্ষেত্রে মানুষকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা উচিত। এই চার শ্রেণির একটিকে আরেকটির সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য না করলে মানুষের জীবনে অনিষ্ট প্রবেশ করে।
অর্থাৎ, সব মানুষের সঙ্গে একই ধরনের সম্পর্ক রাখা ঠিক নয়। কারও সঙ্গে মেলামেশা প্রয়োজন, কারও সঙ্গে মেলামেশা উপকারী, আবার কারও থেকে দূরে থাকাই কল্যাণকর হতে পারে।

🔳 ১. যাদের সঙ্গে মেলামেশা খাবারের মতো
প্রথম শ্রেণির মানুষ হলো এমন, যাদের সঙ্গে মেলামেশা খাবারের মতো। অর্থাৎ, প্রতিদিনের জীবনে যেমন খাবার ছাড়া থাকা যায় না, তেমনি তাদের সাহচর্য থেকেও পুরোপুরি অমুখাপেক্ষী হওয়া যায় না।

তবে এখানেও পরিমিতি জরুরি। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু তাদের সাহচর্য গ্রহণ করবে। প্রয়োজন পূরণ হলে অতিরিক্ত মেলামেশা করবে না। আবার যখন প্রয়োজন হবে, তখন তাদের কাছে ফিরে যাবে। এভাবেই নিয়মিত চলবে।

এ ধরনের মানুষ লাল সালফারের চেয়েও দুর্লভ।
অর্থাৎ, তাদের পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

তারা হলেন এমন আলেম ও নেককার মানুষ, যারা:
আল্লাহ ও তাঁর বিধান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন,
শয়তানের কৌশল ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানেন,
অন্তরের রোগগুলো চেনেন,
এসব রোগের চিকিৎসা জানেন,
আল্লাহর প্রতি আন্তরিক,
আল্লাহর কিতাবের প্রতি আন্তরিক,
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি আন্তরিক,
এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করেন।

এ ধরনের মানুষের সাহচর্যে লাভই লাভ। তাদের সঙ্গে মেলামেশা মানুষের ঈমান, জ্ঞান, আমল ও অন্তরকে উপকৃত করে।

🔳 ২. যাদের সঙ্গে মেলামেশা ওষুধের মতো
দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ হলো এমন, যাদের সাহচর্য ওষুধের মতো।
অসুস্থ হলে যেমন ওষুধের প্রয়োজন হয়, কিন্তু সুস্থ অবস্থায় সারাক্ষণ ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় না, তেমনি এ ধরনের মানুষের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ রাখতে হয়।

তারা এমন মানুষ, যাদের সঙ্গে মেলামেশা জীবনযাপনের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণের জন্য অপরিহার্য।
যেমন:
ব্যবসায়িক বা পেশাগত লেনদেন,
বিভিন্ন ধরনের অংশীদারিত্ব,
পরামর্শ গ্রহণ,
কোনো সমস্যার সমাধান,
চিকিৎসা বা চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজন,
এবং এ ধরনের অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ।

অতএব, যতক্ষণ প্রয়োজন আছে, ততক্ষণ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে তাদের সাহচর্যে পড়ে থাকবে না।

🔳 ৩. যাদের সঙ্গে মেলামেশা রোগের মতো
তৃতীয় শ্রেণির মানুষ হলো এমন, যাদের সঙ্গে মেলামেশা বিভিন্ন মাত্রা ও ধরন অনুযায়ী রোগের মতো।
এই রোগ কারও ক্ষেত্রে সামান্য, আবার কারও ক্ষেত্রে অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে।

এর মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে, যাদের সাহচর্য দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক রোগের মতো। তাদের সঙ্গে মেলামেশা করে মানুষের দ্বীনে কোনো লাভ হয় না, দুনিয়াতেও কোনো লাভ হয় না। বরং তাদের সাহচর্যের মাধ্যমে দ্বীন অথবা দুনিয়া, কিংবা উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

যদি এমন ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং দীর্ঘদিন সেই সম্পর্ক চলতে থাকে, তাহলে তা মৃত্যুঘাতী ও ভয়ংকর রোগের মতো হয়ে দাঁড়ায়।

আর এদের মধ্যেও এমন কিছু মানুষ আছে, যাদের সঙ্গে মেলামেশা দাঁতের ব্যথার মতো। তাদের সাহচর্যে থাকলে ব্যথা ও কষ্ট বাড়তে থাকে। কিন্তু যখন তাদের থেকে দূরে থাকা যায়, তখন সেই কষ্টও কমে যায়।

অর্থাৎ, কিছু মানুষের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই অন্তরের শান্তি, দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য বেশি নিরাপদ।

তৃতীয় শ্রেণির মানুষের মধ্যেই এমন কিছু মানুষ আছে, যাদের সঙ্গে মেলামেশা আত্মার জ্বরের মতো।

এরা এমন মানুষ, যারা স্বভাবগতভাবে ভারী, বিরক্তিকর এবং অসহনীয়। তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্বতাও এমন নয় যে, তারা কথা বলে আপনাকে কোনো উপকার করতে পারে। আবার তারা এমনভাবে শুনতেও জানে না যে, আপনার কাছ থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করবে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, তারা নিজেদের অবস্থান ও মূল্য বোঝে না।

তারা যখন কথা বলে, তাদের কথাগুলো শ্রোতার অন্তরে এমনভাবে আঘাত করে, যেন একের পর এক লাঠির আঘাত পড়ছে। অথচ নিজের কথার প্রতি তাদের এত বেশি মুগ্ধতা থাকে যে, তারা নিজেরাই নিজেদের কথা শুনে আনন্দিত হয়।

তারা যতবার কথা বলে, ততবার যেন নিজের মুখ থেকেই নিজের জন্য কিছু বের করে আনে। কিন্তু তাদের ধারণা, তারা এমন সুন্দর ও সুগন্ধি কথা বলছে, যা দিয়ে পুরো মজলিসকে আনন্দিত করে তুলছে।

আর তারা যদি চুপ করেও থাকে, তবুও তাদের উপস্থিতি অনেক সময় এমন ভারী লাগে, যেন একটি বিশাল যাঁতার পাথরের অর্ধেক অংশ, যেটা বহন করাও কঠিন, মাটির ওপর টেনে নিয়ে যাওয়াও কঠিন।

ইমাম শাফেয়ী (রহ.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন:
“আমার পাশে কোনো ভারী-স্বভাবের মানুষ বসলে আমি অনুভব করতাম, সে যে পাশে বসেছে, সেই পাশটি যেন অন্য পাশের তুলনায় নিচে নেমে গেছে।”

অর্থাৎ, তার উপস্থিতিই এতটা ভারী অনুভূত হতো।
প্রত্যেক বিরোধী স্বভাবের মানুষের সাহচর্যই আত্মার জন্য এক ধরনের জ্বর।

সারকথা হলো, যে ব্যক্তি আপনার স্বভাব, চিন্তা ও নৈতিকতার সঙ্গে এমনভাবে বিরোধী যে, তার সাহচর্য আপনার অন্তরকে কষ্ট দেয়, তার সঙ্গে মেলামেশা আত্মার জন্য এক ধরনের জ্বরের মতো।
কখনো এটি সাময়িক হয়, আবার কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়।

একজন বান্দার জন্য দুনিয়ার দুর্ভাগ্যগুলোর মধ্যে একটি হলো, তাকে যদি এই ধরনের কোনো মানুষের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রাখতে বাধ্য হতে হয়।
কখনো পরিস্থিতির কারণে তার সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তখন করণীয় হলো:
তার সঙ্গে উত্তম আচরণ বজায় রাখা, ভদ্রতা ও সৌজন্য বজায় রেখে সম্পর্ক পরিচালনা করা।

হয়তো আল্লাহ তাআলা একসময় তার জন্য এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তির কোনো পথ ও উপায় বের করে দেবেন।
অর্থাৎ, সব মানুষকে পছন্দ করা সম্ভব নয়, কিন্তু অপছন্দের মানুষটির সঙ্গেও ইসলামী আদব ও উত্তম চরিত্র বজায় রাখা সম্ভব।

🔳 ৪. যাদের সঙ্গে মেলামেশা পুরোপুরি ধ্বংসের কারণ এবং যাদের সাহচর্য বিষ খাওয়ার মতো
কেউ যদি বিষ খেয়ে ফেলে এবং তার কাছে যদি উপযুক্ত প্রতিষেধক থাকে, তাহলে সে বেঁচে যেতে পারে। কিন্তু যদি প্রতিষেধক না থাকে, তাহলে তার পরিণতির জন্য আর কিছু করার থাকে না।

মানুষের মধ্যে এই শ্রেণির লোকের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি।
তারা হলো বিদআত ও ভ্রষ্টতার অনুসারী, যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্নাহ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং সুন্নাহর বিপরীত মত ও পথের দিকে আহ্বান করে।

তারা এমন লোক, যারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেয় এবং সেই পথকে বাঁকা করে দেখাতে চায়।
ফলে তারা:
বিদআতকে সুন্নাহ বানিয়ে দেয়,
সুন্নাহকে বিদআত বলে প্রচার করে,
মারুফ বা শরিয়তসম্মত ভালো কাজকে মন্দ বলে দেখায়,
আর মুনকার বা শরিয়তবিরোধী কাজকে ভালো ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে।

তাওহীদের কথা বললেও তাদের আপত্তি
আপনি যদি তাদের সামনে তাওহীদকে বিশুদ্ধ ও নির্ভেজালভাবে তুলে ধরেন, তখন তারা বলতে পারে:
“তুমি তো আল্লাহর ওলী ও নেককার বান্দাদের মর্যাদা কমিয়ে দিচ্ছ!”
অর্থাৎ, আল্লাহর ইবাদত ও উপাসনাকে একমাত্র তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করার কথা বললেও তারা সেটিকে নেককারদের অসম্মান হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনুসরণের কথা বললেও আপত্তি
আবার আপনি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্নাহর অনুসরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন, তখন তারা বলতে পারে:
“তুমি তো অনুসরণীয় ইমামদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে দিলে!”
অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর সরাসরি অনুসরণ ও সুন্নাহর দলিলকে সামনে রাখাকে তারা এমনভাবে উপস্থাপন করতে পারে, যেন এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী ইমাম ও আলেমদের অসম্মান করা হচ্ছে।

আর আপনি যদি আল্লাহ তাআলা নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে তাঁকে বর্ণনা করেছেন, ঠিক সেভাবেই আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনা করেন, কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি বা অবহেলা ছাড়াই, তখন তারা বলে:
“তুমি তো আল্লাহকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য দিচ্ছ!”
অর্থাৎ, আল্লাহর কুরআন ও সহিহ সুন্নাহয় বর্ণিত গুণাবলিকে যথাযথভাবে মেনে নিলেও তারা তাকে তাশবিহের অনুসারী বলে অভিযুক্ত করে।

আর আপনি যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) যেসব ভালো কাজের নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলোর আদেশ করেন এবং যেসব মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, সেগুলো থেকে নিষেধ করেন, তখন তারা বলে:
“তুমি তো মানুষকে ফিতনায় ফেলছ!”
আপনি যদি সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেন এবং তার বিরোধী বিষয়গুলো পরিত্যাগ করেন, তখনও তারা বলে:
“তুমি তো পথভ্রষ্ট বিদআতিদের অন্তর্ভুক্ত!”

আর আপনি যদি আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণভাবে ফিরে যান, তাঁর আনুগত্য ও ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং তাদেরকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসে ডুবে থাকার অবস্থায় ছেড়ে দেন, তখন তারা বলে:
“তুমি তো মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছ!”
অর্থাৎ, আপনি যদি তাদের চিন্তা ও পথ অনুসরণ না করে আল্লাহর দিকে ফিরে যান, তাতেও তারা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলবে।

কিন্তু আপনি যদি নিজের সঠিক অবস্থান ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশির অনুসরণ শুরু করেন, তাহলে আল্লাহর কাছে আপনি হয়ে যাবেন ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
আর তাদের কাছে তখন আপনি হয়ে যাবেন: “মুনাফিক!”
অতএব, মানুষ কী বলছে, সেটিই সত্য-মিথ্যার মাপকাঠি নয়। বরং কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং সত্যের দলিলকে মাপকাঠি বানানোই জরুরি।

তাই প্রকৃত বিচক্ষণতা হলো...
পূর্ণ বিচক্ষণতা ও নিরাপদ পথ হলো, এমন লোকদের অসন্তুষ্ট হলেও আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
তাদের অসন্তুষ্টি বা বিরোধিতাকে ভয় করে সত্য থেকে সরে যাওয়া নয়। বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ যা পছন্দ করেন, সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া।
তাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য ব্যস্ত হওয়ার দরকার নেই। বরং তাদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে নিজেকে ব্যস্ত না রেখে, তাদের কাছ থেকে ক্ষমা বা স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টাও না করাই উত্তম।
তারা আপনার নিন্দা করল কি না, আপনাকে অপছন্দ করল কি না, এ নিয়ে বিচলিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই।

[তাফসিরে ইবনুল কাইয়্যিম:সূরা নাস, ৬ নং আয়াত]

31/08/2026

❝ বান্দা যখন আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন শয়তান পিছিয়ে যায়, নিজেকে গুটিয়ে নেয় এবং সংকুচিত হয়ে সরে পড়ে।

আর যখন বান্দা আল্লাহর যিকির থেকে গাফেল হয়ে যায়, তখন শয়তান তার অন্তরের ওপর চেপে বসে এবং সেখানে কুমন্ত্রণা নিক্ষেপ করতে থাকে।

এই কুমন্ত্রণা থেকেই মূলত সব ধরনের অনিষ্ট ও গুনাহের সূচনা হয়।
তাই আল্লাহর যিকিরের মতো অন্য কোনো কিছুই বান্দাকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে এত কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করতে পারে না। ❞

Address

Rangpur City
Rangpur

Telephone

+8801750435735

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ruqyah & Hijama Healing Center,Rangpur posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Ruqyah & Hijama Healing Center,Rangpur:

Shortcuts

Share