27/12/2025
আত্নীয়দের মাঝে (রক্তের সম্পর্কের) কারো সাথে বিয়ের আগে সাবধান…
আমাদের উত্তরবঙ্গে থ্যলাসেমিয়া রোগ অনেক বেশি। এই রোগ যাদের হয় তাদের কষ্ট তো বটেই কিন্তু বাবা-মার কষ্ট সবচেয়ে বেশি। কিছুদিন পর পর রক্ত দিয়ে বাচ্চাটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। একবার রক্ত দেয়ার কয়েকদিন পরেই ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হতে থাকে কলিজার টুকরা। এভাবে রক্ত দিতে দিতে একদিন কলিজার টুকরা সব মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে চলে যায়।
অথচ এই রোগটা খুব সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। এই রোগ হতে গেলে বাবা- মা দুজনকেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক বা একজনের থ্যালাসেমিয়া রোগ ও একজনকে বাহক হতে হয়।
কেন আত্নীয়দের মধ্যে (রক্তের সম্পর্কের) মধ্যে বিয়ে করলে থ্যালাসেমিয়া রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়?
উত্তরঃ আমার পরিবারে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক আছে। আমার সব ভাই-বোন (আমি ছাড়া) থ্যলাসেমিয়ার বাহক, আমাদের খালাতো ভাইবোনদের অধিকাংশই থ্যলাসেমিয়ার বাহক। তাই যদি আমাদের খালাতো ভাইবোনদের মধ্যে বিয়ে হয়, তাহলে সন্তানদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া হবার সম্ভবনা অনেক বেশি হবে।
আত্নীয় ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করলে কি থ্যালাসেমিয়া হবার সম্ভবনা আছে?
উত্তরঃ অবশ্যই আছে। যদি বর ও কনের দুজনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হোন তাহলে বাচ্চাদের থ্যালাসেমিয়া হতে পারে। আর থ্যালাসেমিয়ার বাহকদের কোন লক্ষন থাকে না, তাই টেস্ট না করে বোঝা যায় না।
কোন টেস্ট করে থ্যালাসেমিয়ার বাহক বা থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয় করা যায়।
উত্তরঃ হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস (Hb Electrophoresis). রক্ত নিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়, মাত্র ১০০০-১৫০০ টাকা দিয়ে এই পরীক্ষা করা যায়।
বর- কনের মধ্যে যে কোন একজন যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হয় তাহলে কি সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া হতে পারে?
উত্তরঃ না। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের কেউ কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক হতে পারে। আর বাহক কোন সমস্যা না, কোন রোগ না।
থ্যালাসেমিয়া কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
উত্তরঃ বর্তমানে যুগে বিয়ের আলাপ আলোচনা শুরুর দিকেই ছেলে- মেয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সিভির আদান-প্রদান হয়। Hb Electrophoresis টেস্টের রিপোর্ট এ যুগে সবার সিভিতে (বিশেষ করে বিয়ের সিভিতে) থাকা উচিত।
শুধু থ্যালাসেমিয়া নয় লিভারসহ আরো কিছু রোগ এভাবে আত্নীয়দের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে হতে পারে। তাই সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। বিয়ের আগে অনেক কিছুই মনে হতে পারে, এমনও মনে হয় সন্তান না হলেও কোন অসুবিধা নাই ইত্যাদি ইত্যাদি, কিন্তু বিয়ের পর বোঝা যায় পৃথিবীতে একমাত্র অনুভুতি, একমাত্র ভালোলাগা, ভালোবাসার অনুভূতি হলো সন্তান। সেই সন্তান যেন কোনভাবেই কষ্ট না পায়।
ডাঃ রতীন্দ্র নাথ মন্ডল
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
রংপুর স্পেশালাইজড হাসপাতাল
#থ্যালাসেমিয়া #রক্তরোগ #হিমোগ্লোবিন #রংপুর #বিয়ের