24/09/2026
জাদুগ্রস্ত বা হাসাদগ্রস্ত ঘরের কিছু লক্ষণ রয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
▪️কোনো কারণ ছাড়াই বা তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘন ঘন ঝগড়া-বিবাদ হওয়া।
▪️ঘরের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ অনুভূত না হওয়া।
▪️ঘরে প্রবেশ করার সময় অস্বস্তি ও বিষণ্ণতা অনুভব হওয়া।
▪️কোনো কারণ ছাড়াই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একের পর এক অসুস্থতা দেখা দেওয়া।
▪️কখনো কখনো বিভিন্ন শব্দ, ডাকাডাকি বা হাঁটার মতো শব্দ শোনা যাওয়া।
▪️হঠাৎ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং নিয়মিত ও বারবার বৈদ্যুতিক বাতি পুড়ে যাওয়া।
▪️কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে ঘরে প্রচুর পিঁপড়া দেখা দেওয়া।
▪️টাকা-পয়সা বা কিছু জিনিস নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও সেগুলো হারিয়ে যাওয়া।
▪️কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই ঘরের দেয়াল বা মেঝের টাইলসে ফাটল দেখা দেওয়া।
▪️ঘরের সদস্যদের ওপর বারবার বিভিন্ন ধরনের কষ্ট বা ক্ষতি আসা।
▪️জাগ্রত অবস্থায় ভয়ংকর কিছু দেখা—যেমন সাপ বা ইঁদুর দেখা, শিশুদের ভয় দেখানো, অথবা ঘরের কোনো সদস্যের ছবি দেখা দিয়ে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া।
▪️স্বপ্নের ক্ষেত্রে ভয়ংকর ও আতঙ্কজনক দুঃস্বপ্ন দেখা।
গুরুত্বপূর্ণ নোট—
এগুলো সাধারণত দেখা যেতে পারে এমন কিছু লক্ষণ।
তবে আল্লাহ তাআলা কোনো আধ্যাত্মিক কারণ ছাড়াও কোনো পরিবারকে বিভিন্ন পরীক্ষায় ফেলতে পারেন। যেমন—আল্লাহর যিকির ও আনুগত্য থেকে বিমুখ থাকা এবং গুনাহ ও পাপাচারে ব্যস্ত থাকা।
উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে করণীয়
🔸প্রথমত: ব্যক্তিগত সুরক্ষা
প্রত্যেক পরিবারের সদস্য নিজেকে সুরক্ষিত রাখবে—
• নামাজের প্রতি যত্নশীল থাকা।
• যিকির-আযকার করা।
• কুরআন তিলাওয়াত করা।
🔸দ্বিতীয়ত: সাধারণ সুরক্ষা
অর্থাৎ ঘরকে সুরক্ষিত করা।
▫️ঘর সুরক্ষার ৪টি ধাপ
▪️ধাপ ১: পানি প্রস্তুত করা
৫ লিটার পানি নিতে হবে।
এর সঙ্গে এক কাপ মোটা লবণ—সামুদ্রিক লবণ হলে ভালো—এবং ৭টি কুল জাতীয় বরই পাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
এরপর এই মিশ্রণের ওপর পড়তে হবে—
১. সূরা আল-ফাতিহা — ৭ বার
পানির ওপর পড়ে ফুঁ দিতে হবে।
২. আয়াতুল কুরসি — ৩ বার
পানির ওপর পড়ে ফুঁ দিতে হবে।
৩. সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত — ১ বার
পানির ওপর পড়ে ফুঁ দিতে হবে।
৪. সূরা আল-ইখলাস — ৩ বার
পানির ওপর পড়ে ফুঁ দিতে হবে।
৫. সূরা আল-ফালাক — ৩ বার
পানির ওপর পড়ে ফুঁ দিতে হবে।
৬. সূরা আন-নাস — ৩ বার
পানির ওপর পড়ে ফুঁ দিতে হবে।
৭. জাদু বাতিলের আয়াতসমূহ।
▪️ধাপ ২: পানি ছিটানো
স্প্রে বোতলের মাধ্যমে ঘরের বিভিন্ন স্থানে পানি ছিটাতে হবে।
যেমন—
• ঘরের কোণায়
• অন্ধকার জায়গায়
• আলমারির নিচে
• আলমারির ভেতরে
• ড্রয়ারে
• বন্ধ বাক্সের ভেতরে
• অন্ধকার কোণায়
• মেঝেতে
• ঘরের প্রবেশপথে
• এমনকি ঘরের ভেতরের ছাদেও।
পানি ছিটানোর সময় পূর্বে উল্লেখিত সূরাগুলো উচ্চস্বরে একবার করে পড়তে হবে।
সকালে: ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
সন্ধ্যায়: আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অথবা সূর্যাস্তের পর।
এভাবে এক সপ্তাহ করতে হবে।
▪️ধাপ ৩: নিষিদ্ধ বস্তু অপসারণ
তাবিজ, কবচ এবং অন্যান্য এ ধরনের বস্তু অপসারণ ও নষ্ট করতে হবে।
এছাড়া মানুষ, প্রাণী বা পাখির মূর্তি ও ছবি অপসারণ করতে হবে।
❌ গান বাজানো ও শোনা যাবে না।
❌ অশালীন সিনেমা ও নাটক চালানো যাবে না।
▪️ধাপ ৪: সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত
অন্তত প্রতি তিন দিনে একবার সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করতে হবে।
তিলাওয়াতের জন্য ইশার নামাজের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত সময়কে পছন্দনীয় বলা হয়েছে।
উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করা হবে।
সরাসরি তিলাওয়াত করাই উত্তম।
সরাসরি তিলাওয়াত সম্ভব না হলে রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে শোনা যেতে পারে।
📌 বিশেষ নোট
সুরক্ষা কার্যক্রম শুরু করার আগে ৭ দিন সকাল ও সন্ধ্যার দোয়া, আমল করা।
এ সময় বলা—
أُحَرِّجُ عَلَيْكُمْ بِاللهِ الْعَظِيمِ الْأَعْظَمِ أَنْ تَخْرُجُوا مِنْ بَيْتِي أَوْ مِنْ هَذَا الْمَكَانِ
অর্থাৎ—
আমি মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ আল্লাহর নামে তোমাদের ওপর নির্দেশ আরোপ করছি—তোমরা আমার ঘর অথবা এই স্থান থেকে বের হয়ে যাও।
পোস্ট শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিতে পারেন ইনশাআল্লাহ
আমাদের মাধ্যমে রুকইয়াহ করতে যোগাযোগ করুনঃ
01974-151654
আশ শিফা রুকইয়াহ পয়েন্ট
Raqi Mufti Abdul Malek