10/05/2026
গর্ভকালীন, নরমাল ডেলিভার এবং গর্ভ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি গুরুত্ব :
গর্ভকালীন সময়, নরমাল ডেলিভারি এবং গর্ভ পরবর্তী সময়ে একজন মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন বৃদ্ধি, হরমোনজনিত পরিবর্তন এবং মেরুদণ্ড ও পেলভিক অঞ্চলে অতিরিক্ত চাপের কারণে কোমর ব্যথা, পেলভিক ব্যথা, পায়ে ফোলা, মাংসপেশির দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সময় নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে, মাংসপেশি শক্তিশালী করে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম নরমাল ডেলিভারির জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নরমাল ডেলিভারির সময় সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ, শরীরের সঠিক পজিশন ও পেশির কার্যকারিতা প্রসব ব্যথা সহ্য করতে সাহায্য করে এবং ডেলিভারির সময়কাল কমাতে সহায়ক হতে পারে। ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী করা ব্যায়াম মায়ের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং সিজারিয়ানের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
গর্ভ পরবর্তী সময়েও ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব অনেক বেশি। সন্তান জন্মের পর অনেক মায়ের কোমর ব্যথা, পেটের মাংসপেশি দুর্বলতা, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, পেলভিক ফ্লোর দুর্বলতা ও শরীরের ভঙ্গিগত সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত পোস্টনাটাল ফিজিওথেরাপি এসব জটিলতা প্রতিরোধ ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, মানসিক চাপ কমায় এবং মায়ের দৈনন্দিন কাজে ফিরে যেতে সহায়তা করে।
সুতরাং, গর্ভকালীন সময় থেকে শুরু করে সন্তান জন্মের পর পর্যন্ত একজন মায়ের সুস্থতা নিশ্চিত করতে ফিজিওথেরাপি একটি নিরাপদ, কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।