01/09/2026
সরকারি কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান ৩,০০০ টাকা, সাধারণ নাগরিকের সন্তান ১,০০০ টাকা। প্রশ্ন হলো, প্রতিবন্ধিতার প্রয়োজন কি বাবার পেশা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়?
একই দেশের দুই প্রতিবন্ধী শিশু।
দুজনেরই চিকিৎসা প্রয়োজন, থেরাপি প্রয়োজন, বিশেষ শিক্ষা প্রয়োজন, পুনর্বাসন প্রয়োজন এবং অনেক ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক পরিচর্যা প্রয়োজন।
কিন্তু একজনের বাবা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় যদি সে মাসে ৩,০০০ টাকা ভাতা পায়, আর অন্য শিশুর বাবা সাধারণ নাগরিক হওয়ায় তার পরিবার পায় মাত্র ১,০০০ টাকা, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে:
একজন প্রতিবন্ধী শিশুর প্রয়োজন কি তার বাবার চাকরির পরিচয়ের ওপর নির্ভর করবে?
সরকারি কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য ভাতা বৃদ্ধি করা হলে আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই। কিন্তু একই সঙ্গে সাধারণ পরিবারের প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য বিদ্যমান ভাতাও অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
কারণ প্রতিবন্ধিতা কোনো শ্রেণি, পেশা বা বেতন গ্রেড দেখে আসে না।
থেরাপির খরচ সরকারি চাকরিজীবীর সন্তানের জন্য এক রকম আর সাধারণ পরিবারের সন্তানের জন্য আরেক রকম নয়।
চিকিৎসার প্রয়োজনও বাবার পেশা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় না।
তাহলে সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এত বড় পার্থক্য কেন?
আমাদের দাবি কোনো পরিবারের প্রাপ্য কমানো নয়।
আমাদের দাবি হলো, প্রয়োজন ও অধিকারের ভিত্তিতে সকল প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য ন্যায়সংগত ও মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবার, গুরুতর প্রতিবন্ধিতা, অটিজম, একাধিক প্রতিবন্ধিতা এবং নিয়মিত থেরাপি ও সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন এমন শিশুদের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক উচ্চতর ভাতার ব্যবস্থা করা জরুরি।
রাষ্ট্রের সহায়তা হওয়া উচিত নাগরিকের প্রয়োজন ও অধিকারের ভিত্তিতে, পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
৯ম পে-স্কেল ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের ভাতা পুনর্বিবেচনা করা হোক।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো প্রতিবন্ধী শিশুর অধিকার তার বাবার পেশা দিয়ে নির্ধারিত হবে না।
প্রতিবন্ধিতা কোনো শ্রেণি দেখে আসে না।
অধিকারও শ্রেণি দেখে দেওয়া উচিত নয়।
#প্রতিবন্ধীসন্তানভাতা #প্রতিবন্ধীভাতা #৯মপেস্কেল #প্রতিবন্ধীবান্ধববাংলাদেশ