10/10/2026
কেউ আপনাকে গালি দিলে, আপনার কোনো সমালোচনা বা নিন্দা করলে আপনি তাতে কষ্ট নিবেন না।
কেননা, কোনো কোনো নির্বোধ মহান আল্লাহকেও গালি দেয়। অথচ তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রিযিকদাতা। তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তাহলে সেখানে আমি আর আপনি কে?!
মানুষ আপনার উপর এজন্য অসন্তুষ্ট যে, আপনি বিদ্যা বুদ্ধি, দক্ষতা-যোগ্যতা, স্বভাব-চরিত্র বা ধন-সম্পদে তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছেন। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে ক্ষমা করবে না, যতক্ষণ না আপনি আপনার এ সকল ভালো গুণাগুণ থেকে মুক্ত হবেন অথবা যতক্ষণ না আপনার কাছ থেকে মহান আল্লাহর নেয়ামতসমূহ ছিনিয়ে নেয়া হবে এবং আপনি সম্পূর্ণরূপে রিক্তহস্ত হবেন।
আপনি যতক্ষণ না নির্বোধ, বেকার ও অপদার্থে পরিণত হবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আপনাকে ক্ষমা করতে পারবে না। তারা এমনটিই কামনা করে। কারণ, তাদের মনে হিংসা আছে।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قُلْ مُوْتُوْا بِغَيْظِكُمْ
অর্থ : বলুন! তোমাদের আক্রোশে তোমরাই মরো গো!”
আপনি যতদিন দান করবেন, উন্নতি করতে থাকবেন, নিজেকে উদ্ভাসিত করবেন, অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করতে থাকবেন, ততদিন মানুষ আপনার সমালোচনা করতেই থাকবে; যে পর্যন্ত না আপনি জমিনের কোনো গর্তে ঢুকে যান বা আকাশে উঠে গিয়ে তাদের দৃষ্টির আড়ালে চলে যান। আপনি যতদিন মানুষের মাঝে আছেন, ততদিন যৌক্তিক অযৌক্তিক নিন্দা ও সমালোচনার মুখোমুখি হবেনই।
আপনার মর্যাদা ও গুরুত্ব যতো বেশি বৃদ্ধি পাবে, আপনার বিরুদ্ধে সমালোচনা ততো বেশি হবে। আপনি কতো জনের মুখ বন্ধ করবেন? তাই সমালোচক এবং হিংসুকদের নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা না করে আপনি আপনার দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও গুণাবলিতে বৃদ্ধি ঘটিয়ে আপনার ভুল-ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতাসমূহ দূর করে তাদের মুখে তালা লাগিয়ে দিন।
মনে রাখবেন, আপনি পৃথিবীর সবার কাছে সম্পূর্ণরূপে ত্রুটিমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য হতে পারবেন না, এজন্য এটা আশাও করবেন না। কারণ, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মহা মানব হযরত মুহাম্মদ সা. সবার কাছে ভালো হতে পারেন নি।
তথ্যসূত্র:
বই: হতাশ হবেন না।
লেখক: ড. আয়েয আল করনী।