Dr. Saifur Rahman

Dr. Saifur Rahman Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr. Saifur Rahman, Nutritionist, Sylhet.

আইনস্টাইন, নিউটন, এডিসন, টেসলা, ম্যারি কুরি, হকিং কেউই ৬ বছর বয়সের আগে লিখতে না শিখলেও ঢাকার সবগুলো কেজির বাচ্চারা ৪ বছর...
20/07/2026

আইনস্টাইন, নিউটন, এডিসন, টেসলা, ম্যারি কুরি, হকিং কেউই ৬ বছর বয়সের আগে লিখতে না শিখলেও ঢাকার সবগুলো কেজির বাচ্চারা ৪ বছরের আগেই লিখা ও পড়া শিখে ফেলে।

মস্তিষ্কের প্রতিটি অংশের বয়সভিত্তিক প্রতিটি বিকাশ ব্যহত হচ্ছে এই কাজগুলোর জন্য। এই বিজ্ঞানটা বিস্তারিত লিখলে আপনারা পড়বেন না তা খুব সহজেই অনুমেয়। এতটুকু বলে রাখি, জানুয়ারিতে অনেকেই বাচ্চাকে কেজিতে দিবেন, পরীক্ষায় ভাল ফলাফল ও টপ রোলে রাখার লোভ সামলান তাহলেই আপনার বাচ্চা বড় কিছু হবে।
MIT, Harvard, Stanford, American Association of Pediatrics এর লেটেস্ট সবগুলো শিশু মস্তিষ্ক ও শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা বলছে কাগজে কলমে লিখা ও পড়া শেখানোর ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ৫.৫ বছর, এর একদিন আগে শেখালেও মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যহত হবে।

খুব কষ্ট লাগে এটা দেখে যে, আমাদের কেজিগুলো বাচ্চাদের মস্তিষ্ককে একেবারে অঙ্কুরে ধ্বংস করে ফেলছে।

প্যারেন্টিংকে নিজেদের ও বাচ্চাদের উভয়ের জন্য স্ট্রেসফুল বানিয়ে ফেলেছি। অথচ প্যারেন্টিং কত সহজ। প্রতিদিন ১ ঘন্টা বাচ্চার সাথে গল্প করুন, ১ ঘন্টা খেলাধুলা করুন, ১ ঘন্টার জন্য বাইরে নিয়ে যান, ১ ঘন্টা তাকে নিয়ে বই পড়ুন (পড়া শেখাতে যাবেন না আবার! জাস্ট নিজে পড়ুন, সে শুনবে), ১ ঘন্টা তার সমবয়সী বাচ্চাদের সাথে মিশতে দিন, ঘুমানোর আগে ১০-১৫ মিনিট তাকে সময় দিন, ঘুম থেকে উঠার পর আবার ১০-১৫ মিনিট তাকে দিন।

এই সাড়ে ৫ ঘন্টা মা বাবা দুই জন মিলে দিলে জনপ্রতি আড়াই ঘন্টার কিছু বেশি হবে। ঘরে দাদা দাদি বা ফুফু থাকলে হয়তো আরো কমে আসবে। এইটুকুও আমরা পারি না! বাচ্চার জন্য তো ঠিক এতটুকুই প্রয়োজন।

অথচ কিসব হাবিজাবি আজগুবি ট্যালেন্ট বানানোর মেথড এপ্লাই করে নিজেদের জীবন কঠিন বানাচ্ছি, বাচ্চাদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছি।

ডা. সাইফুর রহমান
১০.১২.২৫

যুক্তরাষ্ট্র জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ উন্নত, প্রতি বছর তাদের নতুন নতুন আবিষ্কার এবং নোবেল প্রাইজের প্রতিটি...
08/07/2026

যুক্তরাষ্ট্র জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ উন্নত, প্রতি বছর তাদের নতুন নতুন আবিষ্কার এবং নোবেল প্রাইজের প্রতিটি ফিল্ডে তাদের নাম থাকা যেন অনিবার্য। তাদের শিক্ষাব্যবস্থা কিভাবে চলছে তা জানার আগ্রহ থেকে তাদের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদদের কিছু বই অর্ডার করলাম।

বইগুলো পড়ার উদ্দেশ্য ছিল তাদের সাথে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পার্থক্যগুলো কী, এবং আমরা কোন জায়গায় ভুল করছি তা জানা। কিন্তু পড়তে গিয়ে দেখি তাদের শিক্ষাবিদরা প্রতিটি বইয়ে প্রতিনিয়ত তাদের শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ধরছে। বইগুলো পড়লে মনে হবে যেন যুক্তরাষ্ট্রের মত বাজে অবস্থা আর কোথাও নাই।
প্রতিটি পরতে পরতে তাদের উন্নতি করার যে ক্ষুধা, কোন উন্নতিই যে পর্যাপ্ত না এই চিন্তাচেতনা এবং সময়ের সাথে সিস্টেমকে প্রতিনিয়ত হালনাগাদ রাখার যে স্পৃহা - এগুলোর মাধ্যমে বাকি বিশ্বের সাথে তারা ব্যাপক পার্থক্য তৈরি করে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালে NCLB (No child left behind) এক্টের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট ও স্কোরিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং স্কুল ও শিক্ষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও দায়বদ্ধতা তৈরি করে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চেয়েছিল। কিন্তু সকল শিক্ষাবিদরা এই পদ্ধতির তুমুল সমালোচনা করল। বিশেষ করে তাদের সাইকায়াট্রিস্ট ও সাইকোলজিস্টরা প্রেসিডেন্ট বুশকে ধুয়ে দিল। কঠোর নিয়ম ও স্বাধীনতা হরণের কারনে বাচ্চাদের সৃষ্টিশীলতা নষ্ট হবে বলে তারা আশঙ্কা করল। অবশেষে ২০১৫ সালে ওবামার আমলে এই পদ্ধতির পরিবর্তন হল।

একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল যে আমেরিকার প্রায় সকল শিক্ষাবিদরা হলেন সাইকোলজিস্ট, সাইকায়াট্রিস্ট এবং নিউরোসাইন্স বিশেষজ্ঞ। যে পেশাগুলো আমাদের দেশে শুধু রোগী দেখার জন্য বরাদ্দ। আমাদের শিক্ষাবিদরা হলেন ক্ষমতাসীনদের আস্থাভাজন কলামিস্ট, লেখক কিংবা বেকার টকশোজীবী। খুব আশ্চর্যের ব্যাপার হলেও সত্য, এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।
অনেক শিক্ষিত হলেই তিনি শিক্ষাবিদ হতে পারবেন - এই ফর্মুলায় তারা সিলেক্টেড হোন। অথচ দেশের শিক্ষা নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়ার কথা ছিল যারা মানুষের মস্তিষ্ক বিষয়ে এক্সপার্ট এবং যারা শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করে।

গবেষণা তো এমনিতেই আমাদের অপশনাল বিষয়। গবেষণা আমাদের ভাল লাগে না। অন্তত কপি তো করতে পারতাম। এখানে লজ্জার কিছু না, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকারী ফিনল্যান্ড মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে কপি করে, সামান্য মডিফাই করে আজ তারা যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তারতম্যের কারনে আমরা সরাসরি তাদেরকে কপি করে হয়তো পারব না, কিন্তু অনেক বিষয় মডিফাই করে এনে চাইলেই বসানো যায়। কিন্তু আমরা হাঁটছি ঠিক উলটো পথে। যেসব পদ্ধতি বাচ্চাদের মেধাকে ধ্বংস করে দেয় সেইসব পদ্ধতি আমরা প্রয়োগ করছি।

রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বানানো শুরু হয়ে গেছে। দেশ গড়ার মূল উপকরণ তথা শিক্ষাকে ইশতেহারের তলদেশেও কেউ জায়গা দেবে বলে এখনো মনে হচ্ছে না।
দিন দিন আমাদের শিক্ষা একটা স্ক্যামে পরিণত হচ্ছে।
শিক্ষা নিয়ে মোটেও কেউ ভাবছে না। এমনকি ভাবার মত যোগ্য মানুষদেরও সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

ডা. সাইফুর রহমান
০৭.০৭.২৫

24/06/2026

আমাদের প্রিন্ট মিডিয়া ও সোশাল মিডিয়া যেভাবে মিথ্যা অনুপ্রেরণা ও সফলতার গল্প দিয়ে শিক্ষার উদ্দেশ্যকে বিকৃতভাবে তরুণদের মাথায় গেঁথে দিচ্ছে তা দেশের অগ্রগতির জন্য সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

আমাদের সফলতার গল্পগুলো প্রধানত সরকারি চাকুরিতে যোগদান, বিসিএস ক্যাডার হওয়া, দরিদ্র পরিবার থেকে ঢাকা মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া - এই ধাঁচের হয়ে থাকে। এই গল্পগুলো সত্যিকারের অনুপ্রেরণার চেয়ে আবেগনির্ভর বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার বিষয়ক জনপ্রিয় কন্টেন্টগুলো হল আপস্কিলিং, ড্রপ-আউট সাকসেস, টেক ক্যারিয়ার, স্টার্টআপ ফাউন্ডার ইত্যাদি।
এই যে তরুণদের স্বপ্ন দেখানোর জায়গাটাতেই আমরা এত পিছিয়ে, যার ফলে সফলতার সংজ্ঞাটা আমাদের সংস্কৃতিতে এত বাজেভাবে বদ্ধমূল হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুলনাটা হয়তো অসম হয়ে গেছে বলবেন। একই ভৌগলিক অঞ্চলের সিংগাপুরের কথা বলি। তাদের সরকারি চাকুরির উদ্দেশ্য যেখানে বৈশ্বিক প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, সেখানে আমাদের সরকারি চাকুরির উদ্দেশ্য হল পরিবারের মান রক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। আমরা মাল্টিনেশনাল কোম্পানিতে উচ্চ বেতনের চাকুরির স্বপ্ন দেখি আর তারা প্রযুক্তিতে গ্লোবাল লিডার হতে চলেছে।

আমি নবম ও দশম শ্রেণিতে যখন পড়তাম, নিয়মিত প্রথম আলোর লেখাপড়া বিষয়ক পাতা থেকে পেপার কাটিং করে সংরক্ষণ করতাম। সেই পাতার মূল ফোকাস ছিল পরীক্ষায় ভাল ফলাফল। কি ধরণের প্রশ্ন আসতে পারে, কিভাবে উত্তর লিখলে বেশি মার্ক পাওয়া যাবে। অর্থাৎ আমাদের জাতীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ শিক্ষিতরাও সঠিক পথ দেখাতে পারছে না। কার সন্তান কত উন্নত স্কুলে পড়ছে আর কার সন্তান পরীক্ষায় কত ভাল ফলাফল করেছে এটাই আমাদের গর্বের প্রধান বিষয়বস্তু। সারাদেশের ১% ছাত্রছাত্রীও তাদের লেখাপড়ার উদ্দেশ্য কী, তা জানে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

দায়ীদের মধ্যে অনেক কিছু থাকলেও বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রভাব অনেক বেশি। আজকের পত্রিকা খোলে দেখেন, সরকারি চাকুরির ফলাফল ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হল সবচেয়ে জনপ্রিয় টপিক।
বাচ্চা লালনপালন করেও কোন ছাত্রী পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুযোগ পেয়েছে, দরিদ্র বাবার সন্তান আজ ঢাবিতে ভর্তি হয়েছে - এই ধরনের আবেগী গল্পগুলো শোনতে সুন্দর লাগলেও এগুলো তরুণদের সাইকোলজিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে।

১০০ বছর আগে আমরা বিশ্বমানের বিজ্ঞানী উৎপাদন করেছি আজ ২০২৫ সালে এসে এসব ভুয়া সফলতার গল্প জাতিকে খাওয়ানোর জন্য? আজকের উন্নত বিশ্বের ছাত্রদের চিন্তাভাবনা দেখলেও অবাক লাগে। কে কিভাবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজের স্থানকে আরো টেকসই করবে এই প্রতিযোগিতায় সবাই, আর এই একই বয়সে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা চাকুরির জন্য গাইড কিনে প্যারাগ্রাফ মুখস্ত করছে।

ডা. সাইফুর রহমান
২৪ জুন, ২০২৫

ভারত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুধু ক্রিকেটের জন্য হারে না। ক্রিকেটের পাশাপাশি বড় ভূমিকা পালন করে কালচার, ইতিহাস, শিক্ষাব্যবস...
23/10/2025

ভারত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুধু ক্রিকেটের জন্য হারে না। ক্রিকেটের পাশাপাশি বড় ভূমিকা পালন করে কালচার, ইতিহাস, শিক্ষাব্যবস্থা ও সাইকোলজি। ক্রিকেট থেকে শেখার কিছু নাই, আবার অনেক কিছু আছেও।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই বলি। শুধু ক্রিকেট না, আমাদের উপমহাদেশের দেশগুলোর প্রায় সব জায়গায় ব্যর্থতার অন্যতম কারন হল শিক্ষাব্যবস্থা। অস্ট্রেলিয়াসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোর স্কুলে ব্যক্তিগত মেধাকে কিভাবে টিমওয়ার্কে কাজে লাগানো যায় তা প্র‍্যাক্টিকালি, হাতে-কলমে শেখানো হয়। কোন অঙ্কনের প্রতিযোগিতায় কেউ যদি তার টিম থেকে বের হয়ে পিকাসোর মতও কিচ্ছু এঁকে ফেলে সেটাকে তারা খুব বেশি এপ্রিশিয়েট করে না। টিমওয়ার্ক তাদের কাছে এতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। খুব স্বাভাবিক ব্যাপার মনে হলেও অল্প বয়সে এগুলো শেখার ফলে পুরো জীবনব্যাপী তা প্রয়োগ করা সহজ হয়।

সম্পূর্ণ স্কুল ভবন আগুনে পুড়ে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে কী কী করতে হবে, ঠান্ডা মাথায় কিভাবে শৃঙ্খলার সাথে বের হতে হবে, কিভাবে প্যানিক না হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে - এগুলো তাদের ২য় বা ৩য় শ্রেণীর বাচ্চাদের শেখানো হয়। আমাদের কোন ভার্সিটি ভবনে আগুন লাগলেও শুধু পদদলিত হয়ে মারা যাবে কয়েক ডজন ছাত্র। বিপর্যয়ের সময় আতঙ্কিত না হয়ে কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে প্রাইমারিতে সেই অর্জিত শিক্ষা প্রাপ্তবয়সে যাওয়ার পর শুধু ক্রিকেট ও ফুটবল নয়, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা আমাদের চেয়ে ভালভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়।

২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে অজি ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্স তার মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে পিচের ছবি তোলার দৃশ্যটি খুব আলোচিত হয়েছিল। আমরা সবাই ক্রিকেটীয় ট্যক্টিক্সের অংশ হিসেবেই ভেবেছিলাম, তবে সম্ভবত তার চেয়ে বেশি ছিল মানসিক প্রস্তুতির একটা অংশ। কামিন্স ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি সিডনিতে বিজনেসে ব্যাচেলর করেছেন এলিট এথলেট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে। তার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন তার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইনফরমেশন প্রসেসিং ও বিশ্লেষণে সর্বোচ্চ সাহায্য করেছে। যেখানে আমাদের কোন ছেলের ক্রিকেটে ন্যাচারাল ট্যালেন্ট দেখলে একাডেমিক সংশ্লিষ্টতার আর প্রয়োজনবোধ করি না।

অস্ট্রেলিয়ায় যে পরিমাণ ক্রিকেটার আছে ভারতে অন্তত তার কয়েক হাজারগুণ বেশি আছে। এমনকি বর্তমান ভারত দলের প্রতিটি ক্রিকেটার ব্যক্তিগতভাবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের থেকে অনেক মেধাবী। তবুও বড় টুর্নামেন্টগুলোতে কেন বারবার তাদের বিপক্ষে হারতে হয় আমরা দেখে আশ্চর্য হই। আমরা আশ্চর্য হই মাত্র ৫০ লক্ষ জনসংখ্যার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেড়শ কোটির ভারতের পরপর দুই বিশ্বকাপে পরাজয় দেখে, যেখানে ক্রিকেট তাদের ২য় বা ৩য় জনপ্রিয় খেলা আর অন্যদিকে ভারতে ক্রিকেটকে পূজা করা হয়। আসলে এটা মোটেও আশ্চর্যের বিষয় নয়।

কেন আশ্চর্যের বিষয় নয় তার আরেকটা উদাহরণ দেই। উন্নত দেশগুলোতে ক্রীড়া শুধু বিনোদনের অংশ নয়, এটা তাদের পাঠ্যপুস্তকের অংশ। এটা রুটিন। বিজ্ঞান কিংবা সাহিত্যের ক্লাসের পর স্পোর্টস এর ক্লাস থাকবে। বিজ্ঞানের ক্লাসের মত সেখানেও উপস্থিত থাকতে হবে। গুরুত্বেও কোন কম বা বেশি নাই। স্পোর্টসকে তারা কমিউনিকেশন, লিডারশিপ, টিম ইথিক্স ও রেজিলিয়েন্স গড়ার উপকরণ হিসেবে দেখে। যেখানে আমাদের বেশিরভাগ স্কুলগুলোর ক্যাম্পাসে একটা মাঠও থাকে না। এখানেই শেষ নয়, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফলাফলের সময় স্পোর্টসের জন্য আলাদা ক্রেডিট যোগ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগগুলো আমাদের পেশাদার লিগগুলো থেকেও বেশি সুসজ্জিত থাকে।

অর্থাৎ আমাদের প্লেয়াররা জাতীয় দলে আসার পর যা শেখে, তারা হাই স্কুল লেভেলেই তা আয়ত্ত করে ফেলে। আমাদের স্পোর্টসের স্কিল কোন ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে, তবে তাদের জাতীয় দলে সদ্য সুযোগ পাওয়া প্লেয়ার আমাদের চেয়ে মানসিকভাবে অনেক বেশি সুগঠিত ও পরিপক্ব থাকে। চাপের মুখে বা বিপর্যয়ে কী করতে হবে তা সে খেলা শেখারও অনেক আগে শিখে এসেছে। টিমওয়ার্ক সে প্রাইমারি থেকেই শিখে এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তার মস্তিষ্কের নিউরনগুলো ছোটবেলা থেকেই ওয়েয়ার্ড-আপ থাকে।

তাই তাদের শিক্ষাব্যবস্থা পরিপূর্ণ দক্ষতাসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলে, স্পোর্টস কিংবা স্পোর্টসের বাইরে।

ডা. সাইফুর রহমান
২৩.১০.২৫

21/07/2025

যুক্তরাষ্ট্র জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ উন্নত, প্রতি বছর তাদের নতুন নতুন আবিষ্কার এবং নোবেল প্রাইজের প্রতিটি ফিল্ডে তাদের নাম থাকা যেন অনিবার্য। তাদের শিক্ষাব্যবস্থা কিভাবে চলছে তা জানার আগ্রহ থেকে তাদের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদদের কিছু বই অর্ডার করলাম।

বইগুলো পড়ার উদ্দেশ্য ছিল তাদের সাথে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পার্থক্যগুলো কী, এবং আমরা কোন জায়গায় ভুল করছি তা জানা। কিন্তু পড়তে গিয়ে দেখি তাদের শিক্ষাবিদরা প্রতিটি বইয়ে প্রতিনিয়ত তাদের শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ধরছে। বইগুলো পড়লে মনে হবে যেন যুক্তরাষ্ট্রের মত বাজে অবস্থা আর কোথাও নাই।
প্রতিটি পরতে পরতে তাদের উন্নতি করার যে ক্ষুধা, কোন উন্নতিই যে পর্যাপ্ত না এই চিন্তাচেতনা এবং সময়ের সাথে সিস্টেমকে প্রতিনিয়ত হালনাগাদ রাখার যে স্পৃহা - এগুলোর মাধ্যমে বাকি বিশ্বের সাথে তারা ব্যাপক পার্থক্য তৈরি করে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালে NCLB (No child left behind) এক্টের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট ও স্কোরিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং স্কুল ও শিক্ষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও দায়বদ্ধতা তৈরি করে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চেয়েছিল। কিন্তু সকল শিক্ষাবিদরা এই পদ্ধতির তুমুল সমালোচনা করল। বিশেষ করে তাদের সাইকায়াট্রিস্ট ও সাইকোলজিস্টরা প্রেসিডেন্ট বুশকে ধুয়ে দিল। কঠোর নিয়ম ও স্বাধীনতা হরণের কারনে বাচ্চাদের সৃষ্টিশীলতা নষ্ট হবে বলে তারা আশঙ্কা করল। অবশেষে ২০১৫ সালে ওবামার আমলে এই পদ্ধতির পরিবর্তন হল।

একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল যে আমেরিকার প্রায় সকল শিক্ষাবিদরা হলেন সাইকোলজিস্ট, সাইকায়াট্রিস্ট এবং নিউরোসাইন্স বিশেষজ্ঞ। যে পেশাগুলো আমাদের দেশে শুধু রোগী দেখার জন্য বরাদ্দ। আমাদের শিক্ষাবিদরা হলেন ক্ষমতাসীনদের আস্থাভাজন কলামিস্ট, লেখক কিংবা বেকার টকশোজীবী। খুব আশ্চর্যের ব্যাপার হলেও সত্য, এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।
অনেক শিক্ষিত হলেই তিনি শিক্ষাবিদ হতে পারবেন - এই ফর্মুলায় তারা সিলেক্টেড হোন। অথচ দেশের শিক্ষা নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়ার কথা ছিল যারা মানুষের মস্তিষ্ক বিষয়ে এক্সপার্ট এবং যারা শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করে।

গবেষণা তো এমনিতেই আমাদের অপশনার বিষয়। গবেষণা আমাদের ভাল লাগে না। অন্তত কপি তো করতে পারতাম। এখানে লজ্জার কিছু না, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকারী ফিনল্যান্ড মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে কপি করে, সামান্য মডিফাই করে আজ তারা যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তারতম্যের কারনে আমরা সরাসরি তাদেরকে কপি করে হয়তো পারব না, কিন্তু অনেক বিষয় মডিফাই করে এনে চাইলেই বসানো যায়। কিন্তু আমরা হাঁটছি ঠিক উলটো পথে। যেসব পদ্ধতি বাচ্চাদের মেধাকে ধ্বংস করে দেয় সেইসব পদ্ধতি আমরা প্রয়োগ করছি।

রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বানানো শুরু হয়ে গেছে। দেশ গড়ার মূল উপকরণ তথা শিক্ষাকে ইশতেহারের তলদেশেও কেউ জায়গা দেবে বলে এখনো মনে হচ্ছে না।
দিন দিন আমাদের শিক্ষা একটা স্ক্যামে পরিণত হচ্ছে।
শিক্ষা নিয়ে মোটেও কেউ ভাবছে না। এমনকি ভাবার মত যোগ্য মানুষদেরও সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

আপনার বাচ্চার ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হচ্ছে তার মধ্যে ক্রিটিকাল থিংকিংয়ের বিকাশ ঘটানো। ...
20/07/2025

আপনার বাচ্চার ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হচ্ছে তার মধ্যে ক্রিটিকাল থিংকিংয়ের বিকাশ ঘটানো। শেষ কয়েক দশকে বাচ্চাদের ক্রিটিকাল থিংকিং দ্রুত কমে যাচ্ছে, তার প্রধান কারন আধুনিক সমাজের কিছু পরিবর্তন ও শিক্ষা কারিকুলাম।
আমি কয়েকটা কারন তুলে ধরছি যেগুলোর জন্য আমাদের বাচ্চাদের ক্রিটিকাল থিংকিং নষ্ট হচ্ছে।

১) অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে বাচ্চাকে ওভারলোড করে রাখা 🚫
" 'কী চিন্তা করবে' তা না বলে 'কিভাবে চিন্তা করবে' তা বাচ্চাকে শেখান। তাহলে তার মধ্যে আগ্রহ ও অনুসন্ধানের মানসিকতা তৈরি হবে।" - এলিসন গপনিক & এরিকা ক্রিস্তাকিস।

২) অতিরিক্ত দৃঢ় ও কঠোর নিয়মে ঠাসা প্যারেন্টিং 🚫
কঠোরতা না দেখিয়ে কোন নিয়মের কারন কী ও শৃঙ্খলার উপকারিতা কি সেটা বলুন। স্বাধীনতা হরণ না করে তার মস্তিষ্কের নিউরনকে আন্দোলিত করুন।

৩) কম বয়সে স্কুলের চাপ ও লেখাপড়ার বোঝা 🚫
একাডেমিক চাপ নির্বাহী কার্যক্ষমতা (executive functions) যথা বিচার, বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা, সৃজনশীলতা বিকল করে দেয়। (The Harvard Center on Developing Child)

৪) স্ক্রিনটাইম: মোবাইল-ফোন, টিভি, ট্যাব।
প্যাসিভ স্ক্রিনটাইম (বাচ্চার হাতে ডিভাইস ও তার নিয়ন্ত্রণ) ❌
সীমিত সময়ের জন্য ইন্টারেক্টিভ স্ক্রিনটাইম ✅
প্যাসিভ স্ক্রিনটাইম মস্তিষ্কে ডোপামিন এডিকশন তৈরি করে যা মনোযোগ, ফোকাস ও চিন্তাশক্তি নষ্ট করে ফেলে।

৫) প্রশ্ন করাকে নিরুৎসাহিত করা 🚫
'কেন?' হল ক্রিটিকাল থিংকিংয়ের ভিত্তি। এখান থেকেই জটিল চিন্তাভাবনা তৈরির শুরু। বাচ্চা যখন 'কি' এবং 'কেন' প্রশ্ন করছে তখন তার মস্তিষ্কে নিউরোনাল সংযোগ তৈরি করছে।
যেসকল বাচ্চাকে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা হয় তাদের এগজিকিউটিভ ফাংশন, মেটাকগনিশন (নিজের চিন্তা নিয়ে চিন্তা করা), প্রবলেম-সলভিং ও STEM পারফর্মেন্স (সাইন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাথস) উন্নত হয়ে থাকে।
(Stanford, MIT, University of Chicago)

৬) প্রতিনিয়ত বাচ্চাকে সংশোধন করে দেয়া, শুদ্ধ করে দেয়া ও পারফেশনিস্ট বানানোর চেষ্টা 🚫
সব সময় বাচ্চাকে শুদ্ধ করে দিলে সে ঝুঁকি নিবে না এবং নতুন কিছু শিখবে না।
তার প্রচেষ্টা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করুন।

৭) ওভারশিডিউল ও কর্তৃত্ব 🚫
বাচ্চাকে কঠোর রুটিনে ব্যস্ত রাখলে সে উন্মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করতে পারবে না।
তার নিজস্ব কল্পনাশক্তি বিকশিত হওয়ার সময়, সুযোগ ও স্বাধীনতা দিন।

ইন্টারেস্টিং বিষয় হল এই যে ভুলগুলো তুলে ধরলাম এগুলো আজকাল সবচেয়ে শিক্ষিত ও শহুরে প্যারেন্টদের দ্বারা বেশি হয়। ওভারশিডিউলিং, একাডেমিক চাপ, স্ক্রিনটাইম ও পারফেকশনিজম আমাদেরকে প্রতিভাহীন একটা প্রজন্ম 'উপহার' দিতে যাচ্ছে আগামীতে।

24/06/2025

আমাদের প্রিন্ট মিডিয়া ও সোশাল মিডিয়া যেভাবে মিথ্যা অনুপ্রেরণা ও সফলতার গল্প দিয়ে শিক্ষার উদ্দেশ্যকে বিকৃতভাবে তরুণদের মাথায় গেঁথে দিচ্ছে তা দেশের অগ্রগতির জন্য সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

আমাদের সফলতার গল্পগুলো প্রধানত সরকারি চাকুরিতে যোগদান, বিসিএস ক্যাডার হওয়া, দরিদ্র পরিবার থেকে ঢাকা মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া - এই ধাঁচের হয়ে থাকে। এই গল্পগুলো সত্যিকারের অনুপ্রেরণার চেয়ে আবেগনির্ভর বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার বিষয়ক জনপ্রিয় কন্টেন্টগুলো হল আপস্কিলিং, ড্রপ-আউট সাকসেস, টেক ক্যারিয়ার, স্টার্টআপ ফাউন্ডার ইত্যাদি।
এই যে তরুণদের স্বপ্ন দেখানোর জায়গাটাতেই আমরা এত পিছিয়ে, যার ফলে সফলতার সংজ্ঞাটা আমাদের সংস্কৃতিতে এত বাজেভাবে বদ্ধমূল হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুলনাটা হয়তো অসম হয়ে গেছে বলবেন। একই ভৌগলিক অঞ্চলের সিংগাপুরের কথা বলি। তাদের সরকারি চাকুরির উদ্দেশ্য যেখানে বৈশ্বিক প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, সেখানে আমাদের সরকারি চাকুরির উদ্দেশ্য হল পরিবারের মান রক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। আমরা মাল্টিনেশনাল কোম্পানিতে উচ্চ বেতনের চাকুরির স্বপ্ন দেখি আর তারা প্রযুক্তিতে গ্লোবাল লিডার হতে চলেছে।

আমি নবম ও দশম শ্রেণিতে যখন পড়তাম, নিয়মিত প্রথম আলোর লেখাপড়া বিষয়ক পাতা থেকে পেপার কাটিং করে সংরক্ষণ করতাম। সেই পাতার মূল ফোকাস ছিল পরীক্ষায় ভাল ফলাফল। কি ধরণের প্রশ্ন আসতে পারে, কিভাবে উত্তর লিখলে বেশি মার্ক পাওয়া যাবে। অর্থাৎ আমাদের জাতীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ শিক্ষিতরাও সঠিক পথ দেখাতে পারছে না। কার সন্তান কত উন্নত স্কুলে পড়ছে আর কার সন্তান পরীক্ষায় কত ভাল ফলাফল করেছে এটাই আমাদের গর্বের প্রধান বিষয়বস্তু। সারাদেশের ১% ছাত্রছাত্রীও তাদের লেখাপড়ার উদ্দেশ্য কী, তা জানে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

দায়ীদের মধ্যে অনেক কিছু থাকলেও বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রভাব অনেক বেশি। আজকের পত্রিকা খোলে দেখেন, সরকারি চাকুরির ফলাফল ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হল সবচেয়ে জনপ্রিয় টপিক।
বাচ্চা লালনপালন করেও কোন ছাত্রী পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুযোগ পেয়েছে, দরিদ্র বাবার সন্তান আজ ঢাবিতে ভর্তি হয়েছে - এই ধরনের আবেগী গল্পগুলো শোনতে সুন্দর লাগলেও এগুলো তরুণদের সাইকোলজিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে।

১০০ বছর আগে আমরা বিশ্বমানের বিজ্ঞানী উৎপাদন করেছি আজ ২০২৫ সালে এসে এসব ভুয়া সফলতার গল্প জাতিকে খাওয়ানোর জন্য? আজকের উন্নত বিশ্বের ছাত্রদের চিন্তাভাবনা দেখলেও অবাক লাগে। কে কিভাবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজের স্থানকে আরো টেকসই করবে এই প্রতিযোগিতায় সবাই, আর এই একই বয়সে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা চাকুরির জন্য গাইড কিনে প্যারাগ্রাফ মুখস্ত করছে।

বাচ্চার মাথায় যত বেশি তথ্য (ইনফরমেশন) দিব বাচ্চার মেধা ও প্রতিভা তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।আমাদের দেশে বহুদিন ধরে একটা ধারণা আম...
30/05/2025

বাচ্চার মাথায় যত বেশি তথ্য (ইনফরমেশন) দিব বাচ্চার মেধা ও প্রতিভা তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আমাদের দেশে বহুদিন ধরে একটা ধারণা আমরা পোষণ করে আসছি যে, যে বাচ্চা বেশি জানে সেই বাচ্চা মেধাবী। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই আমরা তাদেরকে এত বেশি জিনিস শিখাই যে তা প্রতিনিয়ত তার সৃষ্টিশীলতাকে বাধাগ্রস্থ করছে।

ঢাকার বেশিরভাগ বাচ্চারা নাকি ৫ বছর বয়সে লিখতে, পড়তে জানে। এই বয়সে নাকি তারা পরীক্ষা দিয়ে স্কুলে চান্স পেতে হয়! বাচ্চাদের পড়ালেখার জন্য মা বাবারা বিভিন্ন ফেসবুক ও হোয়াটস আপ গ্রুপেও খুব এক্টিভ থাকেন। কোমল মস্তিষ্কগুলো কত ভয়ঙ্করভাবে অঙ্কুরে নষ্ট করা হচ্ছে। বাচ্চাদের মস্তিষ্ক কিভাবে কাজ করে যদি তা জানত আমি নিশ্চিত তারা এগুলোর পেছনে দৌড়াত না। আমার মাঝেমধ্যে মনে হয় ঢাকার বাচ্চারা এই বয়সে যতটুকু পড়ালেখা করে ও জানে পৃথিবীর কোন দেশের বাচ্চারাও এতটুকু জানে না। অথচ আমরাই জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় পিছিয়ে।

৬ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চারা অনুসন্ধান, কাজ, প্রশ্ন, চেষ্টা, বারবার ব্যর্থ হওয়া, আবিষ্কার ইত্যাদির মাধ্যমে শিখবে। আপনার সরাসরি ইনপুট তার মস্তিষ্ককে অকেজো করে দিচ্ছে। এটা শতভাগ প্রতিষ্ঠিত স্টাডি যে, যেসব দেশে যত কম বয়সে ফরমাল স্টাডি ইন্ট্রডিউস করা হয় সেইসব দেশের বাচ্চারা তত কম সৃজনশীল। আমাদের শিক্ষাবিদ ও আইনপ্রণেতারা এগুলো নিয়ে একেবারেই ভাবেন না।

প্রতিনিয়ত তথ্য প্রদান করে আমরা বাচ্চাদের নিজস্ব চিন্তাশক্তিকে সীমিত করে ফেলছি৷ আপনার বাচ্চা 'এ' ফর আপল, 'বি' ফর বল থেকে 'জেড' ফর জিব্রা পর্যন্ত বললেই সে মেধাবী হয়ে যায় নি। সে যদি মাটি দিয়ে একটা আপেল বানাতে পারে তাহলে সেটার জন্য অধিক খুশি হোন; সে যদি বলে "আম্মু বি ফর বল কেন বলল, বার্ডও তো হয়" তাহলে বুঝে নিন তার চিন্তাশক্তি কাজ করছে। কিংবা সে ফোনেটিক জানেই না, 'বি' দিয়ে বল হয় না ক্যাট হয় জানে না। কিন্তু বল, ঘনক, ত্রিভুজ ইত্যাদি আকৃতিগুলো সে আলাদাভাবে সর্টিং করতে পারে, তাহলে বুঝে নিন তার মস্তিষ্কের নিউরনগুলো ভালভাবেই নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করছে, ফলে সে সক্রিয়ভাবে চিন্তা ও কাজ করতে পারছে।
বাচ্চার মস্তিষ্ককে ইনফরমেশন দিয়ে ব্যস্ত না রেখে তাকে প্রকৃতি দিন, খেলনা দিন, এবং সাথে স্বাধীনতা। তাকে না শিখিয়ে কৌতুহলী করে তুলুন। তার ফলে হয়তো শহরের সবচেয়ে নামীদামী স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবে না, কিন্তু এর ফল ভবিষ্যতে পাবেন, তা নিশ্চিত।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট এলিসন গপনিক যিনি তার জীবনের বড় একটা অংশ কাটিয়েছেন বাচ্চাদের কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে গবেষণা করে, তিনি একবার টেড টকে বলেছিলেন, "বাচ্চারা খালি পাত্র নয় যে আপনি ইনফরমেশন ও ফ্যাক্ট দিয়ে তাকে পূর্ণ করবেন। বরং তারা সক্রিয় শিক্ষানবিশ। তারা এক্সপ্লোরেশন ও ইন্টারেকশনের মাধ্যমে নিজে জ্ঞান তৈরি করে।"
আপনি তার হাতে সিলেবাস তুলে দিলে সে তার চিন্তাভাবনা বন্ধ করে দিবে। রোবটের মত সিলেবাস থেকে ইনপুট নিবে আর আউটপুট দিয়ে আপনাকে ও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে খুশি করবে। এই রোবটিক আউটপুট দিয়ে শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায়, জাতির পরিবর্তন সম্ভব হয় না।

৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের মস্তিষ্কের ৯০% নিউরনের আর্কিটেকচার পূর্ণ হয়ে যায়। তাই ৫ বছর বয়সী মস্তিষ্কের উপর নির্ভর করে এই মানুষ তার বাকি জীবনে কী করবে। আর এই নিউরনের জাল তৈরি হয় পড়ালেখার মাধ্যমে নয়, বরং স্বাধীনভাবে খেলাধুলা, অনুসন্ধান ও চিন্তাভাবনার মাধ্যমে।

আমার বড় ছেলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাতে মোবাইল হাতে নিতে পারি না। ঘুমানোর সময় ডিভাইস দূরে রেখে তাকে বই পড়ে শুনাই। প্রথমে খু...
15/01/2025

আমার বড় ছেলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাতে মোবাইল হাতে নিতে পারি না। ঘুমানোর সময় ডিভাইস দূরে রেখে তাকে বই পড়ে শুনাই। প্রথমে খুব উৎফুল্ল থাকে, বই দেখে দেখে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে, তারপর ধীরে ধীরে চোখে ঘুম নেমে আসে। রুটিনটায় এতই অভ্যস্ত হয়েছি যে প্রায় সময় একইসাথে আমারও ঘুম চলে আসে।
সপ্তাহে একদিন হাসপাতালে থাকতে হয়। আজ সেই দিন। একটু আগে খবর নিয়ে জানলাম সে এখনো বিছানায় খেলনা নিয়ে ব্যস্ত। আমি ঘরে থাকলে এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়ত।
আমরা ছোটবেলায় মোবাইল ফোন পাই নি, খুব বেশি খেলনাও পাই নি। ঘুমানোর সময় কেউ একজন গল্প শোনাত বা গুনগুন করে গান শোনাত। আমাদের কল্পনার রাজ্য ছিল বিশাল। এখন বাচ্চারা কল্পনা করার সময়ই পায় না, রঙিন পর্দার সামনে সবকিছু ভেসে উঠে। ডিভাইস কল্পনাশক্তিকে কেড়ে নিয়েছে।

আইনস্টাইনের খুব বিখ্যাত একটা উক্তি "কল্পনা হল জ্ঞানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।"
মা বাবা হিসেবে বাচ্চাদের চিন্তা করার শক্তি, কল্পনা করার শক্তি বৃদ্ধি করা আমাদের সবচেয়ে বড় একটি দায়িত্ব।

আমরা ছোটবেলা যখন 'তিন গোয়েন্দা' পড়তাম তখন পঠিত প্রতিটি ঘটনা কল্পনায় ভেসে উঠত। এই কল্পনা অনেক শক্তিশালী ছিল। মুভি দেখার চেয়েও অধিক স্পষ্ট ছিল কল্পনার দৃশ্যগুলো। মুভিতে আমরা সেটাই দেখতে বাধ্য থাকতাম যা ডিরেক্টর বানায়, আর কল্পনায় আমরা নিজেরাই একেকজন ডিরেক্টর।

আমি আমার ছেলের মাকে একটা কথা প্রায়ই বলে থাকি, "স্ক্রিনটাইম হল আকর্ষণীয় চোখের খাদ্য। আর মস্তিষ্কের খাদ্য হল চিন্তা ও কল্পনা। বাচ্চাকে চোখের খাদ্য দিয়ে ব্যস্ত রাখলে মস্তিষ্ক তার পর্যাপ্ত খাদ্য পাবে না।"

মিডিয়া লিটারেসির অভাবে আমাদের উপমহাদেশ অদূর ভবিষ্যতে খুব সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে গৃহ...
18/09/2024

মিডিয়া লিটারেসির অভাবে আমাদের উপমহাদেশ অদূর ভবিষ্যতে খুব সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে গৃহযুদ্ধ কিছুই বাকি থাকবে না। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলামে ছোট একটা অধ্যায় যোগ করলেই এই সমস্যাটা রোধ করা সম্ভব হত।

পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলাম হল ফিনল্যান্ডের। ফিনল্যান্ডের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিডিয়া লিটারেসি খুব গুরুত্ব দিয়ে শেখানো হয়। তাদের শিক্ষকগণ ফেইক নিউজ ও ফেইক সিনারিও বানিয়ে পাওয়ারপয়েন্টে তা উপস্থাপন করেন। ছাত্রছাত্রীরা সেগুলো দেখে সনাক্ত করে থাকে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা। কোনটা কেন সত্য বা মিথ্যা তার ব্যাখ্যাও দিতে হয়। ফিনল্যান্ডের বাচ্চাদের খুব ছোট বয়স থেকেই নিরাপদ ইন্টারনেট ও যথাযথ সোশাল মিডিয়ার ব্যবহার শেখানো হয়। ফলে তারা গুজব ও প্রোপাগান্ডা চিহ্নিত করতে পারে, স্টেরিওটাইপ চিন্তাভাবনাগুলো আলাদা করতে পারে এবং অন্যের বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখে।

এই শিক্ষার ঘাটতির একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল ২০১২'র রামু তাণ্ডব। সোশাল মিডিয়ায় কিছু দেখলে আমরা যাচাই করার জন্য সময় নেই না। এ,আই দিয়ে বানানো ছবিতে লিখি মাশা'আল্লাহ, অমত হলে দেই গালি, আর মাঝেমধ্যে গুজবের উপর ভিত্তি করে ঘটে বিশাল তাণ্ডব। সম্প্রতি আওয়ামী সরকার পতনের পর ভারতের মত বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ইস্যুতে যে পরিমাণ গুজব রটানো হয়েছে তা থেকে আরো স্পষ্ট আমাদের উপমহাদেশে মিডিয়া লিটারেসির কি ভয়ঙ্কর মাত্রার ঘাটতি, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সঙ্কট তৈরি করতে পারে।

বিগত সরকারের সময় আইসিটি বিষয়টা কারিকুলামে যোগ করা হয়েছিল। ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি বিষয়ে অনেক কিছু শেখানো হয়েছে, কিন্তু ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারের শিক্ষা দেয়া হয় নি। বেসিক জ্ঞানের ব্যাপারে আমরা সব সময়ই পিছিয়ে থাকি। তাই আইসিটি বিশেষজ্ঞ হয়েও অনেকের সোশাল মিডিয়ায় অবিশ্বাস্য রকমের ইনএপ্রোপ্রিয়েট কর্মকাণ্ড আমরা দেখতে পাই। ইন্টারনেট হাতে তুলে দেয়ার আগে তাই মিডিয়া লিটারেসি বিষয়ে পাঠদান খুব জরুরি।

ফিনল্যান্ড মিডিয়া লিটারেসিকে তাদের নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মনে করে থাকে। হ্যাপিনেস ইনডেক্সে শীর্ষে থাকা এই দেশটি তাই পৃথিবীর অন্যতম শান্তিপূর্ণ একটা দেশ৷ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির সাথে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারসাম্য আনয়ন না করলে আগামীতে বিপদ অবশ্যম্ভাবী।

শিক্ষা ব্যবস্থা দুই দিনে পরিবর্তন হয়ে যাবে তার জন্য অপেক্ষা বা আশা করে লাভ নাই। তাই আপনার সন্তানকে আপনি নিজ উদ্যোগে মিডিয়া লিটারেট করে তুলুন। পর্যাপ্ত ম্যাটারিয়াল সংগ্রহ করে আপনার সন্তানকে ইন্টারনেট-নির্ভর পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করে ফেলুন।

ডা. সাইফুর রহমান
১৮/০৯/২৪

Address

Sylhet

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Saifur Rahman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category