20/07/2026
আইনস্টাইন, নিউটন, এডিসন, টেসলা, ম্যারি কুরি, হকিং কেউই ৬ বছর বয়সের আগে লিখতে না শিখলেও ঢাকার সবগুলো কেজির বাচ্চারা ৪ বছরের আগেই লিখা ও পড়া শিখে ফেলে।
মস্তিষ্কের প্রতিটি অংশের বয়সভিত্তিক প্রতিটি বিকাশ ব্যহত হচ্ছে এই কাজগুলোর জন্য। এই বিজ্ঞানটা বিস্তারিত লিখলে আপনারা পড়বেন না তা খুব সহজেই অনুমেয়। এতটুকু বলে রাখি, জানুয়ারিতে অনেকেই বাচ্চাকে কেজিতে দিবেন, পরীক্ষায় ভাল ফলাফল ও টপ রোলে রাখার লোভ সামলান তাহলেই আপনার বাচ্চা বড় কিছু হবে।
MIT, Harvard, Stanford, American Association of Pediatrics এর লেটেস্ট সবগুলো শিশু মস্তিষ্ক ও শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা বলছে কাগজে কলমে লিখা ও পড়া শেখানোর ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ৫.৫ বছর, এর একদিন আগে শেখালেও মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যহত হবে।
খুব কষ্ট লাগে এটা দেখে যে, আমাদের কেজিগুলো বাচ্চাদের মস্তিষ্ককে একেবারে অঙ্কুরে ধ্বংস করে ফেলছে।
প্যারেন্টিংকে নিজেদের ও বাচ্চাদের উভয়ের জন্য স্ট্রেসফুল বানিয়ে ফেলেছি। অথচ প্যারেন্টিং কত সহজ। প্রতিদিন ১ ঘন্টা বাচ্চার সাথে গল্প করুন, ১ ঘন্টা খেলাধুলা করুন, ১ ঘন্টার জন্য বাইরে নিয়ে যান, ১ ঘন্টা তাকে নিয়ে বই পড়ুন (পড়া শেখাতে যাবেন না আবার! জাস্ট নিজে পড়ুন, সে শুনবে), ১ ঘন্টা তার সমবয়সী বাচ্চাদের সাথে মিশতে দিন, ঘুমানোর আগে ১০-১৫ মিনিট তাকে সময় দিন, ঘুম থেকে উঠার পর আবার ১০-১৫ মিনিট তাকে দিন।
এই সাড়ে ৫ ঘন্টা মা বাবা দুই জন মিলে দিলে জনপ্রতি আড়াই ঘন্টার কিছু বেশি হবে। ঘরে দাদা দাদি বা ফুফু থাকলে হয়তো আরো কমে আসবে। এইটুকুও আমরা পারি না! বাচ্চার জন্য তো ঠিক এতটুকুই প্রয়োজন।
অথচ কিসব হাবিজাবি আজগুবি ট্যালেন্ট বানানোর মেথড এপ্লাই করে নিজেদের জীবন কঠিন বানাচ্ছি, বাচ্চাদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছি।
ডা. সাইফুর রহমান
১০.১২.২৫