22/05/2026
ধর্ষণের শিকার শিশুটির অসহায় পিতার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। বর্তমান আইন অনুযায়ী, উনার জীবদ্দশায় হয়তো এ ঘটনার বিচার হবে না। গত দশ বছরে যতগুলো রেপের ঘটনা ঘটেছে, বিশ্লেষণ করুন, কতগুলো ঘটনার বিচার হয়েছে? সিলেটের এমসি কলেজে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের আপডেট কি কেউ জানেন? বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পপতি মরহুম লতিফুর রহমান চৌধুরী। তার মতো একজন প্রভাবশালী মানুষকে ও তার কন্যার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় বছরের পর বছর অপদস্ত হতে হয়েছে। এ দেশে পরিবারে কেউ ধর্ষণের শিকার হওয়ার মানে হল, পুরো পরিবার সামাজিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে, সম্মানের দিক থেকে সম্পূর্ণভাবে পর্যদস্ত অবস্থায় চলে যাওয়া। তাই ধর্ষণের শিকার খুব অল্প সংখ্যক মানুষই আইনের আশ্রয় নেন। আইনের আশ্রয় না নেওয়ার কারণেই উল্টো ধর্ষণকামীরা আরো ধর্ষণে উৎসাহিত হয়।
বাংলাদেশে ধর্ষনের ব্যাপকতা দিন দিন ভীষণভাবে বাড়ছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, শ্রীলতাহানির যে রিপোর্টগুলো মিডিয়ায় আসছে,, তা ঘটনার বিশাল সংখ্যার সামান্য অংশ মাত্র। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, যাদের মেয়ে শিশু আছে, তাদের পরিবার পরিজন সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। পুরো সমাজই যেন মেয়েদের লাঞ্ছনার জন্য মুখিয়ে আছে। বাংলাদেশে আমাদের একাডেমিক শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা কোনটাই ধর্ষণের মত অপরাধকে মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়। ছোটকাল থেকেই এক ধরনের বিকৃত মানসিকতা নিয়ে ছেলেশিশুরা বড় হচ্ছে। শৈশব থেকেই শেখানো হচ্ছে মেয়েরা ভোগের বস্তু। কোন কোন মাদ্রাসার হুজুররা আরেকটা এগিয়ে। তারা বলেন, মেয়েরা অনেকটা তেঁতুলের মত। দেখলে জিহবায় পানি আসে। যাদের জিহবায় পানি আসার অভ্যাস রয়েছে, তারা যে কোন মেয়েকে দেখলেই মুখের জল ঝরায় , সেই মেয়ে হিজাবী হোক আর না হোক। আর কোন বেপর্দা মেয়ে থাকলে তো কথাই নেই।
ইংল্যান্ডে বাংলাদেশী তরুন যুবাদের একটি সমস্যাকে চিকিৎসকরা একটি রোগ নামে অভিহিত করেছেন –রোগের নাম” বাংলাদেশি ধাতু সিনড্রোম”। এমনকি এ রোগের নাম টেক্সট বুকেও চলে এসেছে। এ সিনড্রমে দেখা যায়, বাংলাদেশের ছেলেরা পাশ্চাত্য সমাজে চলাফেরার সময় খুব দ্রুত বীর্য স্খলনের সম্মুখীন হয়। যুবকরা এটাকে ধাতুরোগ বলে অভিহিত করে ঘন ঘন চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন এবং ভিটামিন সহ নানা ধরনের প্রতিকার আশা করেন। এ নিয়ে লন্ডনে গবেষণা হয়েছে। চিকিৎসকরা এজন্য শুধুমাত্র পশ্চিমা মেয়েদের সংক্ষিপ্ত পোশাককে দায়ী করেননি, মূলত দায়ী করেছেন বাংলাদেশের পারিবারিক, সামাজিক শিক্ষা, মেয়েদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, পূরন ধাচের লাইফস্টাইলকে।
আমি তিন কন্যা সন্তানের পিতা। আমি অকপটে স্বীকার করছি, বাংলাদেশের কোন জায়গায় আমি মেয়েদের জন্য নিরাপদ কোন বেড়ানোর জায়গা পাইনি। সারা বাংলাদেশই যেন বখাটে দ্বারা পরিপূর্ণ।
আমেরিকা, কানাডা বা পাশ্চাত্যের দেশগুলো মেয়েদের জন্য স্বর্গ, সেটা আমি বলবো না। তবে সেখানে প্রতিটি মানুষের সম্মান আছে, সে মেয়ে হোক বা ছেলে হোক। মধ্যরাতে কোন মেয়ে নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে বা হেঁটে ঘরে ফিরতে পারবে, আক্রান্ত হবে না এ নিশ্চয়তা রয়েছে।
আমাদের দেশে লক্ষ কোটি ধার্মিক মানুষ আছেন, মসজিদগুলোতে নামাজীর অভাব নেই কিন্তু নিজের চোখের পর্দাশিক্ষা কোথাও নেই। যদি ও আমাদের ধর্মগ্রন্থে এ বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের ধর্মচর্চার সবচেয়ে নেতিবাচক দ্বিক হচ্ছে, আমাদের জনগণের একটি বিরাট অংশের অর্থ না বুঝে নামাজের সূরা ও তসবি পাঠ করা। যেহেতু ইসলাম কোন তন্ত্রমন্ত্র নয়,একটি সম্পূর্ণ জীবন বিধান, তাই না বুঝে ধর্মচর্চার সুযোগ নেই। ধর্মচর্চা থেকে দেশে নৈতিকতাবোধ যথেষ্ট ভাবে তৈরি না হওয়ার অন্যতম কারণ এটাই।
চোখের মধ্যে পর্দা না থাকলে, নারীকে সম্মান করতে না শিখলে– সমাধান সম্ভব নয়। পারস্পরিক পর্দা বজায় রেখে ছেলে এবং মেয়েরা একসাথে গঠনমূলক কাজে অংশ নিতে ধর্মে বাধা হওয়ার কথা নয় । এতে মেয়েদের প্রতি ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হবে। হঠাৎ কোনো বেগানা মেয়ে দেখলে ছেলেদের ভেতর যে অনিয়ন্ত্রিত আবেগ চলে আসে, তা কমে আসবে।
তবে দেশে ধর্ষণের সংখ্যা কমাতে গেলে আশু কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে, খুব সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে শাস্তি কার্যকর করা। এদেশে এক সময় এসিড সন্ত্রাস বেড়ে গিয়েছিল। এসিডের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার পরপরই ম্যাজিকের মতো এটি কমে যায়।
আমরা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রকাশ্যে কয়েকটি কঠিন শাস্তি দেখতে চাই।
।।।।।।।মোহাম্মদ হাই ২১।০৫।২০২৬।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।