10/10/2026
মূর্তিপূজার কেন্দ্রবিন্দু ও শয়তানের আস্তানা:
পূজামণ্ডপে গমন ও জ্বীন-যাদুর অদৃশ্য বিপদ সম্পর্কে সতর্কবার্তা।
পূজার মৌসুমে অনেক মুসলিম অজ্ঞতাবশত বা নিছক কৌতূহল মেটাতে পূজামণ্ডপে ঘুরতে যান, আনন্দ উপভোগ করেন কিংবা পরিবেশ দেখতে যান। অথচ একজন মুমিনের জানা প্রয়োজন যে, যেখানে সরাসরি আল্লাহর সাথে শিরক করা হয় এবং মূর্তির সামনে সিজদা ও বলি দেওয়া হয়, সেই জায়গাগুলো শুধু ঈমান বিধ্বংসীই নয়; বরং তা দুষ্ট জ্বীন, শয়তান ও খবিস শক্তির সবচেয়ে বড় কেন্দ্রস্থল।
১. মূর্তিপূজার স্থানে দুষ্ট জ্বীন ও শয়তানের সমাবেশ
কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনানুযায়ী, যেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্তা, মূর্তি বা প্রতিমার উপাসনা করা হয়, সেখানে শয়তান ও অবাধ্য জ্বীনরা প্রবলভাবে অবস্থান নেয়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
﴿إِنْ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا إِنَاثًا وَإِنْ يَدْعُونَ إِلَّا شَيْطَانًا مَرِيدًا﴾
অর্থ: "তারা আল্লাহকে ছেড়ে কেবল কিছু দেবীরই পূজা করে; প্রকৃতপক্ষে তারা কেবল অবাধ্য শয়তানেরই উপাসনা করে।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৭)
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: প্রতিটি মূর্তির সাথে শয়তান যুক্ত থাকত, যা এদের পূজারীদের কাছে নানা রূপে আত্মপ্রকাশ করত এবং বিভ্রান্ত করত।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর পূজা বা গায়রুল্লাহর কাছে প্রার্থনার স্থানগুলোতে অবাধ্য শয়তানরা একত্রিত হয়, সেখানে অবস্থান করে এবং মানুষকে গুমরাহ করার জন্য নানাবিধ বিভ্রান্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করে।
২. পূজার পরিবেশ ও যাদু-তান্ত্রিকতার সংশ্লিষ্টতা
যাদু (সিহর) এবং অপশক্তির মূল উৎস হলো কুফর, শিরক ও শয়তানের আনুগত্য।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
﴿هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَى مَنْ تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينُ تَنَزَّلُ عَلَى كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ﴾
অর্থ:"আমি কি তোমাদের জানাবো কার ওপর শয়তানরা অবতীর্ণ হয়? তারা তো অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপীর ওপর।" (সূরা আশ-শুআরা, আয়াত: ২২১-২২২)
পৌত্তলিক ধর্মীয় আচার ও তান্ত্রিক ক্রিয়াকর্মের সময় গায়রুল্লাহর নামে উৎসর্গ, ধূপ-ধোঁয়া এবং মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে শয়তানি শক্তিকে আহ্বান করা হয়।
যারা ঈমানী দিক থেকে দুর্বল, নিয়মিত যিকির-আযকার ও সালাত আদায় করে না, এমন মুসলিমরা যখন এসব শিরকী আড্ডায় যায়, তখন তারা খুব সহজেই দুষ্ট জ্বীনের নজর, আছর বা যাদুর প্রভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
৩. আল্লাহর গযব ও অসন্তুষ্টি নাযিলের স্থানে উপস্থিত হওয়ার পরিণতি
খলীফাতুল মুসলিমীন উমর ইবনুল খাত্তাব দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন:
«لَا تَدْخُلُوا عَلَى الْمُشْرِكِينَ فِي كَنَائِسِهِمْ يَوْمَ عِيدِهِمْ، فَإِنَّ السَّخَطَ يَنْزِلُ عَلَيْهِمْ»
অর্থ: "তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিনগুলোতে তাদের উপাসনালয়ে প্রবেশ করো না; কারণ নিশ্চয়ই সেই সময় তাদের ওপর আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও গযব নাযিল হতে থাকে।" (সুনানুল কুবরা লিল-বায়হাকী)
যেখানে সার্বক্ষণিকভাবে আল্লাহর লানত ও ক্রোধ বর্ষিত হয়, সেখানে বিনোদনের উদ্দেশ্যে যাওয়া নিজের ঈমান ও আত্মিক সুরক্ষাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল।
৪. মুসলিমদের জন্য কঠোর সতর্কতা
১.পূজামণ্ডপ ও শিরকের স্থান বর্জন করুন:
নিছক আলোকসজ্জা দেখতে বা কৌতূহলবশত গেলেও তা শিরকের আসরে উপস্থিতির শামিল, যা কুরআনুল কারীমে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে বর্জন করতে বলা হয়েছে।
২.পরিবার ও সন্তানদের রক্ষা করুন:
অনেক অভিভাবক শিশুদের হাত ধরে পূজার মেলায় নিয়ে যান। শিশুদের সুরক্ষা ঢাল দুর্বল থাকায় তারা খুব সহজেই শয়তানি শক্তির কুপ্রভাব ও বদনজরে শিকার হতে পারে।
৩.ঈমানী সুরক্ষার আমল বাড়ান:
তাওহীদের ওপর অবিচল থাকা, মসজিদে জামাআতে সালাত কায়েম রাখা, সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন দুআ পড়া এবং আয়াতুল কুরসী তিলাওয়াত করার মাধ্যমে শয়তান ও দুষ্ট জ্বীনদের সব ধরনের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
অতএব, সামাজিক সম্প্রীতির নামে আল্লাহর নাফরমানি ও শিরকী উৎসবে শরিক হয়ে নিজের আত্মা, পরিবার ও ঈমানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকুন।
Written: Raqi Ahmad Abdur Rahman
হিজামা প্ল্যানেটঃ কাপিং এন্ড রুকইয়াহ সেন্টার (সিলেট ব্রাঞ্চ)
প্রো-হোয়াইট ডেন্টাল সার্জারি, ছয় তলা, আখতার শপিং সিটি, পাঠানটুলা মদিনা মার্কেট, সিলেট- সুনামগঞ্জ হাইওয়ে, সিলেট- ৩১০০।
মোবাইল 01896-510.002