26/05/2026
এই বিষাক্ত সময়ে চলুন একটু বুক ফুলিয়ে আড্ডা দেওয়া যাক। তবে আড্ডাটা হাসাহাসির নয়, আড্ডাটা এক বুক হাহাকার আর নির্মম সত্যের।
আজকাল যখন কোনো রেস্তোরাঁর সামনে দিয়ে যাই, দেখি এক ঝাঁক নিষ্পাপ শিশু রঙিন মোড়কে ঢাকা ফাস্ট ফুড কিংবা জাংক ফুড খাচ্ছে। তাদের মুখে হাসি। কিন্তু এই হাসির আড়ালে যে কত বড় একটা অন্ধকার লুকিয়ে আছে, তা কি আমরা টের পাচ্ছি? এই চকচকে খাবারগুলোর মোড়কে মূলত এক শ্রেণীর জালিম ব্যবসায়ী আমাদের সন্তানদের একটু একটু করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা খাবারের নামে স্লো-পয়জন বিক্রি করছে, আর আমরা ভাবছি, বাচ্চা আমার আধুনিক সমাজে বড় হচ্ছে। এ খাবারগুলো না খেলে তো আবার আধুনিক হওয়া যায় না।
কী অদ্ভুত, তাই না?
গল্পটা এখানেই শেষ হলে অন্তত সান্ত্বনা থাকতো। কিন্তু লোভের জিহ্বা তো অনেক বড়। এই জালিমরা তো থাবা বসিয়েছে একেবারে কোলের শিশুদের খাবারেও। বাজারে যে নকল আর মেয়াদোত্তীর্ণ এত এত শিশু খাদ্য দেদারসে বিক্রি হচ্ছে, তা কি কোনো সুস্থ ব্যবসায়ীর কাজ হতে পারে?
মা-বাবারা বুক ভরা ভরসা নিয়ে, পকেটের শেষ পয়সাটা খরচ করে সন্তানের জন্য যে কৌটোটা কিনে আনছেন, তারা জানেনও না—সেখানে ভালোবাসার বদলে লুকিয়ে আছে এক নিরেট প্রতারণা।
ওটসের নামে এই কোন বিষ?
আজকাল স্বাস্থ্য সচেতন মা-বাবাদের প্রথম পছন্দ ওটস। বাচ্চার পুষ্টির কথা ভেবে অনেকেই সকাল কিংবা বিকালের নাস্তায় এটা রাখছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনি আসলে আপনার সন্তানকে কী খাওয়াচ্ছেন?
আমি যদি বলি, এই দেশের ৯৫% ওটসের মান যদি আজ সততার সাথে যাচাই করা হয়, তবে একটা ওটসও পাস করতে পারবে না—আপনি কি খুব অবাক হবেন? হওয়া উচিত নয়। কারণ, ভেজালের এই ভিড়ে শুদ্ধতা এখন এক ডুমুরের ফুল।
চমকে ওঠার মতো একটা তথ্য দেই। BCAIR-এর ল্যাবের একটা সাম্প্রতিক পরীক্ষার রিপোর্ট দেখলাম SA টিভিতে। রিপোর্টটা দেখে আমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেছে। বিশ্বাস করুন, সেখানে দেখা গেছে,আমাদের বাজারের ওটসের মাত্র ১ গ্রামে পাওয়া গেছে:
৬৩ হাজার ব্যাকটেরিয়া❗
৩৮ হাজার ছত্রাক❗
আমি কিন্তু পুরো এক বাটি কিংবা এক কেজির কথা বলছি না। ভালো করে খেয়াল করুন—মাত্র ১ গ্রাম ওটসের ভেতর এই পরিমাণ বিষাক্ত জীবাণু কিলবিল করছে! যে খাবারটা সন্তানের পেটে গিয়ে পুষ্টি দেওয়ার কথা ছিল, সেটা গিয়ে তার লিভার, কিডনি আর পাকস্থলীকে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে।
আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি যেখানে টাকার লোভ মানুষের বিবেককে গিলে খেয়েছে। শিশুদের মুখের গ্রাস নিয়ে যারা এভাবে ছিনিমিনি খেলে, তাদের মানুষ বলাও মানুষের জন্য অপমান।
এদের বিরুদ্ধে আমাদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আর সবশেষে, এই অসহায়ত্ব নিয়ে সেই মহান সত্তার দরবারেই হাত তুলে বলতে হয়— হে আল্লাহ, এই নরপশু, জালিমদের আপনি হেদায়েত না থাকলে ধ্বংস করে দিন। আমাদের অবুঝ, নিষ্পাপ সন্তানদের এদের বিষাক্ত হাত থেকে হেফাজত করুন।
বি:দ্র: ঈদ পরবর্তী সময়ে ছোট্ট সোনামণিদের নিয়ে জাংক ফুড বনাম হেলদি ফুড নিয়ে ওয়েবিনারটি আয়োজন করবো ইন শা আল্লাহ।
Jahid Hasan vai
#শিশুখাদ্য #জাংকফুড #খাদ্য