27/03/2023
প্র১: আয়রন ট্যাবলেট কখন খাবো?
উঃ খালি পেটে ভালো কাজ করে, তবে কারো যদি বমি ভাব হয়,তখন খাবারের পর।
২. কোন কোন খাবার আয়রন ট্যাবলেটের সাথে খাবো না?
উঃ চা, কফি
দুধ
এন্টাসিড
ক্যালসিয়াম
ট্যানিন জাতীয় খাবার - আঙ্গুর, স্ট্রবেরী, ওয়াইন ইত্যাদি
ব্রাউন ব্রেড,চাল
৩. কেনো অনেকসময় আয়রন খেয়েও কাজ হয় না?
উঃ Malabsorption.
--হজমের সমস্যা জনিত রোগ থাকলে
--সঠিক পরিমানে প্রোটিন খাবার না খেলে
--আলসার থাকলে
--ব্লিডিং জনিত রোগ থাকলে
৪. কি কি খেলে আয়রন ট্যাবলেট দ্রুত শরীরে কাজ করবে??
উঃ ভিটামিন সি জাতীয় খাবার --কমলা, মাল্টা, আমলকি, টক জাতীয় ফল বা সি ট্যাবলেট।
--ভিটামিন-এ
--পর্যাপ্ত প্রোটিন খাবার - মাছ,মাংস,ডাল।
৫.শুধু মাএ আয়রন জাতীয় খাবার খেলেই কি anaemia বা রক্তশূন্যতা ঠিক হবে??
উঃ এসব খাবার পুরোপুরি ঠিক করতে পারে না। পরিমানে কম গ্রহন করে শরীর,খাবার থেকে।
৬. আয়রন ট্যাবলেটে শরীর কষা হবে কি?
উঃ হা, পায়খানার রং বাদামি বা কালোও হতে পারে। কারণ যতটুকু খাই আয়রন, শরীরের সবটা থাকে না।( ১০%--১৫% কাজ করে)বাকিটা শরীর কষা করে।
৭. কি করতে হবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে?
উঃ পাশাপাশি ফাইবার বা আঁশ যুক্ত খাবার খেতে হবে।
-পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
-প্রয়োজনে laxative নিতে হবে।
৮. বাচ্চা পেটে থাকতে কেনো জরুরি আয়রন খাওয়া??
উঃ বাচ্চা কিন্তু মায়ের শরীর থেকে সব নিয়েই নেয়, মা এর সুস্থতার জন্য আয়রন খুবই দরকার।তবে খেয়াল রাখবেন, ক্যালসিয়াম ট্যাবলেটটা যেনো ভিন্ন সময় খাওয়া হয়। কমপক্ষে দুইঘন্টা ব্যবধান রাখতে হবে।
৯.বাচ্চা হবার পর কি আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া বন্ধ করে দিবো??
উঃ অবশ্যই না।
কারণ, ডেলিভারিতে এবং পরবর্তী সময়ে যে ব্লিডিং হয়, তাতে রক্তশূন্যতা বাড়তে পারে মায়ের।
১০. বুকের দুধে কি আয়রন থাকে??
উঃ না, একদমই থাকে না।
১১.তাহলে বাচ্চার হিমোগ্লোবিন ঠিক রাখতে কি করতে হবে?
উঃ ছয় মাস বয়স থেকে বুকের দুধ এর পাশাপাশি রুটিন করে আয়রন জাতীয় খাবার রাখতে হবে। এখন আয়রন ফর্টিফাইড দুধও পাওয়া যায়। বুকের দুধ বন্ধ করলে সেগুলো দেওয়া যাবে।
১২. বাচ্চার খাবারে আয়রন ট্যাবলেট ভেঙে দেওয়া যাবে কি??
উঃ অবশ্যই না।এতে বাচ্চার বমি ভাব, পেট ব্যাথা হবে।
১৩. তাহলে কোনটা ভালো বাচ্চাদের?
উঃ মনিমিক্স বা এই জাতীয় নিউট্রেন্ট পাউডার দেশে পাওয়া যায়। সেগুলো পরিমিত ভাবে এড করতে পারেন ।
১৪. ঘন ঘন নখ ভেঙে যায় বাচ্চার? সমস্যা কি?
উঃ একদম কমন সমস্যা হলো, আয়রন কমে গেছে বাচ্চার।
১৫. কাদের আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া উচিত না?
উঃ লিভার এর সমস্যা আছে এমন রোগীর
-থ্যালাসেমিয়া
-গ্যাস্ট্রিক আলসার
- কিডনির বড় কোনো রোগে
- কোনো বড় ইনফেকশন থাকলে
১৬. কাদের আয়রন বেশি দরকার?
- ৬ মাস থেকে দুই বছরের বাচ্চাদের
- পিরিয়ড চলছে,এমন বয়সী মেয়েদের
- গর্ভাবস্হায়
-বাচ্চা হবার পর কমপক্ষে তিন মাস
- আয়রনের অভাব জনিত রোগে
- যারা পেশাগত athletes
১৭. পুরুষ নাকি মহিলা কাদের বেশি আয়রন ঘাটতি হয়?
উঃ মহিলাদের
১৮. কেনো ছেলেদের কম এই সমস্যা ?
উঃ পুরুষদের রক্তে হিমোগ্লোবিন বেশি থাকে স্বাভাবিক ভাবে।
-- শরীরে স্টোরেজটাও বেশি ছেলেদের
-- মহিলাদের পিরিয়ডের জন্য, প্রতিমাসে অনেক কমে যায় আয়রন, যা পুরুষদের হয় না।
১৯. কতদিনের মধ্যে আয়রনের অভাব জনিত সমস্যার কষ্ট কমতে পারে??
উঃ সাধারণত ৫-৬ দিনের মধ্যেই শরীরে পরিবর্তন আসা শুরু হয়। ৪-৫ সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগুলোর উন্নতি হয়।
২০.সবসময়ই কি তাহলে আয়রন খেতেই হবে?
উঃ অবশ্যই না।
অতিরিক্ত আয়রন আমাদের ক্ষতি করে। তাই কারন জেনে, রক্ত পরীক্ষা করে এবং ডাক্তারের পরামর্শ মতো আয়রন ট্যাবলেটের ডোজ এবং সময়সীমা জেনে খেতে হবে।