Shaheen's Clinic

Shaheen's Clinic This is the page of the medical center called 'Shaheen's Clinic' established and managed by In 2016, he completed the P.G.

Dr. Shaheen Mahmud was born on July 11, 1972, in a village called Rampur in Tangail, Bangladesh. After finishing school life, he passed textile engineering in the first grade but later resumed his studies in homeopathy due to his love for medicine and his constant interest in human service and truth. He completed the DHMS course from Gazipur Homoeopathic Medical College and Hospital in 2012. Then

he completed PDT (Hom) from Bangladesh Homeopathic Foundation. Later, in addition to completing a Diploma in Children's Studies & Diploma in Psychology, he participated in online training and certificate courses on Genes and Genetic Technology, Food- Nutrition and Health, & Good Clinical Practice. (Hom)- London course under the Hahnemann College of Homeopathy, located in London, United Kingdom. And since then he has been practicing as a General Physician at Shaheen's Clinic in Tangail, Bangladesh. He is currently teaching as a Lecturer at Model Homoeopathic Medical College and Hospital, Mauna, Gazipur, Bangladesh. In addition, he has been working as the editor of the renowned homeopathic Web-Journal 'Homeodigest' for the betterment of the homeopathic educational system and the community. He is also a regular contributor to various magazines and online portals. So far he is the author of several books and several more are in the pipeline. . He has been nominated as a member of the National Treatment board and committee, constituted for the treatment of Covid-19. The names of his books published:
1. হোমিওপ্যাথিক কেইস টেকিং ও ফলো আপ ম্যানেজমেন্ট
2. হোমিওপ্যাথিক শিক্ষাসঙ্কট: শিক্ষার্থী ও নবীন চিকিৎসকদের উত্তরনের পথ
3. কভিড-১৯ এর হোমিওপ্যাথিক আরোগ্যপদ্ধতি
4. হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপত্রের প্রকার ও প্রকরণ

To know more about Shaheen Mahmud ............Please visit...
Website: https://homeodigest.com/
Youtube: https://www.youtube.com/c/Homeodigest/

চলমান শাহীন’স ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম....💼০৬/০৭/২০২৬ ঈসায়ী
06/07/2026

চলমান শাহীন’স ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম....💼
০৬/০৭/২০২৬ ঈসায়ী

28/06/2026

A recently confirmed clinical symptom of Argentum nitricum from my daily practice:

Re**al pain - stitching type - during sleep

Headache, during sleep

Jerking sensation of the head during sleep

Dr. Shaheen Mahmud
28/06//2026

Send a message to learn more

[ডা. বিরাজ শাহ কর্তৃক নেয়া প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাসের ৩ পর্বের ইন্টারভিউটির সম্প্রতি প্রকাশিত ২য় পর্ব। এমন মূল্যবান কথা, অভ...
26/06/2026

[ডা. বিরাজ শাহ কর্তৃক নেয়া প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাসের ৩ পর্বের ইন্টারভিউটির সম্প্রতি প্রকাশিত ২য় পর্ব। এমন মূল্যবান কথা, অভিজ্ঞতা ও ডিরেকশন আলোচনাটিতে উঠে এসেছে যে, হোমিওপ্যাথি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যক্তি-সহ সাধারণ মানুষদেরও হোমিওপ্যাথির সত্যিকার রূপটাকে বুঝতে এটা পড়া উচিৎ]

ইন্টারভিউ: What it means to be a healer? [2nd Episode]
অনুবাদ: Dr. Shaheen Mahmud

ডা. বিরাজ শাহ: প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস একজন প্রখ্যাত ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, যিনি এই শতাব্দীতে ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি ধারাকে নতুন করে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি হোমিওপ্যাথির একজন অধ্যাপক, একজন শিক্ষক, একজন চিন্তাবিদ ও একজন গবেষক; এক কথায় তাকে বলা যায় শিক্ষকদের শিক্ষক। আমরা আজ ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিতে এসেছি তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নিতে এবং হোমিওপ্যাথি অঙ্গনে তাঁর পথচলা ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন করতে। তো চলুন, প্রফেসরের কাছ থেকে কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া যাক। আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনি প্রায়শই আপনার লেখা ‘সায়েন্স অব হোমিওপ্যাথি’ (Science of Homeopathy) বইটির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে থাকেন, যা আপনি ১৯৭৮ সালে লিখেছিলেন। বইটির এখন পর্যন্ত ৩৭টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। আমি আপনার কাছে এই বইটি এবং ‘লেভেলস অব হেলথ’ (Levels of Health) বা স্বাস্থ্যের স্তর বিন্যাস নিয়ে জানতে চাই—স্বাস্থ্যের স্তর নিয়ে অবশ্য পরে কথা বলব—তবে এই ‘সায়েন্স অব হোমিওপ্যাথি’ বইটি এখন পর্যন্ত বহু প্রজন্মের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের পথ দেখিয়েছে। সেই সময়ে কী আপনাকে এই বইটি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিল? আর আপনি কি তখন ভেবেছিলেন যে হোমিওপ্যাথিক সমাজের ওপর এর প্রভাব এতটা দূরপ্রসারী হবে?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: হ্যাঁ, আসলে হয়েছিল কী—১৯৭৬ সালে এথেন্সে ‘ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব দ্য লিগা’ অনুষ্ঠিত হয়। সেই কংগ্রেসের পাশাপাশি সময়ে আমি প্রথমবারের মতো একটি ছোট দলকে আমন্ত্রণ জানাই, যেখানে আমি হোমিওপ্যাথির বিজ্ঞান এবং এটি নিয়ে আমার নিজস্ব তত্ত্ব ও চিন্তাভাবনাগুলো শেয়ার করি। মূলত সেই সুযোগেই আমি স্বাস্থ্যের বিভিন্ন স্তর এবং অন্যান্য থিওরিগুলো নিয়ে কথা বলা শুরু করেছিলাম।

ডা. বিরাজ শাহ: কিন্তু যেভাবে এই বইটি পরবর্তী প্রজন্মের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের গড়ে তুলেছে, সেই প্রভাবটাকে আপনি কীভাবে দেখেন? আপনি কি তখন এমন কিছু অনুমান করতে পেরেছিলেন?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: প্রভাবের কথা যদি বলেন, আমি ঠিক জানি না। এটা আসলে আমার ব্যক্তিত্বের একটা বৈশিষ্ট্য বা স্বভাব বলতে পারেন। আমার স্বভাবটা এমন যে, যখন যা করার দরকার তা করে ফেলি, কিন্তু পরে আর সেটা নিয়ে মেতে থাকি না, ভুলে যাই। আমি ওটার পেছনে লেগে থাকি না, কারণ আমার মনে হয় সামনে আরও নতুন চ্যালেঞ্জ আছে এবং নতুন চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমাকে আমার পুরো শক্তি ও মনোযোগ সেখানে দিতে হবে। তাই বইটির প্রভাব কতটা ছিল তা নিয়ে আমি ওভাবে সচেতন ছিলাম না; যদিও এটি আমেরিকার একটি বড় প্রকাশনা সংস্থাসহ বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল। আমার কখনো মনে হয়নি যে আমি খুব বড় কিছু করে ফেলেছি, কারণ একবার বইটা লেখা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমার কাছে সেই অধ্যায় ওখানেই শেষ।

ডা. বিরাজ শাহ: ঠিক আছে, ধন্যবাদ। সেই বইটিতে আপনি ‘সাসেক্টিবিলিটি’ (Susceptibility) বা রোগপ্রবণতা নিয়ে কথা বলেছেন। আপনি বলেছেন যে, যেখানে রোগপ্রবণতা থাকে সেখানেই রোগ নিজেকে প্রকাশ করে। আপনার কি মনে হয় রোগপ্রবণতা সম্পূর্ণ একটি জৈবিক (biological) বিষয়?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: হ্যাঁ, একেবারেই। এটি পুরোপুরি একটি জৈবিক বিষয় এবং এটি পুরো অর্গানিজম বা শরীরের ভেতরের এমন এক অবস্থা যা বংশগত বা জন্মগত প্রবণতা (hereditary predisposition) দ্বারা নির্ধারিত হয়। এরপর আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর যে ধকল বা চাপ যায়, তার ওপর ভিত্তি করে এটি শরীরে নতুন নতুন রোগপ্রবণতা তৈরি করে। শরীরে যত বেশি ধকল যাবে, আগে থেকে থাকা জন্মগত রোগপ্রবণতাগুলো তত বেশি জটিল ও মারাত্মক রোগ হিসেবে প্রকাশ পাবে।

ডা. বিরাজ শাহ: আপনি আপনার বইতে এবং আপনার শিক্ষাদানে কেস টেকিং (Case taking) বা রোগী লিপিকরণের গুরুত্ব নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। আপনি বলেছেন যে, হোমিওপ্যাথদের কোনো শর্টকাট বা সংক্ষিপ্ত উপায়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, বরং পুরো কেসটি বিস্তারিতভাবে নেওয়া উচিত—যা আপনি নিজেও আপনার অসংখ্য রোগীর ক্ষেত্রে করে এসেছেন। ‘সায়েন্স অব হোমিওপ্যাথি’ বইতেও আপনি জোর দিয়ে বলেছেন যে কেস টেকিং একটি শিল্প এবং একটি প্রক্রিয়া। তো একজন রোগীকে সঠিকভাবে বোঝার জন্য বা ভালো কেস টেকার হওয়ার জন্য বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি একজন হোমিওপ্যাথের আর কী কী গুণ থাকা দরকার?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: হ্যাঁ, আমি বুঝতে পেরেছি। আচ্ছা, সবচেয়ে প্রধান বিষয় হলো—একজন হোমিওপ্যাথকে, বিশেষ করে, একদম ‘খালি মন’ নিয়ে (পূর্বধারণা ছাড়া) রোগীর কথা শোনা শিখতে হবে। হোমিওপ্যাথির জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো কোনো পূর্বধারণা বা সংস্কার নিয়ে বসে থাকা। যেমন—আপনি রোগীকে একটা নড়াচড়া করতে দেখলেন বা একটা নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে বসতে দেখলেন, আর সাথে সাথে আপনার মাথায় কিছু ওষুধের নাম চলে এলো—এভাবে ভাবাটা একটি ভালো কেস টেকিংয়ের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একটি ভালো কেস টেকিংয়ের মানে হলো, চিকিৎসক নিজেকে পুরোপুরি শান্ত করবেন এবং রোগী কী বোঝাতে বা প্রকাশ করতে চাচ্ছেন - তা কোনো রকম পক্ষপাত ছাড়া মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং উপলব্ধি করবেন। আমি মনে করি, এই গুণটি অর্জন করা বেশ কঠিন।

আমি এর ওপর যতটা সম্ভব জোর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার মনে আছে, আমি যখন আমেরিকায় ছিলাম, তখন নিউরো-লিঙ্গুইস্টিকস নিয়ে কাজ করা একটি দল একটি কেস স্টাডি করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা দেখতে চেয়েছিল রোগী দেখার সময় চিকিৎসকের ব্রেনের অবস্থা কেমন থাকে। তারা ব্রেন রিডিংয়ের সব যন্ত্রপাতি ফিট করল এবং আমি একটি কেস নিলাম। পরে আশেপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা যখন জানতে চাইল যে আমার ব্রেনে কী ঘটছিল বা ব্রেন কীভাবে কাজ করছিল, তখন তারা (গবেষকরা) হেসে বলল, "উনার তো কোনো ব্রেনই নেই!" তারা কেন এমন বলল? কারণ রোগী দেখার সময় আমার মন এতটাই শান্ত ও নীরব ছিল যে ব্রেনে কোনো অতিরিক্ত আলোড়ন বা চিন্তা তৈরিই হয়নি। এই ঘটনাটি আমার আগের বিশ্বাসকেই প্রমাণ করেছিল—রোগীর কষ্ট বা সমস্যার কথা কোনো রকম পূর্বধারণা বা পক্ষপাত ছাড়া শুনতে হবে।

ডা. বিরাজ শাহ: আচ্ছা, আপনি বললেন যে কনফারেন্সে আপনি বইটির পাশাপাশি ‘লেভেলস অব হেলথ’ বা স্বাস্থ্যের স্তরের ধারণাটি দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্যের স্তরের এই মডেলটি তৈরি করার পেছনে আপনার কোন ক্লিনিক্যাল জটিলতা বা হতাশা কাজ করেছিল?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: ওষুধ দেওয়ার পর রোগীরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিল, তা আমার মনে একটা কৌতূহল তৈরি করে। আমি দেখতাম একেকজন রোগী একেক রকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। কেস নেওয়ার সময় আমার উদ্দেশ্যই থাকত রোগীকে শান্ত করা, যাতে সে তার ভেতরের অনুভূতিগুলো স্পষ্ট করে বলতে পারে। কিন্তু রোগী যা প্রকাশ করত, তা সবসময় কোনো একটি নির্দিষ্ট ওষুধের স্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তুলত না। দেখা যেত আমি একটি ওষুধের চিত্র পাচ্ছি, কিন্তু পাশাপাশি এমন কিছু লক্ষণও রয়ে যাচ্ছে যা হয়তো পরবর্তীতে চিকিৎসা করতে হবে।

এই পর্যবেক্ষণ থেকেই আমার মনে হলো স্বাস্থ্যের একটা ধারাবাহিক স্তর বা ধাপ রয়েছে। স্বাস্থ্যকে আমি স্থির কিছু হিসেবে দেখতে পাইনি। আমার কাছে মনে হতো রোগীর অবস্থা যেন একটা রশির ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো, যেখানে প্রতি মুহূর্তে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয় এবং যেকোনো সময় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। আমি এমন রোগীও দেখেছি যাদের চিকিৎসা করা হয়েছে এবং তারা যখন ফলো-আপে এসেছে, তাদের সঠিক ওষুধই দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার মধ্যেই আমি এমন কিছু নির্দেশক লক্ষণ দেখতে পেতাম যা তার আগের স্বাস্থ্য অবস্থাকে ধরে রেখেছিল। এই সমস্ত পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা থেকেই আমার মাথায় স্বাস্থ্যের স্তর বিন্যাসের (Levels of Health) ধারণাটি আসে।

ডা. বিরাজ শাহ: আপনি আপনার ‘লেভেলস অব হেলথ’ বইতে জ্বর এবং বিশেষ করে ইনফ্লামেশন বা প্রদাহের প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। আমরা তো বলতেই পারি যে জ্বর আসলে আমাদের জন্য এক ধরণের আশীর্বাদ। কিন্তু যেসব রোগী বা ডাক্তার জ্বরকে ভয় পান, আমরা তাদের কীভাবে সচেতন করতে পারি?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: জ্বর এমন এক আশীর্বাদ যা মানুষকে মেরেও ফেলতে পারে—এটাও পরিষ্কার থাকা ভালো! হ্যাঁ।

ডা. বিরাজ শাহ: কিন্তু যারা জ্বরকে ভয় পান, সেই রোগী আর ডাক্তারদের আমরা কীভাবে বোঝাব?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: যাদের চিকিৎসার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই, সাধারণ মানুষের কাছে জ্বর আসলেই একটা ভীতিকর বিষয়। তবে একজন ভালো শিশু বিশেষজ্ঞ বা একজন ভালো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বুঝবেন কোন জ্বরটা মারাত্মক এবং সেটির বিশেষ যত্ন দরকার, আর কোন জ্বরটা শরীরের ভেতরটা পরিষ্কার করে রোগমুক্ত হতে সাহায্য করছে। আমি জ্বরের এই গুরুত্বটা বুঝতে পেরেছিলাম। বাবা-মায়েরা যে জ্বর আসার সাথে সাথেই তা ওষুধ দিয়ে থামিয়ে দেন এবং জ্বরটাকে তার নিজের গতিতে বাড়তে দেন না, এটি যে কতটা ভুল তা আমি উপলব্ধি করেছি। এই সব কিছুই আসলে অসংখ্য রোগী দেখা, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং মনের ভেতর আসা নানা চিন্তাভাবনাকে গুছিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।

আমার মনে হয়েছিল হোমিওপ্যাথি একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থা, যা প্রচলিত চিকিৎসার চেয়ে আলাদা এবং এই নিরাময় পদ্ধতির নিজস্ব কিছু নিয়ম আমাদের খুঁজে বের করতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্মের কাছে তা একদম নিখুঁতভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়। অবশ্যই আমাদের এখনো অনেক প্রশ্ন আছে, অনেক অসুবিধা আছে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। অন্তত আমি চেষ্টা করছি, যদিও আমি শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি, তাও আরও বই পড়ার এবং আরও নতুন কিছু জানার কৌতূহল আমার এখনো আছে।

ডা. বিরাজ শাহ: আপনি ‘সায়েন্স অব হোমিওপ্যাথি’ বইতে পোটেনটাইজেশন (Potentization) বা ওষুধের শক্তিকরণ এবং ওষুধ প্রস্তুত প্রণালী নিয়ে লিখেছেন। আজ কোয়ান্টাম ফিজিক্স এবং বায়োফিল্ড গবেষণার সাহায্যে আপনি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন, যেখানে হোমিওপ্যাথিক উচ্চ শক্তিকৃত তরলে ওষুধের সূক্ষ্ম অস্তিত্বের প্রমাণ দেখানো হয়েছে। এই গবেষণাটি সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: হ্যাঁ। আমার কাছে সবচেয়ে চমৎকার লেগেছিল যে, আমরা যেসব প্রযুক্তি বা ডিভাইস ব্যবহার করেছিলাম, সেগুলোর মাধ্যমে কম্পিউটারের পর্দায় ওষুধের সেই 'ছাপ' বা চিহ্নটি খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছিল। এটা ছিল একটা দারুণ আবিষ্কার! কারণ হোমিওপ্যাথির বিরোধিতাকারীরা সবসময় এই বলেই আক্রমণ করত যে, ওষুধটিকে এতটাই পাতলা বা ডাইলুট করা হয় যে সেখানে মূল উপাদানের আর কিছুই থাকে না। কিন্তু সাব-অ্যাটমিক বা উপ-পরমাণু স্তরে গিয়ে যখন আমরা অতি ক্ষুদ্র কণাগুলোর কথা চিন্তা করি, তখনই কেবল হোমিওপ্যাথিক ওষুধের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়—আর আমরা স্ক্রিনে সেই অস্তিত্বের ছাপ দেখাতে পেরেছি। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ হলো একটি অদৃশ্য কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী জিনিস।

ডা. বিরাজ শাহ: কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের কাছে এটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে যে, কোনো জিনিসে মূল উপাদানের বস্তুগত অস্তিত্ব না থাকার পরও তা কীভাবে কাজ করে। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, "যেখানে কিছুই নেই, সেটা কীভাবে কাজ করবে?"—তবে আপনি তাকে কী বলবেন?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: হ্যাঁ, আমি এই কথাটা জানি এবং যখনই তারা এই যুক্তি দেয়, আমি বেশ বিরক্ত হই। আমি তাদের বলি—"আসুন, আমি আপনার চিকিৎসা করি। তারপর আপনি কেমন বোধ করছেন তা নিজেই দেখে নিন এবং বুঝুন যে এই শক্তিকৃত ওষুধ কী করতে পারে।" কিন্তু এখন যেহেতু আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, আমরা স্ক্রিনে এটা দেখাতে পারছি এবং এটি একটি বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে—তাই 'কিছুই নেই' এমন বলার কোনো সুযোগ নেই। এটা এমন এক অস্তিত্ব যা যুগ যুগ ধরে ছিল। প্রাচীনকালের সংবেদনশীল বা সূক্ষ্ম অনুভূতিসম্পন্ন মানুষরাও এটি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

ডা. বিরাজ শাহ: আপনি পেপারটি নিয়ে বললেন এবং খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিলেন যে এই শক্তি একদম শুরু থেকেই ছিল। কিন্তু আপনার কী মনে হয়, মূলধারার বিজ্ঞান বা সমাজ এটিকে গ্রহণ করতে এত সময় নিচ্ছে কেন?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: সময় নিচ্ছে কারণ নতুন যেকোনো ধারণার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে; নতুন চিন্তাভাবনাকে মানুষ খুব ধীরে গ্রহণ করে। প্রথমে মানুষ উদাসীন থাকে, তারপর তারা এটাকে প্রত্যাখ্যান করে, এরপর এটা নিয়ে লড়াই বা বিরোধিতা করে এবং সবশেষে তারা মেনে নেয়। প্রতিটি নতুন আইডিয়াকেই এই চক্রের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। হোমিওপ্যাথির ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় লাগছে, তবে একই সাথে এটাও সত্য যে, আমি যখন ১৯৬০ সালে প্র্যাকটিস শুরু করেছিলাম, তখনকার চেয়ে এখন বিশ্বজুড়ে অনেক বেশি মানুষ হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করছেন। ১৯৬০ সালের দিকে সারা বিশ্বে হাতেগোনা কিছু মানুষ নিম্ন শক্তি (low potency) ব্যবহার করতেন, আর আজ সারা বিশ্বে উচ্চ শক্তির ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে এবং এর অভাবনীয় নিরাময়ের প্রমাণ মূলধারার মেডিকেল জার্নালগুলোতেও প্রকাশিত হচ্ছে।

ডা. বিরাজ শাহ: আপনি কি বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা এই পেপারটিকে ভিত্তি ধরে এই ক্ষেত্রে আরও গবেষণার দিকে এগিয়ে যাবেন? আপনি তাদের কীভাবে উৎসাহিত করবেন?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: আমি বিশ্বাস করি তারা এটা করবে। তবে ঠিক কীভাবে করবে বা কোন বিজ্ঞান এই দায়িত্ব নেবে তা আমি বলতে পারছি না। তবে নিশ্চিতভাবেই মানুষের শরীরের এনার্জি লেভেল বা শক্তি স্তরের ওপর ভিত্তি করেই আগামীদিনের এই অনুসন্ধানগুলো এগিয়ে যাবে।

ডা. বিরাজ শাহ: ঠিক আছে, এবার আমরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যাব, যা হলো—‘কন্টিনিউয়াম অব ইউনিফাইড থিওরি অব ডিজিজেস’ (Continuum of Unified Theory of Diseases)। কোন মূল ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ আপনাকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল যে, রোগের মধ্যে এক ধরণের ধারাবাহিকতা বা যোগসূত্র রয়েছে?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: আসলে অনেক সময় রোগীরা নিজেরাই এই কথা উল্লেখ করত যখন আমি তাদের জিজ্ঞেস করতাম। দেখা যেত তাদের অনেক লক্ষণ বা কষ্ট শুরু হয়েছিল কোনো একটি দুর্ঘটনার পর, অথবা কোনো বিষাক্ত কিছু খাওয়ার পর, কিংবা তীব্র জ্বর আসার পর যখন সেটাকে সাপ্রেস বা জোর করে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আবার অনেকের ক্ষেত্রে সিফিলিস বা গনোরিয়ার মতো ইনফেকশনের পর থেকেই স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছিল এবং সেই ইনফেকশনের দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তার প্রভাব শরীরে রয়ে গেছে। তবে সময়ের সাথে সাথে লক্ষণগুলো রূপ বদলায়; শুরুতে যে লক্ষণ ছিল, কয়েক বছর পর তা অন্য কোনো জটিল লক্ষণে রূপ নেয়।

এই সমস্ত বিষয়ই আমাকে এই সিদ্ধান্তে এনেছে যে, মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ঘটনার দ্বারাই ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী রোগগুলো জেগে ওঠে বা ট্রিগার হয়। এবং এই রোগের প্রভাব বছরের পর বছর শরীরে থেকে যায়, যতক্ষণ না তারা এমন একজন হোমিওপ্যাথের কাছে আসে যিনি রোগীর অতীতের ইতিহাস জানতে আগ্রহী এবং কেন এখন এই প্যাথলজি বা রোগ তৈরি হলো তা নিয়ে ভাবেন। আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থায় এই দিকটিকে ওভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। প্রচলিত চিকিৎসায় তারা বর্তমানে যা দেখছে, সেই রোগ বা প্যাথলজির শেষ ফলাফলটুকুর ওপর আক্রমণ করে। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে রোগ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, যা শুরু হয় কোনো মানসিক বা শারীরিক ট্রমা (আঘাত) থেকে, অথবা শরীরের ওপর অতিরিক্ত কেমিক্যাল ড্রাগের অপব্যবহার থেকে—যা আজকালকার তরুণরা একটু ‘হাই’ হওয়ার জন্য বা আনন্দের জন্য ব্যবহার করছে। এটা আসলে একটা টাইম বোমার মতো যা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে; কারণ এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্য নষ্ট হবে, মানুষ মানসিক ভারসাম্য হারাবে এবং সমাজে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।

ডা. বিরাজ শাহ: এই থিওরি অনুযায়ী, শৈশবে যদি কোনো তীব্র বা একিউট (acute) রোগকে সাপ্রেস বা চাপা দেওয়া হয়, তবে পরবর্তী জীবনে ক্রনিক বা বিধ্বংসী (degenerative) রোগ তৈরি হতে পারে। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে কোন প্যাটার্ন বা উদাহরণের মাধ্যমে এটি সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়? একজন হোমিওপ্যাথ কীভাবে বুঝবেন যে এই পয়েন্টেই রোগটি চাপা পড়েছিল এবং এটাই ক্রনিক রোগের কারণ?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: আমার মনে হয় না সাধারণ রোগী এটা পুরোপুরি বুঝতে পারে। রোগী বিভিন্ন কারণে কষ্ট পায় এবং সেই কষ্ট তার ডিফেন্স মেকানিজম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর একটা দাগ বা ক্ষত রেখে যায়। পরবর্তীতে যখন দ্বিতীয় বা তৃতীয় কোনো ট্রমা আসে, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এভাবেই পিতামাতার কাছ থেকে পাওয়া জন্মগত রোগপ্রবণতা এবং পরবর্তীতে নিজের জীবনের এপিজেনেটিক্স বা পারিপার্শ্বিক অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে একটি জটিল প্যাথলজি তৈরি হয়।

ডা. বিরাজ শাহ: আমি জানতে চাচ্ছিলাম, এই থিওরি ওষুধ নির্বাচন, কেস ম্যানেজমেন্ট বা রোগের পূর্বাভাস (prognosis) দেওয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে সাহায্য করে?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: এই থিওরি খুব সহজভাবে ব্যাখ্যা করে যে, কেন একজন রোগীর সুস্থ হতে ৫ বছর সময় লাগে আর অন্য একজন রোগী মাত্র ১ মাসেই ভালো হয়ে যায়। যার শরীরে একাধিক ট্রমা বা আঘাতের ইতিহাস আছে, তার শরীরের গভীরের স্তরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেই অর্গানিজমকে আবার সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবেই। বর্তমানের রোগটি যে অতীতের সমস্ত ঘটনারই একটা ফলাফল—তা বোঝার জন্যই এই থিওরির উপযোগিতা।

ডা. বিরাজ শাহ: আপনি যখন এই তত্ত্বটি সামনে এনেছিলেন, তখন নিশ্চয়ই অনেক ভালো মন্তব্যের পাশাপাশি কিছু সমালোচনাও পেয়েছিলেন। এত বছর পর এখন সেই সমালোচনাগুলোকে আপনি কীভাবে দেখেন?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: আমি বিষয়টিকে খুব ইতিবাচকভাবেই নিই, কারণ আমি আসলে সমালোচনাগুলোতে খুব একটা কান দিই না! যদি কোনো মানুষ সিরিয়াস বা আন্তরিক হন, তবে তিনি আমাদের কথাগুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করবেন। আর এমন একজন সিরিয়াস মানুষ যিনি সততার সাথে অনুসন্ধান করেন, তিনি সবসময়ই স্বাগত; কারণ গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমেই নতুন উন্নতি ও ভালো কিছু করা সম্ভব হয়।

ডা. বিরাজ শাহ: আপনি এই থিওরিতে শৈশব থেকে শুরু করে চিকিৎসকের কাছে আসা পর্যন্ত সময়ের একটি যোগসূত্র দেখিয়েছেন। কিন্তু আপনি সুস্থ সন্তান জন্মদানের বিষয়েও একটি ধারণা দিয়েছেন, যাকে আপনি কখনো কখনো "চিলড্রেন অব লাভ" বা ভালোবাসার সন্তান বলেন। প্যারেন্টিং বা সন্তান লালন-পালন এবং এই সুন্দর চিন্তাটি আপনার মাথায় কীভাবে এলো, তা নিয়ে যদি সংক্ষেপে কিছু বলতেন?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: দেখুন, এই চিন্তাটা আমার মাথায় আসার কারণ হলো আমি সাধারণত পুরো পরিবারের চিকিৎসা করতাম। প্রথমে পরিবারের একজন আসত, উপকার পেয়ে পরে পুরো পরিবারকে নিয়ে আসত। এর ফলে আমি একই বাবা-মায়ের বিভিন্ন সন্তানের স্বাস্থ্যের অবস্থা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি জানতে চাইতাম কেন একই পরিবারের একটি সন্তান এত শান্ত, সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ, আর অন্যটি একদম দুষ্টু বা অসুস্থ প্রকৃতির। আমি যখনই এটি নিয়ে অনুসন্ধান করতাম, তখন বাবা-মায়েরাই আমাকে জানাতেন যে—যে সন্তানটি বেশি সুস্থ ও শান্ত, তার গর্ভধারণের সময়কার পারিবারিক পরিস্থিতি ও মানসিক অবস্থা অন্য অসুস্থ সন্তানটির সময়ের চেয়ে অনেক ভালো এবং শান্তিপূর্ণ ছিল।

বাবা-মায়ের পারস্পরিক ভালোবাসা যে সন্তানের ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলে, তা আমি এই কঠিন পৃথিবীতে শিশুদের আসার ধরণ দেখে উপলব্ধি করেছি। আমার কাছে মানুষের অবয়ব বা স্বভাবের মধ্যে একটা ছন্দ বা হার্মনি থাকে, আর যখনই আমি এই সুন্দর ভারসাম্য দেখতে পাই, আমি তাদের জিজ্ঞেস করি, "আপনাদের কি মনে আছে তখন আপনাদের মানসিক অবস্থা কেমন ছিল?" তারা বলতেন যে তারা তখন একে অপরের গভীর ভালোবাসার মধ্যে ছিলেন। অন্যদিকে, যেসব শিশু নানা সমস্যা নিয়ে জন্মায়, তাদের পেছনের ইতিহাস ঘেঁটে আমি দেখেছি যে সেই সময়ে বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ বা অশান্তি চলছিল।

ডা. বিরাজ শাহ: আপনি আপনার জীবনে শত শত, হাজার হাজার কেস দেখেছেন। এখনো কি আপনি মানুষকে দেখে বা এই নিরাময় প্রক্রিয়া দেখে বিস্মিত হন?

প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস: দেখুন, মাঝে মাঝে—আসলে মাঝে মাঝে না, বহুবার আমি বলব—ওষুধের কার্যকারিতা এতটাই চমৎকার হয় যে এটিকে অলৌকিক বা মিরাকল মনে হয়। আর মিরাকল সবসময়ই আপনাকে একটা দারুণ আনন্দ ও স্বস্তি দেয়। বিস্মিত হওয়া বলতে আমি এই আনন্দঘন অনুভূতিটাকেই বুঝি, যখন দেখি একজন অসুস্থ মানুষ সুস্থ হয়ে আবার জীবনে ভারসাম্য ফিরে পেয়েছে। তখন তারা চিকিৎসকের প্রতি যে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তা আসলে একটি ভালোবাসার সমাজ তৈরি করে—ঘৃণার সমাজ নয়।

ডা. বিরাজ শাহ: এই সাক্ষাৎকারটি দেখার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং আমাদের এত সুন্দর একটি সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য আমরা প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাসের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির ক্ষেত্রে তিনি এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম। আমরা তাঁর কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আশাকরি নতুন প্রজন্ম তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির ច ক্ষেত্রে একেকজন সফল চিকিৎসক হিসেবে গড়ে উঠবেন। আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং ভিডিওটি উপভোগ করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আশা করি খুব শীঘ্রই প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাসের সাথে নতুন কোনো সাক্ষাৎকারে আমাদের আবার দেখা হবে। ধন্যবাদ।

শাহীন'স ক্লিনিক  |  ক্লিনিক্যাল সাফল্যের গল্পPCOS-এ আক্রান্ত ডিম্বাশয় যখন ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিতে পথ খুঁজে পায়[Clini...
22/06/2026

শাহীন'স ক্লিনিক | ক্লিনিক্যাল সাফল্যের গল্প

PCOS-এ আক্রান্ত ডিম্বাশয় যখন ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিতে পথ খুঁজে পায়

[Clinical Observation of Shaheen's Clinic: A fully documented case study]

Polycystic O***y Syndrome (PCOS):
একটি জটিল ও বহুমাত্রিক রোগ। এটি বর্তমান সময়ে প্রজনন বয়সী নারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত হরমোনজনিত ব্যাধিগুলোর একটি। বিশ্বব্যাপী প্রজনন বয়সী নারীদের প্রায় ৮–১৩% এই রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে মাতৃত্বের সামাজিক ও মানসিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, সেখানে এই রোগ কেবল শারীরিক নয়, গভীরভাবে মানসিক ও পারিবারিক সংকটও তৈরি করে।

PCOS কোনো একটি অঙ্গের সমস্যা নয় – এটি একটি systemic endocrine-metabolic disorder। এজন্য এর নতুন নামকরণ করা হয়েছে - PMOS. এতে একসাথে জড়িয়ে থাকে:

• ডিম্বাশয়ে একাধিক ছোট ছোট অপরিণত ফলিকল (antral follicles) জমে যাওয়া
• Androgen (পুরুষ হরমোন)-এর অতিরিক্ত নিঃসরণ – যা অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত চুলের বৃদ্ধি ও ব্রণের কারণ
• ডিম পরিপক্ব না হওয়া বা ওভ্যুলেশন বন্ধ হয়ে যাওয়া – যা বন্ধ্যাত্বের প্রধান কারণ হতে পারে
• Insulin resistance – দীর্ঘমেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়
• দীর্ঘস্থায়ী Anovulation-এ Endometrial Hyperplasia এবং এমনকি Endometrial Carcinoma-র ঝুঁকি

এলোপ্যাথিতে PCOS: চিকিৎসা কী আছে, কী নেই

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান PCOS-কে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ হিসেবে স্বীকার করে না। প্রচলিত চিকিৎসা মূলত লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ ও জটিলতা প্রতিরোধের উপর নির্ভরশীল:

• Oral Contraceptive Pills (OCP): মাসিক নিয়মিত করতে ও androgen নিয়ন্ত্রণে
• Metformin: Insulin resistance কমাতে
• Clomiphene Citrate বা Letrozole: Ovulation induction-এর জন্য
• Laparoscopic Ovarian Drilling (LOD): ওষুধে কাজ না হলে সার্জারির বিকল্প
• Lifestyle modification: ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম

এই চিকিৎসাগুলো অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর লক্ষণ ব্যবস্থাপনা প্রদান করে – এবং এই ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ওষুধ বন্ধ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে লক্ষণ ফিরে আসে। PCOS-এর অন্তর্নিহিত pathophysiology – অর্থাৎ কেন endocrine ব্যবস্থা এভাবে বিপর্যস্ত হলো – তার উপর সরাসরি কাজ করার কোনো প্রতিষ্ঠিত curative পদ্ধতি এলোপ্যাথিতে এখনও নেই।

রোগীর প্রাথমিক অবস্থা: সনোগ্রাফিক চিত্র

রোগী যখন প্রথমবার শাহীন'স ক্লিনিকে আসেন, তখন তার Ultrasonography of Whole Abdomen রিপোর্টে নিম্নলিখিত অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়:

লিভার: Mildly enlarged (mild hepatomegaly) সহ parenchymal echotexture-এ পরিবর্তন
ডান ডিম্বাশয়: আকার ৮.৯×৪.০ সেমি – স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড়
বাম ডিম্বাশয়: আকার ১০.৪×৩.৬ সেমি – আরও বেশি বর্ধিত
সনোগ্রাফিক প্যাটার্ন: উভয় ডিম্বাশয়ের পেরিফেরিতে সারিবদ্ধ একাধিক ক্ষুদ্র ফলিকল – 'String of Pearls' sign

রেডিওলজিস্টের মন্তব্য: "Suggestive of Polycystic Ovaries" – TVS-এর পরামর্শ প্রদান

ডিম্বাশয়ের এই বর্ধিত আকার, ফলিকলের সংখ্যা ও বিন্যাস মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুস্পষ্ট PCOS-এর sonographic presentation ছিল।

এই অবস্থায় রোগী শাহীন'স ক্লিনিকের ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আসেন এবং চিকিৎসা শুরু করেন।

প্রায় ১৫ মাস পরের চিত্র: সনোগ্রাফিক রিভার্সাল

চিকিৎসা শুরুর প্রায় ১৫ মাস পরের Ultrasonography of Whole Abdomen রিপোর্টে আমূল পরিবর্তন দেখা যায়:

লিভার: আকার ও echotexture সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কোনো focal বা diffuse lesion নেই
ডিম্বাশয়: উভয় o***y – আকার, আকৃতি ও অবস্থান সম্পূর্ণ স্বাভাবিক
জরায়ু: আকার স্বাভাবিক, myometrium homogeneous, endometrial echo স্বাভাবিক
Cul-de-sac: কোনো free fluid collection নেই

রেডিওলজিস্টের চূড়ান্ত মন্তব্য: "Normal study" – কোনো অস্বাভাবিকতার উল্লেখ নেই

পূর্ববর্তী রিপোর্টের string of pearls প্যাটার্ন, বর্ধিত ডিম্বাশয়, mild hepatomegaly – কিছুই আর নেই। রেডিওলজিক্যালি রোগীর ডিম্বাশয় একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অঙ্গে রূপান্তরিত হয়েছে।

ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই কেসটি কেন তাৎপর্যপূর্ণ
ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির মৌলিক নীতি হলো – রোগীকে রোগ হিসেবে নয়, সমগ্র ব্যক্তি হিসেবে দেখা। প্রতিটি রোগীর মানসিক, শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক লক্ষণের সমষ্টি থেকে তার Simillimum – অর্থাৎ সবচেয়ে উপযুক্ত একক ওষুধটি নির্বাচন করা হয়। Similia Similibus Curentur – সদৃশ সদৃশকে আরোগ্য করে – এই নীতি অনুযায়ী।

তবে এই কেসটি প্রমাণ করে না যে প্রতিটি PCOS রোগী একইভাবে বা একই সময়ে সাড়া দেবেন। প্রতিটি ব্যক্তির লক্ষণ-চিত্র ভিন্ন, এবং ফলাফলও ভিন্ন হতে পারে। এটি একটি একক পর্যবেক্ষণ, যা নিয়মিত ক্লিনিক্যাল মনিটরিং-এর মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে অর্জিত হয়েছে।

আমাদের বার্তা
PCOS-এ আক্রান্ত একজন নারীর কষ্ট কেবল শারীরিক নয় – এটি তার সন্তানধারণের স্বপ্ন, পরিবারের প্রত্যাশা এবং নিজের পরিচয়ের সাথেও গভীরভাবে জড়িত। শাহীন'স ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে এমন জটিল, বহুস্তরীয় রোগীদের নিয়ে কাজ করে আসছে – যেখানে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ-চিত্রকে কেন্দ্রে রেখে, Law of the Individual Remedy মেনে, একটি একক গভীরভাবে কার্যকর প্রেসক্রিপশন খোঁজা হয়। প্রতিটি রোগীর যাত্রা তার নিজস্ব – এবং সেই যাত্রায় ধৈর্য, নিয়মিত ফলো-আপ ও সৎ ক্লিনিক্যাল মনিটরিং অপরিহার্য।

❝ সঠিক ওষুধ মানে শুধু লক্ষণ চাপা দেওয়া কিংবা স্রেফ কিছু লক্ষণকে দূর করা নয়। সঠিক ওষুধ মানে শরীরকে তার নিজস্ব নিরাময়ের পথ দেখিয়ে দেওয়া। ❞

ডা. শাহীন মাহমুদ
হোমিওপ্যাথিস্ট, জেনারেল প্র্যাকটিশনার
শাহীন'স ক্লিনিক, ময়মনসিংহ রোড, বিশ্বাস বেতকা, টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ
যোগাযোগ: ০১৭৪৯১৬৮১১৯

***y #হোমিওপ্যাথি_চিকিৎসা #স্বাস্থ্যকথা #নারীস্বাস্থ্য

শাহীন'স ক্লিনিক অনলাইন ট্রিটমেন্ট সিস্টেম : এদেশের হোমিওপ্যাথিক ইতিহাসের একটি অধ্যায়(Shaheen's Clinic - Online Treatment...
19/06/2026

শাহীন'স ক্লিনিক অনলাইন ট্রিটমেন্ট সিস্টেম : এদেশের হোমিওপ্যাথিক ইতিহাসের একটি অধ্যায়
(Shaheen's Clinic - Online Treatment System)

অনলাইন হোমিওপ্যাথিতে আমাদের নিবেদিত প্রচেষ্টা

🩺 সেবা ও অভিজ্ঞতার দীর্ঘ পথচলা: বেশ কয়েকজন আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন আমরা অনলাইন চিকিৎসা প্রদান করি কিনা, কিংবা দূর থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন কিনা। তাদের অবগতির জন্য বলতে চাই—হ্যাঁ, আমাদের অনলাইন চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা রয়েছে।

মূলত, এদেশে আমরাই সর্বপ্রথম এটা নিয়ে দীর্ঘ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি কার্যকর সিস্টেম দাঁড় করাই। ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত আমরা ‘শাহীন’স ক্লিনিক টেলিমেডিসিন সিস্টেম’ নামের একটা প্রজেক্টের মাধ্যমে আক্ষরিকভাবেই আইডেন্টিফাই বা সুনির্দিষ্ট করার চেষ্টা করি—

❓ অনলাইনে ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি সম্ভব কিনা,

⚙️ সম্ভব হলে কীভাবে সম্ভব,

🚧 কী কী প্রতিবন্ধকতা আছে,

🎯 কোথায় প্রযোজ্য এবং কোথায় প্রযোজ্য নয়,

🛑 সীমাবদ্ধতা কী কী,

❌ কোন রোগীকে অনলাইনে চিকিৎসা দেওয়া যাবে না,

🔄 সবচাইতে স্মুথ কোন উপায়ে এই চিকিৎসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে,

🌐 ইন্টারনেট, যোগাযোগ ও ঔষধ ব্যবস্থাপনা কেমন হতে হবে,

💳 ফি সিস্টেম কেমন হওয়া উচিৎ,

📂 কোন উপায়ে রোগীর টেস্টের কাগজপত্র, ইমেজসহ অন্যান্য ডকুমেন্টস আদান-প্রদান সবচাইতে যৌক্তিক ও সুবিধাজনক হবে—ইত্যাদি শত-সহস্র ব্যাপার।

🔬 আমাদের সেবা গড়ে ওঠার পেছনের গল্প:

২০২৩ (প্রযুক্তির ছোঁয়া): আমরা নিজস্ব 'Shaheen’s Clinic' অ্যাপসও প্রবর্তন করি। সেটাও বাংলোদেশে হোমিওপ্যথিক চিকিৎসার জন্য তৈরি সর্বপ্রথম এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনলাইন অ্যাপস ব্যবহারের দক্ষতার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকায়—সেটিকে স্থগিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আবার হয়তো কখনো চালু করা হবে।

SCOP প্রজেক্ট ও বর্তমান সেবা: পরবর্তীতে SCOP (Shaheen’s Clinic Online Project) নামের একটা প্রজেক্ট দাঁড় করানো হয়। প্রজেক্টটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছিল—যাতে শিক্ষার্থীরা সেটা থেকে সরাসরি ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। তবে এদেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা ও আগ্রহের অভাবের দরুন প্রজেক্টটি এ বছরের শুরুর দিকে স্থগিত করা হয় এবং সমস্ত রোগীকে ক্লিনিকের সরাসরি অনলাইন ডিপার্টমেন্টে ট্রান্সফার করা হয়। যাদের অনেকে আজও অত্যন্ত সন্তুষ্টির সাথে আমাদের চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং আমাদের কাছে নতুন রোগী রেফার করছেন।

📈 দীর্ঘ শ্রমের ফসল ও আমাদের সাফল্যের গল্প:
আমাদের এই দীর্ঘদিনের আন্তরিক শ্রম, গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলস্বরূপ আজ আমরা দেশ এবং পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বহুবছর ধরে প্রদান করে আসছি। এই দীর্ঘদিনের শ্রমের ফসল হিসাবে আজকে আমাদের নিকট একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনলাইন চিকিৎসায় সাফল্যের ডকুমেন্টস সংরক্ষিত হয়েছে—যা আমাদের পেইজটির সাথে থাকলে আপনারা ধীরে ধীরে হয়তো জানতে পারবেন।

📢 একটি বিশেষ অনুরোধ: আপনারা আমাদের কাছ থেকে ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবেন, তবে অবশ্যই আপনাকে আমাদের দীর্ঘ গবেষণালব্ধ সিস্টেমটি ফলো করতে হবে।

⚠️ সতর্কতা: বর্তমান সময়ে মানুষের জীবন-যাত্রার অপরিহার্যতার দরুন বহুক্ষেত্রে অনলাইন চিকিৎসা প্রদান বিকল্পহীন। এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির দরুন অনলাইনে ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা প্রদান সম্ভবপর হয়ে উঠেছে। কিন্তু তারপরও সরাসরি এসে চিকিৎসা গ্রহণ সর্বাবস্থায়ই সর্বোত্তম। এছাড়া আমাদের চিকিৎসার দায়িত্বে নিজেদেরকে ন্যস্ত করলে- আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত সীমাবদ্ধতাগুলোর পর্যবেক্ষণ থেকে অনলাইন চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ হতে যে সতর্কতা ও নির্দেশনাগুলো রোগীদেরকে প্রদান করা হবে- সেগুলো অবশ্যই মেনে ও অনুসরণ করে চলতে হবে।

📞 বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন:
আমাদের online চিকিৎসা গ্রহণের নিয়ম ও বিস্তারিত প্রক্রিয়া জানতে বা যে কোনো তথ্যানুসন্ধানের জন্য কল করুন:

👉 মোবাইল: 01749169119

আপনার সুস্থতাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও সার্থকতা।

Shaheen's Clinic: Where Science and Compassion Drive Excellence in Homeopathic Care.

মানুষের মনস্তত্ত্ব বা মন বোঝার ব্যাপারে হ্যানিম্যানের এক অসাধারণ ক্ষমতা ছিল, যা একজন চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ...
18/06/2026

মানুষের মনস্তত্ত্ব বা মন বোঝার ব্যাপারে হ্যানিম্যানের এক অসাধারণ ক্ষমতা ছিল, যা একজন চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; মানুষের মন এবং তার ভেতরের তাড়নাগুলোকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার এই জ্ঞান সত্যিই অনন্য।

অথচ দেখে মনে হয়, আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের মানুষের মন বা স্বভাব নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণাও নেই।

তারা কখনো নিজেদের অন্তরে উঁকি দিয়ে দেখেননি, নিজেদের মন বা আবেগগুলোকে বোঝার চেষ্টা করেননি; বরং একরকম অন্ধ ও লাগামহীনভাবে জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন।

আসলে মানুষের মনকে ভালোভাবে চেনার প্রথম শর্তই হলো নিজের মনকে তলিয়ে দেখা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের ভেতর কেমন প্রতিক্রিয়া হয়, কোন পরিস্থিতিতে মানুষ কী করতে বাধ্য হয় এবং প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার জন্য নিজের ভেতরের কোন কোন আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি—সেগুলো সঠিকভাবে উপলব্ধি করাই হলো আসল জ্ঞান।

কোনো মানুষ যদি আত্মনিয়ন্ত্রণের তোয়াক্কা না করে কেবল নিজের খেয়ালখুশি বা মনের কামনা-বাসনা অনুযায়ী চলে, তবে সে কখনোই শ্রদ্ধার পাত্র হতে পারে না।

পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নিজের ভেতরের সেইসব আবেগ ও তাড়নাকে জয় করতে পেরেছে, সেই প্রকৃত সম্মান পাওয়ার যোগ্য।

[Lecture 25: The Examination of the Patient - continued, Lectures on Homoeopathic Philosophy]

হাসিমোতো থাইরয়ডাইটিস থেকে আরোগ্য ও তীব্র হাইপোথাইরয়েডিজমের বিস্ময়কর উন্নতি!নিভু নিভু থাইরয়েড গ্রন্থি যখন ধীরে ধীরে সচল ...
18/06/2026

হাসিমোতো থাইরয়ডাইটিস থেকে আরোগ্য ও তীব্র হাইপোথাইরয়েডিজমের বিস্ময়কর উন্নতি!
নিভু নিভু থাইরয়েড গ্রন্থি যখন ধীরে ধীরে সচল হয়ে ওঠে: একটি ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা
[Clinical Observation of Shaheen's Clinic: A fully documented case study]
থাইরয়েড গ্রন্থি ছোট হলেও এর কাজ বিশাল – বিপাকক্রিয়া (metabolism), হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, মানসিক স্থিতি ও প্রজনন স্বাস্থ্য – সবকিছুই এই গ্রন্থির হরমোনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু যখন শরীরের নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত এই গ্রন্থিকেই আক্রমণ করতে শুরু করে, তখন তৈরি হয় Hashimoto's Thyroiditis – একটি অটোইমিউন রোগ, যা ধীরে ধীরে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে Hypothyroidism-এর দিকে নিয়ে যায়।

রোগটি কতটা জটিল ও বিপদজনক?
চিকিৎসা না করালে বা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে দীর্ঘমেয়াদী হাইপোথাইরয়ডিজম রোগীর জীবনে বহু জটিলতা তৈরি করতে পারে – তীব্র ক্লান্তি, অনিয়ন্ত্রিত ওজন বৃদ্ধি, হৃৎস্পন্দন কমে যাওয়া, ডিপ্রেশন, বন্ধ্যাত্ব, এবং চরম অবহেলিত ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী Myxedema Coma পর্যন্ত হতে পারে। গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত হাইপোথাইরয়ডিজম গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই রোগকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।

এলোপ্যাথিতে চিকিৎসা: কী আছে, কী নেই
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে Hashimoto's Thyroiditis ও Hypothyroidism-এর জন্য প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা হলো Levothyroxine – একটি সিনথেটিক থাইরয়েড হরমোন, যা শরীরে হরমোনের ঘাটতি পূরণ করে। এটি একটি নিরাপদ, সুপ্রতিষ্ঠিত ও কার্যকর রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, যা বহু রোগীর জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি – Levothyroxine গ্রন্থির বিরুদ্ধে চলমান অটোইমিউন আক্রমণকে থামায় না, এটি কেবল তার ফলে তৈরি হওয়া হরমোনের ঘাটতি পূরণ করে। অর্থাৎ এটি একটি কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি, কিন্তু রোগের মূল কারণ – অটোইমিউন প্রক্রিয়াকে নিরাময়কারী (curative) কোনো প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা এলোপ্যাথিতে এখনও নেই।

আমাদের চিকিৎসাকৃত রোগীটির প্রাথমিক অবস্থা
আমাদের চিকিৎসাধীন এই রোগী যখন প্রথম আসেন, রিপোর্টে ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে:
থাইরয়েডের সিটোপ্যাথলজি (FNAC) রিপোর্টে thyroiditis-এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এবং প্যাথলজিস্ট নিজেই Hashimoto's Thyroiditis-এর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন। রেডিওলজি রিপোর্টেও উভয় লোবে hypoechoic পরিবর্তন এবং বর্ধিত vascularity দেখা যায়, যা thyroiditis-এর ডায়াগনোসিসকে নিশ্চিত করে।

রক্ত পরীক্ষায় হরমোনের মাত্রা ছিল চরম পর্যায়ে অস্বাভাবিক – TSH ছিল >১৫০ µIU/mL (স্বাভাবিক সীমা ০.৩৫–৫.৫০), অর্থাৎ স্বাভাবিকের প্রায় ৩০ গুণের বেশি। FT3 ছিল মাত্র ০.৯১ pg/mL এবং FT4 ছিল ০.২৪ ng/dL – উভয়ই স্বাভাবিক সীমার অনেক নিচে। এটি একটি সিভিয়ার প্রাইমারি হাইপোথাইরয়ডিজমের চিত্র।

এই অবস্থায় রোগী বেছে নেন ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা – শাহীন'স ক্লিনিকের পদ্ধতি।

সময়ের সাথে সাথে যা ঘটলো
প্রায় আড়াই বছর পরের আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে দেখা যায় – থাইরয়েড গ্রন্থির উভয় লোব ও isthmus স্বাভাবিক আকার, আকৃতি ও echotexture-এ ফিরে এসেছে, কোনো গঠনগত অস্বাভাবিকতা বা লেসন ছাড়াই। রিপোর্টে স্পষ্ট লেখা হয় – "Normal study।"
আরও প্রায় ৭–৮ মাস পর রক্তের রিপোর্টে দেখা যায় – FT3 (২.৪৮ pg/mL) ও FT4 (১.০২ ng/dL) সম্পূর্ণ স্বাভাবিক সীমায় ফিরে এসেছে। TSH নেমে এসেছে ৮.২৫ µIU/mL-এ – প্রাথমিক >১৫০ এর তুলনায় বিশাল উন্নতি। তবে সততার সাথে বলা জরুরি – এই মান এখনও প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাভাবিক সীমার (৫.৫০ পর্যন্ত) সামান্য বেশি, অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ আরোগ্য নয়, বরং একটি চলমান, ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া উন্নতি।

কেন এই কেসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে?
ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির একটি মৌলিক সূত্র হলো Hering's Law of Cure – আরোগ্য সবসময় গভীরতর স্তর থেকে উপরিভাগের দিকে এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের দিকে অগ্রসর হয়। এই কেসে আমরা ঠিক সেই ধারাটিই লক্ষ্য করি – প্রথমে গ্রন্থির গঠনগত (structural) পরিবর্তন স্বাভাবিক হলো, তারপর ধীরে ধীরে হরমোনের মাত্রাও স্বাভাবিকের দিকে অগ্রসর হলো। এটি কোনো আকস্মিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি ধারাবাহিক, যুক্তিসঙ্গত শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।

এই কেসটি প্রমাণ করে না যে প্রতিটি Hashimoto's থাইরয়ডাইটিসের রোগী একইভাবে বা একই সময়ে সাড়া দেবেন। আমাদের ক্লিনিকের অভিজ্ঞতা বলে প্রায় একই রকম তীব্র প্যাথলজি থেকে বহু দ্রুতও রোগী আরোগ্য পেয়েছেন- যা হয়তো পরবর্তী কোনো পোস্টে আমরা উপস্থাপন করবো। প্রতিটি রোগীর লক্ষণ-চিত্র ভিন্ন, এবং তাই চিকিৎসাও ভিন্ন হতে হয় – এটিই ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির Law of the Individual Remedy। আবার সব রোগী সমান নিয়মানুবর্তিতা নিয়েও তার চিকিৎসা গ্রহণ করেন না। তবে এটি দেখায় যে সঠিকভাবে নির্বাচিত, individualized প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী অটোইমিউন প্রক্রিয়াতেও ধাপে ধাপে, পরিমাপযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

আমাদের বার্তা
থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা যখন severe পর্যায়ে থাকে বা চিকিৎসক যখন Levothyroxine গ্রহণের পরামর্শ দেন, তখন তা নিজে থেকে বন্ধ বা পরিবর্তন করা উচিত নয়। ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি একটি সহায়ক ও সম্ভাবনাময় দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসাপথ হতে পারে, বিশেষত যারা রোগের মূল কারণে কাজ করতে চান – কিন্তু প্রতিটি রোগীর অবস্থা ও ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, এবং তা নিয়মিত মেডিকেল মনিটরিং-এর মাধ্যমেই নিশ্চিত করা উচিত।

❝ এটি কোনো ভাগ্যের খেলা নয়, এটি ধৈর্য, সঠিক প্রেসক্রিপশন ও শরীরের নিজস্ব নিরাময়শক্তির এক ধারাবাহিক সংযোগ। ❞

ডা. শাহীন মাহমুদ
হোমিওপ্যাথিস্ট, জেনারেল প্র্যাকটিশনার
শাহীন'স ক্লিনিক, ময়মনসিংহ রোড,
বিশ্বাস বেতকা, টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ
যোগাযোগ: ০১৭৪৯১৬৮১১৯

Address

Mymensingh Road, Biswas Betka, Tangail Sadar, Tangail
Tangail
1900

Opening Hours

Monday 10:00 - 15:00
Tuesday 10:00 - 15:00
Wednesday 10:00 - 05:00
Thursday 10:00 - 15:00
Friday 10:00 - 15:00
Saturday 10:00 - 15:00
Sunday 10:00 - 15:00

Telephone

01734077111

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shaheen's Clinic posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Shaheen's Clinic:

Shortcuts

Share