09/04/2026
(1st February, 2024)
"Teamwork Makes Dream Work"
রোগী এক্সিডেন্ট করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। উরুর বড় হাড় (ফিমার) ভেঙে গিয়েছে। শরীরের সবচেয়ে বড় হাড়। অপারেশন ছাড়া উপায় নেই। ভর্তির পরেই রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে, রক্ত দিয়ে রোগী স্ট্যাবিলাইজ করা হয়েছে। উরুর এই বড় হাড় ভেঙে গেলে ভেতরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। যদিও সেটা বাইরে থেকে দেখা যায়না। তাই, সময়মত স্যালাইন, রক্ত না দিলে রোগী খারাপ হয়ে যেতে সময় লাগেনা। অনেক সময় রোগীর লোককে রক্ত দেয়া লাগবে বললেই প্রশ্নবোধক চাহনি দেয় যে এক ফোটা রক্ত বের হলোনা কিন্তু রক্ত দিতে বলে কেন? এখানেই মার খেয়ে যায় কবিরাজ মশায় বা ট্রান্সডাক্তাররা (😁 মানে যারা ডাক্তার না হয়েও নিজেদেরকে ডাক্তার মনে করে আরকি)। দেশের মানুষের খাতাকলমে স্বাক্ষরতার হার বাড়লেও প্রয়োজনীয় শিক্ষা তো আর দেয়া হয়না। তাই এমন বড় হাড় ভেঙে গেলেও রোগীর লোকেরা রোগী নিয়ে এখানে ওখানে দৌড়াদৌড়ি করে কিন্তু প্রায় ঘরে ঘরে যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দিয়ে রেখেছে সরকার, সেখানে যায়না। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা ও পায়না। ফলস্রুতিতে অনেক সময়েই রোগী খারাপ হয়ে আসে হাসপাতালে। বাইরে এক ফোটা রক্ত বের না হয়েও, ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়ে রোগী খারাপ হয়ে আসে। তখন বাংলা সিনেমার মত আমাদেরও বলতে হয়, আর ১ ঘন্টা আগে যদি আনতেন, তাহলে হয়তো রোগী বাচানো যেত। বাচানোর কথা বললাম এজন্য যে, এ ধরনের রোগী খারাপ হয়ে মারাও যেতে পারে ভেতরে রক্তক্ষরনের ফলে। মাঝে মাঝেই আমাদেরকে এমন খারাপ রোগী আইসিইউ তে পাঠাতে হয়। কিন্তু সময়ের এক ফোড় আর অসময়ের দশ ফোড়। আইসিইউ তে পাঠানো হলেই কি আর সব রোগীকে বাচানো যায়। এজন্যই এ ধরনের ভাঙা রোগীর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে গেলে জীবন রক্ষাকারী।
আমাদের এ রোগী স্ট্যাবিলাইজ করে পরীক্ষানিরীক্ষা করে অপারেশনের জন্য রেডি করা হচ্ছে। সব রিপোর্ট ভালো থাকলেও বিপত্তি বাধলো এক জায়গায়। রোগীর ব্লাড প্রেশার বেশি। তাই অজ্ঞানের বিভাগ থেকে অপারেশনের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছেনা। রোগীর বয়স ৪৫-৫০ হয়ে গেলেও নিজের যে ব্লাডপ্রেশার বেশি সে জানেনা, কারণ কখনো মেপে দেখেনি। ফলস্রুতিতে অপারেশনের জন্য আগানো যাচ্ছেনা। মেডিসিন বিভাগে কল পাঠানো হলো। তারা ব্লাড প্রেশার কমানোর জন্য ওষধ দিয়ে দিলেন। ২/৩ দিন ফলোআপ করা হলো, কিন্তু ব্লাডপ্রেশার এখনো পর্যাপ্ত কমেনি৷ তাই সাথে আমরা আরেকটা প্রেশারের ওষধ যোগ করে দিলাম সাথে ঘুমের ওষধ। আবার ২/৩ দিনের ফলোআপের পরে ব্লাডপ্রেশার কমে আসলো। তারপর অপারেশনের জন্য আগানো গেলো। আমরা প্রায় ২ সপ্তাহ যাবত রোগী ফলোআপ করছিলাম, ফাইনালি তার অপারেশনও আমাদের হাতেই পড়লো। আলহামদুলিল্লাহ, ভালোভাবেই অপারেশন সম্পন্ন হলো কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই। রোগীও খুশি, আমরাও খুশি।
যে কারনে টিম ওয়ার্ক বললাম সেটা হচ্ছে এই এক রোগীর পরিপূর্ণ চিকিৎসা শেষ করতে অনেকগুলো টিমের কাজ করতে হয়েছে বা করতে হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য একজন ডাক্তার কাজ করেছে, রোগীর দেখভাল করেছে আরেকজন ডাক্তার। ব্লাডপ্রেশার ম্যানেজ করেছে আরেকজন ডাক্তার। অপারেশনের ফিটনেসের জন্য কাজ করেছে এনেস্থেসিয়ার ডাক্তার। ফাইনালি সার্জন টিম অপারেশন করেছে। এখানে ডাক্তারবাদেও অনেক সহায়তাকারীও কাজ করেছে। তারপর কাজ করবে রিহ্যাবিলিটেশন এর জন আরেকদল মানুষ। তারপরেই তার চিকিৎসা সম্পূর্ন হবে। এখানে এই টিম লাইনের কোন বিচ্যুতি হলেই সেটা রোগীর পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।