Nursing & BcsTarget

Nursing & BcsTarget Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Nursing & BcsTarget, Medical and health, Dhaka, Tongi.

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব...
24/08/2026

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব্যাংকের কাগজ, চাকরির কাগজ, আদালতের নোটিশ, অনলাইন অর্ডারের বাক্স।

​আমার নাম কামাল। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, হাজারীবাগ, এই এলাকাগুলোতে আমার রুট। প্রতিদিন একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘুরি। বৃষ্টি হলে ভিজি। রোদ হলে পুড়ি। শীত হলে কাঁপি। কাজটা ভালো লাগে না। তবু ছাড়িনি।

​আমাদের অফিসে একটা নিয়ম আছে। ঠিকানা ভুল হলে তিনবার চেষ্টা করতে হয়। তারপর লেখা হয়-

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​এই তিনটা শব্দ আমি জীবনে অসংখ্যবার লিখেছি। কিন্তু একদিন একটা খামের উপর এই তিনটা শব্দ লিখতে গিয়ে আমার হাত থেমে গিয়েছিল। খামের উপর লেখা ছিল-

প্রেরক: আবদুল হালিম
প্রাপক: রাশেদ হালিম
বাড়ি: ১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা।
নিচে ছোট করে লেখা-
জরুরি। ব্যক্তিগত।

অর্থাৎ, আবদুল হালিম নামে এক বয়স্ক বাবা তাঁর ছেলে রাশেদ হালিমের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, প্রেরক ও প্রাপক দুজনেরই ঠিকানা একই দেয়া-
১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা। মানে বাবা তাঁর নিজের বাড়ির ঠিকানাতেই ছেলের নামে চিঠি পোস্ট করেছেন!

​আমি ঠিকানায় গিয়ে দেখি, ১৭/বি বলে কোনো বাড়িই নেই।
১৭ আছে।
১৭/এ আছে।
১৭/সি আছে।
কিন্তু ১৭/বি নেই।

পাশের দোকানের লোককে জিজ্ঞেস করলাম। ​লোকটা বললো, "আগে ছিল।"
"এখন?"
"ভেঙে ফ্ল্যাট হইছে।"
"হালিম সাহেব?"
লোকটা কাঁধ ঝাঁকালো, "চিনি না।"

​আমি পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। ​চা-ওয়ালা বললো, "আবদুল হালিম নামে একজন ছিল।"
"কোথায় গেছে?"
"মারা গেছে।"
"কবে?"
"অনেক বছর।"

​আমি অফিসে ফিরে খামটা "প্রাপককে পাওয়া যায়নি" লিখে জমা দিতে পারতাম। দিইনি। ​পরদিন আবার গেলাম। ১৭ নম্বর বাড়ির পুরোনো দারোয়ানকে পেলাম। বয়স অনেক। নাম গফুর। আমি খামের নামটা বলতেই লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

​"আপনি আবদুল হালিম সাহেবের ছেলের লোক?"
"না। কুরিয়ার।''
লোকটা বললো, "আবদুল হালিম সাহেব তো নাই।"
​আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তার ছেলে কোথায়?"
"বিদেশে।"
"কোন দেশে?"
"কানাডা।"
"যোগাযোগ নেই?"
"না।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"
লোকটা বললো, "বাপ ছেলের ঝামেলা।"

​এই কথাটা বাংলাদেশের মানুষের খুব প্রিয়। সবকিছুর ব্যাখ্যা এক কথায় হয়ে যায়, "ঝামেলা ছিল।"

​আমি বললাম, "কী ঝামেলা?"
লোকটা বললো, "সেইটা আমি জানি না।"
তারপর একটু থেমে বললো, "তবে শেষের দিকে আবদুল হালিম সাহেব প্রতিদিন বিকেলে গেটের সামনে বসে থাকতেন।"
"কেন?"
"ছেলের জন্য।"
"ছেলে আসতো?"
"না।"

​আমি চুপ করে গেলাম।

​কানাডায় ছেলেটার নাম ছিল রাশেদ হালিম। ফেসবুকে খুঁজলাম। পেলাম না। লিংকডইনে পেলাম একজনকে। নাম মিলে যায়। ঢাকায় জন্ম। কানাডায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বয়সও মিলে। আমি তার প্রোফাইলের ছবি দেখলাম। একজন হাসিখুশি মানুষ। বউ। দুইটা বাচ্চা। বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি। ক্যাপশনে লেখা-

"Home is where your people are."

​আমি অনেকক্ষণ ঐ কথাটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হোম ইজ হোয়্যার ইয়োর পিপল আর। মানুষ কত সহজে ইংরেজিতে এমন কথা লিখে ফেলে। নিজের ভাষায় বলতে গেলে বুক কাঁপে।

​আমি তাকে মেসেজ পাঠালাম, "আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে।"

কোনো উত্তর নেই।

দুই দিন পর উত্তর এলো, "Who are you?"
আমি বললাম, "আমি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। আপনার বাবা একটা চিঠি পোস্ট করেছে।"
সে লিখলো, "My father died years ago."
আমি বললাম, "চিঠিটা আপনার জন্যই।"

অনেকক্ষণ কোনো উত্তর নেই।
তারপর লিখলো, "Don't contact me again."

​আমি চুপ করে গেলাম। চিঠিটা আমার ড্রয়ারে রয়ে গেল।
তারপর এক সপ্তাহ। দুই সপ্তাহ। এক মাস। আমি চিঠিটা অফিসে জমা দিইনি।

​একদিন সন্ধ্যায় রাশেদের কাছ থেকে মেসেজ এলো, "What does the letter say?"
আমি বললাম, "আমি খুলি নাই।"
সে আবার লিখলো, "Can you send me a picture?"

​আমি খামের ছবি পাঠালাম।
সে অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিলো না।

তারপর লিখলো, "That's my father's handwriting."
আমি বললাম, "আপনি চিঠিটা চান?"
অনেকক্ষণ পর উত্তর এলো, "Yes."
আমি বললাম, "ঠিকানা দেন।"

​সে ঠিকানা দিল। সেদিনই আমি চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম। কাজ শেষ। ভাবলাম, এবার আমার দায়িত্ব শেষ। তিন দিন পর একটা ফোন এলো। বিদেশি নম্বর। আমি ধরলাম। ওপাশ থেকে একটা পুরুষের গলা।

​"আপনি কামাল?"
"জি।"
"আমি রাশেদ।"
"জি।"
"চিঠিটা পেয়েছি।"

​আমি চুপ করে থাকলাম।

​সে বললো, "আপনি কি জানেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে শেষবার আমাকে কী বলেছিলেন?"
"না।"
"বলেছিলেন, তুই যদি কোনোদিন ফিরে আসিস, আমার কাছে আসিস না।"

আমি কিছু বললাম না।

সে বললো, "আমি আর ফিরিনি।"

​তারপর দীর্ঘ নীরবতা।

​"চিঠিতে কী ছিল জানেন?"
"না।"

সে হাসলো।

তারপর বললো, "আমার বাবা কখনো কাউকে চিঠি লিখতেন না।"

আমি অবাক হলাম।

বললাম, "কিন্তু এটা তো আপনার বাবার হাতের লেখা।"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে?"
"তিনি লিখেছিলেন। কিন্তু পাঠাননি।"

আমি বুঝলাম না।

রাশেদ বললো, "চিঠিটা তিনি নিজের আলমারিতে রেখে গিয়েছিলেন।"
"কীভাবে পোস্ট হলো?"
"তার বাড়ি বিক্রি করার পর নতুন মালিক পুরোনো আলমারির কাগজপত্রের মধ্যে খামটা পেয়েছিলেন। হয়তো ভেবেছেন পোস্ট করা হয়নি, তাই দয়ায় পড়ে ডাকবাক্সে ফেলে দিয়েছেন।"
আমি বললাম, "চিঠিতে কী ছিল?"
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "একটা মাত্র বাক্য।"
"কী?"

"আমি ভুল করেছিলাম।"

আমি বললাম, "এইটুকু?"
"হ্যাঁ।"
"আর কিছু?"
"না।"

আমি বললাম, "তাহলে আপনি কাঁদছেন কেন?"
রাশেদ কান্না থামিয়ে বললো, "আমি ভেবেছিলাম, বাবারা কখনো ভুল করে না।"

​আমি জানি না কেন, কথাটা শুনে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়লো। আমার বাবা ছিলেন রাগী মানুষ। আমি ছোটবেলায় একবার স্কুল থেকে পালিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। বাবা জানতে পেরে আমাকে এমন মেরেছিলেন যে তিনদিন স্কুলে যেতে পারিনি। তারপর আমি ঠিক করেছিলাম, কোনোদিন বাবার সঙ্গে কথা বলবো না।

দুদিন পরই বাবা মারা গেলেন। আমার রাগটা রয়ে গেল। বাবা রইলেন না। মানুষের রাগেরও একটা সমস্যা আছে। যার ওপর রাগ করা হয়, সে না থাকলেও রাগটা থেকে যায়। তারপর একদিন সেই রাগের কোনো ঠিকানা থাকে না।

​রাশেদ বলল, "কামাল ভাই?"
"জি?''
"আপনি কি একটা কাজ করবেন?"
"কী?"
"আমার বাবার কবরটা খুঁজে দিতে পারবেন?"
আমি বললাম, "পারবো।"
"কেন জানি না, আমি যেতে চাই।"
"আসবেন?"
"হ্যাঁ।"

​তিন মাস পর রাশেদ ঢাকায় এলো। আমি তাকে বিমানবন্দর থেকে নিতে যাইনি। কিন্তু সে নিজেই আমাকে ফোন করলে।

​"কামাল ভাই, আমি ঢাকায়।"
"কোথায়?"
"পুরোনো বাসার সামনে।"

​আমি গেলাম। সে গাড়ি থেকে নামলো। আমি প্রথমে চিনতেই পারিনি। ছবির চেয়ে মানুষ বাস্তবে অন্যরকম।

​সে আমাকে দেখে বললো, "আপনিই কামাল?"
"জি।"

​সে হাত বাড়ালো। আমি হাত ধরলাম। তার হাত কাঁপছিল। আমরা একসঙ্গে কবরস্থানে গেলাম। তার বাবার কবর খুঁজে পেলাম। রাশেদ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বসে পড়লো।

কোনো দোয়া পড়লো না। কিছু বললো না। শুধু মাটির উপর হাত রাখলো।

​অনেকক্ষণ পর বললো, "বাবা, আমি এসেছি।"

​আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

​সে আবার বললো, "তুমি বলেছিলে, আসিস না।''

চুপ

''আমি আসিনি।''

চুপ

''তুমি ভুল করেছিলে।"

চুপ

"আমিও ভুল করেছিলাম বাবা।"

​আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। দূরে সরে গেলাম।
মানুষের কিছু কথার সাক্ষী হওয়া উচিত না। কিছু কথা মৃত মানুষের আর জীবিত মানুষের মাঝেই থাকা ভালো।

​ফেরার সময় রাশেদ আমাকে বললো, "কামাল ভাই, আপনি না থাকলে আমি আসতাম না।"
আমি বললাম, "আমি তো শুধু চিঠি পৌঁছাইছি।"
সে বললো, "না।"
"তাহলে?"
"আপনি আমার কাছে একটা ঠিকানা পৌঁছে দিয়েছেন।"
আমি হেসে বললাম, "কবরের ঠিকানা?"
সে মাথা নাড়লো, "না।"
"তাহলে?"
সে বললো, "বাবার কাছে যাওয়ার ঠিকানা।"

​আমি কিছু বললাম না। অফিসে গিয়ে আমার ছেলেকে ফোন করলাম। সে ধরলো না। আবার করলাম। ধরলো।

​বললো, "কী হয়েছে?"
আমি বললাম, "কিছু না।"
"তাহলে ফোন করছো কেন?"
আমি বললাম, "তুই কেমন আছিস?"
সে বললো, "ভালো।"
আমি বললাম, "তোর সঙ্গে আমার কোনোদিন খুব বেশি রাগারাগি হয়েছে?"
ওপাশে সে হাসলো, "আপনার তো প্রতিদিনই রাগারাগি হয়।"
আমি বললাম, "আমি যদি কোনোদিন ভুল করে থাকি?"

সে চুপ করে গেল।

আমি বললাম, "তাহলে আমাকে বলিস।"
"কেন?"
"যাতে আমি ঠিক করতে পারি।"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "আব্বা, আপনি ঠিক আছেন তো?''
"হ্যাঁ।"
"কিছু খাইছেন?"
"না।"
"খেয়ে ঘুমান।"

​ফোন কেটে গেল।

​আমি অনেকক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর ড্রয়ার খুললাম। রাশেদের বাবার চিঠির একটা ফটোকপি সেখানে রেখেছিলাম। মাত্র এক লাইন।

''আমি ভুল করেছিলাম।''

আমি কাগজটা হাতে নিয়ে ভাবলাম, মানুষ পৃথিবীতে কত কিছু লিখে। উপন্যাস। কবিতা। ইতিহাস। আইন। প্রেমপত্র। ক্ষমাপত্র। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন চিঠিটা সম্ভবত এই তিনটা শব্দের, আমি ভুল করেছিলাম। এই তিনটা শব্দ বলতে একজন বাবার পঁচাত্তর বছর লাগে। একজন ছেলের ত্রিশ বছর। কখনো কখনো পুরো একটা জীবন।

​পরদিন অফিসে গিয়ে টেবিলে এক পুরোনো পার্সেল পড়ে থাকতে দেখলাম। প্রাপক মৃত, প্রেরকের খোঁজ নেই। ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় ধুলো জমছে খামের উপর। আমি কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, পৃথিবীতে কত অভিমান, কত অসম্পূর্ণ কথা এভাবেই কোনো না কোনো টেবিলে ঠিকানাহীন হয়ে জমা পড়ে থাকে।

​অফিসে ভালো লাগলো না। আমি বাড়ি ফিরে এলাম।

আমার ছেলে তখন ঘরে বসে ফোন দেখছিল। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে তাকালো।

আমি বললাম, "তোর সাথে আমার একটা কথা ছিল।"
সে অবাক হয়ে বললো, "কী কথা?"

আমি ড্রয়ার থেকে রাশেদের বাবার চিঠির ফটোকপিটা বের করে তার সামনে রাখলাম।

সে খামটার দিকে, তারপর আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

অনেক বছর পর। খুব অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু যথেষ্ট। আমি তার পিঠে হাত রাখলাম। কিছু বললাম না। আমার মনে হলো, সেদিন যদি রাশেদের বাবার চিঠিটা পৌঁছে না দিতাম, তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে আমি এই কথাগুলো কোনোদিন বলতাম না।

​আমি এখনও কুরিয়ারে কাজ করি। এখনও ভুল ঠিকানার পার্সেল আসে। এখনো অফিসে তিনটা শব্দ লেখা হয়,

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​কিন্তু আমি আর আগের মতো সহজে লিখতে পারি না। কারণ আমি জানি, কখনো কখনো মানুষ ঠিকানায় থাকে না। অভিমানে থাকে। দূরত্বে থাকে। ভুল বোঝাবুঝিতে থাকে। কখনো বিদেশে থাকে। কখনো কবরের নিচে। আর কখনো, একই বাড়িতে থেকেও একটা দরজার ওপাশে থাকে। তাই কোনো চিঠি হাতে নিয়ে যদি মনে হয়, "লোকটা তো নেই।" আমি একটু অপেক্ষা করি। কারণ ঠিকানাটা ভুল হতে পারে। কিন্তু চিঠিটা নয়। চিঠি সাধারণত ঠিক মানুষটার কাছেই যেতে চায়। শুধু পৌঁছাতে কখনো কখনো একজন কামালের দরকার হয়!

Share kore den...

আমি  #শ্বশুরবাড়িতে আসার পর প্রথম "আকাম"টা করি বিয়ের তৃতীয় দিনেই! এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে বুকের ভেতরটা কাঁপছিল। ভয়ে ভয়ে তাক...
31/07/2026

আমি #শ্বশুরবাড়িতে আসার পর প্রথম "আকাম"টা করি বিয়ের তৃতীয় দিনেই! এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে বুকের ভেতরটা কাঁপছিল। ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে ছিলাম শাশুড়ির দিকে, আর শাশুড়ি তাকিয়ে ছিলেন আমার পায়ের দিকে...

বিয়ের পরের দিন থেকেই শাশুড়ির আশেপাশে ঘুরঘুর করতাম। তিনি থালাবাসন ধুতে গেলে বলতাম, "মা, দেন আমি করে দিই।" তরকারি কাটতে গেলে বলতাম, "দেন, আমি কেটে দিচ্ছি।" নতুন সংসার, সবকিছু শেখার প্রবল আগ্রহ ছিল।

তৃতীয় দিনের সকাল। শ্বশুর সকালের নাস্তা খেয়ে কাজে যাবেন, তাই বাসায় বেশ তাড়াহুড়ো চলছে। সব রান্না শেষ, শুধু ভাত নামানো বাকি।

শাশুড়ি বললেন, "ভাতটা নামিয়ে এনে বেড়ে রাখো, একটু ঠান্ডা হোক।"

আমি তো মহাখুশি! অবশেষে আমাকে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মনে মনে কত আনন্দ! নাচতে নাচতে গেলাম ভাত নামাতে...

কিন্তু পাতিলটা হাতে নিয়ে ফিরতে যাব, ঠিক তখনই পুরো পাতিল হাত থেকে পিছলে পড়ে গেল! মুহূর্তেই সব ভাত মেঝেতে ছড়িয়ে গেল।

আমি একদম হতভম্ব! মনে হচ্ছিল, এইবার আমি শেষ! সামান্য একটা কাজও ঠিকমতো করতে পারলাম না। এখন কত বকা খাব...

কিন্তু সেদিন আমার শাশুড়ি আমার সব ধারণা বদলে দিয়েছিলেন।

তিনি দৌড়ে এসে প্রথমেই বললেন,
"কী হয়েছে? দেখি... তোমার পায়ে গরম ভাত পরেনি তো?"

সে কী ব্যস্ততা! আমার কিছু হয়েছে কি না, সেটাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা। বার বার বলছিল এই গরম ভাত যদি পায়ে পরতো তাহলে কি হতো!

যখন দেখলেন আমার কোনো ক্ষতি হয়নি, তখন রাগ করার বদলে ফিক করে হেসে দিলেন, তারপর বললেন,
"কোনো সমস্যা নাই। আবার ভাত বসাই দিচ্ছি।"

এদিকে শ্বশুর ডাইনিং টেবিলে বসে গেছেন। পাশের বাসা থেকে ভাত এনে তাঁকে খাওয়ানো হলো। পরে আবার নতুন করে ভাত রান্না করে সেই বাসায়ও ভাত দিয়ে আসা হয়েছিল।

সেদিনের সেই ছোট্ট ঘটনাটা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না।

তারপর থেকে এই মানুষটার আশেপাশে থেকেই সংসারের প্রতিটি কাজ শিখেছি। কখনো তরকারিতে লবণ কম হয়েছে, কখনো ঝাল বেশি হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনোদিন বলেননি, "এত খারাপ হলো কেন?"

বরং সবসময় বলতেন,
"ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। সব শিখে যাবে।"

আর আমার শ্বশুর যখন শুনতেন রান্নাটা আমি করেছি, তখন সবসময় প্রশংসা করতেন। সেই প্রশংসাগুলো আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল।

আজ আমার সংসার জীবনের ১৩ বছর।

শাশুড়ির কাছেই সংসারের সবকিছু শিখেছি। এখন অনেকে বলে, আমি নাকি তাঁর থেকেও ভালো রান্না করি। সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো, এ কথা শুনে তিনি কখনো মন খারাপ করেন না, বরং গর্ব করে হাসেন আর বলেন, ও জীবনে কখনো কোনো কাজ পারবো না বলেনি, শেখার চেষ্টা ছিল তাই পেরেছে।

সব শাশুড়ি যদি নতুন একটা মেয়ের ভুলগুলোকে রাগ দিয়ে নয়, ভালোবাসা আর ধৈর্য দিয়ে সামলাতেন, তাহলে হয়তো অনেক সংসারই আরও সুন্দর হতো।

আমার বিশ্বাস, একজন ভালো বউমা গড়ে ওঠার পেছনে একজন ভালো শাশুড়ির অবদান অনেক বড়।

ধন্যবাদ মা। ❤️
আপনি শুধু আমাকে সংসারের কাজই শেখাননি, মানুষকে ভালোবাসা আর ধৈর্য দিয়েও জয় করতে শিখিয়েছেন। আপনাকে নিয়ে সত্যিই গর্ববোধ হয়।

শুধু বিজয়ী দলের নাম লিখুন।বিগ লটারি হবে বিজয়ী প্রেডিকশন দাতাদের কে।REDMI এর সর্বশেষ সিরিজের ফোন দেওয়া হবে🥰শর্তঃ১)পেজে ফল...
25/06/2026

শুধু বিজয়ী দলের নাম লিখুন।
বিগ লটারি হবে বিজয়ী প্রেডিকশন দাতাদের কে।
REDMI এর সর্বশেষ সিরিজের ফোন দেওয়া হবে🥰
শর্তঃ
১)পেজে ফলো থাকতে হবে।
২)পোস্ট শেয়ার থাকতে হবে।
৩)কমেন্টের নিচে ১০ জন বন্ধুকে মেনশন দিতে হবে।

25/06/2026

আজকের উইনার
Emamul Sarder 👑✌️

25/06/2026

Lottery te winner ✌️👑
Result dewa hobe

24/06/2026

Prediction ২০০ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং দেওয়া হবে। Brazil 🇧🇷 Scotland 🏴󠁧󠁢󠁳󠁣󠁴󠁿
৩ জনকে মেনশন করেন।

24/06/2026

আজকে যার Prediction সঠিক হবে তাকে ২০০ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং দেওয়া হবে।
Brazil 🇧🇷 Scotland 🏴󠁧󠁢󠁳󠁣󠁴󠁿

🏥 শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ  এ ডাক্তার দেখানোর সম্পূর্ণ গাইড (সহজভাবে!)ঢাকায় কম খরচে ভালো চিকিৎসা নিতে চান? তাহলে ...
19/04/2026

🏥 শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এ ডাক্তার দেখানোর সম্পূর্ণ গাইড (সহজভাবে!)

ঢাকায় কম খরচে ভালো চিকিৎসা নিতে চান? তাহলে এই পোস্টটা আপনার জন্যই!👇

📍 কোথায় অবস্থিত?
✅ শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা – খুব সহজেই যাওয়া যায় (বাস/রিকশা/সিএনজি)
✅ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, মানসিক হাসপাতালে, কিডনি হাসপাতাল একই সাথে অবস্থিত।

✅ 📝 কিভাবে টিকেট কাটবেন?
👉 সকাল ৮টা আউটডোর (OPD) খোলে
👉 টিকেট কাউন্টার থেকে ১০ টাকা দিয়ে সমস্যা বলে টিকেট নিবেন।
👉 লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট নিতে হয় (সকালেই গেলে ভালো)
👉 ডাক্তার দেখানোর জন্য টিকেট কাটতে পারবেন দুপুর একটা ত্রিশ মিনিট পর্যন্ত।

✅ 👨‍⚕️ কোন কোন বিভাগে ডাক্তার দেখানো যায়?
যেহেতু এটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তাই সকল বিভাগের ডাক্তারি পেয়ে যাবেন।
✔ মেডিসিন
✔ সার্জারি
✔ গাইনি & অবস
✔ শিশু বিভাগ
✔ অর্থোপেডিক
✔ ENT (কান-নাক-গলা)
✔ চর্ম ও যৌন রোগ
✔হৃদরোগ বিভাগ
✔ লিভার বিভাগ
✔ কিডনি বিভাগ
✔ হরমোন বিভাগ

👉 প্রায় সব বড়/ ছোট রোগের চিকিৎসা এখানে হয়।

✅ ⏰ কখন গেলে ভালো?
🟢 সকাল ৮টা – ১১টার মধ্যে গেলে সিরিয়াল পাওয়া সহজ
🔴 দেরি করলে ভিড় বেশি + ডাক্তার দেখাতে দেরিহ

✅ 📋 কি কি নিয়ে যাবেন?
✔ আগের প্রেসক্রিপশন
✔ টেস্ট রিপোর্ট
✔ জাতীয় পরিচয়পত্র (থাকলে ভালো)

✅ 💉 টেস্ট করাতে হলে?
👉 হাসপাতালের ভেতরেই কম খরচে টেস্ট করা যায়
👉 ডাক্তার লিখে দিলে সেই অনুযায়ী টেস্ট করান

✅ 💰 খরচ কেমন?
✔ টিকেট: ১০ টাকা
✔ টেস্ট: বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম
✔ ভর্তি হলে খরচ ১৫ টাকা।
✔ফ্রী বেডে ভর্তি হলে ভাড়া লাগে না।
✔ ভাড়া বেডে খরচ দৈনিক ৩৭৫ টাকা ৩ বেলা খাবার সহ।

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
👉 আউটডোর বা বহি:বিভাগ সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত খোলা।
👉 খুব জরুরি হলে ইমার্জেন্সি বিভাগে যান (২৪ ঘণ্টা খোলা)
👉 মহিলা রোগীদের জন্য আলাদা সুবিধা আছে
👉 সবসময় ধৈর্য রাখুন – ভিড় থাকাটা স্বাভাবিক

🔥 অন্যান্য হাসপাতাল যেমন: ঢাকা মেডিকেল, পিজি হাসপাতাল, মিটফোর্ড থেকে রোগীর, চাপ ভীড় কিছুটা কম থাকে।

❤️ শেষ কথা:
কম খরচে ভালো চিকিৎসা পেতে চাইলে আপনার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য জায়গা।

📢 এই পোস্টটি শেয়ার করুন — অনেকের উপকার হবে!

#সরকারি_হাসপাতাল #মেডিকেল #চিকিৎসা
ে_চিকিৎসা #ডাক্তা

🔥ব্রেকিং...HSC পাশে ১ লাখ পদে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ আসছে।
07/03/2026

🔥ব্রেকিং...
HSC পাশে ১ লাখ পদে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ আসছে।

মায়ের সঙ্গে ট্রেনে চড়ে নানাবাড়ি যাচ্ছি। সামনের সিটে এক মেয়ে ও তার মা বসে আছে। হঠাৎ মা ফিসফিসিয়ে বললো , “ মেয়েটার দিকে এভ...
07/03/2026

মায়ের সঙ্গে ট্রেনে চড়ে নানাবাড়ি যাচ্ছি। সামনের সিটে এক মেয়ে ও তার মা বসে আছে। হঠাৎ মা ফিসফিসিয়ে বললো ,
“ মেয়েটার দিকে এভাবে তাকাচ্ছিস কেন? পছন্দ হয়েছে? দাঁতগুলো একটু এলোমেলো , নাহলে বাকিসব ঠিক আছে। বিয়ে হয়েছে নাকি জিজ্ঞেস করবো খোকা? ”

আমার অস্বস্তির সীমা রইল না। মায়ের সঙ্গে সবসময়ই বন্ধুর মতো সম্পর্ক। সামনের সিটের মেয়েটাও চোখ নামিয়ে নিয়েছে। মেয়েটা মায়াবী চেহারার। আহামরি সুন্দরী নয় কিন্তু চেহারায় আকর্ষণ আছে। তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, চাইলে অবশ্য কথাবার্তা বলা যায়। কারণ কিছুক্ষণ আগে স্টেশনে তাদের সঙ্গে সামান্য কথা হয়েছে।

আমি মাকে বললাম ,
“ এভাবে কথা বলছো কেন? ওরা শুনতে পেলে কি ভাববে বলো তো? ”

বা বললো ,
“ কিছু ভাববে না। তোর দিকে কীভাবে বারবার তাকাচ্ছে দেখেছিস? আমার তো মনে হয় তোর জন্য আর পাত্রী খুঁজতে হবে না। ”

“ চুপ করো না। এখন ফাজলামো করার সময়? তুমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকো৷ প্রকৃতি কতো সুন্দর দেখেছো? ”
“ মেয়েটা তারচেয়ে বেশী সুন্দর তাই না? ”
“ কে বলছে তোমাকে? ”
“ সুন্দর নাহলে তুই প্রকৃতি না দেখে মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছিস কেন? ”

আমি হেসে দিলাম। আমার আটান্ন বছর বয়সী মা-ও হাসতে লাগলো। বেশিরভাগ সময় আমরা এভাবেই কথা বলি৷ বাবা মারা গেছে চার বছরের একটু বেশি। তারপর থেকে আমি আর মা দু'জন মিলে দেশের কতো যায়গায় ঘুরলাম। সাজেক, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, সিলেট, বান্দরবান মোটামুটি সবখানেই আমি আর আমার মা দুজন মিলে ভ্রমণ করেছি৷
আমাদের চার ভাইবোনের মধ্যে আমার সঙ্গেই মায়ের সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক। সবার বড় আপু কিন্তু তার বিয়ে হয়ে গেছে সে স্বামীর সাথে বাস করে অস্ট্রেলিয়া। আপুর পরে দুই ভাই, দু'জনই বিয়ে করেছেন। শুধু আমার বিয়েটাই এখনো বাকি আছে।

মেয়েটা আবার তাকাচ্ছে। আমি আড়চোখে মা'র দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি বাহিরে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার মা চোখ বন্ধ করেছেন। ঘুমিয়ে নাকি জেগে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে সামান্য হাসলাম।

কিছুক্ষণ আগে স্টেশনে তাদের সঙ্গে পরিচয়। ট্রেনে ওঠার আগে আমি মায়ের ছবি তুলছি। বিভিন্ন এঙ্গেলে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা শেষ করতেই হঠাৎ এই মেয়েটা এসে বললো ,

“ যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমার মায়ের সঙ্গে আমার একটা ছবি তুলে দিবেন? ”

দেখলাম পাশেই এক ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে আছেন। সময় লাল রঙের স্যুটকেস। আমি কিছু বলার আগেই মা বললো ,

“ অবশ্যই দেবে। খোকা তাড়াতাড়ি তাদের ছবি তুলে দে। ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে যাচ্ছে। ”

আমি কতগুলো ছবি তুলে দিলাম। মেয়েটার মা সম্ভবত একটু লাজুক ধরনের মানুষ। তিনি মনে হয় অস্বস্তি ফিল করছিলেন। তবুও প্রতিটি ফ্রেমে খুব ভালো ভালো ছবি উঠলো৷
মেয়েটা ছবিগুলো চেক করে আমার দিকে তাকিয়ে ধন্যবাদ দিয়ে সামান্য হাসলো৷ আমি আর মা আমাদের ব্যাগপত্র নিয়ে আমাদের বগির দিকে এগিয়ে গেলাম।
নানাবাড়ি যাচ্ছি বলে মায়ের আজকের দিনটা সবচেয়ে আনন্দের দিন। এর আগে অনেকবার আমরা ভ্রমণ করেছি৷ কিন্তু আজকের মতো এত হাসিখুশি কোনদিন মা'কে দেখিনি।
চল্লিশ বছর পরে মা তার বাবার বাড়িতে যাচ্ছে।
আনন্দ তো হবেই তাই না?

বাবা মারা গেছে বছর চারেক আগে। তারপর থেকে মা মাঝে মাঝে নানাবাড়ির গল্প করতেন।
গত সপ্তাহে হঠাৎ মা বললো ,
“ চল্লিশ বছর ধরে বাবার বাড়ি যাই না। একবার নিয়ে যাবি খোকা? মৃত্যুর আগে একবার বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করছে। জীবনের সতেরোটা বছর আমি ওই গ্রামে ছিলাম। আজ চল্লিশ বছরে না জানি কতো পরিবর্তন হয়ে গেছে। ”

বলতে বলতে মা কেঁদে উঠলেন। মা'কে সচারাচর কাঁদতে দেখিনি। আমার দেখা হাসিখুশি মানুষের মধ্যে মা সবার উপরে। কষ্ট সবার থাকে। কিন্তু মা একটু আলাদা, প্রচুর কষ্টের মধ্যে মা চুপচাপ শুয়ে থাকেন। কারো সঙ্গে কথা বলেন না। কান্না করে কষ্ট প্রকাশ করেন না৷
আমাদের সঙ্গে সর্বদা হাসিখুশি থাকতে মা খুব পছন্দ করেন। ভাবিরা সবসময় বলেন, এরকম শাশুড়ী সবার ঘরে ঘরে দরকার।

মায়ের কথা শুনে আমি বললাম ,
“ তুমি তো জানো সেখানে গেলে কেউ তোমাকে আশ্রয় দিবে না। মামারা কেউ তোমাকে পছন্দ করে না। গিয়ে কী করবে মা? ”

মা বলেন ,
“ আশ্রয়ের দরকার নেই। তুই আর আমি দুজন মিলে যাবো। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে আমার মা-বাবা দাদা-দাদীর কবরস্থান আর আমাদের পুরনো বাড়িঘর দেখে চলে আসবো৷ ”

আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে বাড়ির টিউশন মাস্টারের হাত ধরে রাতের আঁধারে ঢাকা শহরে পালিয়ে এসেছিল মা৷ বাবা ছিল সেই টিউশন মাস্টার। সেই চল্লিশ বছর আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসা তরুণী মেয়েটা আজ আটান্ন বছরে জীবন পার করছে কিন্তু আর নিজের বাড়িতে যেতে পারেনি।

মায়ের আগ্রহ দেখে আমি বললাম ,
“ ঠিক আছে, অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তোমাকে নানাবাড়ি ঘুরিয়ে আনবো৷ কিন্তু শর্ত হচ্ছে তুমি ভাইয়া বা আপু কাউকে বলতে পারবে না। ”

মা আমার দুই গালে কপালে চুমু দিয়ে বললো ,
“ লক্ষি বাপ আমার, আমি কাউকে বলবো না। তুই ছুটি ম্যানেজ কর। ”

তারপর আর কি, ছুটি নিয়ে আমরা রওনা দিলাম কুষ্টিয়ায়। মা বলতেন কুষ্টিয়ায় রবীন্দ্রনাথের যে কুঠিবাড়ি সেটা নাকি তাদের বাড়ি থেকে খুব কাছেই। ভাবলাম একই সময়ে লালনের আস্তানা আর রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়িও দেখা হয়ে যাবে।

ছবি তুলে ট্রেনে উঠে যখন সিটে বসলাম তখন দেখি সেই মা মেয়ে দুজনেই আমাদের সামনে মুখোমুখি বসেছেন। ট্রেনের মাঝখানে যে চারটা সিট মুখোমুখি থাকে সেখানেই সিট পড়েছে।

সামান্য কিছু ছবি তুলে দিলেই তাদের সঙ্গে গায়ে পড়ে বারবার কথা বলা যায় না। সিটে বসার পরে সামান্য পরিচয় হয়েছে। সেটাও কেবলমাত্র আমি আর মা নানাবাড়ি যাচ্ছি এটুকু বলার মাধ্যমে আর মেয়েটা বললো ,
“ আমি আর মা-ও মামাবাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসলাম। এখন যাচ্ছি নিজেদের বাড়িতে। ”

মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে সুন্দর সম্পর্ক করার জ্ঞান আমার ছিল না। এজন্যই জীবনে তেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রেমের সূচনা হয়নি। তবে আমাদের ভার্সিটির এক মেয়ের সঙ্গে মাস ছয়েক কথা বলেছিলাম প্রেম করবো বলে। কিন্তু সেখানে বিরাট ছেঁকা খেয়েছিলাম পরে, কারণ সেই মেয়ে একসঙ্গে তিন চারটা বয়ফ্রেন্ড সামলাত।
তারপর থেকেই আমার যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে৷

____________________

কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে নামলাম। মেয়েটা ও তার মা এখানেই নেমেছে। আমি ঢাকা থেকেই আসার আগে কীভাবে কোথায় যাতায়াত করতে হবে সেই বিষয় হালকা ধারণা নিয়ে এসেছি৷ তবুও কথা বলার বাহানায় মেয়েটার কাছে বললাম ,

“ আমরা আসলে অনেক বছর পরে কুষ্টিয়ায় এসেছি। এখান থেকে শিলাইদহ কীভাবে যাবো বলতে পারবেন? ”

মেয়েটা উত্তর দেবার আগেই তার মা বললো ,
“ আমরাও শিলাইদহে যাবো৷ শিলাইদহের কোন গ্রামে যাবেন? ”

মা কাছেই ছিলেন। তিনি বললেন ,
“ দড়ীগ্রাম, আমার বাবার নাম ছিল মাহবুবুর রহমান মুন্সি। আমার বড়ভাইয়ের নাম আব্দুল মালেক মুন্সি। আর ছোটভাই আব্দুস সালেক মুন্সি। আমাদের কুটিবাড়ি যাবার উপায় বললে হবে। তারপর যেতে পারবো৷ ”

মহিলা ও মেয়েটা একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। মহিলা বললেন ,
“ আপা আপনার নাম কী? ”
“ আমার নাম মরিয়ম। ” জবাব দিল মা।

মহিলা এবার বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইল। আমি বুঝতে পারলাম নিশ্চয়ই কোনো একটা গন্ডগোল আছে। কিন্তু সেটা কি তা জিজ্ঞেস করার আগেই মহিলা বললেন ,
“ আপা আমি আপনার ছোটভাই আব্দুস সালেক মুন্সির স্ত্রী। ”

মা এবং আমি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি। মহিলা, মানে ছোট মামি তখন মাকে হাতটা জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে। এভাবে এতটা পথ আমরা একসাথে এসেছি কিন্তু পরিচয় জানা ছিল না। আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললাম,
“ তোমার নাম কি? ”

মা আর মামি আলাদা কিসব বাড়ির কথা বলতে লাগলো। আমার প্রশ্ন শুনে মেয়েটা বললো ,

“ কল্পনা। আপনি? ”

“ মোহসীন, মোহাম্মদ মোহসীন। ”

পরিচয় পেয়ে ভালো লাগলো। স্টেশনের কাছেই রেন্ট এ কারের প্রাইভেট কার ভাড়া পাইলাম। যেহেতু আমরা চারজন তাই একটা কার ভাড়া করে নিলাম। সিএনজি নিয়েও যাবার নাকি ব্যবস্থা আছে। খরচ তুলনায় কম হবে। কিন্তু তবুও কারে জার্নিটাই বেছে নিলাম।

মা মামি আর কল্পনা পিছনের তিন সিটে৷ আমার স্থান হলো ড্রাইভারের পাশে৷ সামনের গ্লাসে আমি বারবার কল্পনার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মাঝে মাঝে দুজনের চোখাচোখি হলো গ্লাসেই৷ আমি মুচকি হাসতাম, কিন্তু সে হাসতো কিনা বোঝা যেত না।

একসময় মা বললো ,
“ আপনার ছেলেমেয়ে ক'জন ভাবি? ”

মামি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন ,
“ আমার একটাই ছেলে ছিল আপা৷ কিন্তু আল্লাহ তাকে একবছর আগে পৃথিবী থেকে নিয়ে গেছে।”

একটাই ছেলে মানে? তাহলে কল্পনা কে?
মনে মনে এটাই ভাবছি। আমার ভাবনার প্রশ্নটা মা করে দিল। মা বললো ,
“ তাহলে ও কে? ”

এবার মামি যেটা বললো তা শোনার মোটেই ইচ্ছে আমার নাই। কিন্তু সত্যি তো সবসময় সত্যিই থাকে। মামি বললো ,
“ ছেলের মৃত্যুর ছ'মাস আগে তাকে বিয়ে দিছিলাম। কল্পনা আমার ছেলের বউ৷ আপনার ভাইপোর বউ আপা। ”

আমি এটা আশা করি নাই৷ স্টেশন ও ট্রেনের মধ্যে সারাক্ষণ তাদের কথোপকথনে এটা মনে হয় নাই যে এরা শাশুড়ী বউমা।
মামির পরিচয় পেয়ে ভেবেছিলাম মামাতো বোন পাইছি। কিন্তু এখন মামাতো ভাইয়ের বউ শুনে মনটাই ভেঙ্গে গেল।

এরপর তারা সারাক্ষণ বকবক করতে করতে এলো ঠিকই কিন্তু আমার মন খারাপের মুহূর্তে আর কিছুই মাথায় ধরেনি। গাড়ি মামা বাড়ির সামনে যখন পৌছালো তখন বেলা তিনটা।

_______________

ছোটমামা ছোট মামি দুজনেই খুব খুশি হলেও বড় মামা আর বড় মামি খুব বাজে ব্যবহার শুরু করলেন। তাদের বকাবকি শুনে আমি নিজেও বাধ্য হয়ে বলেছিলাম ,
“ আপনাদের বাড়িতে খেতে আসিনি। কিছুক্ষণ থাকবো তারপর সন্ধ্যা হলেই আবার শহরে চলে যাবো। রাতের রিটার্ন টিকেট করা আছে, ট্রেনে আবার ঢাকায় ফিরবো। ”

ছোট মামা বললেন , কোনোভাবে আজকে যাওয়া হবে না। বড় মামা না মানলে কিছু না। তিনি আমাদের রাখবেন। মামিও মায়ের হাত ধরে বললেন , আসছেন যখন দুটো দিন থেকে যান আপা৷ আমি বিয়ের পর থেকে আপনার কথা শুনছি। কিন্তু কোনদিন দেখিনি। আপনি যাবেন না। আমাদের সঙ্গে থাকবেন।

বড় মামা থাকে নিচতলায় আর ছোটমামা দোতলায় থাকে। অনেক পুরনো বাড়ি। আমরা দুপুরের খাওয়া করলাম। ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ বসতে না বসতেই কল্পনা মেয়েটা কল্পনার মতো খাবার হাজির করলো।

খাওয়া দাওয়া শেষ করে মা'কে নিয়ে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম। তারপর মামার সঙ্গে চলে গেলাম বাজারের দিকে। বাজারের মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়লাম। নামাজের পড়ে একটা হোটেলে আমি আর মামা গেলাম হালকা নাস্তা করতে। নাস্তাটা মজার ছিল। মায়ের জন্য পার্সেল নিতে ইচ্ছে করছিল। অর্ডার দিলাম। পার্সেল রেডি হচ্ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে মামার নাম্বারে কল আসে৷
মামা কথা বলতে বলতে কেমন উন্মাদ হয়ে গেলেন। তারপর পাগলের মতো আমার দিকে তাকিয়ে বললেন ,
“ তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলো খোকা। ”

আমার বুকটা ধুকধুক করে উঠলো। মায়ের জন্য পার্সেলটা হাতে নিয়ে দ্রুত দৌড়াতে লাগলাম। একটা ভ্যান নিয়ে মামার বাড়িতে গেলাম। এবং সেখানে গিয়ে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো বন্ধুর সমাপ্তি পেলাম।

মামাবাড়ির চিলেকোঠার ঘরে মায়ের মৃতদেহটা পরে আছে। জানা গেল সন্ধ্যা বেলা সে ছাদে উঠেছিল। নামাজের পরে মামি মা'কে খুজে না পেয়ে ছাদে গিয়ে খোঁজাখুজি করেন। আর কিছুক্ষণের মধ্যে চিলেকোঠার ঘরে মায়ের মৃতদেহ তারা দেখতে পায়।

আমি চোখের সামনে মায়ের চিরনিদ্রায় শায়িত দেহটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মায়ের গলায় তার শাড়ির আঁচল পেঁচানো। যে বা যারা মা'কে খুন করেছে তারা আমার মায়ের শাড়ির আঁচল দিয়েই তাকে ফাঁস দিয়েছে।

চল্লিশ বছর পরে মাকে তার বাড়িতে নিয়ে এলাম। কিন্তু কোনদিন ভাবিনি তাকে আর ফিরিয়ে নিতে পারবো না।
কে মারলো মাকে? আমরা তো কোনো সম্পত্তির লোভে আসিনি। মা তার ভাগের ধন-সম্পদের ভাগ চাইতে আসেনি। তাহলে কেন মারলো তাকে?



চলবে…

গল্প- সরি আম্মাজান।
পর্ব- এক (০১)

Address

Dhaka
Tongi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nursing & BcsTarget posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share