13/07/2026
এক লক্ষের শক্তি নয়, আঠারো কোটির হৃদয়
— কাল্পনিক উপন্যাস
আইউব আলী ফাহিম প্রায়ই বলতেন,
"এক লক্ষ মানুষের ক্ষমতা আর পেশীশক্তি দিয়ে আঠারো কোটি মানুষকে চিরদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কারণ মানুষের প্রকৃত শক্তি তার বাহুতে নয়, তার বিবেকে, তার ঐক্যে, তার ভালোবাসায়।"
কেউ তাঁর কথায় হাসত, কেউ তর্ক করত। কিন্তু তিনি রাগ করতেন না। শুধু বলতেন,
"ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সত্য হলো—ভয় একদিন শেষ হয়, কিন্তু মানুষের আশা শেষ হয় না।"
একদিন একটি কাল্পনিক শহরে ভয় ছড়িয়ে পড়ল। মানুষ একে অপরকে সন্দেহ করতে শুরু করল। প্রতিবেশী প্রতিবেশীর খবর নিত না, বন্ধুরা বন্ধুদের ভুলে গেল, আত্মীয়রা নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। মনে হচ্ছিল, শহরের প্রতিটি দরজার আগে একটি অদৃশ্য দেয়াল দাঁড়িয়ে গেছে।
সেই সময় কয়েকজন তরুণ সিদ্ধান্ত নিল—তারা কোনো প্রতিশোধ নেবে না, কোনো ঘৃণা ছড়াবে না। তারা শুধু মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
কেউ ক্ষুধার্ত থাকলে খাবার পৌঁছে দিল, কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে গেল, কেউ বৃদ্ধের ওষুধ কিনে দিল, কেউ এতিম শিশুর মাথায় হাত রেখে বলল, "তুমি একা নও।"
ধীরে ধীরে অলৌকিক এক পরিবর্তন শুরু হলো। যে মানুষগুলো একসময় ভয়ে মাথা নিচু করে হাঁটত, তারা আবার একে অপরের চোখে বিশ্বাস দেখতে শুরু করল।
একদিন শহরের এক বৃদ্ধ বললেন,
"শক্তি দিয়ে মানুষকে কিছুদিন চুপ করানো যায়, কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে আজীবন জয় করা যায়।"
সেদিন আইউব আলী ফাহিম শান্ত কণ্ঠে বললেন,
"আমরা অতীত দেখেছি, বর্তমানও দেখছি। ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা নির্ভর করবে আমরা আজ কী বেছে নিচ্ছি। যদি আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াই, মানুষের উপকারে এগিয়ে আসি, তাহলে কোনো অন্ধকারই স্থায়ী হবে না।"
সন্ধ্যার আকাশে তখন সূর্য ডুবছিল, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে নতুন ভোরের আলো ফুটছিল।
উপন্যাসের শেষ পাতায় লেখা ছিল—
"মানুষকে ভয় দেখিয়ে সাময়িক নীরব করা যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয়কে বন্দী করা যায় না। তাই বিভেদ নয়, সহমর্মিতা; ঘৃণা নয়, মানবতা; প্রতিশোধ নয়, পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য। কারণ মানুষ মানুষের জন্য—এই সত্যই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি।"