11/08/2026
আজ ছাত্রীকে পাঠদান করিতে গিয়া এক অসামান্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হইলাম। 🙈পাঠদান চলাকালীন ছাত্রীর আম্মু ভাতের সহিত একটি ছোট পিয়ালায় পর্যাপ্ত পরিমাণ গরুর মাংসের আচার দিয়া গেলেন। আমি একদিকে ভাত খাচ্ছি অন্য তরকারীর সহিত।ভাবিয়াছি গরুর মাংসের আচার আস্বাদন পরে করিবো, অন্যদিকে পাঠদানও চলিতেছে। কিন্তু আচারটি যেহেতু মূলত আমার জন্যই পরিবেশিত হইয়াছিল, তথাপি আমার ছাত্রী বারংবার তাহা লইতে আরম্ভ করিল। মনে মনে সামান্য বিরক্ত হইলেও শিক্ষকের ধৈর্যের পরিচয় দিয়া বিষয়টি সহ্য করিলাম।
একপর্যায়ে ছাত্রী আমার মনের ভাব বুঝিতে পারিয়া বলিল, “স্যার, ইহা শেষ হইলে আমি নিজেই আবার আনিয়া দিব।” কিছুক্ষণ পর সে পুনরায় বলিল, “স্যার, যাই?” আমিও উৎসাহ প্রদান করিয়া বলিলাম, “তোমার আম্মু টিভি রুমে থাকিতেছেন, সুযোগ বুঝিয়া আনিয়া লও।”অতঃপর সে তাহার আম্মুর অগোচরে পুরা বয়াম আচারই লইয়া আসিল। এবার আর কাহারও কোনোরূপ সংকোচ রহিল না; পূর্বাপেক্ষা অধিক উৎসাহের সহিত উভয়েই আচার ভক্ষণে মনোনিবেশ করিলাম।কিন্তু সুখ দীর্ঘস্থায়ী হইল না। কিছুক্ষণ পর ছাত্রীর আম্মু আচারের কৌটা খুঁজিয়া না পাইয়া অনুসন্ধান করিতে করিতে আমাদের নিকট উপস্থিত হইলেন। উপস্থিত হইয়া দেখিলেন—আমাদের মহাভোজ চলিতেছে! ছাত্রীকে দুই তিনটা প্রহার করার পর আত্মরক্ষার্থে মুহূর্তের মধ্যেই আমার দিকে আঙুল তুলিয়া ঘোষণা করিল, “স্যারই আনিতে বলিয়াছেন।” 🙈
ইহার পর যা ঘটিল, তাহা ইতিহাসের অংশ বলিলেও অত্যুক্তি হইবে না। ভদ্রমহিলা এক হস্তে আমার চুল ধরিয়া অপর হস্তের সহিত সজোরে একটি কিল প্রদান করিলেন এবং আচারের কৌটাটি উদ্ধার করিয়া লইয়া গেলেন। 👊 যদিও কিলটির ওজন বিশেষ ছিল না, তথাপি কয়েক মুহূর্তের জন্য মনে হইল—এই আঘাত যেন কেবল আমার উপরেই নহে, সমগ্র শিক্ষকসমাজের উপরেই পতিত হইল! তখনই ভাবিতে লাগিলাম—এ দেশে শিক্ষার উন্নতি বিলম্বিত হইবার অন্যতম কারণ সম্ভবত ইহাই!
বিঃদ্রঃ ভদ্রমহিলা আমার ভাবি, আর ছাত্রী আমার ভাস্তি। মাঝে-মধ্যে ছাত্রীর হাতেও প্রহার ভোগ করিতে হয়!
©