09/09/2026
আমার এক পেশেন্ট তার তিন মাসের ছোট্ট বাবুটাকে নিয়ে আমার চেম্বারে এসেছিলেন। আমার হাতের উছিলায় এই বাবুটার জন্ম। ওকে সামনে থেকে দেখে যে কী ভালো লাগছিল, বলে বোঝাতে পারব না।
তবে এই বাবুটাকে পৃথিবীর আলো দেখার পথটা মোটেও সহজ ছিল না।
মায়ের বয়স ৩৮ বছর। আগে থেকেই তাঁর high blood pressure ছিল এবং গর্ভধারণের শুরু থেকেই নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছিলেন। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। আগের একটি সন্তানও আছে।
৩০ সপ্তাহ পর্যন্ত সবকিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে মায়ের BP বাড়তে শুরু করল। ওষুধের dose বাড়াতে হলো, সঙ্গে আরও ওষুধ যোগ করতে হলো।
এর মধ্যেই দেখা গেল, বাবুটার growth ঠিকমতো হচ্ছে না। অর্থাৎ পেটের মধ্যে বাবুটি বয়স অনুযায়ী যতটা বড় হওয়ার কথা, ততটা হচ্ছিল না।
তারপর থেকে নিয়মিত monitoring-এর মধ্যেই রাখতে হচ্ছিল মা ও বাবুকে। একদিকে মায়ের BP, অন্যদিকে বাবুর growth এবং overall wellbeing, সবকিছুই খুব কাছ থেকে দেখতে হচ্ছিল।
৩৫ সপ্তাহে এসে যখন ওষুধ দিয়েও BP ঠিকভাবে control করা যাচ্ছিল না, তখন আর দেরি না করে delivery করানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।
Cesarean section-এর মাধ্যমে জন্ম হলো মাত্র দেড় কেজি ওজনের ছোট্ট বাবুটার। জন্মের পর ওকে NICU-তে রাখতে হয়েছিল। একজন মায়ের জন্য সেই সময়টা কতটা কঠিন, সেটা ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়।
আলহামদুলিল্লাহ, আজ তিন মাস পর সেই বাবুটাই আমার সামনে একদম সুস্থ, সুন্দর একটা শিশু হয়ে এসেছে। ওকে দেখে এখন বোঝার উপায় নেই, পৃথিবীতে আসার শুরুটা ওর জন্য কতটা কঠিন ছিল।
আজ ওকে দেখে মায়ের মুখের হাসিটাই সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।
এই ধরনের high-risk pregnancy-তে নিয়মিত checkup করা, BP ও বাবুর growth নিয়মিত দেখা এবং প্রয়োজনের সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনাটা আবারও সেটাই মনে করিয়ে দিল।
আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া। মা ও বাবু দুজনেই ভালো আছেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের মুহূর্ত আর কী হতে পারে!